📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা

📄 ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা


ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা একটি মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيْلاً ، وَ مَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ ) (আ'লি ইম্মান: ৯৭)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই উক্ত ঘরের হজ্জ করা ওদের উপর বাধ্যতামূলক যারা এ ঘরে পৌঁছুতে সক্ষম। যে ব্যক্তি (হজ্জ না করে) আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কুফরি করলো তার জানা উচিৎ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জগতের প্রতি অমুখাপেক্ষী। হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَبْعَثَ رِجَالاً إِلَى هَذِهِ الْأَمْصَارِ فَيَنْظُرُوا كُلَّ مَنْ كَانَ لَهُ جِدَةٌ وَ لَمْ يَحُجَّ لِيَضْرِبُوا عَلَيْهِمُ الْجِزْيَةَ ، مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ ، مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ অর্থাৎ আমার ইচ্ছে হয় যে, আমি কতেক ব্যক্তিকে শহরগুলোতে পাঠাবো। অতঃপর যাদের সম্পদ রয়েছে অথচ হজ্জ করেনি তাদের উপর কর বসিয়ে দিবে। তারা মুসলমান নয়। তারা মুসলমান নয়। হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
مَنْ قَدَرَ عَلَى الْحَجِّ فَتَرَكَهُ فَلَا عَلَيْهِ أَنْ يَمُوْتَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا অর্থাৎ যে ব্যক্তি হজ্জ করতে সক্ষম অথচ হজ্জ করেনি। সে ইহুদী হয়ে মরুক বা খ্রিস্টান হয়ে তাতে কিছু আসে যায়না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 জুমু'আহ্ ও জামাতে নামায না পড়া

📄 জুমু'আহ্ ও জামাতে নামায না পড়া


জুমু'আহ্ ও জামাতে নামায না পড়া আরেকটি কবীরা গুনাহ্। কেউ লাগাতার কয়েকটি জুমু'আহ্ ছেড়ে দিলে আল্লাহ্ তা'আলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন। তখন সে গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর ও হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ ، أَوْ لَيَحْتِمَنَّ اللَّهُ عَلَى قُلُوْبِهِمْ ، ثُمَّ لَيَكُونَنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ (মুসলিম, হাদীস ৮৬৫)
অর্থাৎ কিছু সংখ্যক লোক জুমু'আহ্ পরিত্যাগ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকুক নয়তো আল্লাহ্ তা'আলা তাদের অন্তরে অবশ্যই মোহর মেরে দিবেন। তখন তারা নিশ্চয়ই গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। এমনকি যে ব্যক্তি অলসতা বশত তিন ওয়াক্ত জুমু'আহ্'র নামায ছেড়ে দিয়েছে তার অন্তরেও আল্লাহ্ তা'আলা মোহর মেরে দিবেন। হযরত আবুল্ জা'দ যাম্নী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ تَرَكَ ثَلَاثَ جُمَعٍ تَهَاؤُنَا بِهَا طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ (আবু দাউদ, হাদীস ১০৫২)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি তিন ওয়াক্ত জুমু'আহ্'র নামায অলসতা বশত ছেড়ে দিলো আল্লাহ্ তা'আলা তার অন্তরে মোহর মেরে দিবেন। যারা জামাতে উপস্থিত হয়ে ফরয নামাযগুলো আদায় করছে না রাসূল তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلَاةِ فَتَقَامَ ، ثُمَّ امْرَ رَجُلاً فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حُزَمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لاَ يَشْهَدُوْنَ الصَّلَاةَ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّارِ (বুখারী, হাদীস ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০ মুসলিম, হাদীস ৬৫১ আবু দাউদ, হাদীস ৫৪৮ আহমাদ, হাদীস ৩৮১৬)
অর্থাৎ আমার ইচ্ছে হয় কাউকে নামায পড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে লাকড়ির বোঝাসহ কিছু সংখ্যক লোক নিয়ে তাদের পিছু নেই যারা জামাতে উপস্থিত হয় না এবং তাদের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেই।
যে ব্যক্তি শরয়ী অজুহাত ছাড়াই ঘরে নামায পড়লো তার নামায আদায় হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَمِعَ الْمُنَادِيَ بِالصَّلَاةِ فَلَمْ يَمْنَعْهُ مِنِ اتَّبَاعِهِ عُذْرٌ لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ الصَّلَاةُ الَّتِي صَلَّى ، قَيْلَ: وَمَا الْعُذْرُ يَا رَسُولَ اللَّهُ؟ قَالَ: خَوْفٌ أَوْ مَرَضٌ (আবু দাউদ, হাদীস ৫৫১ বায়হাকী, হাদীস ৫৪৩১)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনেও মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামায পড়লো অথচ তার নিকট মসজিদে উপস্থিত না হওয়ার শরয়ী কোন ওযর নেই তা হলে তার আদায়কৃত নামায আল্লাহ্ তা'আলার দরবারে কবুল হবে না। সাহাবারা বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আপনি ওযর বলতে কি ধরনের ওযর বুঝাতে চাচ্ছেন? তিনি বললেন: ভয় অথবা রোগ।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
مَنْ سَمِعَ النَّدَاءَ ثُمَّ لَمْ يُجِبْ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَلَا صَلَاةَ لَهُ (বায়হাকী, হাদীস ৪৭১৯, ৫৩৭৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আযান শুনেও মসজিদে উপস্থিত হয়নি অথচ তার কোন ওযর নেই। তা হলে তার নামায হবে না।
হযরত ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
مَنْ سَمِعَ الْمَنَادِيَ فَلَمْ يُجِبْ مِنْ غَيْرِ عُدْرٍ ، لَمْ يَجِدْ خَيْراً وَ لَمْ يُرَدْ بِهِ (ইবনে আবী শায়বাহ, হাদীস ৩৪৬৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আযান শুনেও মসজিদে উপস্থিত হয়নি অথচ তার কোন ওযরই ছিলো না সে কল্যাণপ্রাপ্ত নয় অথবা তার সাথে কোন কল্যাণ করার ইচ্ছেই করা হয়নি।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর কবরের উপর হাঁটা বা বসা

📄 কারোর কবরের উপর হাঁটা বা বসা


কারোর কবরের উপর হাঁটা বা বসা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ এবং হারাম। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لأَنْ يَجْلِسَ أَحَدُكُمْ عَلَى جَمْرَةٍ فَتُحْرِقَ ثِيَابَهُ فَتَخْلُصَ إِلَى جِلْدِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَجْلِسَ عَلَى قَبْرٍ (মুসলিম, হাদীস ৯৭১ ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৮৮)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর বসলে তার কাপড় পুড়ে যদি তা চামড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাও তার জন্য অনেক ভালো কারোর কবরের উপর বসার চাইতে।
হযরত ‘উক্ববাহ্ বিন্ ‘আমির থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لأَنْ أَمْشِيَ عَلَى جَمْرَةٍ أَوْ سَيْفَ أَوْ أَخْصِفَ نَعْلِيَّ بِرِجْلِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ
أَمْشِيَ عَلَى قَبْرِ مُسْلِمٍ ، وَ مَا أُبَالِي أَوَسَطَ الْقُبُوْرِ قَضَيْتُ حَاجَتِي أَوْ وَسَطَ السوق (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৮৯)
অর্থাৎ জ্বলন্ত অঙ্গার অথবা তলোয়ারের উপর হাঁটা কিংবা জুতোকে পায়ের সাথে সিলিয়ে দেয়া আমার নিকট অতি প্রিয় কোন মুসলমানের কবরের উপর হাঁটার চাইতে। আমি এ ব্যাপারে কোন পার্থক্য করি না যে, আমি কবর সমূহের মাঝে মল-মূত্র ত্যাগ করলাম না কি বাজারের মাঝে।
কোন কবরস্থানে প্রয়োজনের তাগিদে হাঁটতে চাইলে জুতোগুলো খুলে কবরগুলোর মাঝে খালি পায়েই হাঁটবে। রাসূল একদা জনৈক ব্যক্তিকে জুতো পায়ে কবরস্থানে হাঁটতে দেখে বললেন:
يَا صَاحِبَ السَّبْتَيَّتَيْنِ ! أَلْقِهِمَا (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৫৯০)
অর্থাৎ হে জুতো ওয়ালা! জুতোগুলো খুলে ফেলো।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 বিনা ওযরে ওয়াক্ত পার করে নামায পড়া

📄 বিনা ওযরে ওয়াক্ত পার করে নামায পড়া


বিনা ওযরে ওয়াক্ত পার করে নামায পড়া আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَ اتَّبَعُوْا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا، إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلَائِكَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَ لَا يُظَلَّمُوْنَ شَيْئًا ) (মারইয়াম: ৫৯-৬০)
অর্থাৎ নবী ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের পর আসলো এমন এক অপদার্থ বংশধর যারা নামায বিনষ্ট করলো এবং প্রবৃত্তির পূজারী হলো। সুতরাং তারা "গাই" নামক জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। তবে যারা এরপর তাওবা করে নিয়েছে, ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তারাই তো জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করা হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ্‌, সা'ঈদ্ বিন্ মুসাইয়িব, ‘উমর বিন্ আব্দুল আযিয, মাসরুক্ব ও অন্যান্যদের মতে উক্ত আয়াতে নামায বিনষ্ট করা বলতে ওয়াক্ত পার করে নামায পড়াকে বুঝানো হয়েছে।
নামায তো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পড়তে হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
﴿إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا﴾ (নিসা': ১০৩)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই নামায নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মু'মিনদের উপর ফরয করা হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00