📄 কোন মহিলা নিজ স্বামীর অবাধ্য হওয়া
কোন মহিলা নিজ স্বামীর অবাধ্য হওয়াও কবীরা গুনাহ্'র অন্যতম। তাই তো আল্লাহ্ তা'আলা এ জাতীয় মহিলাদের জন্য পর্যায়ক্রমে কয়েকটি শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ اللَّاتِي تَخَافُوْنَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوْهُنَّ وَ اهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ، فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوْا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا ) (নিসা': ৩৪)
অর্থাৎ আর যে নারীদের তোমরা অবাধ্যতার আশঙ্কা করো তাদেরকে সদুপদেশ দাও তথা আল্লাহ্ তা'আলার আযাবের ভয়-ভীতি দেখাও, তাদেরকে শয্যায় পরিত্যাগ করো এবং প্রয়োজনে তাদেরকে প্রহার করো। এতে করে তারা তোমাদের অনুগত হয়ে গেলে তাদের ব্যাপারে আর অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সমুন্নত মহীয়ান।
কোন মহিলা তার স্বামীর প্রয়োজনের ডাকে সাড়া না দিলে যদি সে তার উপর রাগান্বিত হয়ে রাত্রি যাপন করে তা হলে ফিরিস্তারা তার উপর লা'নত করতে থাকেন যতক্ষণ না সে সকালে উপনীত হয়।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ ، فَبَات غَضْبَانَ عَلَيْهَا ، لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ (বুখারী, হাদীস ৩২৩৭ মুসলিম, হাদীস ১৪৩৬)
অর্থাৎ কোন পুরুষ নিজ স্ত্রীকে তার শয্যার দিকে ডাকলে সে যদি তাতে সাড়া না দেয় অতঃপর সে তার উপর রাগান্বিত হয়ে রাত্রি যাপন করে তা হলে ফিরiস্তারা তার উপর লা'নত করতে থাকে যতক্ষণ না সে সকালে উপনীত হয়।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
وَ الَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُوْ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا ، فَتَأْبَى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا (বুখারী, হাদীস ৩২৩৭, ৫১৫৩ মুসলিম, হাদীস ১৪৩৬)
অর্থাৎ সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! কোন ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে তার শয্যার দিকে ডাকলে সে যদি তাতে সাড়া দিতে অস্বীকার করে তা হলে সে সত্তা যিনি আকাশে রয়েছেন (আল্লাহ্ তা'আলা) তার উপর অসন্তুষ্ট হবেন যতক্ষণ না তার উপর তার স্বামী সন্তুষ্ট হয়।
কোন মহিলা নিজ স্বামীর সমূহ অধিকার আদায় না করলে সে আল্লাহ্ তা'আলার সমূহ অধিকার আদায় করেছে বলে ধর্তব্য হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ আবু আওফা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَوْ كُنْتُ أَمْرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لِغَيْرِ الله لَأَمَرْتُ الْمَرْأَةَ أَنْ تَسْجُدَ لِزَوْجِهَا ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ! لَا تُؤَدِّيَ الْمَرْأَةُ حَقَّ رَبِّهَا حَتَّى تُؤَدِّيَ حَقَّ زَوْجِهَا كُلِّهِ ، حَتَّى لَوْ سَأَلَهَا نَفْسَهَا وَهِيَ عَلَى قَتَبٍ لَّمْ تَمْنَعْهُ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৮৮০ আহমাদ ৪/৩৮১ ইবনু হিব্বান/ইহসান, হাদীস ৪১৫৯ বায়হাক্বী ৭/২৯২)
অর্থাৎ আমি যদি কাউকে আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য সিজদাহ্ করতে আদেশ করতাম তা হলে মহিলাকে তাঁর স্বামীর জন্য সিজদাহ্ করতে আদেশ করতাম। কারণ, সে সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার জীবন! কোন মহিলা নিজ প্রভুর সমূহ অধিকার আদায় করেছে বলে ধর্তব্য হবে না যতক্ষণ না সে তার স্বামীর সমূহ অধিকার আদায় করে। এমনকি কোন মহিলাকে তার স্বামী সহবাসের জন্য ডাকলে তাতে তার অস্বীকার করার কোন অধিকার নেই। যদিও সে তখন উটের পিঠে আরোহণ অবস্থায় থাকুক না কেন। স্বামীর সন্তুষ্টিতেই স্ত্রীর জান্নাত এবং তার অসন্তুষ্টিতেই স্ত্রীর জাহান্নাম। একদা জনৈকা সাহাবী মহিলা রাসূল এর নিকট তার স্বামীর কথা উল্লেখ করলে তিনি তাকে বলেন:
اُنْظُرِي أَيْنَ أَنْتِ مِنْهُ ، فَإِنَّهُ جَنَّتَكَ وَ نَارُكَ (আহমাদ ৪/৩৪১ নাসায়ী/'ইশ্রাতুন্ নিসা', হাদীস ৭৬, ৭৭, ৭৮, ৭৯, ৮০, ৮১, ৮২, ৮৩ ইবনু আবী শাইবাহ ৪/৩০৪ হা'কিম ২/১৮৯ বায়হাক্বী ৭/২৯১)
অর্থাৎ ভেবে দেখো তার সাথে তুমি কি ধরনের আচরণ করছো! কারণ, সেই তো তোমার জান্নাত এবং সেই তো তোমার জাহান্নাম।
কোন মহিলা তার স্বামীর অবদান সমূহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলে আল্লাহ্ তা'আলা তার প্রতি কখনো সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে তাকাবেন না। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى امْرَأَةٍ لَا تَشْكُرُ لِزَوْجِهَا ، وَ هِيَ لَا تَسْتَغْنِي عَنْهُ (নাসায়ী/'ইশ্রাতুন নিসা', হাদীস ২৪৯, ২৫০ হা'কিম ২/১৯০ বায়হাক্বী ৭/২৯৪ খতীব ৯/৪৪৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা এমন মহিলার দিকে (সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে) তাকান না যে নিজ স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না; অথচ সে তার স্বামীর প্রতি সর্বদাই মুখাপেক্ষিণী।
কোন মহিলা তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দিলে তার জান্নাতী অপরূপা সুন্দরী স্ত্রী তথা ‘হুররা সে মহিলাকে তিরস্কার করতে থাকে। হযরত মু'আয বিন জাবাল থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تُؤْذِي امْرَأَةٌ زَوْجَهَا إِلَّا قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْحُوْرِ الْعِيْنِ : لَا تُؤْذِيهِ ، قَاتَلَكِ اللَّهُ ! فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكَ دَخِيْلٌ ، أَوْشَكَ أَنْ يُفَارِقَكَ إِلَيْنَا (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ২০৪৪)
অর্থাৎ কোন মহিলা তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দিলে তার জান্নাতী অপরূপা সুন্দরী স্ত্রীরা বলে: তাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহ্ তোমাকে ধ্বংস করুক! কারণ, সে তো তোমার কাছে কিছু দিনের জন্য। বেশি দেরি নয় যে, সে তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবে।
আল্লাহ্ তা'আলা, তদীয় রাসূল এবং স্বামীর আনুগত্যহীনতার কারণেই অধিকাংশ মহিলারা জাহান্নামে যাবে। হযরত ‘ইমরান বিন্ ‘হুস্বাইন থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
اطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ ، وَ اطْلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ (বুখারী, হাদীস ৩২৪১ মুসলিম, হাদীস ২৭৩৮)
অর্থাৎ আমি জান্নাতে উঁকি মেরে দেখতে পেলাম, জান্নাতীদের অধিকাংশই গরীব শ্রেণীর এবং জাহান্নামে উঁকি মেরে দেখতে পেলাম, জাহান্নামীদের অধিকাংশই মহিলা।
হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসূল মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ ، فَإِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ ، فَقُلْنَ: وَ بِمَ يَا رَسُوْلَ الله !؟ قَالَ: تُكْثَرْنَ اللَّعْنَ وَ تَكْفُرْنَ الْعَشِيْرَ (বুখারী, হাদীস ৩০৪ মুসলিম, হাদীস ৮০)
অর্থাৎ হে মহিলারা! তোমরা (বেশি বেশি) সাদাকা করো। কারণ, আমি তোমাদেরকেই জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী রূপে দেখেছি। মহিলারা বললো: কেন হে আল্লাহ্'র রাসূল! তখন রাসূল বললেন: তোমরা বেশি লা'নত করে থাকো এবং স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করো না।
📄 ওসিয়ত বা দানের ক্ষেত্রে সন্তানদের কাউকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যের ক্ষতি করা
অসিয়ত বা দানের ক্ষেত্রে সন্তানদের কাউকে প্রাধান্য দিয়ে অন্যের ক্ষতি করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
মূলতঃ কারোর নিজ কোন সন্তানের জন্য কোন কিছুর অসিয়ত করাই না জায়িয। কারণ, সে তো ওয়ারিশ। আর ওয়ারিশের জন্য অসিয়ত করা তো কোন প্রকারেই জায়িয নয়। সুতরাং কোন সন্তানের জন্য কোন কিছুর অসিয়ত করা মানেই অন্য সন্তানের ক্ষতি করা।
হযরত আবু উমামাহ্ বাহিলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلِّ ذِي حَقٌّ حَقَّهُ ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثِ (আবু দাউদ, হাদীস ২৮৭০ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৭৬৩)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক পাওনাদারকে তার পাওনা দিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং ওয়ারিশের জন্য আর কোন অসিয়ত চলবে না।
তেমনিভাবে কোন ধর্মীয় ক্ষেত্র অথবা কোন ব্যক্তির জন্য সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করাও নিজ সন্তানদের ক্ষতি সাধন করার শামিল।
হযরত সা'দ বিন আবী ওয়াক্কাস্ব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি মক্কা বিজয়ের বছর রোগাক্রান্ত হই। এমনকি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তেই পৌঁছে গিয়েছিলাম।
তখন রাসূল আমাকে দেখতে আসলেন। আমি রাসূল কে বললাম: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমার তো অনেকগুলো সম্পদ। তবে একটি মেয়ে ছাড়া আমার আর কোন ওয়ারিশ নেই। আমি কি আমার সম্পদের দুই তৃতীয়াংশ সাদাকা করে দেবো? রাসূল বললেন: না। আমি বললাম: তা হলে অর্ধেক সম্পদ? রাসূল বললেন: না। আমি বললাম: তা হলে এক তৃতীয়াংশ। রাসূল বললেন: ঠিক আছে এক তৃতীয়াংশ। তবে তাও অনেক বেশি। তিনি আরো বললেন:
أَنْ تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُوْنَ النَّاسَ (আবু দাউদ, হাদীস ২৮৬৪ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৭৫৮)
অর্থাৎ তুমি তোমার সন্তানদেরকে ধনী রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম তাদের গরীব রেখে যাওয়ার চাইতে যাতে তারা মানুষের কাছে হাত পাতে।
যারা জীবিত থাকতেই সময় মতো আল্লাহ্'র রাস্তায় সাদাকা করে না তারা মৃত্যু ঘনিয়ে আসলে এলোমেলোভাবে সাদাকা করে নিজ ওয়ারিশদের ক্ষতি সাধন করে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূল কে জিজ্ঞাসা করলো: হে আল্লাহ্'র রাসূল! কোন ধরনের সাদাকা উত্তম? রাসূল বললেন:
أَنْ تَصَدَّقَ وَ أَنْتَ صَحِيحٌ حَرِيصٌ ، تَأْمُلُ الْبَقَاءَ ، وَ تَخْشَى الْفَقْرَ ، وَ لَا تُمْهِلْ، حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُوْمَ قُلْتَ: لِفُلَانِ كَذَا ، لِفُلَانِ كَذَا ، وَ قَدْ كَانَ لِفُلَانِ (আবু দাউদ, হাদীস ২৮৬৫)
অর্থাৎ তুমি সাদাকা করবে যখন তুমি সুস্থ থাকো এবং সম্পদের প্রতি তোমার লোভ থাকে। দুনিয়ায় থাকার ইচ্ছা এবং দরিদ্রতার ভয় পাও। সাদাকা করতে দেরি করো না কিন্তু। এমন যেন না হয়, রূহ গলায় পৌঁছে গেলো। আর তুমি বললে: অমুকের জন্য এতো। অমুকের জন্য এতো; মূলতঃ তা অন্যের জন্যই। কোন সন্তানকে এককভাবে কোন কিছু দান করা যাবে না। বরং দিতে চাইলে সবাইকে সমানভাবেই দিতে হবে। নতুবা স্বেচ্ছায় অন্য সন্তানের ক্ষতি সাধন করা হবে।
হযরত নু'মান বিন্ বাশীর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমার মা আমার পিতার নিকট আমার জন্য কিছু বিশেষ দান চাইলে তিনি আমাকে একটি গোলাম দান করেন। তখন আমার মা বললেন: আমি এতে সন্তুষ্ট হবো না যতক্ষণ না রাসূল কে এ ব্যাপারে সাক্ষী বানাবেন। তখন আমার পিতা রাসূল এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি ‘আমরাহ্ বিন্তে রাওয়াহার গর্ভজাত ছেলে তথা আমারই সন্তান নু'মানকে একটি গোলাম দিয়েছি। সে এ ব্যাপারে আপনাকে সাক্ষী বানাতে চায়। তখন রাসূল বললেন:
أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَ مِثْلَهُ ؟ قَالَ : لا ، قَالَ: فَارْجِعْهُ ، وَ فِي رِوَايَةٍ : فَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوْا بَيْنَ أَوْلَادِكُمْ ، وَ فِي رِوَايَةٍ : لَا تُشْهِدْنِي عَلَى جَوْرٍ ، وَ فِي رِوَايَةٍ : أَلَيْسَ يَسُرُّكَ أَنْ يَكُونُوا لَكَ فِي الْبَرِّ سَوَاءٌ ؟ قَالَ: بَلَى ، قَالَ: فَلَا إِذًا (বুখারী, হাদীস ২৫৮৬, ২৫৮৭, ২৬৫০ মুসলিম, হাদীস ১৬২৩ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৪০৪, ২৪০৫)
অর্থাৎ তোমার সকল সন্তানকেই এমন করে একটি একটি গোলাম দিয়েছো? তিনি বললেন: না। তখন রাসূল ﷺ বললেন: সুতরাং তা ফেরৎ নিয়ে নাও।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আল্লাহকে ভয় করো এবং সন্তানদের মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করো। অন্য বর্ণনায় আরো রয়েছে, আমাকে যুলুমের সাক্ষী বানিও না। আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে, তোমার কি মনে চায় না যে, তোমার সকল সন্তান তোমার সাথে সমানভাবেই ভালো ব্যবহার দেখাক? তিনি বললেন: অবশ্যই। তখন রাসূল ﷺ বললেন: তা হলে তুমি নু'মানকে এককভাবে একটি গোলাম দিতে পারো না।
এ যুলুম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই যদি কেউ তার সন্তানকে কোন কিছু এককভাবে দিয়ে দেয় তা ফেরত নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে; যদিও তা অন্যের ক্ষেত্রে জায়িয নয়।
হ হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ Š থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: নবী ﷺ ইরশাদ করেন:
لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً ، أَوْ يَهَبَ هِبَةً فَيَرْجِعَ فِيْهَا ، إِلَّا الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ ، وَ مَثَلُ الَّذِي يُعْطِي الْعَطِيَّةَ ثُمَّ يَرْجِعُ فِيْهَا ، كَمَثَلِ الْكَلْبِ يَأْكُلُ ، فَإِذَا شَبِعَ قَاءَ ، ثُمَّ عَادَ فِي قَيْتِهِ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৩৯ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৪০৬)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তির জন্য জায়িয নয় যে, সে কাউকে কোন কিছু দিয়ে তা আবার ফেরৎ নিবে। তবে পিতা তার সন্তানকে কোন কিছু দিয়ে তা আবার ফেরৎ নিতে পারে। যে ব্যক্তি কাউকে কোন কিছু দিয়ে তা আবার ফেরৎ নেয় সে যেন কুকুরের ন্যায়। পেট ভরে খাদ্য খেয়ে বমি করলো এবং আবারো সেই বমি খোলো।
তবে কোন সন্তানকে প্রয়োজনের খাতিরে কোন কিছু দিলে তা অন্যকেও সমভাবে দিতে হবে এমন নয় যতক্ষণ না তারো প্রয়োজন দেখা দেয়। যেমন: কেউ স্কুল, কলেজ অথবা মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে তখন তার খরচ কিংবা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসা খরচ ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে তাকে দেয়ার সময় অন্য জনেরও এমন প্রয়োজন দেখা দিলে তাকেও দিবে এ মানসিকতা থাকতে হবে।
📄 কারোর একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় না রাখা
কারোর একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় না রাখা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ ، فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا ؛ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ شِقُهُ مَائِلٌ (আবু দাউদ, হাদীস ২১৩৩)
অর্থাৎ যার দু'টি স্ত্রী রয়েছে এতসত্ত্বেও সে এক জনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়লো তা হলে সে কিয়ামতের দিন এমনভাবে উঠবে যে, তার এক পার্শ্ব নিম্নগামী থাকবে।
সুতরাং প্রত্যেক স্ত্রীর মাঝে খাদ্য-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রাত্রি যাপনের ব্যাপারে সমতা বজায় রাখতে হবে। তবে মনের টান অন্য জিনিস। তাতে সবার মধ্যে সমতা বজায় রাখা কখনোই সম্ভবপর নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ ، وَ لَوْ حَرَصْتُمْ ، فَلَا تَمِيلُوْا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوْهَا كَالْمُعَلَّقَةِ ، وَ إِنْ تُصْلِحُوْا وَتَتَّقُوْا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُوْرًا رَّحِيمًا ﴾ (নিসা': ১২৯)
অর্থাৎ তোমরা কখনো স্ত্রীদের মাঝে (সার্বিকভাবে) সুবিচার স্থাপন করতে পারবে না। এ ব্যাপারে যতই তোমাদের ইচ্ছা বা নিষ্ঠা থাকুক না কেন। অতএব তোমরা কোন এক জনের প্রতি সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না। যাতে করে অপর জন ঝুলানো অবস্থায় থেকে যায়। তবে যদি তোমরা নিজেদেরকে সংশোধন করে নাও এবং আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করো তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল করুণাময়।
তবে কোন স্ত্রীকে এমনভাবে ভালোবাসা যা অন্য স্ত্রীর উপর যুলুম করতে উৎসাহিত করে তা অবশ্যই অপরাধ। যেমন: তাকে এমনভাবে ভালোবাসা যে, সর্বদা তারই আবদার-আবেদন রক্ষা করা হয় অন্য জনের নয় এবং তার কাছেই বেশি বেশি রাত্রি যাপন করা হয় অন্য জনের কাছে নয়। এমনকি তাকে সর্বদা নিকটে রেখেই অন্যকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।
📄 কোন মহিলার নিজের উপর তার স্বামীর অবদান অস্বীকার করা
কোন মহিলার নিজের উপর তার স্বামীর অবদান অস্বীকার করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
وَ أُرِيْتُ النَّارَ فَلَمْ أَرَ مَنْظَرًا كَالْيَوْمِ قَطُّ أَفْظَعَ، وَ رَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ ، قَالُوا : بِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : بِكُفْرِهِنَّ، قِبْلَ: يَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: يَكْفُرْنَ الْعَشِيْرَ،
وَ يَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ كُلَّهُ ثُمَّ رَأَتْ مِنْكَ شَيْئًا قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ (বুখারী, হাদীস ১০৫২ মুসলিম, হাদীস ৯০৭)
অর্থাৎ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হলো। অথচ আজকের মতো এতো ভয়ঙ্কর দৃশ্য আমার জীবনে আমি আর কখনো দেখিনি। জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসীকে আমি মহিলাই পেলাম। সাহাবারা বললেন: তা কেন হে আল্লাহ্'র রাসূল! তিনি বললেন: তারা কুফরী করেছিলো। বলা হলো: তারা কি আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কুফরী করেছে? রাসূল বললেন: না, বরং তারা নিজ স্বামীর সাথে কুফরী করেছে তথা তার অবদান অস্বীকার করেছে। তুমি যদি তাদের কারোর প্রতি পুরো জীবন অনুগ্রহ করলে আর সে হঠাৎ তোমার পক্ষ থেকে (তার রুচি বিরুদ্ধ) কোন কিছু পেয়ে গেলো তখন সে নির্দ্বিধায় বলে ফেলবে: আমি কখনোই তোমার কাছ থেকে ভালো কিছু দেখতে পাইনি।