📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ইয়াতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ

📄 ইয়াতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ


ইয়াতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণও একটি বড় অপরাধ তথা কবীরা গুনাহ্। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِيْنَ يَأْكُلُوْنَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُوْنَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً ، وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيْراً ) (নিসা': ১০)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে তারা সত্যিকারার্থে আগুন দিয়ে নিজের পেট ভরছে এবং অচিরেই তারা জাহান্নামের অগ্নিতে দগ্ধ হবে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 জুয়া

📄 জুয়া


জুয়া বলতে সে সকল খেলাকে বুঝানো হয় যাতে বাজি কিংবা হারজিতের প্রশ্ন রয়েছে। জুয়া যে ধরনেরই হোক না কেন তা হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَ الْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ ، فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ، إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَ الْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ، وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَ عَنِ الصَّلَاةِ، فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُوْنَ ) (মা'য়িদাহ : ৯০-৯১)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ (নেশাকর দ্রব্য), জুয়া, মূর্তি ও লটারীর তীর এ সব নাপাক ও গর্হিত বিষয়। শয়তানের কাজও বটে। সুতরাং এগুলো থেকে তোমরা সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকে। তা হলেই তো তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো এটিই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হোক এবং আল্লাহ্ তা'আলার স্মরণ ও নামায থেকে তোমরা বিরত থাকো। সুতরাং এখনো কি তোমরা এগুলো থেকে বিরত থাকবে না?
উক্ত আয়াতে জুয়াকে শিরকের পাশাপাশি উল্লেখ করা, উহাকে অপবিত্র ও শয়তানের কাজ বলে আখ্যায়িত করা, তা থেকে বিরত থাকার ইলাহী আদেশ, তা বর্জনে সমূহ কল্যাণ নিহিত থাকা, এরই মাধ্যমে শয়তানের মানুষে মানুষে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করা এবং আল্লাহ্ তা'আলার স্মরণ ও নামায থেকে গাফিল রাখার চেষ্টা এবং পরিশেষে ধমকের সুরে তা থেকে বিরত থাকার আদেশ থেকে জুয়ার ভয়ঙ্করতার পর্যায়টি সুস্পষ্টরূপেই প্রতিভাত হয়।
জুয়ার অনেকগুলো নতুন-পুরাতন ধরন রয়েছে যা হাতেগুনে উল্লেখ করা সত্যিই কষ্টকর। সময়ের পরিবর্তনে আরো যে কতো ধরনের জুয়ার পথ আবিষ্কৃত হবে তা আল্লাহ্ তা'আলাই ভালো জানেন। তবুও নিম্নে জুয়ার কয়েকটি ধরনের কথা উল্লেখ করা হলো:
ক. লটারি বা ভাগ্যপরীক্ষা। অর্থের বিনিময়ে কোন সংস্থা বা সংগঠনের প্রাইজ বণ্ড খরিদ করে বেশি, সমপরিমাণ কিংবা কম মূল্যের পুরষ্কার পাওয়া অথবা একেবারেই কিছু না পাওয়া। এ পন্থা একেবারেই হারাম। চাই উক্ত লটারির অর্থ জনকল্যাণেই ব্যবহার হোক না কেন। কারণ, পরকালের সাওয়াব তো শরীয়ত নিষিদ্ধ কোন পন্থায় অর্জন করা যায় না।
খ. জাহিলী যুগে দশজন লোক একত্রে মিলে একটি উট খরিদ করতো। প্রত্যেকেই সমানভাবে উট কেনার পয়সা পরিশোধ করতো। কিন্তু জবাইয়ের পর তারা লটারির মাধ্যমে শুধু সাত ভাগই নির্ধারণ করে নিতো। আর বাকি তিনজনকে কিছুই দেয়া হতো না। এটি হচ্ছে জুয়ার প্রাচীন রূপ।
গ. কার্ডের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে জুয়া খেলা তো বর্তমান সমাজে খুবই প্রসিদ্ধ। যা ছোট-বড় কারোর অজানা নয়। শুধু এরই মাধ্যমে মানুষের কতো টাকা যে আজ পর্যন্ত বেহাত হয়েছে বা হচ্ছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।
ঘ. এমন কোন পণ্য খরিদ করা যার মধ্যে অজানা কিছু পুরস্কার রয়েছে। কখনো পাওয়া যায় আবার কখনো কিছুই পাওয়া যায় না। তেমনিভাবে পণ্য খরিদের সময় দোকানদাররা গ্রাহকদের মাঝে কিছু নাম্বার বিতরণ করে থাকে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 সন্ত্রাস, অপহরণ, দস্যুতা ও লুণ্ঠন

📄 সন্ত্রাস, অপহরণ, দস্যুতা ও লুণ্ঠন


সন্ত্রাস, দস্যুতা, ছিনতাই, লুণ্ঠন, অপহরণ, ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম। চাই সেগুলোর পাশাপাশি কাউকে হত্যা করা হোক অথবা নাই হোক। কারণ, তারা যমীনে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী। তবে সেগুলোর পাশাপাশি কাউকে হত্যা করা হলে অবশ্যই হত্যাকারীদেরকে হত্যা করতে হবে। আর সেগুলোর পাশাপাশি কাউকে হত্যা করা না হলে সে অঘটনগুলো সম্পাদনকারীদেরকে চারটি শাস্তির যে কোন একটি শাস্তি দিতে হবে। হত্যা করতে হবে অথবা ফাঁসী দিতে হবে অথবা এক দিকের হাত এবং অপর দিকের পা কেটে ফেলতে হবে অথবা অন্য এলাকার জেলে বন্দী করে রাখতে হবে যতক্ষণ না তারা খাঁটি তাওবা করে নেয়। এমনকি তারা শুধুমাত্র একজনকেই হত্যা করার ব্যাপারে কয়েকজন অংশ গ্রহণ করলেও তাদের সকলকেই হত্যা করা হবে। যদি তারা সরাসরি উক্ত হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُوْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوْا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ، ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَ لَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ، إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ) (মা'য়িদাহ : ৩৩)
অর্থাৎ যারা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর সাথে যুদ্ধ কিংবা প্রকাশ্য শত্রুতা পোষণ করে অথবা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর বিধি-বিধানের উপর হঠকারিতা দেখায় এবং (হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে) ভূ-পৃষ্ঠে অশান্তি ও ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদের শাস্তি এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ফাঁসী দেয়া হবে অথবা এক দিকের হাত এবং অপর দিকের পা কেটে ফেলা হবে অথবা অন্য এলাকার জেলে বন্দী করে রাখা হবে যতক্ষণ না তারা খাঁটি তাওবা করে নেয়। এ হচ্ছে তাদের জন্য ইহলোকের ভীষণ অপমান এবং পরকালেও তাদের জন্য ভীষণ শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে তোমরা তাদেরকে গ্রেফতার করার পূর্বে যদি তারা স্বেচ্ছায় তাওবা করে নেয় তাহলে জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু।
তবে মানুষের হৃত অধিকার তাদেরকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
قُتِلَ غُلَامٌ غِيْلَةً ، فَقَالَ عُمَرُ : لَوِ اشْتَرَكَ فِيْهِ أَهْلُ صَنْعَاءَ لَقَتَلْتُهُمْ بِهِ (বুখারী, হাদীস ৬৮৯৬)
অর্থাৎ জনৈক যুবককে চুপিসারে হত্যা করা হলে হযরত ‘উমর বললেন: পুরো সান্’আবাসীরাও (বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী) যদি উক্ত যুবককে হত্যা করায় অংশ গ্রহণ করতো তা হলে আমি তাদের সকলকেই ওর পরিবর্তে হত্যা করতাম। তাদেরকে আমি কখনোই এমনিতেই ছেড়ে দিতাম না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মিথ্যা কসম

📄 মিথ্যা কসম


মিথ্যা কসম খাওয়াও একটি কবীরা গুনাহ্। চাই তা কোন বিপদ থেকে বাঁচার জন্যই হোক অথবা কারোর কোন সম্পদ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করার জন্যই হোক। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْكَبَائِرُ : الإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ ، وَ قَتْلُ النَّفْسِ ، وَ الْيَمِينُ الْغَمُوسُ (বুখারী, হাদীস ৬৬৭৫, ৬৮৭০, ৬৯২০)
অর্থাৎ কবীরা গুনাহগুলো হচ্ছে, আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করা, ইচ্ছাকৃত মিথ্যে কসম খাওয়া, মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়া এবং অবৈধভাবে কাউকে হত্যা করা। মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য বিক্রেতার সাথে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন কোন কথা বলবেন না, তার দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। হযরত আবু যর গিফারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ ، وَلَا يُزَكِّيهِمْ ، وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ، قَالَ : فَقَرَأَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثَ مِرَارٍ، قَالَ أَبُوْ ذَرٍّ : خَابُوْا وَ خَسِرُوا، مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الْمُسْبِلُ، وَ الْمَنَّانُ وَ فِي رِوَايَةِ الْمَنَّانُ الَّذِي لَا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ، وَ الْمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ (মুসলিম, হাদীস ১০৬)
অর্থাৎ তিন ব্যক্তি এমন যে, আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেনও না এমনকি তাদেরকে গুনাহ্ থেকে পবিত্রও করবেন না উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। বর্ণনাকারী বলেন: রাসূল ﷺ কথাগুলো তিন বার বলেছেন। হযরত আবু যর বলেন: তারা সত্যিই ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত। তবে তারা কারা হে আল্লাহ্'র রাসূল! রাসূল ﷺ বললেন: টাখনু বা পায়ের গিঁটের নিচে কাপড় পরিধানকারী, কাউকে কোন কিছু দিয়েই খোঁটা দানকারী এবং মিথ্যা কসম খেয়ে পণ্য সাপ্লাইকারী। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন মাস্'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِيْنِ كَاذِبًا لِيَقْتَطِعَ مَالَ رَجُلٍ لَقِيَ اللَّهُ وَ هُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ (বুখারী, হাদীস ২৩৫৬, ২৩৫৭, ২৪১৬, ২৪১৭, ২৫১৫, ২৫১৬, ২৬৬৬, ২৬৬৭, ২৬৬৯, ২৬৭০, ২৬৭৩, ২৬৭৬, ২৬৭৭)
অর্থাৎ কেউ কারোর সম্পদ অবৈধভাবে আহরণের জন্য মিথ্যা কসম খেলে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার সাথে এমতাবস্থায় সাক্ষাৎ দিবে যে, তিনি (আল্লাহ) তার উপর খুবই রাগান্বিত। হযরত আবু উমামাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:
مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ ، فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ ، وَ حَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: وَ إِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا ، يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: وَ إِنْ قَضِيِّبًا مِنْ أَرَاكِ (মুসলিম, হাদীস ১৩৭)
অর্থাৎ কেউ (মিথ্যা) কসমের মাধ্যমে কোন মুসলমানের অধিকার হরণ করলে আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য জাহান্নাম বাধ্যতামূলক করেন এবং জান্নাত হারাম করে দেন। জনৈক (সাহাবী) বলেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! যদিও সামান্য কোন কিছু হোক না কেন। রাসূল বলেন: যদিও "আরাক" গাছের ডাল সমপরিমাণ হোক না কেন। যা মিসওয়াকের গাছ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00