📄 দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা
যে কোন মানুষের সাথে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ জাতীয় লোক হবে সর্ব নিকৃষ্ট লোকদের অন্যতম।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللَّهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ ، الَّذِي يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهِ ، وَ هَؤُلاءِ بِوَجْهِ (বুখারী, হাদীস ৬০৫৮ মুসলিম, হাদীস ২৫২৬)
অর্থাৎ তুমি কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দ্বিমুখী নীতি অবলম্বনকারীকে সর্ব নিকৃষ্ট লোকদের অন্যতম দেখতে পাবে। যে এদের কাছে আসে এক চেহারায় আবার অন্যের কাছে যায় অন্য চেহারায়।
হযরত ‘আম্মার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَ لَهُ وَجْهَانِ فِي الدُّنْيَا ؛ كَانَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِسَانَانِ مِنْ نَارٍ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৭৩)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করবে কিয়ামতের দিন তার আগুনের দু'টি জিহ্বা হবে।
📄 বগল নিয়ে অন্যের সাথে গর্ব করা
বংশ নিয়ে অন্যের সাথে গর্ব করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু মালিক আশ'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ، لَا يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَحْرُ فِي الْأَحْسَابِ، وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ، وَالاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُوْمِ، وَ النِّيَاحَةُ (মুসলিম, হাদীস ৯৩৪ ‘হা-কিম: ১/৩৮৩ ত্বাবারানি/কাবীর, হাদীস ৩৪২৫, ৩৪২৬ বায়হাক্বী: ৪/৬৩ বাগাওয়ী, হাদীস ১৫৩৩ ইব্বু আবী শাইবাহ : ৩/৩৯০ আহমাদ: ৫/৩৪২, ৩৪৩, ৩৪৪ ‘আব্দুর রায্যাক: ৩/৬৬৮৬)
অর্থাৎ আমার উম্মতের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি কাজ চালু থাকবে। তারা তা কখনোই ছাড়বে না। বংশ নিয়ে গৌরব, অন্যের বংশে আঘাত, কোন কোন নক্ষত্রের উদয়ান্তের কারণে বৃষ্টি হয় বলে বিশ্বাস এবং বিলাপ। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ يَفْتَخِرُونَ بِآبَائِهِمْ الَّذِيْنَ مَاتُوا ، إِنَّمَا هُمْ فَحْمُ جَهَنَّمَ، أَوْ لَيَكُونَنَّ أَهْوَنَ عَلَى اللَّهِ مِنَ الْجُعْلِ الَّذِي يُدَهْدِهُ الْخِرَاءَ بِأَنْفِهِ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَذْهَبَ عَنْكُمْ عُبَيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَ فَخَرَهَا بِالْآبَاءِ، إِنَّمَا هُوَ مُؤْمِنٌ تَقِيُّ، أَوْ فَاجِرٌ شَقِيٌّ النَّاسُ كُلُّهُمْ بنُوْ آدَمَ ، وَ آدَمُ خُلِقَ مِنْ تُرَابِ (তিরমিযী, হাদীস ৩৯৫৫)
অর্থাৎ নিজেদের মৃত বাপ-দাদাদেরকে নিয়ে গর্বকারীদের সতর্ক হওয়া উচিত তারা যেন তা দ্বিতীয়বার না করে। কারণ, তারা তো মূলতঃ জাহান্নামের কয়লা। অন্যথায় তারা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট মলকীটের চাইতেও অধিক মূল্যহীন বলে বিবেচিত হবে। আরে মলকীটের কাজই তো শুধু নাক দিয়ে মলখণ্ড ঠেলে নেয়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জাহিলী যুগের হঠকারিতা তথা নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে নিয়ে গর্ব করা থেকে পবিত্র করেছেন। মূলতঃ মানুষ তো শুধুমাত্র দু' প্রকার: মুত্তাকী ঈমানদার অথবা দূর্ভাগা ফাসিক। সকল মানুষই তো আদম সন্তান। আর আদম -কে তো মাটি থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং এতে একের উপর অন্যের গর্বের কীই বা রয়েছে?!
📄 হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারোর পেছনে পড়া
হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, দালালি ও কারোর পেছনে পড়া হারাম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَحَاسَدُوا ، وَ لَا تَنَاجَشُوا ، وَ لَا تَبَاغَضُوا ، وَ لَا تَدَابَرُوا ، وَ لَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ ، وَ كُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا ، الْمُسْلِمُ أَخُرُ الْمُسْلِمِ ، لَا يَظْلِمُهُ ، وَ لَا يَخْذُلُهُ ، وَ لَا يَحْقِرُهُ ، التَّقْوَى هَاهُنَا ، وَ يُشِيرُ إِلَى صَدْرِهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، بِحَسْبِ امْرِئٍ مِّنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ ، كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَ مَالُهُ وَ عِرْضُهُ (মুসলিম, হাদীস ২৫৬৪)
অর্থাৎ তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ করো না। ক্রয়-বিক্রয়ে দালালি করো না। একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করো না। কারোর পেছনে পড়ো না। কেউ অন্যের বিক্রির উপর দ্বিতীয় বিক্রি করবে না। বরং তোমরা এক আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাহ্ হিসেবে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও। সত্যিই এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। তাই কোন মুসলিম ভাইয়ের উপর যুলুম করা যাবে না, তাকে বিপদে ফেলে রাখা যাবে না। তাকে কোন ভাবেই হীন মনে করা যাবে না। রাসূল নিজের বুকের দিকে তিন বার ইঙ্গিত করে বললেন: আল্লাহ্ ভীরুতার স্থান তো এটিই। কারোর খারাপ হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে অন্য মুসলিম ভাইকে হীন মনে করবে। এক মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত হারাম।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِيَّاكُمْ وَ الظَّنَّ ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ ، وَ لَا تَحَسَّسُوا ، وَ لَا تَجَسَّسُوا ، وَ لَا تَنَافَسُوْا ، وَ لَا تَحَاسَدُوا ، وَ لَا تَبَاغَضُوا ، وَ لَا تَقَاطَعُوْا ، وَلَا تَدَابَرُوا ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا (মুসলিম, হাদীস ২৫৬৩)
অর্থাৎ তোমরা কারোর ব্যাপারে অমূলক ধারণা করো না। কারণ, অমূলক ধারণা মিথ্যা কথারই অন্তর্ভুক্ত। তোমরা গোয়েন্দাগিরি করো না। (দুনিয়ার ব্যাপারে) কারোর সাথে প্রতিযোগিতা করো না। হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা করো না। কারোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করো না। কারোর পেছনে পড়ো না। বরং তোমরা এক আল্লাহ্ তা'আলার বান্দাহ্ হিসেবে পরস্পর ভাই-ভাই হয়ে যাও।
📄 কোন নির্দেশকে অন্যের দোষে দণ্ডিত করা
কোন নির্দোষীকে অন্যের দোষে দণ্ডিত করা হারাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন:
وَ لَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ اِلَّا عَلَيْهَا ، وَ لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِّزْرَ اُخْرٰى (আল-আন'আম : ১৬৪)
অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় কৃতকর্মের জন্য নিজেই দায়ী। কোন পাপীই অন্যের পাপের বোঝা নিজে বহন করবে না। আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:
وَ مَنْ يَكْسِبْ خَطِيْئَةً اَوْ اِثْمًا ثُمَّ يَرْمِ بِهِ بَرِيْءًا فَقَدِ احْتَمَلَ بُهْتَانًا وَّ اِثْمًا مُّبِيْنًا (নিসা' : ১১২)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজেই কোন অপরাধ বা পাপ করে তা নিরাপরাধ কোন ব্যক্তির উপর আরোপ করে তাহলে সে নিজেই উক্ত অপরাধ ও প্রকাশ্য গুনাহ্ বহন করবে।
হযরত ‘আমর বিন্ ‘আস্’ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসুল (ﷺ)-কে বিদায় হজ্জের দিবসে নিমোচ্ কথা বলতে শুনেছি। তিনি বলেন:
لَا يَجْنِى جَانٍ إِلَّا عَلٰى نَفْسِهٖ، وَ لَا يَجْنِى وَالِدٌ عَلٰى وَلَدِهٖ، وَ لَا مَوْلُوْدٌ عَلٰى وَالِدِهٖ. (ইবনু মাজাহ্, হাদীস ২৭১১)
অর্থাৎ যে কোন অপরাধী অপরাধের জন্য সে নিজেই দায়ী। অন্য কেউ নয়। অতএব পিতার অপরাধের জন্য সন্তান দায়ী নয়। অনুরূপভাবে সন্তানের অপরাধের জন্য পিতাও নন।
হযরত ‘আবদুল্লাহ বিন্ ‘উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন:
لَا تَرْجِعُوْا بَعْدِىْ كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ، وَ لَا يُؤْخَذُ الرَّجُلُ بِجَرِيْرَةِ أَبِيْهِ وَ لَا بِجَرِيْرَةِ أَخِيْهِ. (নাসাঈ, হাদীস ৪১২১)
অর্থাৎ আমার ইন্তিকালের পর তোমরা কাফির হয়ে যেও না। পরস্পর হত্যাকাণ্ড করো না। কাউকে তার পিতা বা ভাই এর দোষের দায়ে পাকড়াও করা যাবে না।