📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর কবরের উপর হাঁটা বা বসা

📄 কারোর কবরের উপর হাঁটা বা বসা


কারোর কবরের উপর হাঁটা বা বসা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ এবং হারাম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ فَتُحْرِقَ ثِيَابَهُ فَتَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ (মুসলিম, হাদীস ৯৭১ ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৮৮)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসলে তার কাপড় পুড়ে যদি তা চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাও তার জন্য অনেক ভালো কারোর কবরের উপর বসার চাইতে।
হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لأَنْ أَمْشِيَ عَلَى جَمْرَةٍ أَوْ سَيْفَ أَوْ أَخْصِفَ نَعْلِيَّ بِرِجْلِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ
أَمْشِيَ عَلَى قَبْرِ مُسْلِمٍ ، وَ مَا أُبَالِي أَوَسَطَ الْقُبُوْرِ قَضَيْتُ حَاجَتِي أَوْ وَسَطَ السوق (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৮৯)
অর্থাৎ জ্বলন্ত অঙ্গার অথবা তলোয়ারের উপর হাঁটা কিংবা জুতোকে পায়ের সাথে সিলিয়ে দেয়া আমার নিকট অতি প্রিয় কোন মুসলমানের কবরের উপর হাঁটার চাইতে। আমি এ ব্যাপারে কোন পার্থক্য করি না যে, আমি কবর সমূহের মাঝে মল-মূত্র ত্যাগ করলাম না কি বাজারের মাঝে।
কোন কবরস্থানে প্রয়োজনের তাগিদে হাঁটতে চাইলে জুতোগুলো খুলে কবরগুলোর মাঝে খালি পায়েই হাঁটবে। রাসূল একদা জনৈক ব্যক্তিকে জুতো পায়ে কবরস্থানে হাঁটতে দেখে বললেন:
يَا صَاحِبَ السَّبْتَيَّتَيْنِ ! أَلْقِهِمَا (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৯০)
অর্থাৎ হে জুতো ওয়ালা! জুতোগুলো খুলে ফেলো।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 বিনা ওযরে ওয়াক্ত পার করে নামায পড়া

📄 বিনা ওযরে ওয়াক্ত পার করে নামায পড়া


বিনা ওযরে ওয়াক্ত পার করে নামায পড়া আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَ اتَّبَعُوْا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا، إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلَائِكَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَ لَا يُظَلَّمُوْنَ شَيْئًا ) (মারইয়াম: ৫৯-৬০)
অর্থাৎ নবী ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের পর আসলো এমন এক অপদার্থ বংশধর যারা নামায বিনষ্ট করলো এবং প্রবৃত্তির পূজারী হলো। সুতরাং তারা "গাই" নামক জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। তবে যারা এরপর তাওবা করে নিয়েছে, ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তারাই তো জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করা হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌, সা'ঈদ্ বিন্ মুসাইয়িব, ‘উমর বিন্ আব্দুল আযিয, মাসরুক্ব ও অন্যান্যদের মতে উক্ত আয়াতে নামায বিনষ্ট করা বলতে ওয়াক্ত পার করে নামায পড়াকে বুঝানো হয়েছে।
নামায তো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পড়তে হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
﴿إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا﴾ (নিসা': ১০৩)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই নামায নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মু'মিনদের উপর ফরয করা হয়েছে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 নামাযের মধ্যে ধীরস্থীরভাবে রুকু', সিজদাহ্ বা অন্যান্য রুকন আদায় না করা

📄 নামাযের মধ্যে ধীরস্থীরভাবে রুকু', সিজদাহ্ বা অন্যান্য রুকন আদায় না করা


নামাযের মধ্যে ধীরস্থিরভাবে রুকূ', সিজদাহ্ বা অন্যান্য রুকন আদায় না করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
হযরত আবু আব্দুল্লাহ্ আশ্আরী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসূল নামায শেষে কিছু সংখ্যক সাহাবাদেরকে নিয়ে মসজিদেই বসেছিলেন এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি মসজিদে ঢুকে নামায পড়তে শুরু করলো। সে রুকু ও সিজদাহ্ ঠিকভাবে করছিলো না। তখন তিনি সাহাবাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
أَتَرَوْنَ هَذَا ؟ مَنْ مَاتَ عَلَى هَذَا مَاتَ عَلَى غَيْرِ مِلَّةِ مُحَمَّدٍ ، يَنْقُرُ صَلَاتَهُ كَمَا يَنْقُرُ الْغُرَابُ الدَّمَ (ইব্বু খুযাইমাহ ১/৩৩২)
অর্থাৎ তোমরা একে দেখতে পাচ্ছো। কোন ব্যক্তি এভাবে নামায পড়তে পড়তে মৃত্যু বরণ করলে ইসলামের উপর তার মৃত্যু হবে না। সে নামায পড়ছে যেন কোন কাক রক্তের উপর ঠোকর মারছে। রাসূল আরো বলেন:
لَا تُجْزِئُ صَلَاةٌ لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ فِيْهَا صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ (ইব্বু খুযাইমাহ ১/৩৩২)
অর্থাৎ ওই ব্যক্তির নামায হবে না যে রুকু' ও সিজদায় নিজ পিঠকে সোজা রাখে না। রাসূল আরো বলেন:
أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةُ الَّذِي يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ ، قَالُوا : يَا رَسُوْلَ اللهِ وَكَيْفَ يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ ؟ قَالَ: لَا يُتِمُّ رُكُوْعَهَا وَ لَا سُجُوْدَهَا (স'হীহল জা'মি', হাদীস ৯৯৭)
অর্থাৎ সর্ব নিকৃষ্ট চোর সে ব্যক্তি যে নামায চুরি করে। সাহাবারা বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! সে আবার নামায চুরি করে কিভাবে? রাসূল বললেন: সে রুকু' ও সিজদাহ্ সঠিকভাবে আদায় করে না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 নামাযের কোন রুকন ইমামের আগে আদায় করা

📄 নামাযের কোন রুকন ইমামের আগে আদায় করা


নামাযের কোন রুকন ইমামের আগে আদায় করা আরেকটি হারাম কাজ ও কবীরা গুনাহ্। রাসূল বলেন:
أَمَا يَخْشَى الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الإِمَامِ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ أَوْ يُحَوِّلَ صُوْرَتَهُ صُوْرَةَ حِمَارٍ (বুখারী, হাদীস ৬৯১ মুসলিম, হাদীস ৪২৭ আবু দাউদ, হাদীস ৬২৩)
অর্থাৎ ওই ব্যক্তি কি ভয় পাচ্ছে না যে ইমাম সাহেবের পূর্বেই রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে নেয় যে, আল্লাহ্ তা'আলা তার মাথাকে গাধার মাথায় রূপান্তরিত করবেন অথবা তার গঠনকে গাধার গঠনে পরিণত করবেন। তিনি আরো বলেন:
لَا تَسْبِقُونِي بِالرُّكُوعِ وَ لَا بِالسُّجُودِ وَ لَا بِالْقِيَامِ وَ لَا بِالْقُعُوْدِ وَ لَا بِالْإِنْصِرَافِ (মুসলিম, হাদীস ৪২৬)
অর্থাৎ তোমরা আমার আগে রুকু, সিজদাহ, উঠা, বসা ও সালাম আদায় করবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) কোন রুকন আদায়ে ইমামের অগ্রবর্তীকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
لَا وَحْدَكَ صَلَّيْتَ وَ لَا بِإِمَامَكَ اقْتَدَيْتَ (রিসালাতুল ইমাম আহমাদ)
অর্থাৎ (তোমার নামাযই হয়নি) না তুমি একা পড়লে না ইমাম সাহেবের সাথে পড়লে।
যে কোন কাজ ইমাম সাহেবের একটু পরেই করতে হবে। অর্থাৎ ইমাম সাহেব যখন তাকবীর দিয়ে পুরোপুরি রুকুতে চলে যাবেন তখন মুক্তাদিগণ রুকু করতে অগ্রসর হবেন। তেমনিভাবে ইমাম সাহেব যখন তাকবীর দিয়ে সিজদার জন্য জমিনে কপাল ঠেকাবেন তখনই মুক্তাদিগণ তাকবীর দিয়ে সিজদায় যাবেন। ইমাম সাহেবের আগে, বহু পরে ও সমানতালে কোন রুকন আদায় করা যাবে না। রাসূল বলেন:
الإِمَامُ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَ يَرْفَعُ قَبْلَكُمْ (মুসলিম, হাদীস ৪০৪ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১৫৯৩)
অর্থাৎ ইমাম সাহেব তোমাদের আগেই রুকু করবেন এবং তোমাদের আগেই রুকু থেকে মাথা উঠাবেন। রাসূল আরো বলেন:
إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَ لَا تُكَبِّرُوا حَتَّى يُكَبِّرَ ، وَ إِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوْا وَ لَا تَرْكَعُوْا حَتَّى يَرْكَعَ (বুখারী, হাদীস ৩৭৮, ৮০৫, ১১১৪ মুসলিম, হাদীস ৪১৪, ৪১৭ আবু দাউদ, হাদীস ৬০৩)
অর্থাৎ ইমাম সাহেব হচ্ছেন অনুসরণীয়। তাই তিনি তাকবীর সমাপ্ত করলে তোমরা তাকবীর বলবে। তোমরা কখনো তাকবীর বলবে না যতক্ষণ না তিনি তাকবীর বলেন। তিনি রুকুতে চলে গেলেই তোমরা রুকু শুরু করবে। তোমরা রুকু করবে না যতক্ষণ না তিনি রুকু করেন।
তিনি আরো বলেন:
إِذَا كَبَّرَ الإِمَامُ فَكَبِّرُوا وَ إِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوْا وَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ وَ قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَارْفَعُوْا وَ قُوْلُوْا رَبَّنَا وَ لَكَ الْحَمْدُ وَ إِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا (বুখারী, হাদীস ৭২২, ৭৩৪, ৮০৫ মুসলিম, হাদীস ৪১৪)
অর্থাৎ যখন ইমাম সাহেব তাকবীর সমাপ্ত করবেন তখন তোমরা তাকবীর বলবে। আর যখন তিনি রুকুতে চলে যাবেন তখন তোমরা রুকু শুরু করবে। আর যখন তিনি রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে "সামি'আল্লাহু লিমান্ হামিদাহ্" বলবেন তখন তোমরা রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে “রাব্বানা ওয়া লাকাল্ হাম্দ” বলবে। আর যখন তিনি সিজদায় যাবেন তখন তোমরা সিজদাহ শুরু করবে। হযরত বারা বিন ‘আযিব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
كَانَ النَّبِيُّ إِذَا الْحَطَّ لِلسُّجُودِ لَا يَحْنِي أَحَدٌ ظَهْرَهُ حَتَّى يَضَعَ النَّبِيُّ ﷺ جَبْهَتَهُ عَلَى الْأَرْضِ (বুখারী, হাদীস ৬৯০, ৮১১ মুসলিম, হাদীস ৪৭৪ আবু দাউদ, হাদীস ৬২১)
অর্থাৎ নবী যখন সিজদাহর জন্যে ঝুঁকে পড়তেন আমাদের কেউ নিজ পৃষ্ঠদেশ বাঁকা করতো না যতক্ষণ না নবী নিজ কপাল জমিনে রাখতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00