📄 হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারোর পেছনে পড়া
হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারোর পেছনে পড়া হারাম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَحَاسَدُوا ، وَ لَا تَنَاجَشُوا ، وَ لَا تَبَاغَضُوا ، وَ لَا تَدَابَرُوا ، وَ لَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ ، وَ كُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا ، الْمُسْلِمُ أَخُرُ الْمُسْلِمِ ، لَا يَظْلِمُهُ ، وَ لَا يَخْذُلُهُ ، وَ لَا يَحْقِرُهُ ، التَّقْوَى هَاهُنَا ، وَ يُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، بِحَسْبِ امْرِئٍ مِّنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ ، كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَ مَالُهُ وَ عِرْضُهُ (মুসলিম, হাদীস ২৫৬৪)
অর্থাৎ তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ করো না। ক্রয়-বিক্রয়ে দালালি করো না। একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করো না। কারোর পেছনে পড়ো না। কেউ অন্যের বিক্রির উপর দ্বিতীয় বিক্রি করবে না। বরং তোমরা এক আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাহ্ হিসেবে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও। সত্যিই এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। তাই কোন মুসলিম ভাইয়ের উপর যুলুম করা যাবে না, তাকে বিপদে ফেলে রাখা যাবে না। তাকে কোন ভাবেই হীন মনে করা যাবে না। রাসূল নিজের বুকের দিকে তিন বার ইঙ্গিত করে বললেন: আল্লাহ্ ভীরুতার স্থান তো এটিই। কারোর খারাপ হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে অন্য মুসলিম ভাইকে হীন মনে করবে। এক মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত হারাম।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِيَّاكُمْ وَ الظَّنَّ ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ ، وَ لَا تَحَسَّسُوا ، وَ لَا تَجَسَّسُوا ، وَ لَا تَنَافَسُوْا ، وَ لَا تَحَاسَدُوا ، وَ لَا تَبَاغَضُوا ، وَ لَا تَقَاطَعُوْا ، وَلَا تَدَابَرُوا ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا (মুসলিম, হাদীস ২৫৬৩)
অর্থাৎ তোমরা কারোর ব্যাপারে অমূলক ধারণা করো না। কারণ, অমূলক ধারণা মিথ্যা কথারই অন্তর্ভুক্ত। তোমরা গোয়েন্দাগিরি করো না। (দুনিয়ার ব্যাপারে) কারোর সাথে প্রতিযোগিতা করো না। হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা করো না। কারোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না। কারোর পেছনে পড়ো না। বরং তোমরা এক আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাহ্ হিসেবে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও।
📄 কোন নির্দেশকে অন্যের দোষে দণ্ডিত করা
কোন নির্দোষীকে অন্যের দোষে দণ্ডিত করা হারাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَ لَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ اِلَّا عَلَيْهَا ، وَ لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ اُخْرٰى (আল-আন'আম : ১৬৪)
অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় কৃতকর্মের জন্য নিজেই দায়ী। কোন পাপীই অন্যের পাপের বোঝা নিজে বহন করবে না। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَ مَنْ يَكْسِبْ خَطِيْئَةً اَوْ اِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيْءًا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَّ اِثْمًا مُّبِيْنًا (নিসা' : ১১২)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজেই কোন অপরাধ বা পাপ করে তা নিরাপরাধ কোন ব্যক্তির উপর আরোপ করে তাহলে সে নিজেই উক্ত অপরাধ ও প্রকাশ্য গুনাহ্ বহন করবে।
হযরত ‘আমর বিন্ ‘আস্’ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসুল (ﷺ)-কে বিদায় হজ্জের দিবসে নিমোচ্ কথা বলতে শুনেছি। তিনি বলেন:
لَا يَجْنِى جَانٍ إِلَّا عَلٰى نَفْسِهٖ، وَ لَا يَجْنِى وَالِدٌ عَلٰى وَلَدِهٖ، وَ لَا مَوْلُوْدٌ عَلٰى وَالِدِهٖ. (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ২৭১১)
অর্থাৎ যে কোন অপরাধী অপরাধের জন্য সে নিজেই দায়ী। অন্য কেউ নয়। অতএব পিতার অপরাধের জন্য সন্তান দায়ী নয়। অনুরূপভাবে সন্তানের অপরাধের জন্য পিতাও নন।
হযরত ‘আবদুল্লাহ বিন্ ‘উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন:
لَا تَرْجِعُوْا بَعْدِىْ كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ، وَ لَا يُؤْخَذُ الرَّجُلُ بِجَرِيْرَةِ أَبِيْهِ وَ لَا بِجَرِيْرَةِ أَخِيْهِ. (নাসাঈ, হাদীস ৪১২১)
অর্থাৎ আমার ইন্তিকালের পর তোমরা কাফির হয়ে যেও না। পরস্পর হত্যাকাণ্ড করো না। কাউকে তার পিতা বা ভাই এর দোষের দায়ে পাকড়াও করা যাবে না।
📄 কোন গুনাহ্'র কাজে মানত করে তা পুরা করা
কোন গুনাহ্'র কাজে মানত করে তা পুরা করা হারাম। তবে এ ক্ষেত্রে তাকে কসমের কাফ্ফারা দিতে হবে।
হযরত ‘আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন:
مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيْعَ اللهَ فَلْيُطِعْهُ، وَ مَنْ نَذَرَ أَنْ يَّعْصِىَ اللهَ فَلَا يَعْصِهٖ. (আবু দাউদ, হাদীস ৩২৮৯ তিরমিযী, হাদীস ১৫২৪ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২১১৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য (ইবাদাত) করবে বলে মানত করেছে সে যেন তাঁর আনুগত্য করে তথা মানত পুরা করে নেয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার অবাধ্যতা তথা গুনাহ্'র কাজ করবে বলে মানত করেছে সে যেন তাঁর অবাধ্য না হয় তথা মানত পুরা না করে।
হযরত ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) আরো বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا نَذْرَ فِي مَعْصِيَةٍ ؛ وَ كَفَّارَتُهُ كَفَّارَةُ يَمِينِ (আবু দাউদ, হাদীস ৩২৯০, ৩২৯২ তিরমিযী, হাদীস ১৫২৪, ১৫২৫ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২১৫৫)
অর্থাৎ কোন গুনাহ্'র ব্যাপারে মানত করা চলবে না। তবে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ এ জাতীয় মানত করে ফেললে উহার কাফ্ফারা কসমের কাফ্ফারা হিসেবে দিতে হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
النَّذْرُ نَذْرَانِ : فَمَا كَانَ لِلَّهِ فَكَفَّارَتُهُ الْوَفَاءُ ، وَ مَا كَانَ لِلشَّيْطَانِ فَلَا وَفَاءَ فِيْهِ ، وَ عَلَيْهِ كَفَّارَةٌ يَمِيْنِ (ইব্নুল জারুদ/মুন্তাক্বা, হাদীস ৯৩৫ বায়হাক্বী ১০/৭২)
অর্থাৎ মানত দু' প্রকার। তার মধ্যে যা হবে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই জন্য তার কাফ্ফারা হবে শুধু তা পুরা করা। আর যা হবে শয়তানের জন্য তথা শরীয়ত বিরোধী তা কখনোই পুরা করতে হবে না। তবে সে জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কসমের কাফ্ফ্ফারা দিতে হবে।
সুতরাং কেউ যদি তার কোন আত্মীয়ের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে বলে মানত করে কিংবা কোন ওয়াজিব কাজ ছেড়ে দিবে বলে মানত করে অথবা কোন হারাম কাজ করবে বলে মানত করে তা হলে সে এ জাতীয় মানত পুরা করবে না। বরং সে কসমের কাফ্ফারা তথা দশ জন মিসকিনকে খানা খাওয়াবে অথবা তাদেরকে কাপড় কিনে দিবে। আর তা অসম্ভব হলে তিনটি রোযা রাখবে।