📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 সুদ

📄 সুদ


সুদ খাওয়া মারাত্মক অপরাধ। এ জন্যই তো আল্লাহ্ তা'আলা সুদখোরের সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। যা অন্য কোন পাপীর সাথে দেননি। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوْا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَ رَسُوْلِهِ ) (বাক্বারাহ: ২৭৮-২৭৯)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট রয়েছে তা বর্জন করো যদি তোমরা মু'মিন হওয়ার দাবি করে থাকো। আর যদি তোমরা তা না করো তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও।
অর্থনৈতিক মন্দাভাব, ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা, অকর্মের সংখ্যাবৃদ্ধি, কোম্পানীগুলোর অধঃপতন, নিজের সকল উপার্জন ঋণ পরিশোধেই নিঃশেষ হয়ে যাওয়া, দেশের বেশির ভাগ সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে সীমাবদ্ধ হওয়া তথা সমাজে উচ্চস্তরের আবির্ভাব সে যুদ্ধেরই অন্তর্গত।
রাসূল সুদের সাথে সম্পৃক্ত চার প্রকারের লোককে সমভাবে দোষী সাব্যস্ত করেন।
হযরত জাবির ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
لَعَنَ رَسُولُ الله آكل الرِّبَا وَ مُؤْكَلَهُ وَ كَاتِبَهُ وَ شَاهِدَيْهِ ، وَ قَالَ: هُمْ سَوَاءٌ (মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮ তিরমিযী, হাদীস ১২০৬ আবু দাউদ, হাদীস ৩৩৩৩ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৩০৭ ইবনু হিব্বান, হাদীস ৫০২৫ আহমাদ, হাদীস ৬৩৫, ৬৬০, ৮৪৪, ১১২০, ১২৮৮, ১৩৬৪, ৩৭২৫, ৩৭৩৭, ৩৮০৯, ৪৩২৭, ১৪৩০২)
অর্থাৎ রাসূল লা'নত (অভিসম্পাত) করেন সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তিকে। তারা হচ্ছে: সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও সুদের সাক্ষীদ্বয়।
রাসূল আরো বলেছেন: তারা সবাই সমপর্যায়ের দোষী।
রাসুল আরো বলেন:
الرِّبَا ثَلَاثَةٌ وَ سَبْعُوْنَ بَاباً ، وَ فِي رِوَايَة : حُوْباً ، أَيْسَرُهَا مِثْلُ أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ، وَ إِنْ أَرْبَى الرِّبَا عِرْضُ الرَّجُلِ الْمُسْلِمِ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৩০৪, ২৩০৫ হাকিম: ২/৩৭ সাহীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৫৩৩)
অর্থাৎ সুদের তিয়াত্তরটি গুনাহ্ রয়েছে। তার মধ্যে সর্বনিম্ন গুনাহ্ হচ্ছে, কোন ব্যক্তির নিজ মায়ের সঙ্গে ব্যভিচার করার সমতুল্য গুনাহ্। আর সবচেয়ে বড় সুদ হলো, কোন মুসলিম ব্যক্তির ইয্যত হনন।
রাসূল আরো বলেন:
دِرْهَمُ رِبَا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَ هُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةِ وَ ثَلَاثِيْنَ زَنْيَةً (আহমাদ: ৫/২২৫ সাহীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৩৭৫)
অর্থাৎ সুদের একটি টাকা জেনেশুনে খাওয়া ছত্রিশবার ব্যভিচার চাইতেও মারাত্মক।
সুদের সম্পদ যত বেশিই হোক না কেন তাতে কোন বরকত নেই। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَمْحَقُ اللهُ الرِّبَا وَ يُرْبِي الصَّدَقَاتِ ، وَ اللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلِّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ ) (বাক্বারাহ: ২৭৬)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা সুদে কোন বরকত দেন না। তবে তিনি দানকে অবশ্যই বাড়িয়ে দেন। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক কৃতঘ্ন পাপীকে ভালোবাসেন না। রাসূল ইরশাদ করেন:
الرِّبَا وَ إِنْ كَثُرَ فَإِنْ عَاقِبَتَهُ تَصِيْرُ إِلَى قُلْ (হা'কিম: ২/৩৭ সাহীহল্ জা'মি', হাদীস ৩৫৪২ ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২৩০৯)
অর্থাৎ সুদ যদিও দেখতে বেশি দেখা যায় তার পরিণতি কিন্তু ঘাটতির দিকেই। আল্লাহ্ তা'আলা সুদখোরকে শয়তানে ধরা ব্যক্তির সাথে তুলনা করেছেন। আর তা এ কারণেই যে, তারা সুদকে লাভ বলে জ্ঞান করে; অথচ ব্যাপারটি একেবারেই তার উল্টো। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
الَّذِيْنَ يَأْكُلُوْنَ الرِّبَا لَا يَقُوْمُوْنَ إِلَّا كَمَا يَقُوْمُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِ، ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوْا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا، وَ أَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَ حَرَّمَ الرِّبَا ) (বাক্বারাহ: ২৭৫)
অর্থাৎ সুদখোররা (কিয়ামতের দিন) শয়তানে ধরা ব্যক্তির ন্যায় মোহাবিষ্ট হয়ে দাঁড়াবে। আর তা এ কারণেই যে, তারা বলে: ব্যবসা তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।
যারা সুদখোর তারা পারতপক্ষে কখনো সুদ কম খেতে চায় না। বরং বেশি খেতে চাওয়াই তাদের সাধারণ অভ্যাস। এ কারণেই আল্লাহ্ তা'আলা কোর'আন মাজীদের মধ্যে তাদেরকে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافاً مُّضَاعَفَةً وَ اتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ) (আ'লি ‘ইমরান: ১৩০)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা সুদ বেশি বেশি খেয়ো না। বরং তোমরা আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করো। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। তবে গুনাহটি যত বড়ই হোক না কেন আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাহকে নিজ দয়ায় তা থেকে তাওবা করার পদ্ধতিও শিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّنْ رَّبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ ، وَ أَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ ، وَ مَنْ عَادَ فَأُولَائِكَ أَصْحَابُ النَّارِ، هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ ) (বাক্বারাহ: ২৭৫)
অর্থাৎ অতঃপর যার নিকট নিজ প্রভুর পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে। ফলে সে তা ছেড়ে দিয়েছে। তা হলে যা ইতিপূর্বে হয়ে গেছে তাতে কোন অসুবিধে নেই এবং তার ব্যাপারটি একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার নিকটেই সোপর্দ। (যদি সে নিজ তাওবার উপর অটল ও অবিচল থাকে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা অবশ্যই তার পুণ্যকে বিনষ্ট করবেন না)। আর যারা আবারো সুদ খেতে শুরু করলো তারা হচ্ছে জাহান্নামী। যেখানে তারা সদা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেন:
وَ إِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ ، لَا تَظْلِمُوْنَ وَ لَا تُظْلَمُوْنَ ، وَإِنْ كَانَ ذُوْ عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ ، وَ أَنْ تَصَدَّقُوْا خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُوْنَ ) (বাক্বারাহ: ২৭৯-২৮০)
অর্থাৎ আর যদি তোমরা সুদ খাওয়া থেকে তাওবা করে নাও তা হলে তোমাদের জন্য রয়েছে শুধু তোমাদের মূলধনটুকু। তোমরা কারোর উপর অত্যাচার করবে না এবং তেমনিভাবে তোমাদের উপরও কোন অত্যাচার করা হবে না। আর যদি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি খুব অভাবগ্রস্ত হয়ে থাকে তাহলে তার স্বচ্ছলতার প্রতীক্ষা করো। আর যদি তোমরা তোমাদের মূলধনটুকুও দরিদ্র ঋণগ্রস্তদেরকে দান করে দাও তা হলে তা হবে তোমাদের জন্য আরো কল্যাণকর। যদি তোমরা তা জানো বা বুঝে থাকো তা হলে তা অতিসত্বর বাস্তবায়ন করো।
সুদ খাওয়া, খাওয়ানো, লেখা ও সে ব্যাপারে সাক্ষী দেয়া যেমন হারাম অথবা কবীরা গুনাহ্ তেমনিভাবে সুদী ব্যাংকে টাকা রাখা, পাহারাদারি করা অথবা সুদী ব্যাংকের সাথে যে কোন ধরনের লেনদেন করাও শরীয়ত বিরোধী কাজ তথা অবৈধ।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
تَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَ التَّقْوَى ، وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ، وَاتَّقُوا اللَّهُ ، إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ) (মা'য়িদাহ : ২)
অর্থাৎ তোমরা নেক কাজ ও আল্লাহভীরুতায় পরস্পরকে সহযোগিতা করো। তবে পাপাচার ও অত্যাচার করতে কাউকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।
তবে যারা নিতান্ত অসুবিধায় পড়ে (চুরি অথবা আত্মসাৎ ইত্যাদির ভয়ে) মন্দের ভালো ইসলামী ব্যাংক কাছে না পেয়ে সুদী ব্যাংকে টাকা রেখেছেন তাদেরকে সদা সর্বদা নিজ অপারগতার কথা মনে রাখতে হবে। ভাবতে হবে, আমি যেন অপারগতার কারণে মৃত পশু খাচ্ছি। আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ জন্য সদা সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করবে। বিকল্প ব্যবস্থার জন্য অবশ্যই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ব্যাংক থেকে সুদ উঠিয়ে তা জনকল্যাণমূলক জায়িয কাজে খরচ করে তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার ব্যবস্থা করবে। তা ব্যয় করার সময় কখনো সাদাকার নিয়্যাত করবে না। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র এবং তিনি একমাত্র পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করে থাকেন। আর সুদ হচ্ছে অপবিত্র। সুতরাং তিনি তা কখনোই গ্রহণ করবেন না। সুদের টাকা খাদ্য, পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ, গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদির খাতে অথবা স্ত্রী-পুত্র এবং মাতা-পিতার ভরণ-পোষণ তথা ওয়াজিব খরচায় ব্যয় করা যাবে না। তেমনিভাবে যাকাত আদায়, ট্যাক্স পরিশোধ, নিজকে যালিমের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও ব্যয় করা যাবে না। কারণ, এ সবগুলো প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সুদ খাওয়ারই শামিল।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ইয়াতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ

📄 ইয়াতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ


ইয়াতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণও একটি বড় অপরাধ তথা কবীরা গুনাহ্। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّ الَّذِيْنَ يَأْكُلُوْنَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً إِنَّمَا يَأْكُلُوْنَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً ، وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيْراً ) (নিসা': ১০)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে তারা সত্যিকারার্থে আগুন দিয়ে নিজের পেট ভরছে এবং অচিরেই তারা জাহান্নামের অগ্নিতে দগ্ধ হবে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 জুয়া

📄 জুয়া


জুয়া বলতে সে সকল খেলাকে বুঝানো হয় যাতে বাজি কিংবা হারজিতের প্রশ্ন রয়েছে। জুয়া যে ধরনেরই হোক না কেন তা হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَ الْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ ، فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ، إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَ الْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ، وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَ عَنِ الصَّلَاةِ، فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُوْنَ ) (মা'য়িদাহ : ৯০-৯১)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ (নেশাকর দ্রব্য), জুয়া, মূর্তি ও লটারীর তীর এ সব নাপাক ও গর্হিত বিষয়। শয়তানের কাজও বটে। সুতরাং এগুলো থেকে তোমরা সম্পূর্ণরূপে দূরে থাকে। তা হলেই তো তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো এটিই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হোক এবং আল্লাহ্ তা'আলার স্মরণ ও নামায থেকে তোমরা বিরত থাকো। সুতরাং এখনো কি তোমরা এগুলো থেকে বিরত থাকবে না?
উক্ত আয়াতে জুয়াকে শিরকের পাশাপাশি উল্লেখ করা, উহাকে অপবিত্র ও শয়তানের কাজ বলে আখ্যায়িত করা, তা থেকে বিরত থাকার ইলাহী আদেশ, তা বর্জনে সমূহ কল্যাণ নিহিত থাকা, এরই মাধ্যমে শয়তানের মানুষে মানুষে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করা এবং আল্লাহ্ তা'আলার স্মরণ ও নামায থেকে গাফিল রাখার চেষ্টা এবং পরিশেষে ধমকের সুরে তা থেকে বিরত থাকার আদেশ থেকে জুয়ার ভয়ঙ্করতার পর্যায়টি সুস্পষ্টরূপেই প্রতিভাত হয়।
জুয়ার অনেকগুলো নতুন-পুরাতন ধরন রয়েছে যা হাতেগুনে উল্লেখ করা সত্যিই কষ্টকর। সময়ের পরিবর্তনে আরো যে কতো ধরনের জুয়ার পথ আবিষ্কৃত হবে তা আল্লাহ্ তা'আলাই ভালো জানেন। তবুও নিম্নে জুয়ার কয়েকটি ধরনের কথা উল্লেখ করা হলো:
ক. লটারি বা ভাগ্যপরীক্ষা। অর্থের বিনিময়ে কোন সংস্থা বা সংগঠনের প্রাইজ বণ্ড খরিদ করে বেশি, সমপরিমাণ কিংবা কম মূল্যের পুরষ্কার পাওয়া অথবা একেবারেই কিছু না পাওয়া। এ পন্থা একেবারেই হারাম। চাই উক্ত লটারির অর্থ জনকল্যাণেই ব্যবহার হোক না কেন। কারণ, পরকালের সাওয়াব তো শরীয়ত নিষিদ্ধ কোন পন্থায় অর্জন করা যায় না।
খ. জাহিলী যুগে দশজন লোক একত্রে মিলে একটি উট খরিদ করতো। প্রত্যেকেই সমানভাবে উট কেনার পয়সা পরিশোধ করতো। কিন্তু জবাইয়ের পর তারা লটারির মাধ্যমে শুধু সাত ভাগই নির্ধারণ করে নিতো। আর বাকি তিনজনকে কিছুই দেয়া হতো না। এটি হচ্ছে জুয়ার প্রাচীন রূপ।
গ. কার্ডের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে জুয়া খেলা তো বর্তমান সমাজে খুবই প্রসিদ্ধ। যা ছোট-বড় কারোর অজানা নয়। শুধু এরই মাধ্যমে মানুষের কতো টাকা যে আজ পর্যন্ত বেহাত হয়েছে বা হচ্ছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।
ঘ. এমন কোন পণ্য খরিদ করা যার মধ্যে অজানা কিছু পুরস্কার রয়েছে। কখনো পাওয়া যায় আবার কখনো কিছুই পাওয়া যায় না। তেমনিভাবে পণ্য খরিদের সময় দোকানদাররা গ্রাহকদের মাঝে কিছু নাম্বার বিতরণ করে থাকে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 সন্ত্রাস, অপহরণ, দস্যুতা ও লুণ্ঠন

📄 সন্ত্রাস, অপহরণ, দস্যুতা ও লুণ্ঠন


সন্ত্রাস, দস্যুতা, ছিনতাই, লুণ্ঠন, অপহরণ, ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি কবীরা গুনাহগুলোর অন্যতম। চাই সেগুলোর পাশাপাশি কাউকে হত্যা করা হোক অথবা নাই হোক। কারণ, তারা যমীনে ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারী। তবে সেগুলোর পাশাপাশি কাউকে হত্যা করা হলে অবশ্যই হত্যাকারীদেরকে হত্যা করতে হবে। আর সেগুলোর পাশাপাশি কাউকে হত্যা করা না হলে সে অঘটনগুলো সম্পাদনকারীদেরকে চারটি শাস্তির যে কোন একটি শাস্তি দিতে হবে। হত্যা করতে হবে অথবা ফাঁসী দিতে হবে অথবা এক দিকের হাত এবং অপর দিকের পা কেটে ফেলতে হবে অথবা অন্য এলাকার জেলে বন্দী করে রাখতে হবে যতক্ষণ না তারা খাঁটি তাওবা করে নেয়। এমনকি তারা শুধুমাত্র একজনকেই হত্যা করার ব্যাপারে কয়েকজন অংশ গ্রহণ করলেও তাদের সকলকেই হত্যা করা হবে। যদি তারা সরাসরি উক্ত হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُوْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوْا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ، ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَ لَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ، إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ) (মা'য়িদাহ : ৩৩)
অর্থাৎ যারা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর সাথে যুদ্ধ কিংবা প্রকাশ্য শত্রুতা পোষণ করে অথবা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর বিধি-বিধানের উপর হঠকারিতা দেখায় এবং (হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে) ভূ-পৃষ্ঠে অশান্তি ও ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদের শাস্তি এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ফাঁসী দেয়া হবে অথবা এক দিকের হাত এবং অপর দিকের পা কেটে ফেলা হবে অথবা অন্য এলাকার জেলে বন্দী করে রাখা হবে যতক্ষণ না তারা খাঁটি তাওবা করে নেয়। এ হচ্ছে তাদের জন্য ইহলোকের ভীষণ অপমান এবং পরকালেও তাদের জন্য ভীষণ শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে তোমরা তাদেরকে গ্রেফতার করার পূর্বে যদি তারা স্বেচ্ছায় তাওবা করে নেয় তাহলে জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু।
তবে মানুষের হৃত অধিকার তাদেরকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
قُتِلَ غُلَامٌ غِيْلَةً ، فَقَالَ عُمَرُ : لَوِ اشْتَرَكَ فِيْهِ أَهْلُ صَنْعَاءَ لَقَتَلْتُهُمْ بِهِ (বুখারী, হাদীস ৬৮৯৬)
অর্থাৎ জনৈক যুবককে চুপিসারে হত্যা করা হলে হযরত ‘উমর বললেন: পুরো সান্’আবাসীরাও (বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী) যদি উক্ত যুবককে হত্যা করায় অংশ গ্রহণ করতো তা হলে আমি তাদের সকলকেই ওর পরিবর্তে হত্যা করতাম। তাদেরকে আমি কখনোই এমনিতেই ছেড়ে দিতাম না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00