📄 মাতা-পিতার অবাধ্যতার কারণ সমূহ
১. সন্তান কখনো এমন মনে করে যে, আমার মাতা-পিতার এ আদেশটি মানার চাইতে অন্য কোন নেক আমল করা অনেক ভালো। যেমন: তার পিতা তাকে বলেছেন: অমুক বস্তুটি বাজার থেকে নিয়ে আসো। তখন দেখা যাচ্ছে, তার মন তা করতে চাচ্ছেনা। কারণ, সে মনে করছে, কোর'আন হিফজ অথবা ধর্মীয় বিষয়ের কোন ক্লাসে বসা তার জন্য এর চাইতেও অনেক বেশি সাওয়াবের।
তার এ কথা জানা উচিৎ যে, তার নেক আমলটি তো আর জিহাদ চাইতে উত্তম নয়। অথচ রাসূল মাতা-পিতার খিদমতকে হিজরত ও জিহাদের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন:
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
أَقْبَلَ رَجُلٌ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ: أَبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ وَ الْجِهَادِ ، أَبْتَغِيُّ الْأَجْرَ مِنَ اللَّهِ، قَالَ: فَهَلْ مِنْ وَالِدَيْكَ أَحَدٌ حَيٌّ؟ قَالَ: نَعَمْ، بَلْ كِلَاهُمَا، قَالَ: فَتَبْتَغِي الْأَجْرَ مِنَ اللَّهِ؟ قَالَ: نَعَمْ ، قَالَ : فَارْجِعْ إِلَى وَالِدَيْكَ فَأَحْسِنْ صُحْبَتَهُمَا (মুসলিম, হাদীস ২৫৪৯)
অর্থাৎ আল্লাহ্'র নবীর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বললো: আমি সাওয়াবের আশায় আপনার নিকট হিজরত ও জিহাদের বায়'আত করতে চাই। নবী ﷺ বললেন: তোমার মাতা-পিতার কোন একজন বেঁচে আছে কি? সে বললো: জি, উভয় জনই বেঁচে আছেন। নবী ﷺ বললেন: তুমি কি সত্যিই সাওয়াব চাও? সে বললো: জি। তিনি বললেন: অতএব তুমি তোমার মাতা-পিতার নিকট চলে যাও। তাদের সঙ্গে সদাচরণ করো।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
سَأَلْتُ النَّبِيَّ ﷺ : أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ؟ قَالَ: الصَّلَاةُ عَلَى وَقْتِهَا ، قَالَ : ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ: بِرُّ الْوَالِدَيْنِ ، قَالَ : ثُمَّ أَيُّ؟ قَالَ: الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ (বুখারী, হাদীস ৫৯৭০)
অর্থাৎ আমি নবী ﷺ কে জিজ্ঞাসা করেছি, কোন আমল আল্লাহ্ তা'আলার নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন: সময় মতো নামায পড়া। বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম: অতঃপর। তিনি বললেন: মাতা-পিতার সঙ্গে সদাচরণ। আমি বললাম: অতঃপর। তিনি বললেন: আল্লাহ্'র পথে জিহাদ করা।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন:
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ ، فَقَالَ: جِنْتُ أَبَايِعُكَ عَلَى الْهِجْرَةِ ، وَتَرَكْتُ أَبَوَيْ يَبْكِيَانِ ، فَقَالَ: ارْجِعْ عَلَيْهِمَا ، فَأَضْحِكْهُمَا كَمَا أَبْكَيْتَهُمَا (আবু দাউদ, হাদীস ২৫২৮)
অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি রাসূলের নিকট এসে বললো: আমার মাতা-পিতাকে কাঁদিয়ে আমি আপনার নিকট হিজ্জতের বায়'আত করতে এসেছি। তখন রাসূল বললেন: তাদের নিকট ফিরে যাও। তাদেরকে হাসাও যেমনিভাবে তাদেরকে কাঁদিয়েছো।
হযরত মু'আবিয়া বিন্ জা'হিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমার পিতা জা'হিমা নবী এর নিকট এসে বললেন:
أَرَدْتُ أَنْ أَغْرُوَ، وَ قَدْ جِئْتُ أَسْتَشِيْرُكَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ : هَلْ لَكَ مِنْ أُمِّ؟ قَالَ: نَعَمْ ، قَالَ : فَالْزَمْهَا ، فَإِنَّ الْجَنَّةَ عِنْدَ رِجْلَيْهَا (সাহীহল্ জা'মি': ১/৩৯৫)
অর্থাৎ আমি আপনার সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাচ্ছি। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কি? নবী বললেন: তোমার মা জীবিত আছেন? সে বললো: হাঁ। নবী বললেন: তাঁর খিদমতে লেগে যাও। কারণ, নিশ্চয়ই জান্নাত তাঁর পায়ের কাছে। অর্থাৎ তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারলেই জান্নাত পাবে।
২. সন্তান কোন একটি নফল নেক আমল করতে যাচ্ছে এবং তা করতে গেলে তার মাতা-পিতার খিদমতে সমস্যা দেখা দিবে সত্যিই কিংবা সে আমল করতে তাকে বহু দূর যেতে হবে। তবুও সে তা করতে গিয়ে মাতা-পিতার অনুমতি নিচ্ছে না অথবা তাদেরকে এ ব্যাপারটি জানিয়েও যাচ্ছে না। কারণ, সে মনে করছে, যে কোন নেক আমল করতে মাতা-পিতার অনুমতি নিতে হয় না। অথচ এ মানসিকতা একেবারেই ভুল। কারণ, রাসূল জনৈক সাহাবীকে জিহাদ করার জন্য মাতা-পিতার অনুমতি নিতে আদেশ করেন। তা হলে অন্য যে কোন নফল নেক আমলের জন্য তাদের অনুমতি চাওয়া তো আবশ্যকই বটে। বিশেষ করে যখন তার অনুপস্থিতিতে তাদের খিদমতে সমস্যা দেখা দেওয়ার বিশেষ সম্ভাবনা থাকে।
সুতরাং যে আমল করতে বহু দূর যেতে হয় না অথবা তা করতে গেলে মাতা-পিতার খিদমতে কোন ত্রুটি হয় না এমন আমল করার জন্য মাতা-পিতার অনুমতি আবশ্যক নয়। বরং এ সকল ক্ষেত্রে তাদের সন্তষ্টি অর্জনের জন্য তাদেরকে জানিয়ে যাবে মাত্র। অতএব সৌদী আরবে অবস্থানরত কোন প্রবাসীকে হজ্জ বা ‘উমরাহ্ করার জন্য মাতা-পিতার অনুমতি নিতে হবে না। হযরত আবু সাঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
هَاجَرَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ مِنَ الْيَمَنِ، فَقَالَ : هَلْ لَكَ أَحَدٌ بِالْيَمَنِ؟ قَالَ: أَبَوَايَ، قَالَ: أَذِنَا لَكَ؟ قَالَ : لا ، قَالَ: ارْجِعْ إِلَيْهِمَا فَاسْتَأْذِنْهُمَا، فَإِنْ أَذِنَا لَكَ فَجَاهِدْ ، وَ إِلَّا فَبَرَّهُمَا (আবু দাউদ, হাদীস ২৫৩০)
অর্থাৎ জনৈক ব্যক্তি ইয়েমেন থেকে হিজরত করে রাসূল এর নিকট আসলো। রাসূল তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: ইয়েমেনে তোমার কেউ আছে? সে বললো: সেখানে আমার মাতা-পিতা রয়েছেন। রাসূল বললেন: তারা তোমাকে হিজরত করার অনুমতি দিয়েছে কি? সে বললো: না। তিনি বললেন: তুমি তাদের নিকট গিয়ে অনুমতি চাও। তারা অনুমতি দিলে যুদ্ধ করবে। নতুবা তাদের নিকট থেকেই তাদের সঙ্গে সদাচরণ করবে।
৩. সাধারণত ক্লাসের শিক্ষকরা ছাত্রদেরকে এ ব্যাপারে কমই নসীহত করে থাকেন। তারা এ ব্যাপারে কম গুরুত্ব দেয়ার কারণেই মাতা-পিতার অবাধ্যতা বেড়েই চলছে।
৪. অন্যন্য ব্যাপারে যেমন প্রচুর বাস্তব নমুনা পাওয়া যায় তেমনিভাবে মাতা-পিতার বাধ্যতার ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ছোটরা বড়দের কাছ থেকে এ ব্যাপারে অনুকরণীয় জ্বলন্ত আদর্শ খুঁজে না পাওয়ার দরুন হাতে-কলমে কার্যকরী শিক্ষা পাচ্ছে না।
৫. আদতেই মাতা-পিতারা নেককার সন্তানকে যে কোন কাজের জন্য বেশি বেশি আদেশ করেন। যা বদকার ছেলেকে করেন না। কিন্তু এতে করে অনেক নেককার ছেলের মধ্যে এ ভুল মনোভাব জন্ম নেয় যে, আমার মাতা-পিতা ওকে খুব ভালোবাসে। অথচ ব্যাপারটা এমন নয়। বরং তাঁরা আপনাকে বেশি ভালোবাসার দরুনই বার বার কাজের ফরমায়েশ করছেন। কারণ, তারা জানেন, আপনি ভালো হওয়ার দরুন ওদের সকল ফরমায়েশ আপনি ঠিক ঠিক মানবেন। এর বিপরীতে অন্য জন এমন নয়। তাই আপনি ওদের একমাত্র নেক সন্তান হিসেবে অন্যদের পক্ষের ঘাটতিটুকু আপনারই পূরণ করা উচিৎ।
৬. সন্তানের মধ্যে আল্লাহ্'র ভয় না থাকা অথবা মাতা-পিতার অনুগ্রহের কথা অস্বীকার করা।
৭. পিতা-মাতা সন্তানকে ছোট থেকেই এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ না দেয়া অথবা সন্তান নেককার হওয়ার জন্য আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে দো'আ না করা।
৮. পিতা-মাতা তাদের পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। তবে তা তাদের সন্তান তাদের সঙ্গে দূরাচার করা জায়িয করে দেয়না। কারণ, তারা পাপ করলে আপনিও পাপ করবেন কি? আপনি তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করলে আপনার সন্তানরাও আপনার সঙ্গে তেমন আচরণ করবে।
৯. অনেক মাতা-পিতা সন্তানদেরকে কিছু দেয়ার ব্যাপারে সমতা বজায় রাখে না। যদ্দরুন যে কম পাচ্ছে সে নিজকে মাযলুম তথা অত্যাচারিত মনে করে। তখন সে মাতা-পিতার অবাধ্য হতে উদ্ধত হয়।
১০. অনেক মাতা-পিতা কোন সন্তান তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার পরও তাকে ভুল বুঝে থাকে অথবা তার উপর যুলুম করে অথবা তারা তার কাছ থেকে এমন কিছু চায় যা তার পক্ষে দেয়া সম্ভবপর নয়। এমতাবস্থায় সন্তানটি তাদের সাথে আর ভালো ব্যবহার করতে চায় না। এমন করা ঠিক নয়। বরং আপনি ধৈর্যের সঙ্গে সাওয়াবের নিয়্যাতে তাদের খিদমত করে যাবেন।
📄 মাতা-পিতার অবাধ্যতার কিছু অপকার
১. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তির রিযিকে সংকট দেখা দেয় এবং তার জীবনে কোন বরকত হয় না। হযরত আবু হুরাইরাহ্ এবং হযরত আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِه ، وَ أَنْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ (বুখারী, হাদীস ২০৬৭, ৫৯৮৫, ৫৯৮৬ মুসলিম, হাদীস ২৫৫৭)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি রিযিকে প্রশস্ততা ও বয়সে বরকত চায় তার উচিৎ সে যেন নিজ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে। কারোর জন্য নিজ মাতা-পিতার চাইতেও নিকটাত্মীয় আর কে হতে পারে?
২. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তি কখনো আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে না। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدَيْنِ وَ سَخَطُهُ فِي سَخَطِهِمَا (সাহীহল্ জা'মি': ৩/১৭৮)
অর্থাৎ প্রভুর সন্তুষ্টি মাতা-পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে এবং তাঁর অসন্তুষ্টি তাঁদের অসন্তুষ্টির মধ্যে।
৩. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তির সন্তানও তার অবাধ্য হবে অথবা হওয়া স্বাভাবিক।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
مَنْ عَمِلَ صَالِحاً فَلِنَفْسِهِ ، وَ مَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا ، وَ مَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ ) (ফুস্সিলাত/হা' মীম আস্ সাজদাহ : ৪৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি সৎ কাজ করলো সে তা তার ভালোর জন্যই করলো। আর যে মন্দ কাজ করলো সে অবশ্যই উহার প্রতিফল ভোগ করবে। আপনার প্রভু তাঁর বান্দাহদের প্রতি কোন যুলুম করেন না।
৪. মাতা-পিতার অবাধ্য ব্যক্তি যখন তার অপরাধের কথা বুঝতে পারবে তখন সে চরমভাবে লজ্জিত হবে। তার বিবেক সর্বদা তাকে দংশন করতে থাকবে। কিন্তু তখন এ লজ্জা আর কোন কাজে আসবে না।
৫. কোন সন্তান তার মাতা-পিতার অবাধ্য হওয়ার কারণে তার মাতা-পিতা তাকে কোন বদদো'আ বা অভিশাপ দিলে তা তার সমূহ অকল্যাণ বয়ে আনবে।
হযরত আনাস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
ثَلَاثُ دَعْوَاتِ لَا تُرَدُّ : دَعْوَةُ الْوَالِدِ لِوَلَدِهِ ، وَ دَعْوَةُ الصَّائِمِ ، وَ دَعْوَةُ الْمُسَافِرِ (সাহীহল্ জা'মি': ৩/৬৩)
অর্থাৎ তিনটি দো'আ কখনো না মঞ্জুর করা হয়না: মাতা-পিতার দো'আ তার সন্তানের জন্য, রোযাদারের দো'আ ও মুসাফিরের দো'আ।
যেমনিভাবে মাতা-পিতার দো'আ সন্তানের কল্যাণে আসে তেমনিভাবে তাদের বদদো'আও তার সকল অকল্যাণ ডেকে আনে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন: "জুরাইজ” নামক জনৈক ইবাদাতগুযার ব্যক্তি কোন এক গির্জায় ইবাদাত করতো। একদা তার মা তার গির্জায় এসে তাকে ডাকতে শুরু করলো। বললো: হে "জুরাইজ”! আমি তোমার মা। তুমি আমার সাথে কথা বলো। তার মা তাকে নামায পড়তে দেখলো। তখন সে তাঁর ডাকে বললো:
হে আল্লাহ্! আমার মা এবং আমার নামায! এ কথা বলেই সে নামাযে রত থাকলো। এভাবে তার মা তিন দিন তাকে ডাকলো এবং সে প্রতি দিন তাঁর সঙ্গে একই আচরণ দেখালো। তৃতীয় দিন তার মা তাকে এ বলে বদদো'আ করলো: হে আল্লাহ্! আপনি আমার ছেলেটিকে মৃত্যু দিবেন না যতক্ষণ না সে কোন বেশ্যা মহিলার চেহারা দেখে। আল্লাহ্ তা'আলা তার মায়ের বদদো'আ কবুল করেন।
জনৈক মেষচারক তার গির্জায় রাত্রিযাপন করতো। একদা এক সুন্দরী মহিলা গ্রাম থেকে বের হয়ে আসলে সে তার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। অতঃপর মহিলাটি একটি ছেলে জন্ম দেয়। মহিলাটিকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে: সন্তানটি ইবাদাতগুযার ব্যক্তির। এ কথা শুনে সাধারণ জনগণ কুড়াল-সাবল নিয়ে গির্জায় উপস্থিত হয়। তারা গির্জায় এসে তাকে নামায পড়তে দেখে তার সাথে কোন কথা বলেনি। বরং তারা গির্জাটি ধ্বংস করার কাজে লেগে গেলো। সে এ কাণ্ড দেখে গির্জা থেকে নেমে আসলো। তখন তারা তাকে বললো: কিছু জিজ্ঞাসা করার থাকলে এ মহিলাটিকে জিজ্ঞাসা করো। ইবাদাতগুযার ব্যক্তিটি মুচকি হেসে বাচ্চার মাথায় হাত রেখে বললো: তোমার পিতা কে? বাচ্চাটি বললো: মেষচারক। জনগণ তা শুনে তাকে বললো: আমরা তোমার ধ্বংসপ্রাপ্ত গির্জা সোনা-রূপা দিয়ে বানিয়ে দেবো। সে বললো: তা করতে হবে না। বরং তোমরা মাটি দিয়েই বানিয়ে দাও যেভাবে পূর্বে ছিলো। (মুসলিম, হাদীস ২৫৫০)
৬. মানুষ তার বদনাম করবে এবং তার দিকে সুদৃষ্টিতে তাকাবেনা।
৭. মাতা-পিতার অবাধ্য সন্তান জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
রাসূল ইরশাদ করেন:
أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَنْ أَدْرَكَ أَحَدَ وَالِدَيْهِ فَمَاتَ ، فَدَخَلَ النَّارَ ،
فَأَبْعَدَهُ اللهُ ، قُلْ: آمِيْنُ ، فَقُلْتُ: آمِيْنُ (সাহীহল্ জা'মি': ১/৭৮)
অর্থাৎ আমার নিকট জিব্রীল এসে বললো: হে মুহাম্মাদ! যে ব্যক্তি মাতা- পিতার কোন একজনকে জীবিত পেয়েও তাদের খিদমত করেনি। বরং তার অবাধ্য হয়েছে এবং যদ্দরুন সে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। আল্লাহ্ তা'আলা তাকে নিজ রহমত থেকে বঞ্চিত করুক। আপনি বলুন: হে আল্লাহ্! আপনি দো'আটি কবুল করুন। আমি বললাম: হে আল্লাহ্! আপনি দো'আটি কবুল করুন।