📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ফরয নামায আদায় না করা

📄 ফরয নামায আদায় না করা


ফরয নামায আদায় না করাও একটি মারাত্মক অপরাধ। যা শির্ক তথা কুফরও বটে এবং যার পরিণতিই হচ্ছে জাহান্নাম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَ اتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا، إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُوْلَائِكَ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ وَ لَا يُظْلَمُوْنَ شَيْئًا ) (মারইয়াম : ৫৯-৬০)
অর্থাৎ নবী ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের পর আসলো এমন এক অপদার্থ বংশধর যারা নামায বিনষ্ট করলো এবং প্রবৃত্তির পূজারী হলো। সুতরাং তারা "গাই" নামক জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। তবে যারা এরপর তাওবা করে নিয়েছে, ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তারাই তো জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করা হবে না। আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ ، الَّذِيْنَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُوْنَ ، الَّذِينَ هُمْ يُرَاؤُوْنَ ، وَيَمْنَعُوْنَ الْمَاعُوْنَ ) (মা'উন : ৪-৭)
অর্থাৎ সুতরাং ওয়াইল্ নামক জাহান্নাম সেই মুসল্লীদের জন্য যারা নিজেদের নামাযের ব্যাপারে গাফিল। যারা লোক দেখানোর জন্যই তা আদায় করে এবং যারা গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় ছোটখাট বস্তু অন্যকে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ، إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ، فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُوْنَ، عَنِ الْمُجْرِمِينَ، مَا سَلَكَكُمْ فِي سَفَرَ ، قَالُوْا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّيْنَ، وَ لَمْ تَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ، وَ كُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِيْنَ، وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ، حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ ) (মুদ্দাস্সির: ৩৮-৪৭)
অর্থাৎ প্রতিটি ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে সে দিন আবদ্ধ থাকবে। তবে তারা নয় যারা নিজ আমলনামা ডান হাতে পেয়েছে। তারা জান্নাতেই থাকবে। তারা অপরাধীদের সম্পর্কে পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এমনকি তারা জাহান্নামীদেরকে জিজ্ঞাসা করবে: কেন তোমরা সাক্বার নামক জাহান্নামে আসলে? তারা বলবে: আমরা তো নামাযী ছিলাম না এবং আমরা মিসকিনদেরকেও খাবার দিতাম না। বরং আমরা সমালোচনাকারীদের সাথে সমালোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। এমনকি আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম। আর এমনিভাবেই হঠাৎ আমাদের মৃত্যু এসে গেলো।
রাসূল ইরশাদ করেন:
بَيْنَ الرَّجُلِ وَ بَيْنَ الْكُفْرِ وَ الشِّرْكِ تَرْكُ الصَّلَاةِ (মুসলিম, হাদীস ৮২ তিরমিযী, হাদীস ২৬১৯ ইবনে মাজাহ, হাদীস ১০৮৭)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি এবং কুফর ও শিরকের মাঝে ব্যবধান শুধু নামায না পড়ারই। যে নামায ছেড়ে দিলো সে কাফির হয়ে গেলো।
রাসূল আরো বলেন:
العَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ (তিরমিযী, হাদীস ২৬২১ ইবনে মাজাহ, হাদীস ১০৮৮ মুস্তাদ্রাক, হাদীস ১১ আহমাদ, হাদীস ২২৯৮৭ বায়হাকী, হাদীস ৬২৯১ ইবনে হিব্বান/ইহসান, হাদীস ১৪৫৪ ইবনে আবী শায়বাহ, হাদীস ৩০৩৯৬ দারাকুত্বনী ২/৫২)
অর্থাৎ আমাদের ও কাফিরদের মাঝে ব্যবধান শুধু নামাযেরই। যে নামায ত্যাগ করলো সে কাফির হয়ে গেলো।
হযরত বুরাইদাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ (বুখারী, হাদীস ৫৫৩, ৫৯৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আসরের নামায পরিত্যাগ করলো তার সকল আমল বরবাদ হয়ে গেলো।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الَّذِي تَفُوتُهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلُهُ وَ مَالُهُ (বুখারী, হাদীস ৫৫২ মুসলিম, হাদীস ৬২৬)
অর্থাৎ যে ব্যক্তির আসরের নামায ছুটে গেলো তার পরিবারবর্গ ও ধন-সম্পদের যেন বিরাট ক্ষতি হয়ে গেলো।
হযরত মু'আয থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল আমাকে দশটি নসীহত করলেন তার মধ্যে বিশেষ একটি এটাও যে:
وَ لَا تَتْرُكَنَّ صَلَاةً مَكْتُوبَةٌ مُتَعَمِّدًا ، فَإِنَّ مَنْ تَرَكَ صَلَاةً مَكْتُوبَةٌ مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللَّهِ (আহমাদ ৫/২৩৮)
অর্থাৎ তুমি ইচ্ছাকৃত ফরয নামায ত্যাগ করো না। কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ফরয নামায ত্যাগ করলো তার উপর আল্লাহ্ তা'আলার কোন জিম্মাদারি থাকলো না।
নামায পড়া মুসলমানদের একটি বাহ্যিক নিদর্শন। সুতরাং যে নামায পড়ে না সে মুসলমান নয়।
হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা কিছু মালামাল বন্টন সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে জনৈক উঁচু গাল, ঠেলা কপাল এবং গর্তে ঢোকা চোখ বিশিষ্ট ঘন শ্মশ্রুমণ্ডিত মাথা নেড়া জঙ্ঘার উপর কাপড় পরা রাসূল কে উদ্দেশ্য করে বললো:
يَا رَسُولَ اللَّهِ اتَّقِ اللَّهُ، قَالَ: وَيْلَكَ ، أَوَلَسْتُ أَحَقَّ أَهْلِ الْأَرْضِ أَنْ يَتَّقِيَ اللَّهُ ؟! قَالَ : ثُمَّ وَلَّى الرَّجُلُ، قَالَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَلَا أَضْرِبُ عُنُقَهُ؟ قَالَ: لَا ، لَعَلَّهُ أَنْ يَكُوْنَ يُصَلِّي (বুখারী, হাদীস ৪৩৫১)
অর্থাৎ হে আল্লাহ্'র রাসূল! আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করুন। তখন রাসূল বললেন: তুমি ধ্বংস হয়ে যাও! আমি কি দুনিয়ার সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত ব্যক্তি নই; যে আল্লাহ্ তা'আলাকে ভয় করবে। বর্ণনাকারী বলেন: যখন লোকটি রওয়ানা করলো তখন খালিদ বিন্ ওয়ালীদ্ বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমি কি তার গর্দান কেটে ফেলবো না? রাসূল বললেন: না, হয়তো বা সে নামায পড়ে।
হযরত ‘উমর বলেন:
لأَحَظٍّ فِي الْإِسْلَامِ لِمَنْ تَرَكَ الصَّلَاةَ (বায়হাকী, হাদীস ১৫৫৯, ৬২৯১)
অর্থাৎ নামায ত্যাগকারী নির্ঘাত কাফির।
হযরত ‘আলী বলেন:
مَنْ لَمْ يُصَلِّ فَهُوَ كَافِرٌ (বায়হাকী, হাদীস ৬২৯১)
অর্থাৎ যে নামায পড়ে না সে কাফির।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ বলেন:
مَنْ لَمْ يُصَلِّ فَلَا دِيْنَ لَهُ (বায়হাকী, হাদীস ৬২৯১)
অর্থাৎ যে নামায পড়ে না সে মোসলমান নয়।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন শাক্বীক তাবেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
كَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ لَا يَرَوْنَ شَيْئاً مِنْ الأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلَاةَ (তিরমিযী, হাদীস ২৬২২)
অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম নামায ছাড়া অন্য কোন আমল পরিত্যাগ করাকে কুফুরী মনে করতেন না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ফরয হওয়া সত্ত্বেও যাকাত আদায় না করা

📄 ফরয হওয়া সত্ত্বেও যাকাত আদায় না করা


কারোর উপর যাকাত ফরয হওয়া সত্ত্বেও যাকাত আদায় না করা মারাত্মক অপরাধ।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِمَا آتَاهُمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْراً لَّهُمْ ، بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ، سَيُطَوَّقُوْنَ مَا بَحْلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَ لِلَّهِ مِيْرَاثُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، وَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُوْنَ خَبِيرٌ ) (আ'লি ইমরান: ১৮০)
অর্থাৎ যাদেরকে আল্লাহ্ তা'আলা অনুগ্রহ করে কিছু সম্পদ দিয়েছেন অথচ তারা উহার কিয়দংশও আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় সদকা করতে কার্পণ্য করে তারা যেন এ কথা মনে না করে যে, তাদের এ কৃপণতা তাদের কোন উপকারে আসবে। বরং এ কৃপণতা তাদের জন্য সমূহ অকল্যাণ বয়ে আনবে। তারা যে সম্পদ আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় ব্যয় করতে কৃপণতা করেছে তা কিয়ামতের দিন তাদের কণ্ঠাভরণ হবে। একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের স্বত্বাধিকারী এবং তোমরা যা করছো তা আল্লাহ্ তা'আলা ভালোভাবেই জানেন।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
وَ الَّذِيْنَ يَكْنِزُوْنَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَ لَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ ، يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ، هَذَا مَا كَنَرْتُمْ لَأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوْا مَا كُنْتُمْ تَكْبِرُوْنَ ) (তাওবাহ: ৩৪-৩৫)
অর্থাৎ যারা স্বর্ণ-রুপা সংরক্ষণ করে এবং তা আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় একটুও ব্যয় করেনা তথা যাকাত দেয়না আপনি (রাসূল) তাদেরকে কঠিন শান্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সে দিন যে দিন জাহান্নামের আগুনে ওগুলোকে উত্তপ্ত করে তাদের কপাল, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে দাগ দেয়া হবে এবং বলা হবে: এ হচ্ছে ওসম্পদ যা তোমরা নিজের জন্যে সংরক্ষণ করেছিলে। সুতরাং তোমরা এখন নিজ সঞ্চয়ের স্বাদ গ্রহণ করো।
যাকাত আদায় না করা মুন্সিকদের একটি বিশেষ চরিত্রও বটে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ وَيْلٌ لِّلْمُشْرِكِينَ ، الَّذِينَ لَا يُؤْتَوْنَ الزَّكَاةَ ، وَ هُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُوْنَ ) (হা' মীম আস্সাজদাহ/ফুস্সিলাত: ৬-৭)
অর্থাৎ ওয়াইল্ নামক জাহান্নাম এমন মুন্সিকদের জন্য যারা যাকাত আদায় করে না এবং যারা আখিরাতে অবিশ্বাসী। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا مِنْ صَاحِبِ ذَهَب وَ لَا فِضَّةٍ ، لَا يُؤَدِّي مِنْهَا حَقَّهَا ، إِلَّا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ ، صُفْحَتْ لَهُ صَفَائِحُ مِنْ نَارٍ ، فَأَحْمِيَ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ ، فَيُكْوَى بِهَا جَنَّبُهُ وَ جَبِينُهُ وَ ظَهْرُهُ ، كُلَّمَا بَرَدَتْ أُعِيدَتْ لَهُ ، فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِيْنَ أَلْفَ سَنَةٍ ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ الْعِبَادِ ، فَيَرَى سَبِيْلَهُ ، إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَ إِمَّا إِلَى النَّارِ (মুসলিম, হাদীস ৯৮৭)
অর্থাৎ কোন স্বর্ণ ও রুপার মালিক যদি উহার যাকাত আদায় না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের পাত তৈরি করা হবে এবং তা জাহান্নামের অগ্নিতে জ্বালিয়ে উত্তপ্ত করে তার পার্শ্বদেশ, কপাল ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে তা আবার গরম করে দেয়া হবে। এমন দিনে যে দিন দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। যখন সকল মানুষের ফায়সালা শেষ হবে তখন সে জান্নাতে যাবে বা জাহান্নামে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ أَتَاهُ اللَّهُ مَالاً ، فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثَلَّ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعاً أَقْرَعَ ، لَهُ زَبِيبَتَانِ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَة ، ثُمَّ يَأْخُذُ بلهزمتيه يعني بشدْقَيْهِ ، ثُمَّ يَقُوْلُ: أَنَا مَالُكَ ، أَنَا كَنْرُكَ ، ثُمَّ تَلَا آيَةً آلَ عِمْرَانَ (বুখারী, হাদীস ১৪০৩)
অর্থাৎ যাকে আল্লাহ্ তা'আলা ধন-সম্পদ দিয়েছেন। অথচ সে উহার যাকাত আদায় করেনি তখন তার সমূহ ধন-সম্পদকে কিয়ামতের দিন মাথায় চুল বিহীন একটি সাপের রূপ দেয়া হবে। যার উভয় চোখের উপর দু'টি কালো দাগ থাকবে। যা তার গলায় পেঁচিয়ে দেয়া হবে। সাপটি তার মুখের দু'পাশ দংশন করতে থাকবে এবং বলবে: আমি তোমার সম্পদ। আমি তোমার ধনভাণ্ডার। অতঃপর নবী সূরা আ'লি ইমরানের আয়াতটি তিলাওয়াত করেন।
হযরত জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَا مِنْ صَاحِبِ إِبل لَا يَفْعَلُ فِيْهَا حَقَّهَا إِلَّا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ مَا كَانَتْ قَطُّ ، وَقَعَدَ لَهَا بِقَاعِ قَرْقَرٍ ، تَسْتَنُّ عَلَيْهِ بَقَوَائِمِهَا وَ أَخْفَافِهَا ، وَ لَا صَاحِبِ بَقَرٍ لا يَفْعَلُ فِيهَا حَقَّهَا إِلَّا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ مَا كَانَتْ ، وَ قَعَدَ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ
تَنْطَحُهُ بِقُرُوْنِهَا وَ تَطَؤُهُ بِقَوَائِمِهَا ، وَ لَا صَاحِبِ غَنَمٍ لَا يَفْعَلُ فِيْهَا حَقَّهَا إِلَّا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ مَا كَانَتْ ، وَ قَعَدَ لَهَا بِقَاعِ قَرْقَرٍ ، تَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَظْلَافَهَا ، لَيْسَ فِيهَا جَمَّاءُ وَ لَا مُنْكَسِرٌ قَرْنُهَا ، وَ لَا صَاحِب كَثْرَ لَا يَفْعَلُ فِيْهِ حَقَّهُ، إِلَّا جَاءَ كَنْزُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ ، يَتْبَعُهُ فَاتِحًا فَاهُ ، فَإِذَا أَتَاهُ فَرَّ مِنْهُ ، فَيُنَادِيْهِ : خُذْ كَنْزَكَ الَّذِي خَبَأْتَهُ ، فَأَنَا عَنْهُ غَنِيٌّ ، فَإِذَا رَأَى أَنْ لَا بُدَّ مِنْهُ ، سَلَكَ يَدَهُ فِي فِيْهِ ، فَيَقْضَمُهَا قَضْمَ الْفَحْلِ (মুসলিম, হাদীস ৯৮৮)
অর্থাৎ কোন উটের মালিক উটের অধিকার তথা যাকাত আদায় না করলে তা কিয়ামতের দিন আরো বেশি হয়ে তার নিকট উপস্থিত হবে এবং সে এক প্রশস্ত ভূমিতে তাদের অপেক্ষায় থাকবে। উটগুলো তাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে যাবে।
কোন গরুর মালিক গরুর অধিকার তথা যাকাত আদায় না করলে তা কিয়ামতের দিন আরো বেশি হয়ে তার নিকট উপস্থিত হবে এবং সে এক প্রশস্ত ভূমিতে তাদের অপেক্ষায় থাকবে। গরুগুলো তাকে শিং দিয়ে গুঁতো মারবে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে যাবে।
কোন ছাগলের মালিক ছাগলের অধিকার তথা যাকাত আদায় না করলে তা কিয়ামতের দিন আরো বেশি হয়ে তার নিকট উপস্থিত হবে এবং সে এক প্রশস্ত ভূমিতে তাদের অপেক্ষায় থাকবে। ছাগলগুলো তাকে শিং দিয়ে গুঁতো মারবে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে যাবে। সেগুলোর মধ্যে কোন একটি এমন হবে না যে তার কোন শিং নেই অথবা থাকলেও তার শিং ভাঙ্গা।
কোন সংরক্ষিত সম্পদের মালিক উক্ত সম্পদের অধিকার তথা যাকাত আদায় না করলে তা কিয়ামতের দিন মাথায় চুল বিহীন একটি সাপের রূপ ধারণ করবে। সাপটি মুখ খোলা অবস্থায় তার পিছু নিবে এবং তার নিকট পৌঁছুতেই লোকটি তা থেকে পালাতে শুরু করবে। তখন সাপটি তাকে ডেকে বলবে: নাও তোমার সম্পদ যা তুমি লুকিয়ে রেখেছিলে। তাতে আমার কোন প্রয়োজন নেই। লোকটি যখন দেখবে আর কোন গত্যন্তর নেই তখন সে তার হাতখানা সাপের মুখে ঢুকিয়ে দিবে। তখন সাপটি তার হাতখানা চাবাতে থাকবে এক মহা শক্তিধরের ন্যায়।
কোন সম্প্রদায় যাকাত দিতে অস্বীকার করলে প্রশাসন বল প্রয়োগ করে হলেও তার থেকে অবশ্যই যাকাত আদায় করে নিবে। যেমনটি হযরত আবু বকর তাঁর যুগের যাকাত আদায়ে অস্বীকারকারীদের সাথে করেছেন। এমনকি প্রয়োজনে শাস্তি স্বরূপ তাদের থেকে যাকাতের চাইতেও বেশি সম্পদ নিতে পারে। আর তা একমাত্র প্রশাসকের বিবেচনার উপরই নির্ভরশীল।
হযরত আবু বكر ইরশাদ করেন:
وَ اللَّهِ لِأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاةَ وَ الزَّكَاةَ ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ ، وَ اللَّهِ لَوْ مَنَعُوْنِي عَنَاقًا كَانُوْا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا (বুখারী, হাদীস ৬৯২৪, ৬৯২৫)
অর্থাৎ আল্লাহ্'র কসম! অবশ্যই আমি যুদ্ধ করবো ওদের সঙ্গে যারা নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। তারা নামায পড়ে ঠিকই তবে যাকাত দিতে অস্বীকার করে। অথচ যাকাত হচ্ছে সম্পদের অধিকার। আল্লাহ্'র কসম! তারা যদি আমাকে ছাগলের একটি ছোট বাচ্চা (অন্য বর্ণনায় রশি) দিতেও অস্বীকার করে যা তারা দিয়েছিলো আল্লাহ্'র রাসূল ﷺ কে তা হলেও আমি তাদের সাথে তা না দেয়ার দরুন যুদ্ধ করবো।
হযরত মু'আবিয়া বিন্ হাইদাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ﷺ উটের যাকাত সম্পর্কে বলেন:
وَ مَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوْهَا وَ شَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَ جَلَّ (আবু দাউদ, হাদীস ১৫৭৫)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি যাকাতের উটটি দিতে অস্বীকার করবে আমি তো তা নেবোই বরং তার সম্পদের অর্ধেকও নিয়ে নেবো আমার মহান প্রভুর অধিকার হিসেবে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কোন ওযর ছাড়াই রমযানের রোযা না রাখা

📄 কোন ওযর ছাড়াই রমযানের রোযা না রাখা


শরীয়ত সম্মত কোন অসুবিধে না থাকা সত্ত্বেও রমযানের রোযা না রাখা একটি মারাত্মক অপরাধ।
হযরত আবু উমামাহ্ বা'হিলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন:
بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أَتَانِي رَجُلَانِ فَأَخَذَا بِضَبْعِي ، فَأَتَيَا بِي جَبَلاً وَعِراً ، فَقَالَا: اصْعَدْ ، فَقُلْتُ: إِنِّي لَا أَطِيقُهُ ، فَقَالَا : سَنُسَهْلُهُ لَكَ ، فَصَعَدْتُ ، حَتَّى إِذَا كُنْتُ فِي سَوَادِ الْجَبَلِ إِذَا بِأَصْوَاتِ شَدِيْدَةٍ ، قُلْتُ: مَا هَذِهِ الأَصْوَاتُ؟ قَالُوا: هَذَا عُوَاءُ أَهْلِ النَّارِ ، ثُمَّ انْطَلَقَا بِي ، فَإِذَا أَنَا بِقَوْمٍ مُعَلَّقِيْنَ بِعَرَاقِيهِمْ ، مُشَقَّقَةٍ أَشْدَاقُهُمْ ، تَسِيْل أَشْدَاقُهُمْ دَماً ، قُلْتُ: مَنْ هَؤُلَاءِ؟ قَالَ: الَّذِيْنَ يُفْطِرُوْنَ قَبْلَ تَحِلَّةِ صَوْمِهِمْ (নাসায়ী/কুরা, হাদীস ৩২৮৬)
অর্থাৎ আমি একদা ঘুমুচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় দু' ব্যক্তি এসে আমার বাহু ধরে এক দুরতিক্রম্য পাহাড়ে নিয়ে গেলো। তারা আমাকে বললো: পাহাড়ে উঠুন। আমি বললাম: আমি উঠতে পারবো না। তারা বললো: আমরা পাহাড়টিকে আপনার আরোহণযোগ্য করে দিচ্ছি। অতঃপর আমি পাহাড়টিতে উঠলাম। যখন আমি পাহাড়টির চূড়ায় উঠলাম তখন খুব চিৎকার শুনতে পেলাম। তখন আমি তাদেরকে বললাম: এ চিৎকার কিসের? তারা বললো: এ চিৎকার জাহান্নামীদের। অতঃপর তারা আমাকে নিয়ে সামনে এগুলো। দেখতে পেলাম, কিছু সংখ্যক লোককে পায়ের গোড়ালির মোটা রগে রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হলো। তাদের মুখ চিরে দেওয়া হয়েছে। তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম: এরা কারা? তারা বললো: এরা ওরা যারা ইফতারের পূর্বে রোযা ভেঙ্গে ফেলেছে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা

📄 ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা


ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা একটি মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ لِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيْلاً ، وَ مَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ ) (আ'লি ইম্মান: ৯৭)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলার জন্যই উক্ত ঘরের হজ্জ করা ওদের উপর বাধ্যতামূলক যারা এ ঘরে পৌঁছুতে সক্ষম। যে ব্যক্তি (হজ্জ না করে) আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কুফরি করলো তার জানা উচিৎ যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব জগতের প্রতি অমুখাপেক্ষী। হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَبْعَثَ رِجَالاً إِلَى هَذِهِ الْأَمْصَارِ فَيَنْظُرُوا كُلَّ مَنْ كَانَ لَهُ جِدَةٌ وَ لَمْ يَحُجَّ لِيَضْرِبُوا عَلَيْهِمُ الْجِزْيَةَ ، مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ ، مَا هُمْ بِمُسْلِمِينَ অর্থাৎ আমার ইচ্ছে হয় যে, আমি কতেক ব্যক্তিকে শহরগুলোতে পাঠাবো। অতঃপর যাদের সম্পদ রয়েছে অথচ হজ্জ করেনি তাদের উপর কর বসিয়ে দিবে। তারা মুসলমান নয়। তারা মুসলমান নয়। হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
مَنْ قَدَرَ عَلَى الْحَجِّ فَتَرَكَهُ فَلَا عَلَيْهِ أَنْ يَمُوْتَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا অর্থাৎ যে ব্যক্তি হজ্জ করতে সক্ষম অথচ হজ্জ করেনি। সে ইহুদী হয়ে মরুক বা খ্রিস্টান হয়ে তাতে কিছু আসে যায়না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00