📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া

📄 কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া


কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত সাউবান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا فِي غَيْرِ مَا بَأْسٍ ، فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ (আবু দাউদ, হাদীস ২২২৬ তিরমিযী, হাদীস ১১৮৭ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২০৫৫)
অর্থাৎ যে কোন মহিলা কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া নিজ স্বামীর নিকট তালাক চাইলো তার উপর জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে।
হযরত সাউবান থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الْمُخْتَلِعَاتُ ؛ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ (তিরমিযী, হাদীস ১১৮৬)
অর্থাৎ (কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া) কোন কিছুর বিনিময়ে তালাক গ্রহণকারিণী মহিলারা মুনাফিক।
তবে কোন মারাত্মক সমস্যা দেখা দিলে কোন কিছুর বিনিময়ে স্বামীর কাছ থেকে তালাক গ্রহণ করা যেতে পারে।
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা হাবীবা বিন্তে সাহলকে তার স্বামী সাবিত বিন্ ক্বাইস বিন্ শাম্মাস মেরে তার একটি হাড় ভেঙ্গে ফেলে। ভোর বেলা রাসূল কে এ ব্যাপারে জানানো হলে তিনি হযরত সাবিতকে ডেকে পাঠালেন। অতঃপর বললেন: তুমি তার (তার স্ত্রী) কাছ থেকে কিছু সম্পদ নিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। হযরত সাবিত বললেন: এমনকি চলে হে আল্লাহ্'র রাসূল! তিনি বললেন: হ্যাঁ, চলে। তখন হযরত সাবিত বললেন: আমি তাকে দু'টি খেজুরের বাগান দিয়েছি। এখনো তা তারই দখলে। তখন নবী বললেন: বাগান দু'টি নিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর হযরত সাবিত তাই করলেন। (আবু দাউদ, হাদীস ২২২৮)

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 যিহার তথা নিজ স্ত্রীকে আপন মায়ের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করা

📄 যিহার তথা নিজ স্ত্রীকে আপন মায়ের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করা


যিহার তথা নিজ স্ত্রীকে আপন মায়ের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْكُمْ مِّنْ نِّسَائِهِمْ مَّا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ ، إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّاتِي وَلَدْتَهُمْ ، وَ إِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنْكَرًا مِّنَ الْقَوْلِ وَ زُوْرًا ، وَ إِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُوْرٌ ) (مجادلة : ٢ )
অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যারা নিজ স্ত্রীদের সাথে যিহার তথা তাকে তার মায়ের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করে তারা যেন জেনে রাখে যে, তাদের স্ত্রীরা তাদের মা নয়। তাদের মা তো ওরাই যারা তাদেরকে জন্ম দিয়েছে। নিশ্চয়ই তারা এ ব্যাপারে মিথ্যা ও নিকৃষ্ট কথা বলে। আর আল্লাহ্ তা'আলা নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
উক্ত আয়াতে যিহারকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর মিথ্যা কথা বলা তো কবীরা গুনাহ্। সুতরাং যিহার করাও কবীরা গুনাহ্।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 স্বামী ছাড়া অন্য কোন আত্মীয়-বান্ধবীর জন্য কোন মহিলার তিন দিনের বেশি শোক পালন করা

📄 স্বামী ছাড়া অন্য কোন আত্মীয়-বান্ধবীর জন্য কোন মহিলার তিন দিনের বেশি শোক পালন করা


স্বামী ছাড়া অন্য কোন আত্মীয়া-বান্ধবীর জন্য কোন মহিলার তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম।
হযরত যায়নাব বিন্তে আবী সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: যখন শাম দেশ থেকে আবু সুইয়ান এর মৃত্যু সংবাদ আসলো তখন এর তৃতীয় দিনে (তাঁর মেয়ে) হযরত উম্মে ‘হাবীবাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর দু’ হাত ও উভয় গণ্ডদেশে হলুদ রঙ্গের খোশবু লাগিয়ে বললেন: আমার এ হলুদ রঙ্গের খোশবু লাগানোর কোন প্রয়োজন ছিলো না যদি আমি রাসূল থেকে এ হাদীস না শুনতাম। রাসূল বলেন:
لَا يَحِلُّ لامْرَأَةِ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتِ فَوْقَ ثَلَاثَ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا (বুখারী, হাদীস ১২৮০, ১২৮১, ৫৩৩৪, ৫৩৪৫ মুসলিম, হাদীস ১৪৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য হালাল হবে না স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করা যাবে।
১৫৬. কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া:
কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া হারাম।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَتَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَ التَّقْوَى ، وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ، وَ اتَّقُوْا
(إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ) (মা'য়িদাহ : ২)
অর্থাৎ তোমরা একে অপরকে নেক কাজ ও আল্লাহভীরুতা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করো। তবে গুনাহ্'র কাজ ও শত্রুতা বিকাশে কারোর সাহায্য করো না এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।
এ কথা নিশ্চিত যে, কারোর কাছ থেকে কোন হারাম বস্তু ক্রয় করা মানে হারামের প্রচার-প্রসারে তার সহযোগিতা করা এবং কারোর নিকট কোন হারাম বস্তু বিক্রি করা মানে তাকে উক্ত হারাম কাজে উৎসাহিত করা।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাসূল কে বাইতুল্লাহ্’র রুক্নে ইয়ামানীর পার্শ্বে বসা অবস্থায় দেখেছিলাম। তিনি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ثَلاثًا ، إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَأَكَلُوْا أَثْمَانَهَا، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৮৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে লা'নত করুক। রাসূল এ কথাটি তিনবার বলেছেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন; অথচ তারা তা বিক্রি করে সে পয়সা ভক্ষণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 মুত'আ বিবাহ তথা কোন কিছুর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ করা

📄 মুত'আ বিবাহ তথা কোন কিছুর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ করা


মু'আ বিবাহ্ তথা কোন কিছুর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ্ করা হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ الَّذِيْنَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُوْنَ ، إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُوْمِيْنَ ، فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُوْلَائِكَ هُمُ الْعَادُوْنَ ) (মা'আরিজ: ২৯-৩১)
অর্থাৎ আর যারা নিজ যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী। তবে যারা নিজ স্ত্রী ও অধিকারভুক্ত দাসীদের সঙ্গে যৌনকর্ম সম্পাদন করে তারা অবশ্যই নিন্দিত নয়। এ ছাড়া অন্যান্য পন্থায় যৌনক্রিয়া সম্পাদনকারীরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী।
উক্ত আয়াতের মর্মানুযায়ী যে মহিলার সাথে মু'আ করা হচ্ছে সে প্রথমতঃ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিয়মিত স্ত্রী নয়। কারণ, এ জাতীয় মহিলা বিধিসম্মতভাবে তার পক্ষ থেকে কোন মিরাস পায় না, চুক্তি শেষে তাকে তালাকও দিতে হয় না এবং তাকে ইদ্দতও পালন করতে হয় না। এমনকি সে তার অধিকারভুক্ত দাসীও নয়। সুতরাং তার সাথে যৌনক্রিয়া সম্পাদন করা সীমালংঘনই বটে। হযরত সারাহ্ আল-জুহানী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ كُنْتُ أَذَنْتُ لَكُمْ فِي الاسْتِمْتَاعِ مِنَ النِّسَاءِ ، وَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ ذَلِكَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ، فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنْهُنَّ شَيْءٌ فَلْيُخَلَّ سَبِيْلَهُ ، وَلَا تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا (মুসলিম, হাদীস ১৪০৬)
অর্থাৎ হে মানব সকল! আমি তোমাদেরকে ইতিপূর্বে মহিলাদের সাথে মু'আ করতে অনুমতি দিয়েছিলাম; অথচ আল্লাহ্ তা'আলা এখন তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন। অতএব তোমাদের কারোর নিকট এ জাতীয় কোন মহিলা থেকে থাকলে সে যেন তাকে নিজ গতিতে ছেড়ে দেয়। আর তোমরা যা তাদেরকে মোহর হিসেবে দিয়েছো তা থেকে এতটুকুও ফেরত নিবে না।
উক্ত বিবাহ্ ইসলামের শুরু যুগে কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধকালীন সময়ে সাহাবায়ে কিরাম যখন নিজ স্ত্রীদের থেকে বহু দূরে অবস্থান করতেন তখন তাঁদেরই নিতান্ত প্রয়োজনে চালু করা হয়। যা মক্কা বিজয়ের সময় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয় এবং যা কিয়ামত পর্যন্ত এ দীর্ঘ কালের যে কোন সময় তার যতোই প্রয়োজন হোক না কেন তা আর চালু করা যাবে না। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
كُنَّا نَغْزُوْ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ لَيْسَ لَنَا نِسَاءٌ ، فَقُلْنَا: أَلَا تَسْتَخْصِي؟ فَنَهَانَا عَنْ ذَلِكَ ، ثُمَّ رَخَّصَ لَنَا أَنْ تَنْكِحَ الْمَرْأَةَ بِالثَّوْبِ إِلَى أَجَلٍ (মুসলিম, হাদীস ১৪০৪)
অর্থাৎ একদা আমরা রাসূল এর সঙ্গে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বেরুতাম। তখন আমাদের সঙ্গে আমাদের স্ত্রীগণ ছিলো না। তাই আমরা রাসূলকে বললাম: আমরা কি খাসি হয়ে যাবো না? তখন রাসূল আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করেন। বরং তিনি শুধুমাত্র একটি কাপড়ের বিনিময়ে হলেও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ্ তথা মু'আ করা আমাদের জন্য হালাল করে দিলেন।
খাইবারের যুদ্ধ পর্যন্ত সাধারণভাবে এ নিয়ম চালু ছিলো। অতঃপর তা উক্ত যুদ্ধেই সর্ব প্রথম নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ ، وَ عَنْ أَكْلِ لُحُوْمِ الْحُمُرِ الإِنْسِيَّةِ (মুসলিম, হাদীস ১৪০৭)
অর্থাৎ রাসূল খাইবারের যুদ্ধে গৃহপালিত গাধার গোস্ত খাওয়া এবং মহিলাদের সাথে মু'আ করা নিষেধ করে দিয়েছেন।
মক্কা বিজয়ের সময় তা আবার কিছু দিনের জন্য চালু করা হয়। অতঃপর তা আবার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। হযরত সারাহ্ আল-জুহানী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ بِالْمُتْعَةِ عَامَ الْفَتْحِ حِيْنَ دَخَلْنَا مَكَّةَ، ثُمَّ لَمْ نَخْرُجْ مِنْهَا حَتَّى نَهَانَا عَنْهَا (মুসলিম, হাদীস ১৪০৬)
অর্থাৎ রাসূল মক্কা বিজয়ের সময় মক্কায় প্রবেশ করে আমাদেরকে মু'আ করতে আদেশ করেন। অতঃপর মক্কা থেকে বের হতে না হতেই তা আবার নিষেধ করে দেন।
হযরত সাব্রাহ্ আল-জুহানী থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা মক্কা বিজয়ের সময় রাসূল এর সঙ্গে মক্কায় পনেরো দিন অবস্থান করেছিলাম। অতঃপর রাসূল আমাদেরকে মু'আ করতে অনুমতি দিলেন। অনুমতি পেয়েই আমি ও আমার এক চাচাতো ভাই মু'আ করতে রওয়ানা করলাম। আমি ছিলাম তার চাইতে একটু বেশি জোয়ান, ফরসা ও সুন্দর গড়নের। আর সে ছিলো একটু কালো বর্ণের। আমাদের উভয়ের সাথে ছিলো দু'টি চাদর। তবে আমার চাদরটি ছিলো পুরাতন। আর তার চাদরটি ছিলো খুবই সুন্দর এবং নতুন। আমরা মক্কার উঁচু-নিচু ঘুরতে ঘুরতে বনু ‘আমির বংশের এক সুন্দরী মহিলা পেয়ে গেলাম। আমরা তাকে বললাম: আমাদের কেউ কি তোমার সাথে মু'আ করতে পারবে? সে বললো: তোমরা আমাকে এর বিনিময়ে কি দিবে? তখন আমরা উভয়ে তাকে নিজ নিজ চাদর দেখালাম। আমার সাথীর চাদর দেখে সে আকৃষ্ট হয়। তবে তাকে দেখে নয়। আবার আমাকে দেখে সে আকৃষ্ট হয়। তবে আমার চাদর দেখে নয়। আমার সাথী বললো: এর চাদরটি পুরাতন। আর আমার চাদরটি নতুন। তখন সে বললো: এর চাদরে কোন সমস্যা নেই। কথাটি সে দু' বার অথবা তিন বার বললো। অতঃপর আমি তার সাথে তিন দিন মু'আ করি। ইতিমধ্যে রাসূল বললেন: যার কাছে মু'আর মহিলা রয়েছে সে যেন তাকে ছেড়ে দেয়। (মুসলিম, হাদীস ১৪০৬)
সকল সাহাবায়ে কিরাম মু'আ হারাম হওয়ার ব্যাপারে একমত ছিলেন। তবে হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে তা হালাল হওয়ার মতও পাওয়া যায়। কিন্তু তিনি মৃত্যুর পূর্বে উক্ত মত পরিহার করেছেন। অতএব তা সাহাবাদের সর্ব সম্মতিক্রমে হারামই প্রমাণিত হলো। নিম্নে সাহাবাগণের কয়েকটি উক্তি উল্লিখিত হলো:
হযরত ‘আলী বলেন: রমযানের রোযা অন্যান্য বাধ্যতামূলক রোযাকে রহিত করে দিয়েছে যেমনিভাবে তালাক, ইদ্দত ও মিরাস মু'আ বিবাহকে রহিত করে দিয়েছে। (মুস্বান্নাফি আব্দির রায্যাক্ব ৭/৫০৫)
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্ বলেন: তালাক, ইদ্দত ও মিরাস মু'আ বিবাহকে রহিত করে দিয়েছে। (মুস্বান্নাফি আব্দির রায্যাক্ব ৭/৫০৫)
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কে উক্ত মু'আ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তা ব্যভিচার। (মুস্বান্নাফি আব্দির রায্যাক্ব ৭/৫০৫)
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও বলেন: তা ব্যভিচার। (মুস্বান্নাফি ইনি আবী শাইবাহ ৩/৫৪৬)
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: মু'আ বিবাহ্ হারাম। এর প্রমাণ সূরা মা'আরিজের উনত্রিশ থেকে একত্রিশ নম্বর আয়াত। (বায়হাক্বী ৭/২০৬)
হযরত জা'ফর বিন্ মুহাম্মাদ (রাহিমাহুল্লাহ) কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তা হুবহু ব্যভিচার। এতে কোন সন্দেহ নেই। (বায়হাক্বী ৭/২০৭)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘আল্লামাহ্ মাযিরী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মু'আ বিবাহ্ ইসলামের শুরু যুগে জায়িয ছিলো। যা পরবর্তী যুগে বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা রহিত করা হয় এবং এর হারামের উপর সকল গ্রহণযোগ্য আলিম একমত।
‘আল্লামাহ্ ক্বাযী ‘ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: শুধু রাফিযী ছাড়া সকল আলিম তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে একমত এবং সবাই এ ব্যাপারেও একমত যে, এখনো কোন ব্যক্তি তা সম্পাদন করলে সাথে সাথেই তা বাতিল হয়ে যাবে। চাই সে উক্ত মহিলার সাথে সঙ্গম করুক বা নাই করুক। (মুসলিম/ইমাম নাওয়াওয়ীর ব্যাখ্যা ৯-১০/১৮৯)
শিয়া সম্প্রদায় এখনো উক্ত মু'আ বিবাহকে হালাল মনে করে। যা কুর'আন-সুন্নাহ্'র সম্পূর্ণ বিরোধী। কোন কোন বর্ণনা মতে হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ও তাঁর কিছু ভক্তরা উক্ত বিবাহ্ জায়িয বললে বা করলে তা জায়িয হয়ে যাবে না। কারণ, কুর'আন-সুন্নাহ্'র সামনে কোন সাহাবার কথা গ্রহণযোগ্য নয়। উপরন্তু অন্যান্য সকল সাহাবা তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে একমত এবং তিনিও পরিশেষে উক্ত মত থেকে ফিরে এসেছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। মূলতঃ আজো যারা উক্ত অগ্রহণযোগ্য মতকে আঁকড়ে ধরে আছে তারা নিশ্চয়ই নিজ কুপ্রবৃত্তির অদম্য পূজারী। নতুবা হারাম হওয়ার ব্যাপারটি সুনিশ্চিত হওয়ার পরও একটি বিচ্ছিন্ন মতকে আঁকড়ে ধরার আর অন্য কোন মানে হয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00