📄 কারোর সাথে কোন ব্যাপারে চুক্তি বা ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করা
কারোর সাথে কোন ব্যাপারে চুক্তি বা ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। তাই তো এ জাতীয় ব্যক্তিকে মুনাফিক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا ، وَ مَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ، وَ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ ، وَ إِذَا خَاصَمَ فَجَرَ (বুখারী, হাদীস ৩৪)
অর্থাৎ চারটি চরিত্র কারোর মধ্যে পাওয়া গেলে সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যার মধ্যে সেগুলোর একটি পাওয়া গেলো তার মধ্যে তো শুধু মুনাফিকীর একটি চরিত্রই পাওয়া গেলো যতক্ষণ না সে তা ছেড়ে দেয়। উক্ত চরিত্রগুলো হলো: যখন তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হয় তখন সে তা খেয়ানত করে, যখন সে কোন কথা বলে তখন সে মিথ্যা বলে, যখন সে কারোর সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তখন সে তা ভঙ্গ করে এবং যখন সে কারোর সাথে ঝগড়া দেয় তখন সে অশ্লীল কথা বলে।
কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চুক্তি ভঙ্গকারী বা ওয়াদা খেলাফীর পাছার নিকট একটি করে ঝাণ্ডা প্রোথিত থাকবে এবং যা দিয়ে সে কিয়ামতের দিন বিশ্ব জন সমাবেশে পরিচিতি লাভ করবে।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعْرَفُ بِهِ (মুসলিম, হাদীস ১৭৩৭)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চুক্তি ভঙ্গকারীর একটি করে ঝাণ্ডা হবে যা দিয়ে সে পরিচিতি লাভ করবে।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ عِنْدَ اسْتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (মুসলিম, হাদীস ১৭৩৮)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চুক্তি ভঙ্গকারীর একটি করে ঝাণ্ডা হবে যা তার পাছার নিকট প্রোথিত থাকবে।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرْفَعُ لَهُ بِقَدْرِ غَدْرِهِ ، أَلَا وَ لَا غَادِرَ أَعْظَمُ غَدْرًا مِنْ أَمِيرِ عَامَّةٍ (মুসলিম, হাদীস ১৭৩৮)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চুক্তি ভঙ্গকারীর একটি করে ঝাণ্ডা হবে যা তার চুক্তি ভঙ্গের পরিমাণ অনুযায়ী উত্তোলন করা হবে। জেনে রাখো, সে ব্যক্তি অপেক্ষা বড় চুক্তি ভঙ্গকারী আর কেউ হতে পারে না যে সাধারণ জনগণের দায়িত্বভার হাতে নিয়ে তাদের সঙ্গেই চুক্তি ভঙ্গ করে।
📄 কোন মু'মিন বা মুসলমান ব্যক্তি অহঙ্কারকারী কৃপণ অথবা কঠিন হৃদয় সম্পন্ন হওয়া
কোন মু'মিন বা মুসলমান ব্যক্তি অহঙ্কারকারী কৃপণ অথবা কঠিন হৃদয় সম্পন্ন হওয়া আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَّاظُ وَ الْجَعْظَرِيُّ (স'হীহল্ জামি', হাদীস ৪৫১৯)
অর্থাৎ অহঙ্কারকারী কৃপণ ও কঠিন হৃদয় সম্পন্ন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
📄 কোন ঝগড়া-ফাসাদে যুলুমের সহযোগিতা করা
কোন ঝগড়া-ফাসাদে যুলুমের সহযোগিতা করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্ এবং হারাম।
কেউ অবৈধভাবে অন্যের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে তা জেনেশুনেও অন্য কেউ এ ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করলে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর অসন্তুষ্ট হন যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَعَانَ عَلَى خُصُوْمَةٍ بِظُلْمٍ ؛ لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللَّهِ حَتَّى يَنْزِعَ عَنْهُ (ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৩৪৯ ‘হা'কিম ৪/৯৯)
অর্থাৎ কেউ যদি জেনেশুনে অন্যায় মূলক বিবাদে অন্যকে সহযোগিতা করে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর খুবই রাগান্বিত হন যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَعَانَ ظَالِمًا لِيُدْحض بباطله حَقًّا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَ ذِمَّةُ رَسُولِهِ (সা'হী'হল্ জা'মি', হাদীস ৬০৪৮)
অর্থাৎ কেউ যদি কোন যালিমকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করলো যে, সে তার বাতিল দিয়ে কোন হক্বকে প্রতিহত করবে তখন আল্লাহ্ তা'আলা ও তাঁর রাসূল এর যিম্মাদারি তার উপর থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়।
📄 অমূলকভাবে কোন নেককার ব্যক্তিকে রাগান্বিত করা
অমূলকভাবে কোন নেককার ব্যক্তিকে রাগান্বিত করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত ‘আয়িয বিন্ ‘আমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আবু সুফ্যান নিজ দলবল নিয়ে সাল্মান, সুহাইব ও বিলাল এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। তখন তাঁরা আবু সুফ্যানকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আল্লাহ্ তা'আলার কসম! আল্লাহ্'র তরবারি এখনো তাঁর এ শত্রুর গর্দান উড়িয়ে দেয়নি। তখন আবু বকর তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন: তোমরা কুরাইশ নেতার ব্যাপারে এমন কথা বলতে পারলে?! অতঃপর রাসূল কে ঘটনাটি জানানো হলে তিনি বললেন:
يَا أَبَا بَكْرٍ ! لَعَلَّكَ أَغْضَبْتَهُمْ ، لَئِنْ كُنْتَ أَغْضَبْتَهُمْ لَقَدْ أَغْضَبْتَ رَبَّكَ (মুসলিম, হাদীস ২৫০৪)
অর্থাৎ হে আবু বকর! সম্ভবত তুমি তাদেরকে রাগিয়ে দিলে! যদি তুমি তাদেরকে রাগান্বিত করে থাকো তা হলে যেন তুমি আল্লাহ্ তা'আলাকে রাগান্বিত করলে।
অতঃপর হযরত আবু বকর তাঁদের নিকট এসে বললেন: হে আমার ভাইয়েরা! আমি তো তোমাদেরকে রাগিয়ে দিয়েছি। তাঁরা বললেন: না, হে আমাদের শ্রদ্ধেয় ভাই! বরং আমরা আপনার জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দো'আ করছি তিনি যেন আপনাকে ক্ষমা করে দেন।
বর্তমান যুগে পরিস্থিতি আরো অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। এখন তো রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, খেলাধুলা, গানবাদ্য ইত্যাকার যে কোন বিষয় এমনকি সাধারণ ছুতানাতা নিয়েও একে অপরের সাথে তর্কবিতর্ক করে পরস্পর গালাগালি, হাতাহাতি এমনকি একে অপরকে হত্যা করতেও সচরাচর দেখা যায়। কখনো কখনো তো পরিস্থিতি এমন পর্যায়েও দাঁড়ায় যে, সমাজে পরিচিত তথাকথিত বহু পাক্কা নামাযীকেও একজন কাফির বা ফাসিককে নিয়ে পক্ষ বিপক্ষ সৃষ্টি করে তর্কবিতর্ক করতে দেখা যায়।