📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মাদকদ্রব্য সেবনের অপকার সমূহ

📄 মাদকদ্রব্য সেবনের অপকার সমূহ


ক. নিয়মিত প্রচুর মাদকদ্রব্য সেবনে মানব মেধা সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়ে যায়।
খ. এরই মাধ্যমে সমাজে বহু প্রকারের খুন ও হত্যাকাণ্ড বিস্তার লাভ করে। তথা সামাজিক সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।
গ. এরই মাধ্যমে অনেক সতী-সাধ্বী মহিলার ইয্যত বিনষ্ট হয়। এরই সুবাদে দিন দিন সকল প্রকারের অপকর্ম, ব্যভিচার ও সমকাম বেড়েই চলছে। এমনো শুনা যায় যে, অমুক মদ্যপায়ী নেশার তাড়নায় নিজ মেয়ে, মা অথবা বোনের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে। এমন অঘটন করতে তো মুসলমান দূরে থাক অনেক সুস্থ বিবেক সম্পন্ন ইহুদি, খ্রিষ্টান, হিন্দু এবং বৌদ্ধও লজ্জা পায়।
মদ্যপায়ী ব্যক্তি কখনো কখনো নেশার তাড়নায় তার নিজ স্ত্রীকেও তালাক দিয়ে দেয়; অথচ সে তখন তা এতটুকুও অনুভবও করতে পারে না। মূলতঃ এ জাতীয় ব্যক্তির মুখে তালাক শব্দ বেশির ভাগই উচ্চারিত হতে দেখা যায়। আর এমতাবস্থায় সে তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে সহবাস করার দরুন তা ব্যভিচার বলেই পরিগণিত হয়।
ঘ. এরই পেছনে কতো কতো মানব সম্পদ যে বিনষ্ট হয় তার কোন ইয়ত্তা নেই। মাদকসেবীরা কখনো কখনো এক টাকার নেশার বস্তু একশ' টাকা দিয়ে কিনতেও রাজি। তা হাতের নাগালে না পেলে তারা ভারী অস্থির হয়ে পড়ে।
৬. এরই মাধ্যমে কোন জাতির সার্বিক শক্তি ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ বিনষ্ট হয়। কারণ, যুবকরাই তো জাতির শক্তি ও ভবিষ্যৎ। মাদকদ্রব্য সেবনের সুবাদে বহুবিধ অঘটন ঘটিয়ে কতো যুবক যে আজ জেলহাজতে রাত পোহাচ্ছে তা আর কারোর অজানা নয়।
চ. এরই কারণে কোন জাতির অর্থনৈতিক, সামরিক ও উৎপাদন শক্তি ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। কারণ, এ সকল ক্ষেত্র তো স্বভাবত যুবকদের উপরই নির্ভরশীল। ইতিহাসে প্রসিদ্ধ যে, খ্রিষ্টীয় ষোলশ' শতাব্দীতে চাইনিজ ও জাপানীরা যখন পরস্পর যুদ্ধের সম্মুখীন হয় তখন চাইনিজরা পরাজয় বরণ করে। তারা এ পরাজয়ের খতিয়ান খুঁজতে গিয়ে দেখতে পায় যে, তাদের সেনাবাহিনীর মাঝে তখন আফিমসেবীর সংখ্যা খুবই বেশি ছিলো। তাই তারা পরাজিত হয়েছে।
ছ. মাদকদ্রব্য সেবনে অনেকগুলো শারীরিক ক্ষতিও রয়েছে। তম্মধ্যে ফুসফুস প্রদাহ, বদহজমী, মাথা ব্যথা, অনিদ্রা, অস্থিরতা, খিঁচুনি ইত্যাদি অন্যতম। এ ছাড়াও মাদক সেবনের দরুন আরো অনেক মানসিক ও তান্ত্রিক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। যা বিস্তারিত বলার অবকাশ রাখে না।
জ. মাদকদ্রব্য সেবনের মাধ্যমে হিফাযতকারী ফিরিস্তাদেরকে কষ্ট দেয়া হয়। কারণ, তারা এর দুর্গন্ধে কষ্ট পায় যেমনিভাবে কষ্ট পায় মানুষরা।
ঝ. মাদকদ্রব্য সেবনের কারণে মাদকসেবীর কোন নেক ও দো'আ চল্লিশ দিন পর্যন্ত কবুল করা হয় না।
ঞ. মৃত্যুর সময় মাদকসেবীর ঈমানহারা হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা থাকে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মাদকদ্রব্য সেবনে অভ্যস্ত হওয়ার বিশেষ কারণ সমূহ

📄 মাদকদ্রব্য সেবনে অভ্যস্ত হওয়ার বিশেষ কারণ সমূহ


ক. পরকালে যে সর্বকাজের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট জবাবদিহি করতে হবে সে চেতনা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়া।
খ. সন্তান প্রতিপালনে মাতা-পিতার বিশেষ অবহেলা। যে বাচ্চা ছোট থেকেই গান-বাদ্য, নাটক-ছবি দেখে অভ্যস্ত তার জন্য এ ব্যাপারটি অত্যন্ত সহজ যে, সে বড় হয়ে ধূমপায়ী, মদ্যপায়ী, আফিমখোর ও গাঁজাখোর হবে। এমন হবেই না কেন অথচ তার হৃদয়ে কুর'আন ও হাদীসের কোন অংশই গচ্ছিত নেই যা তাকে সঠিক পথ দেখাতে সক্ষম হবে। কিয়ামতের দিন এ জাতীয় মাতা- পিতাকে অবশ্যই কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।
গ. অধিক অবসর জীবন যাপন। কারণ, কেউ আল্লাহ্ তা'আলার যিকির ও তাঁর আনুগত্য থেকে দূরে থাকলে এমনকি দুনিয়ার যে কোন লাভজনক কাজ থেকেও দূরে থাকলে শয়তান অবশ্যই তাকে বিপথগামী করবে।
ঘ. অসৎ সাথীবন্ধু। কারণ, অসৎ সাথীবন্ধুরা তো এটাই চাবে যে, তাদের দল আরো ভারী হোক। সবাই একই পথে চলুক। এ কথা তো সবারই মুখে মুখে রয়েছে যে, সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস; অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মদ্যখোরের শাস্তি

📄 মদ্যখোরের শাস্তি


কারোর ব্যাপারে মদ অথবা মাদকদ্রব্য পান কিংবা সেবন করে নেশাগ্রস্ত হওয়া প্রমাণিত হয়ে গেলে তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করা হবে। সে যতবারই পান করে ধরা পড়বে ততবারই তার উপর উক্ত দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা হবে। তবে তাকে এ জন্য কখনোই হত্যা করা হবে না। যা সকল গবেষক ‘উলামাদের ঐকমত্যে প্রমাণিত।
হযরত মু'আবিয়া ও হযরত আবু হুরাইরাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল মদখোর সম্পর্কে বলেন:
إِذَا سَكِرَ وَ فِي رِوَايَةٍ: إِذَا شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ ، فَإِنْ عَادَ فَاجْلِدُوهُ ، فَإِنْ عَادَ فَاجْلِدُوهُ ، ثُمَّ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ: فَإِنْ عَادَ فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৪৮২ তিরমিযী, হাদীস ১৪৪৪ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৬২০ নাসায়ী, হাদীস ৫৬৬১ আহমাদ ৪/৯৬)
অর্থাৎ যখন কেউ (কোন নেশাকর দ্রব্য সেবন করে) নেশাগ্রস্ত হয় অন্য বর্ণনায় রয়েছে, যখন কেউ মদ পান করে তখন তোমরা তাকে বেত্রাঘাত করবে। আবারো নেশাগ্রস্ত হলে আবারো বেত্রাঘাত করবে। আবারো নেশাগ্রস্ত হলে আবারো বেত্রাঘাত করবে। রাসূল চতুর্থবার বললেন: আবারো নেশাগ্রস্ত হলে তার গর্দান উড়িয়ে দিবে।
ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) হযরত জাবির ও হযরত ক্বাবীস্বাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আন্‌হুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা নবী এর নিকট চতুর্থবার মদ পান করেছে এমন ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হলে তিনি তাকে মেরেছেন। তবে হত্যা করেননি।
হযরত আনাস্ বিন্ মালিক থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
أُتِيَ بِرَجُلٍ عِنْدَ النَّبِيِّ قَدْ شَرِبَ الْخَمْرَ ، فَجَلَدَهُ بِجَرِيدَتَيْنِ نَحْوَ أَرْبَعِيْنَ ، وَ فَعَلَهُ أَبُو بَكْرٍ ، فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ اسْتَشَارَ النَّاسَ ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنُ بْنُ عَوْفٍ: أَخَفُ الْحُدُودِ ثَمَانُوْنَ ، فَأَمَرَ بِهِ عُمَرُ (বুখারী, হাদীস ৬৭৭৩ মুসলিম, হাদীস ১৭০৬ আবু দাউদ, হাদীস ৪৪৭৯)
অর্থাৎ নবী এর নিকট একদা জনৈক মদ্যপায়ীকে নিয়ে আসা হলে তিনি তাকে পাতা বিহীন দু'টি খেজুরের ডাল দিয়ে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। হযরত আবু বকর ও তাঁর খিলাফতকালে তাই করেছিলেন। তবে হযরত ‘উমর যখন খলীফা হলেন তখন তিনি সাহাবাদের সঙ্গে পরামর্শ করলেন। তখন হযরত আব্দুর রহমান বিন্ ‘আউফ্ বললেন: সর্বনিম্ন দণ্ডবিধি হচ্ছে আশিটি বেত্রাঘাত। তখন হযরত ‘উমর তাই বাস্তবায়নের আদেশ করেন। হযরত আনাস্ থেকে এও বর্ণিত তিনি বলেন:
كَانَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ يَضْرِبُ فِي الْخَمْرِ بِالنِّعَالِ وَ الْجَرِيدِ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৪৭৯ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৬১৮)
অর্থাৎ রাসূল মদ্যপানের শাস্তি স্বরূপ মদ্যপায়ীকে জুতো ও খেজুরের ডাল দিয়ে পেটাতেন।
হযরত ‘হুযাইন্ বিন্ মুন্সির আবু সাসান্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমি হযরত ‘উসমান এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন ওয়ালীদ্ বিন্ ‘উক্ববাহকেও তাঁর নিকট উপস্থিত করা হলো। সে মানুষকে ফজরের দু' রাক'আত্ নামায পড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলো: তোমাদেরকে আরো কয়েক রাক্'আত্ বেশি পড়িয়ে দেবো কি? তখন দু'জন ব্যক্তি তার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিলো। তাদের একজন তার ব্যাপারে এ বলে সাক্ষ্য দিলো যে, সে মদ পান করেছে। অপরজন এ বলে সাক্ষ্য দিলো যে, সে তাকে বমি করতে দেখেছে। তখন হযরত ‘উসমান বললেন: সে মদ পান করেছে বলেই তো বমি করেছে? তখন তিনি হযরত ‘আলী কে বললেন: হে ‘আলী! দাঁড়াও। ওকে বেত্রাঘাত করো। হযরত ‘আলী তাঁর ছেলে হাসান্ কে বললেন: হে হাসান! দাঁড়াও। ওকে বেত্রাঘাত করো। তখন হাসান্ রাগান্বিত স্বরে বললেন: বেত্রাঘাত সেই করুক যে উক্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তখন হযরত ‘আলী হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ জা'ফর কে বললেন: হে ‘আব্দুল্লাহ্! দাঁড়াও। তাকে বেত্রাঘাত করো। তখন হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বেত্রাঘাত করছিলেন আর হযরত ‘আলী তা গণনা করছিলেন। চল্লিশটি বেত্রাঘাতের পর হযরত ‘আলী বললেন: বেত্রাঘাত বন্ধ করো। অতঃপর তিনি বললেন:
جَلَدَ النَّبِيُّ أَرْبَعِينَ ، وَ جَلَدَ أَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ ، وَ عُمَرُ ثَمَانِيْنَ ، وَ كُلِّ سُنَّةٌ ، وَهَذَا أَحَبُّ إِلَيَّ (মুসলিম, হাদীস ১৭০৭ আবু দাউদ, হাদীস ৪৪৮১ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৬১৯)
অর্থাৎ নবী চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। হযরত আবু বকরও চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। কিন্তু হযর ‘উমর আশিটি বেত্রাঘাত করেন। তবে চল্লিশটি বেত্রাঘাতই আমার নিকট বেশি পছন্দনীয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00