📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ 📄 মাতা-পিতার অবাধ্যতার কিছু অপকার

📄 মাতা-পিতার অবাধ্যতার কিছু অপকার


১. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তির রিযিকে সংকট দেখা দেয় এবং তার জীবনে কোন বরকত হয় না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ এবং হযরত আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِه ، وَ أَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ (বুখারী, হাদীস ২০৬৭, ৫৯৮৫, ৫৯৮৬ মুসলিম, হাদীস ২৫৫৭)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি রিযিকে প্রশস্ততা ও বয়সে বরকত চায় তার উচিৎ সে যেন নিজ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। কারোর জন্য নিজ মাতা-পিতার চাইতেও নিকটাত্মীয় আর কে হতে পারে?
২. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তি কখনো আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدَيْنِ وَ سَخَطُهُ فِي سَخَطِهِمَا (সাহীহল্ জা'মি': ৩/১৭৮)
অর্থাৎ প্রভুর সন্তুষ্টি মাতা-পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে এবং তাঁর অসন্তুষ্টি তাঁদের অসন্তুষ্টির মধ্যে।
৩. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তির সন্তানও তার অবাধ্য হবে অথবা হওয়া স্বাভাবিক।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
مَنْ عَمِلَ صَالِحاً فَلِنَفْسِهِ ، وَ مَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ، وَ مَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ ) (ফুস্সিলাত/হা' মীম আস্ সাজদাহ : ৪৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি সৎ কাজ করলো সে তা তার ভালোর জন্যই করলো। আর যে মন্দ কাজ করলো সে অবশ্যই উহার প্রতিফল ভোগ করবে। আপনার প্রভু তাঁর বান্দাহদের প্রতি কোন যুলুম করেন না।
৪. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তি যখন তার অপরাধের কথা বুঝতে পারবে তখন সে চরমভাবে লজ্জিত হবে। তার বিবেক সর্বদা তাকে দংশন করতে থাকবে। কিন্তু তখন এ লজ্জা আর কোন কাজে আসবে না।
৫. কোন সন্তান তার মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়ার কারণে তার মাতা-পিতা তাকে কোন বদদো'আ বা অভিশাপ দিলে তা তার সমূহ অকল্যাণ বয়ে আনবে।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثُ دَعْوَاتِ لَا تُرَدُّ : دَعْوَةُ الْوَالِدِ لِوَلَدِهِ ، وَ دَعْوَةُ الصَّائِمِ ، وَ دَعْوَةُ الْمُسَافِرِ (সাহীহল্ জা'মি': ৩/৬৩)
অর্থাৎ তিনটি দো'আ কখনো না মঞ্জুর করা হয়না: মাতা-পিতার দো'আ তার সন্তানের জন্য, রোযাদারের দো'আ ও মুসাফিরের দো'আ।
যেমনিভাবে মাতা-পিতার দো'আ সন্তানের কল্যাণে আসে তেমনিভাবে তাদের বদদো'আও তার সকল অকল্যাণ ডেকে আনে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন: "জুরাইজ” নামক জনৈক ইবাদাতগুযার ব্যক্তি কোন এক গির্জায় ইবাদাত করতো। একদা তার মা তার গির্জায় এসে তাকে ডাকতে শুরু করলো। বললো: হে "জুরাইজ”! আমি তোমার মা। তুমি আমার সাথে কথা বলো। তার মা তাকে নামায পড়তে দেখলো। তখন সে তাঁর ডাকে বললো:
হে আল্লাহ্! আমার মা এবং আমার নামায! এ কথা বলেই সে নামাযে রত থাকলো। এভাবে তার মা তিন দিন তাকে ডাকলো এবং সে প্রতি দিন তাঁর সঙ্গে একই আচরণ দেখালো। তৃতীয় দিন তার মা তাকে এ বলে বদদো'আ করলো: হে আল্লাহ্! আপনি আমার ছেলেটিকে মৃত্যু দিবেন না যতক্ষণ না সে কোন বেশ্যা মহিলার চেহারা দেখে। আল্লাহ্ তা'আলা তার মায়ের বদদো'আ কবুল করেন।
জনৈক মেষচারক তার গির্জায় রাত্রিযাপন করতো। একদা এক সুন্দরী মহিলা গ্রাম থেকে বের হয়ে আসলে সে তার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। অতঃপর মহিলাটি একটি ছেলে জন্ম দেয়। মহিলাটিকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে: সন্তানটি ইবাদাতগুযার ব্যক্তির। এ কথা শুনে সাধারণ জনগণ কুড়াল-সাবল নিয়ে গির্জায় উপস্থিত হয়। তারা গির্জায় এসে তাকে নামায পড়তে দেখে তার সাথে কোন কথা বলেনি। বরং তারা গির্জাটি ধ্বংস করার কাজে লেগে গেলো। সে এ কাণ্ড দেখে গির্জা থেকে নেমে আসলো। তখন তারা তাকে বললো: কিছু জিজ্ঞাসা করার থাকলে এ মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করো। ইবাদাতগুযার ব্যক্তিটি মুচকি হেসে বাচ্চার মাথায় হাত রেখে বললো: তোমার পিতা কে? বাচ্চাটি বললো: মেষচারক। জনগণ তা শুনে তাকে বললো: আমরা তোমার ধ্বংসপ্রাপ্ত গির্জা সোনা-রূপা দিয়ে বানিয়ে দেবো। সে বললো: তা করতে হবে না। বরং তোমরা মাটি দিয়েই বানিয়ে দাও যেভাবে পূর্বে ছিলো। (মুসলিম, হাদীস ২৫৫০)
৬. মানুষ তার বদনাম করবে এবং তার দিকে সুদৃষ্টিতে তাকাবেনা।
৭. মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
রাসূল ইরশাদ করেন:
أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَنْ أَدْرَكَ أَحَدَ وَالِدَيْهِ فَمَاتَ ، فَدَخَلَ النَّارَ ،
فَأَبْعَدَهُ اللهُ ، قُلْ: آمِيْنُ ، فَقُلْتُ: آمِيْنُ (সাহীহল্ জা'মি': ১/৭৮)
অর্থাৎ আমার নিকট জিব্রীল এসে বললো: হে মুহাম্মাদ! যে ব্যক্তি মাতা- পিতার কোন একজনকে জীবিত পেয়েও তাদের খিদমত করেনি। বরং তার অবাধ্য হয়েছে এবং যদ্দরুন সে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিজ রহমত থেকে বঞ্চিত করুক। আপনি বলুন: হে আল্লাহ্! আপনি দো'আটি কবুল করুন। আমি বললাম: হে আল্লাহ্! আপনি দো'আটি কবুল করুন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية