📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় না রাখা

📄 কারোর একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় না রাখা


কারোর একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় না রাখা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ ، فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا ؛ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ شِقُهُ مَائِلٌ (আবু দাউদ, হাদীস ২১৩৩)
অর্থাৎ যার দু'টি স্ত্রী রয়েছে এতসত্ত্বেও সে এক জনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়লো তা হলে সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে উঠবে যে, তার এক পার্শ্ব নিম্নগামী থাকবে।
সুতরাং প্রত্যেক স্ত্রীর মাঝে খাদ্য-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রাত্রি যাপনের ব্যাপারে সমতা বজায় রাখতে হবে। তবে মনের টান অন্য জিনিস। তাতে সবার মধ্যে সমতা বজায় রাখা কখনোই সম্ভবপর নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ ، وَ لَوْ حَرَصْتُمْ ، فَلَا تَمِيلُوْا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوْهَا كَالْمُعَلَّقَةِ ، وَ إِنْ تُصْلِحُوْا وَتَتَّقُوْا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِيمًا ﴾ (নিসা': ১২৯)
অর্থাৎ তোমরা কখনো স্ত্রীদের মাঝে (সার্বিকভাবে) সুবিচার স্থাপন করতে পারবে না। এ ব্যাপারে যতই তোমাদের ইচ্ছা বা নিষ্ঠা থাকুক না কেন। অতএব তোমরা কোন এক জনের প্রতি সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না। যাতে করে অপর জন ঝুলানো অবস্থায় থেকে যায়। তবে যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন করে নাও এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করো তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল করুণাময়।
তবে কোন স্ত্রীকে এমনভাবে ভালোবাসা যা অন্য স্ত্রীর উপর যুলুম করতে উৎসাহিত করে তা অবশ্যই অপরাধ। যেমন: তাকে এমনভাবে ভালোবাসা যে, সর্বদা তারই আবদার-আবেদন রক্ষা করা হয় অন্য জনের নয় এবং তার কাছেই বেশি বেশি রাত্রি যাপন করা হয় অন্য জনের কাছে নয়। এমনকি তাকে সর্বদা নিকটে রেখেই অন্যকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন মহিলার নিজের উপর তার স্বামীর অবদান অস্বীকার করা

📄 কোন মহিলার নিজের উপর তার স্বামীর অবদান অস্বীকার করা


কোন মহিলার নিজের উপর তার স্বামীর অবদান অস্বীকার করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
وَ أُرِيْتُ النَّارَ فَلَمْ أَرَ مَنْظَرًا كَالْيَوْمِ قَطُّ أَفْظَعَ، وَ رَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ ، قَالُوا : بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : بِكُفْرِهِنَّ، قِبْلَ: يَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: يَكْفُرْنَ الْعَشِيْرَ،
وَ يَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ كُلَّهُ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ (বুখারী, হাদীস ১০৫২ মুসলিম, হাদীস ৯০৭)
অর্থাৎ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হলো। অথচ আজকের মতো এতো ভয়ঙ্কর দৃশ্য আমার জীবনে আমি আর কখনো দেখিনি। জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীকে আমি মহিলাই পেলাম। সাহাবারা বললেন: তা কেন হে আল্লাহ্'র রাসূল! তিনি বললেন: তারা কুফরী করেছিলো। বলা হলো: তারা কি আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কুফরী করেছে? রাসূল বললেন: না, বরং তারা নিজ স্বামীর সাথে কুফরী করেছে তথা তার অবদান অস্বীকার করেছে। তুমি যদি তাদের কারোর প্রতি পুরো জীবন অনুগ্রহ করলে আর সে হঠাৎ তোমার পক্ষ থেকে (তার রুচি বিরুদ্ধ) কোন কিছু পেয়ে গেলো তখন সে নির্দ্বিধায় বলে ফেলবে: আমি কখনোই তোমার কাছ থেকে ভালো কিছু দেখতে পাইনি।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 নিজের মাতা-পিতাকে সরাসরি লা'নত দেয়া অথবা তাদের লা'নতের কারণ হওয়া

📄 নিজের মাতা-পিতাকে সরাসরি লা'নত দেয়া অথবা তাদের লা'নতের কারণ হওয়া


নিজের মাতা-পিতাকে সরাসরি লা'نত দেয়া অথবা তাদের লা'নতের কারণ হওয়া আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ أَنْ يَلْعَنَ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ ، قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ۚ وَكَيْفَ يَلْعَنُ الرَّجُلُ وَالدَيْهِ؟ قَالَ: يَسُبُّ الرَّجُلُ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ ، وَ يَسُبُّ أُمَّهُ فَيَسُبُّ أُمَّهُ (বুখারী, হাদীস ৫৯৭৩)
অর্থাৎ সর্ব বৃহৎ কবীরা গুনাহ্'র একটি এও যে, কোন ব্যক্তি তার মাতা- পিতাকে লা'নত দিবে। বলা হলো: হে আল্লাহ্'র রাসূল! কিভাবেই বা কোন ব্যক্তি তার মাতা-পিতাকে লা'نত করতে পারে? তিনি বললেন: সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয় তখন সে ব্যক্তি তার পিতাকে গালি দেয়। তেমনিভাবে সে অন্যের মাকে গali দেয় তখন সেও তার মাকে গালি দেয়।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 বিক্রি করতে গিয়ে বাদিকে তার সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করা

📄 বিক্রি করতে গিয়ে বাদিকে তার সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করা


বিক্রি করতে গিয়ে বান্দিকে তার সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করা আরেকটি হারাম কাজ। হযরত আবু আইয়ূব আন্সারী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الْوَالِدَة وَ وَلَدهَا فَرَّقَ اللهُ بَيْنَهُ وَ بَيْنَ أَحَبَّتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (তিরমিযী, হাদীস ১২৮৩, ১৫৬৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন বান্দিকে তার সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলো আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাকে তার প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00