📄 কাউকে লা'নত বা অভিসম্পাত করা
কোন বস্তু বা ব্যক্তিকে লা'নত বা অভিসম্পাত করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। তাই তো রাসূল কাউকে লা'নত করা তাকে হত্যা করার সমতুল্য বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত সাবিত বিন যাহ্হাক থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
وَ مَنْ لَعَنَ مُؤْمِنًا فَهُوَ كَقَتْله (বুখারী, হাদীস ৬০৪৭)
অর্থাৎ কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে লা'নত করা তাকে হত্যা করার সমতুল্য।
লা'নত করা তো কোনভাবেই মু'মিনের চরিত্র হতে পারে না।
কাউকে লা'নত করা কোন সিদ্দীক তথা বিনা দ্বিধায় নবী আদর্শের সত্যিকার অনুসারী এমনকি সাধারণ কোন মু'মিনেরও বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَنْبَغِي لِصِدِّيقِ أَنْ يَكُوْنَ لَعَانًا (মুসলিম, হাদীস ২৫৯৭)
অর্থাৎ কোন সিদ্দীকের জন্য উচিৎ নয় যে, সে লা'নতকারী হবে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَكُوْنُ الْمُؤْمِنُ لَعَّانًا (তিরমিযী, হাদীস ২০১৯)
অর্থাৎ মু'মিন তো কখনো লা'নতকারী হতে পারে না।
কাউকে লা'নত করলে সে ব্যক্তি লা'নতের উপযুক্ত না হলে উক্ত লা'نত লা'নতকারীর উপরই প্রত্যাবর্তন করবে। হযরত উম্মুদ্দারদা' (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি আবুদ্দারদা' কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا لَعَنَ شَيْئًا صَعِدَتِ اللَّعْنَةُ إِلَى السَّمَاءِ ، فَتَعْلَقُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ دُونَهَا ، ثُمَّ تَهْبِطُ إِلَى الْأَرْضِ ، فَتُعْلَقُ أَبْوَابُهَا دُونَهَا ، ثُمَّ تَأْخُذُ يَمِينَا وَ شِمَالاً ، فَإِذَا لَمْ تَجِدْ مَسَانًا رَجَعَتْ إِلَى الَّذِي لُعنَ ، فَإِنْ كَانَ لذَلكَ أَهْلاً ، وَ إِلَّا رَجَعَتْ إِلَى قَائِلُهَا (আবু দাউদ, হাদীস ৪৯০৫)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই কোন বান্দাহ্ কোন বস্তুকে লা'নত করলে উক্ত লা'নত আকাশের দিকে উঠে যায়। ইতিমধ্যেই আকাশের দরোজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন তা আকাশে উঠতে না পেরে জমিনের দিকে নেমে আসে। ইতিমধ্যেই জমিনের দরোজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন তা ডানে-বাঁয়ে পথ খোঁজাখুঁজি করে। পরিশেষে কোন ক্ষেত্র না পেয়ে তা লা'নতকৃত ব্যক্তির নিকটই ফিরে আসে। যদি সে উক্ত লা'নতের উপযুক্তই হয়ে থাকে তা হলে তো ভালোই নতুবা তা লা'নতকারীর দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে। লা'নতকারী শহীদ ও সুপারিশকারী হতে পারবে না। হযরত আবুদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَكُوْنُ اللَّعَّانُوْنَ شُفَعَاءَ وَ لَا شُهَدَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (মুসলিম, হাদীস ২৫৯৮ আবু দাউদ, হাদীস ৪৯০৭)
অর্থাৎ লা'নতকারীরা কিয়ামতের দিন কখনো শহীদ ও সুপারিশকারী হতে পারবে না।
কেউ কোন বস্তু বা ব্যক্তিকে লা'نত করলে তিনি অন্যের কাছে তাঁর নিজ সম্মান হারিয়ে ফেলেন।
হযরত ‘ইমরان বিন্ ‘হুস্বাইন থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
بَيْنَمَا رَسُوْلُ اللَّهِ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ ، وَ امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ عَلَى نَاقَةٍ ، فَضَجِرَتْ فَلَعَنَتْهَا ، فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ : خُذُوا مَا عَلَيْهَا وَ دَعُوْهَا ، فَإِنَّهَا مَلْعُونَةٌ (মুসলিম, হাদীস ২৫৯৫)
অর্থাৎ একদা রাসূল সফর করছিলেন এমতাবস্থায় জনৈকা আন্সারী মহিলা নিজ উটের উপর বিরক্ত হয়ে তাকে লা'نত করলো। রাসূল তা শুনে সাহাবাদেরকে বললেন: তোমরা তার সকল আসবাবপত্র নামিয়ে লও এবং তাকে এমনিতেই ছেড়ে দাও। কারণ, সে লা'نতপ্রাপ্তা।
📄 কারোর সাথে কোন ব্যাপারে চুক্তি বা ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করা
কারোর সাথে কোন ব্যাপারে চুক্তি বা ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। তাই তো এ জাতীয় ব্যক্তিকে মুনাফিক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا ، وَ مَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا : إِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ ، وَ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ ، وَ إِذَا خَاصَمَ فَجَرَ (বুখারী, হাদীস ৩৪)
অর্থাৎ চারটি চরিত্র কারোর মধ্যে পাওয়া গেলে সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর যার মধ্যে সেগুলোর একটি পাওয়া গেলো তার মধ্যে তো শুধু মুনাফিকীর একটি চরিত্রই পাওয়া গেলো যতক্ষণ না সে তা ছেড়ে দেয়। উক্ত চরিত্রগুলো হলো: যখন তার কাছে কোন কিছু আমানত রাখা হয় তখন সে তা খেয়ানত করে, যখন সে কোন কথা বলে তখন সে মিথ্যা বলে, যখন সে কারোর সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তখন সে তা ভঙ্গ করে এবং যখন সে কারোর সাথে ঝগড়া দেয় তখন সে অশ্লীল কথা বলে।
কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চুক্তি ভঙ্গকারী বা ওয়াদা খেলাফীর পাছার নিকট একটি করে ঝাণ্ডা প্রোথিত থাকবে এবং যা দিয়ে সে কিয়ামতের দিন বিশ্ব জন সমাবেশে পরিচিতি লাভ করবে।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعْرَفُ بِهِ (মুসলিম, হাদীস ১৭৩৭)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চুক্তি ভঙ্গকারীর একটি করে ঝাণ্ডা হবে যা দিয়ে সে পরিচিতি লাভ করবে।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ عِنْدَ اسْتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (মুসলিম, হাদীস ১৭৩৮)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চুক্তি ভঙ্গকারীর একটি করে ঝাণ্ডা হবে যা তার পাছার নিকট প্রোথিত থাকবে।
হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرْفَعُ لَهُ بِقَدْرِ غَدْرِهِ ، أَلَا وَ لَا غَادِرَ أَعْظَمُ غَدْرًا مِنْ أَمِيرِ عَامَّةٍ (মুসলিম, হাদীস ১৭৩৮)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন প্রত্যেক চুক্তি ভঙ্গকারীর একটি করে ঝাণ্ডা হবে যা তার চুক্তি ভঙ্গের পরিমাণ অনুযায়ী উত্তোলন করা হবে। জেনে রাখো, সে ব্যক্তি অপেক্ষা বড় চুক্তি ভঙ্গকারী আর কেউ হতে পারে না যে সাধারণ জনগণের দায়িত্বভার হাতে নিয়ে তাদের সঙ্গেই চুক্তি ভঙ্গ করে।
📄 কোন মু'মিন বা মুসলমান ব্যক্তি অহঙ্কারকারী কৃপণ অথবা কঠিন হৃদয় সম্পন্ন হওয়া
কোন মু'মিন বা মুসলমান ব্যক্তি অহঙ্কারকারী কৃপণ অথবা কঠিন হৃদয় সম্পন্ন হওয়া আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ الْجَوَّاظُ وَ الْجَعْظَرِيُّ (স'হীহল্ জামি', হাদীস ৪৫১৯)
অর্থাৎ অহঙ্কারকারী কৃপণ ও কঠিন হৃদয় সম্পন্ন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
📄 কোন ঝগড়া-ফাসাদে যুলুমের সহযোগিতা করা
কোন ঝগড়া-ফাসাদে যুলুমের সহযোগিতা করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্ এবং হারাম।
কেউ অবৈধভাবে অন্যের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে তা জেনেশুনেও অন্য কেউ এ ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করলে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর অসন্তুষ্ট হন যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَعَانَ عَلَى خُصُوْمَةٍ بِظُلْمٍ ؛ لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللَّهِ حَتَّى يَنْزِعَ عَنْهُ (ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৩৪৯ ‘হা'কিম ৪/৯৯)
অর্থাৎ কেউ যদি জেনেশুনে অন্যায় মূলক বিবাদে অন্যকে সহযোগিতা করে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর খুবই রাগান্বিত হন যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَعَانَ ظَالِمًا لِيُدْحض بباطله حَقًّا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَ ذِمَّةُ رَسُولِهِ (সা'হী'হল্ জা'মি', হাদীস ৬০৪৮)
অর্থাৎ কেউ যদি কোন যালিমকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করলো যে, সে তার বাতিল দিয়ে কোন হক্বকে প্রতিহত করবে তখন আল্লাহ্ তা'আলা ও তাঁর রাসূল এর যিম্মাদারি তার উপর থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়।