📄 তৃতীয় জনকে দূরে রেখে অন্য দু' জন পরস্পর চুপিসারে কথা বলা
তৃতীয় জনকে দূরে রেখে অন্য দু' জন পরস্পর চুপিসারে কথা বলা আরেকটি হারাম কাজ। তেমনিভাবে তৃতীয় জনের সামনে অন্য দু' জন এমন ভাষায় কথা বলা যা সে বুঝে না অথবা এমন আকার-ইঙ্গিতে কথা বলা যা সে বুঝে না তাও হারাম। কারণ, তাতে সে সত্যিই ব্যথিত হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةٌ فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُوْنَ صَاحِبِهِمَا ، فَإِنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ (মুসলিম, হাদীস ২১৮৪)
অর্থাৎ যখন তোমরা শুধুমাত্র তিন জন থাকবে তখন তৃতীয় জনকে দূরে রেখে অন্য দু' জন পরস্পর চুপিসারে কথা বলবে না। কারণ, এ রকম আচরণ তৃতীয় জনকে সত্যিই ব্যথিত করে।
তবে কোন জন সমুদ্রের মাঝে দু' ব্যক্তি পরস্পর চুপিসারে কথা বললে তাতে কোন অসুবিধে নেই। কারণ, উক্ত হাদীসের দ্বিতীয় বর্ণনায় রয়েছে:
إِذَا كُنتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُوْنَ الْآخَرِ ، حَتَّى تَخْتَلِطُوْا بِالنَّاسِ ، مِنْ أَجْلِ أَنْ يُحْزِنَهُ
অর্থাৎ যখন তোমরা শুধুমাত্র তিন জন থাকবে তখন অন্য জনকে দূরে রেখে তোমরা দু' জন পরস্পর চুপিসারে কথা বলবে না যতক্ষণ না তোমরা মানব জন সমুদ্রে হারিয়ে যাও। কারণ, এ রকম আচরণ তৃতীয় জনকে ব্যথিত করে।
📄 কোন মোসলমানকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করা
কোন মোসলমানকে নিয়ে ঠাট্টা-মস্কারা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّنْ قَوْمٍ ، عَسَى أَنْ يَكُونُوا خَيْرًا مِّنْهُمْ ، وَلَا نِسَاءٌ مِّنْ نِّسَاءِ ، عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ ، وَ لَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ، وَ لَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الاِسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الإِيْمَانِ، وَ مَنْ لَّمْ يَتُبْ فَأُوْلَائِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ ) (‘হুজুরাত : ১১)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মধ্যকার কোন পুরুষ যেন অন্য কোন পুরুষকে নিয়ে ঠাট্টা না করে। কারণ, যাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হচ্ছে হয় তো বা সে (আল্লাহ্ তা'আলার নিকট) ঠাট্টাকারীর চাইতেও উত্তম। তেমনিভাবে তোমাদের মধ্যকার কোন মহিলা যেন অন্য কোন মহিলাকে নিয়ে ঠাট্টা না করে। কারণ, যাকে নিয়ে ঠাট্টা করা হচ্ছে হয় তো বা সে (আল্লাহ্ তা'আলার নিকট) ঠাট্টাকারিণীর চাইতেও উত্তম। তোমরা কেউ একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং মন্দ নামে ডেকো না। কারণ, ঈমানের পর কুফরি খুবই নিকৃষ্টতম ভূষণ। যারা এ রকম আচরণ থেকে তাওবা করবে না তারা অবশ্যই যালিম।
ঠাট্টা বলতেই তা একটি হারাম কাজ। চাই তা কথার মাধ্যমেই হোক অথবা অভিনয়ের মাধ্যমে। চাই তা ইঙ্গিতে হোক অথবা প্রকাশ্যে। চাই তা কোন ব্যক্তির গঠন নিয়েই হোক অথবা তার কথা নিয়ে কিংবা তার কোন বৈশিষ্ট্য নিয়ে।
📄 দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা
যে কোন মানুষের সাথে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট এ জাতীয় লোক হবে সর্ব নিকৃষ্ট লোকদের অন্যতম।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
تَجِدُ مِنْ شَرِّ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ اللَّهِ ذَا الْوَجْهَيْنِ ، الَّذِي يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهِ ، وَ هَؤُلاءِ بِوَجْهِ (বুখারী, হাদীস ৬০৫৮ মুসলিম, হাদীস ২৫২৬)
অর্থাৎ তুমি কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দ্বিমুখী নীতি অবলম্বনকারীকে সর্ব নিকৃষ্ট লোকদের অন্যতম দেখতে পাবে। যে এদের কাছে আসে এক চেহারায় আবার অন্যের কাছে যায় অন্য চেহারায়।
হযরত ‘আম্মার থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَ لَهُ وَجْهَانِ فِي الدُّنْيَا ؛ كَانَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِسَانَانِ مِنْ نَارٍ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৭৩)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করবে কিয়ামতের দিন তার আগুনের দু'টি জিহ্বা হবে।
📄 বগল নিয়ে অন্যের সাথে গর্ব করা
বংশ নিয়ে অন্যের সাথে গর্ব করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু মালিক আশ'আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ فِي أُمَّتِي مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ، لَا يَتْرُكُونَهُنَّ الْفَحْرُ فِي الْأَحْسَابِ، وَالطَّعْنُ فِي الْأَنْسَابِ، وَالاسْتِسْقَاءُ بِالنُّجُوْمِ، وَ النِّيَاحَةُ (মুসলিম, হাদীস ৯৩৪ ‘হা-কিম: ১/৩৮৩ ত্বাবারানি/কাবীর, হাদীস ৩৪২৫, ৩৪২৬ বায়হাক্বী: ৪/৬৩ বাগাওয়ী, হাদীস ১৫৩৩ ইব্বু আবী শাইবাহ : ৩/৩৯০ আহমাদ: ৫/৩৪২, ৩৪৩, ৩৪৪ ‘আব্দুর রায্যাক: ৩/৬৬৮৬)
অর্থাৎ আমার উম্মতের মাঝে জাহিলী যুগের চারটি কাজ চালু থাকবে। তারা তা কখনোই ছাড়বে না। বংশ নিয়ে গৌরব, অন্যের বংশে আঘাত, কোন কোন নক্ষত্রের উদয়ান্তের কারণে বৃষ্টি হয় বলে বিশ্বাস এবং বিলাপ। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ يَفْتَخِرُونَ بِآبَائِهِمْ الَّذِيْنَ مَاتُوا ، إِنَّمَا هُمْ فَحْمُ جَهَنَّمَ، أَوْ لَيَكُونَنَّ أَهْوَنَ عَلَى اللَّهِ مِنَ الْجُعْلِ الَّذِي يُدَهْدِهُ الْخِرَاءَ بِأَنْفِهِ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَذْهَبَ عَنْكُمْ عُبَيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَ فَخَرَهَا بِالْآبَاءِ، إِنَّمَا هُوَ مُؤْمِنٌ تَقِيُّ، أَوْ فَاجِرٌ شَقِيٌّ النَّاسُ كُلُّهُمْ بنُوْ آدَمَ ، وَ آدَمُ خُلِقَ مِنْ تُرَابِ (তিরমিযী, হাদীস ৩৯৫৫)
অর্থাৎ নিজেদের মৃত বাপ-দাদাদেরকে নিয়ে গর্বকারীদের সতর্ক হওয়া উচিত তারা যেন তা দ্বিতীয়বার না করে। কারণ, তারা তো মূলতঃ জাহান্নামের কয়লা। অন্যথায় তারা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট মলকীটের চাইতেও অধিক মূল্যহীন বলে বিবেচিত হবে। আরে মলকীটের কাজই তো শুধু নাক দিয়ে মলখণ্ড ঠেলে নেয়া। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদেরকে জাহিলী যুগের হঠকারিতা তথা নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে নিয়ে গর্ব করা থেকে পবিত্র করেছেন। মূলতঃ মানুষ তো শুধুমাত্র দু' প্রকার: মুত্তাকী ঈমানদার অথবা দূর্ভাগা ফাসিক। সকল মানুষই তো আদম সন্তান। আর আদম -কে তো মাটি থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং এতে একের উপর অন্যের গর্বের কীই বা রয়েছে?!