📄 স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সংঘটিত সহবাসের ব্যাপারটি কাউকে জানানো
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সংঘটিত সহবাসের ব্যাপারটি অন্য কাউকে জানানো হারাম ও কবীরা গুনাহ্। রাসূল ইরশাদ করেন:
لَعَلَّ رَجُلاً يَقُوْلُ مَا يَفْعَلُ بِأَهْلِهِ، وَ لَعَلَّ امْرَأَةً تُخبِرُ بِمَا فَعَلَتْ مَعَ زَوْجِهَا؟! فَأَرَمَّ الْقَوْمُ ، فَقُلْتُ: إِي وَاللَّهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُنَّ لَيَفْعَلْنَ وَ إِنَّهُمْ لَيَفْعَلُوْنَ، قَالَ: فَلَا تَفْعَلُوا، فَإِنَّمَا ذَلِكَ مَثَلُ الشَّيْطَانِ لَقِيَ شَيْطَانَةً فِي طَرِيقِ فَغَشِيَهَا وَ النَّاسُ يَنْظُرُوْنَ (আল্বানী/আ'দাবুয যিফাফ : ১৪৪)
অর্থাৎ হয়তোবা কোন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে যা করে তা মানুষের কাছে বলে বেড়ায়। হয়তোবা কোন মহিলা তার স্বামীর সাথে যা করে তা মানুষের কাছে বলে বেড়ায়?! সাহাবায়ে কিরাম চুপ থাকলেন। কেউ কোন কিছুই বললেন না। তখন আমি (বর্ণনাকারী) বললাম: হ্যাঁ, আল্লাহ্'র কসম! হে আল্লাহ্'র রাসূল! মহিলারা এমন করে থাকে এবং পুরুষরাও। তিনি বললেন: না, তোমরা এমন করো না। কারণ, এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমন যে কোন এক শয়তান অন্য শয়তানের সাথে রাস্তায় সহবাস করলো। আর মানুষ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকলো।
📄 কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া
কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত সাউবান থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا فِي غَيْرِ مَا بَأْسٍ ، فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ (আবু দাউদ, হাদীস ২২২৬ তিরমিযী, হাদীস ১১৮৭ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২০৫৫)
অর্থাৎ যে কোন মহিলা কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া নিজ স্বামীর নিকট তালাক চাইলো তার উপর জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে।
হযরত সাউবান থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
الْمُخْتَلِعَاتُ ؛ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ (তিরমিযী, হাদীস ১১৮৬)
অর্থাৎ (কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া) কোন কিছুর বিনিময়ে তালাক গ্রহণকারিণী মহিলারা মুনাফিক।
তবে কোন মারাত্মক সমস্যা দেখা দিলে কোন কিছুর বিনিময়ে স্বামীর কাছ থেকে তালাক গ্রহণ করা যেতে পারে।
হযরত ‘আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা হাবীবা বিন্তে সাহলকে তার স্বামী সাবিত বিন্ ক্বাইস বিন্ শাম্মাস মেরে তার একটি হাড় ভেঙ্গে ফেলে। ভোর বেলা রাসূল কে এ ব্যাপারে জানানো হলে তিনি হযরত সাবিতকে ডেকে পাঠালেন। অতঃপর বললেন: তুমি তার (তার স্ত্রী) কাছ থেকে কিছু সম্পদ নিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। হযরত সাবিত বললেন: এমনকি চলে হে আল্লাহ্'র রাসূল! তিনি বললেন: হ্যাঁ, চলে। তখন হযরত সাবিত বললেন: আমি তাকে দু'টি খেজুরের বাগান দিয়েছি। এখনো তা তারই দখলে। তখন নবী বললেন: বাগান দু'টি নিয়ে তাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর হযরত সাবিত তাই করলেন। (আবু দাউদ, হাদীস ২২২৮)
📄 যিহার তথা নিজ স্ত্রীকে আপন মায়ের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করা
যিহার তথা নিজ স্ত্রীকে আপন মায়ের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْكُمْ مِّنْ نِّسَائِهِمْ مَّا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ ، إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّاتِي وَلَدْتَهُمْ ، وَ إِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنْكَرًا مِّنَ الْقَوْلِ وَ زُوْرًا ، وَ إِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُوْرٌ ) (مجادلة : ٢ )
অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যারা নিজ স্ত্রীদের সাথে যিহার তথা তাকে তার মায়ের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে তুলনা করে তারা যেন জেনে রাখে যে, তাদের স্ত্রীরা তাদের মা নয়। তাদের মা তো ওরাই যারা তাদেরকে জন্ম দিয়েছে। নিশ্চয়ই তারা এ ব্যাপারে মিথ্যা ও নিকৃষ্ট কথা বলে। আর আল্লাহ্ তা'আলা নিশ্চয়ই পাপ মোচনকারী অত্যন্ত ক্ষমাশীল।
উক্ত আয়াতে যিহারকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর মিথ্যা কথা বলা তো কবীরা গুনাহ্। সুতরাং যিহার করাও কবীরা গুনাহ্।
📄 স্বামী ছাড়া অন্য কোন আত্মীয়-বান্ধবীর জন্য কোন মহিলার তিন দিনের বেশি শোক পালন করা
স্বামী ছাড়া অন্য কোন আত্মীয়া-বান্ধবীর জন্য কোন মহিলার তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম।
হযরত যায়নাব বিন্তে আবী সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: যখন শাম দেশ থেকে আবু সুইয়ান এর মৃত্যু সংবাদ আসলো তখন এর তৃতীয় দিনে (তাঁর মেয়ে) হযরত উম্মে ‘হাবীবাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর দু’ হাত ও উভয় গণ্ডদেশে হলুদ রঙ্গের খোশবু লাগিয়ে বললেন: আমার এ হলুদ রঙ্গের খোশবু লাগানোর কোন প্রয়োজন ছিলো না যদি আমি রাসূল থেকে এ হাদীস না শুনতাম। রাসূল বলেন:
لَا يَحِلُّ لامْرَأَةِ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتِ فَوْقَ ثَلَاثَ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا (বুখারী, হাদীস ১২৮০, ১২৮১, ৫৩৩৪, ৫৩৪৫ মুসলিম, হাদীস ১৪৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মহিলার জন্য হালাল হবে না স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃতের জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করা যাবে।
১৫৬. কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া:
কোন হারাম বস্তুর ক্রয়-বিক্রি ও এর বিক্রিলব্ধ পয়সা খাওয়া হারাম।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَتَعَاوَنُوْا عَلَى الْبِرِّ وَ التَّقْوَى ، وَ لَا تَعَاوَنُوْا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ، وَ اتَّقُوْا
(إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ) (মা'য়িদাহ : ২)
অর্থাৎ তোমরা একে অপরকে নেক কাজ ও আল্লাহভীরুতা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করো। তবে গুনাহ্'র কাজ ও শত্রুতা বিকাশে কারোর সাহায্য করো না এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।
এ কথা নিশ্চিত যে, কারোর কাছ থেকে কোন হারাম বস্তু ক্রয় করা মানে হারামের প্রচার-প্রসারে তার সহযোগিতা করা এবং কারোর নিকট কোন হারাম বস্তু বিক্রি করা মানে তাকে উক্ত হারাম কাজে উৎসাহিত করা।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাসূল কে বাইতুল্লাহ্’র রুক্নে ইয়ামানীর পার্শ্বে বসা অবস্থায় দেখেছিলাম। তিনি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ثَلاثًا ، إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَأَكَلُوْا أَثْمَانَهَا، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৮৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে লা'নত করুক। রাসূল এ কথাটি তিনবার বলেছেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন; অথচ তারা তা বিক্রি করে সে পয়সা ভক্ষণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।