📄 আযানের পর কোন ওযর ছাড়া একা নামায পড়ার উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া
আযানের পর কোন ওযর ছাড়া জামাতে নামায না পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া আরেকটি হারাম কাজ। হযরত আবুশা'সা' (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
كُنَّا قُعُودًا فِي الْمَسْجِدِ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ له ، فَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمَسْجِدِ يَمْشِي ، فَأَتْبَعَهُ أَبُو هُرَيْرَةَ بَصَرَهُ حَتَّى خَرَجَ مِنَ الْمَسْجِدِ ، فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ : أَمَّا هَذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ (মুসলিম ৫/১৬২)
অর্থাৎ আমরা একদা হযরত আবু হুরাইরাহ্ এর সাথে মসজিদে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় মুআযযিন আযান দিলো। তখন জনৈক ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলো। হযরত আবু হুরাইরাহ্ তার দিকে অপলক তাকিয়েই থাকলেন যতক্ষণ না সে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলো। তখন হযরত আবু হুরাইরাহ্ বললেন: এ তো রাসূল এর বিরুদ্ধাচরণ করলো। রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَلَا يَخْرُجْ أَحَدٌ حَتَّى يُصَلِّيَ (স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ২৯৭)
অর্থাৎ যখন মুআযযিন আযান দিবে তখন তোমাদের কেউ (মসজিদ থেকে) বের হবে না যতক্ষণ না সে (উক্ত মসজিদে) নামায পড়ে নেয়।
📄 সন্দেহের দিনে রামায়ানের রোযা রাখা
সন্দেহের দিনে রামাযানের রোযা রাখা আরেকটি হারাম কাজ। হযরত ‘আম্মার বিন্ ইয়াসির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يَسُكُ فِيهِ النَّاسُ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ (তিরমিযী, হাদীস ৬৮৬ আবু দাউদ, হাদীস ২৩৩৪ ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৬৬৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি এমন দিনে রামাযানের রোযা রাখলো যে দিন রামাযানের প্রথম দিন হওয়া সম্পর্কে মানুষের সন্দেহ রয়েছে তা হলে সে সত্যিই রাসূল এর বিরুদ্ধাচরণ করলো।
শা'বানের ত্রিশতম দিন রামাযানের প্রথম দিন হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দিলে শা'বান মাস পুরা করাই রাসূল এর আদর্শ।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الشَّهْرُ تِسْع وَ عِشْرُوْنَ لَيْلَةً ، فَلَا تَصُوْمُوا حَتَّى تَرََوْهُ ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلَاثِيْنَ (বুখারী, হাদীস ১৯০৭)
অর্থাৎ আরবী মাস উনত্রিশ দিনেরও হতে পারে। তাই তোমরা রোযা রাখবে না যতক্ষণ না নতুন মাসের চাঁদ দেখবে। তবে আকাশে মেঘ থাকলে শা'বান মাস ত্রিশ দিন পুরা করবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
صُوْمُوا لِرُؤْيَتِهِ وَ أَفْطِرُوْا لِرُؤْيَتِهِ ، فَإِنْ غُبِّيَ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوْا عِدَّةَ شَعْبَانَ ثَلَاثِينَ (বুখারী, হাদীস ১৯০৯)
অর্থাৎ তোমরা রামাযানের চাঁদ দেখলেই রোযা রাখবে এবং ঈদের চাঁদ দেখলেই রোযা ছাড়বে। তবে আকাশে মেঘ থাকলে শা'বান মাস ত্রিশ দিন পুরা করবে।
📄 রাময়ান বা কুরআনের ঈদের দিনে রোযা রাখা
রামাযান বা কুরবানের ঈদের দিনে রোযা রাখা হারাম।
হযরত আবু ‘উবাইদ্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা আমি হযরত ‘উমর এর সাথে ঈদের নামায পড়ার জন্য উপস্থিত হলাম। তিনি নামায শেষে খুতবায় দাঁড়িয়ে বললেন:
إِنَّ هَذَيْنِ يَوْمَانِ نَهَى رَسُوْلُ اللَّهِ عَنْ صِيَامِهِمَا: يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ ، وَالآخَرُ: يَوْمٌ تَأْكُلُوْنَ فِيْهِ مِنْ نُسُكِكُمْ (মুসলিম, হাদীস ১১৩৭)
অর্থাৎ এ দু' দিন রাসূল রোযা থাকতে নিষেধ করেছেন। এক দিন হচ্ছে যে দিন তোমরা রামাযানের রোযা শেষ করবে। আরেক দিন হচ্ছে যে দিন তোমরা কুরবানীর গোস্ত খাবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্, আবু সা'ঈদ ও হযরত ‘আয়িশা থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
نَهَى رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ عَنْ صِيَامٍ يَوْمَيْنِ: يَوْمِ الْأَضْحَى وَ يَوْمِ الْفِطْرِ (মুসলিম, হাদীস ৮২৭, ১১৩৮, ১১৪০)
অর্থাৎ রাসূল দু' দিন রোযা থাকতে নিষেধ করেছেন: কুরবানীর ঈদের দিন ও রামাযানের ঈদের দিন।
📄 নামাযের ভেতর দো'আ অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো
নামাযের ভেতর দো'আ অবস্থায় আকাশের দিকে তাকানো হারাম। হযرت আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ رَفْعِهِمْ أَبْصَارَهُمْ عِنْدَ الدُّعَاءِ فِي الصَّلَاةِ إِلَى السَّمَاءِ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ (মুসলিম, হাদীস ৪২৯)
অর্থাৎ নামাযের ভেতর দো'আর সময় আকাশের দিকে দৃষ্টি ক্ষেপণকারীদের সতর্ক হওয়া উচিত তারা যেন তা দ্বিতীয়বার না করে। অন্যথায় তাদের দৃষ্টি হৃত-লুণ্ঠিত হবে।