📄 মদীনার হারাম এলাকার কোন গাছ কাটা, শিকার তাড়ানো এবং তার কোন বিদ'আত করা
মদীনার হারাম এলাকার কোন গাছ কাটা, শিকার তাড়ানো এবং তাতে কোন বিদ'আত করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْمَدِينَةُ حَرَامٌ مَا بَيْنَ عَائِرَ إِلَى ثَوْرٍ ، لَا يُخْتَلَى خَلَاهَا ، وَلَا يُنَفِّرُ صَيْدُهَا ، وَلَا تُلْتَقَطُ لُقَطَتُهَا إِلَّا لِمَنْ أَشَادَ بِهَا ، وَلَا يَصْلُحُ لِرَجُلٍ أَنْ يَحْمِلَ فِيْهَا السَّلَاحَ لِقِتَالٍ، وَ لَا يَصْلُحُ أَنْ يُقْطَعَ مِنْهَا شَجَرَةٌ إِلَّا أَنْ يَعْلِفَ رَجُلٌ بَعِيْرَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ২০৩৪, ২০৩৫)
অর্থাৎ মদীনার ‘আয়ির পাহাড় থেকে সাউর পাহাড় পর্যন্ত হারাম এলাকা। সেখানকার (কারোর কোন পরিশ্রম ছাড়া নিজে জন্মানো) কোন উদ্ভিদ কাটা যাবে না, কোন শিকার তাড়ানো যাবে না, কোন হারানো জিনিস উঠানো যাবে না। তবে কোন ব্যক্তি যদি তা প্রচার বা বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্যে উঠায় তা হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই। সেখানে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে কারোর জন্য অস্ত্র বহন করাও জায়িয নয়। তেমনিভাবে সেখানকার কোন গাছ কাটাও জায়িয নয়। তবে কোন ব্যক্তি যদি তার উটকে ঘাস খাওয়াতে চায় তা হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে:
الْمَدِينَةُ حَرَمُ مَا بَيْنَ عَيْرِ إِلَى ثَوْرٍ ، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَ الْمَلَائِكَةِ وَ النَّاسِ أَجْمَعِيْنَ، لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلَا عَدْلاً (মুসলিম, হাদীস ১৩৭০ আবু দাউদ, হাদীস ২০৩৪)
অর্থাৎ মদীনার ‘আইর পাহাড় থেকে সাউর পাহাড় পর্যন্ত হারাম এলাকা। কেউ তাতে কোন বিদ'আত করলে অথবা কোন বিদ'আতীকে আশ্রয় দিলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলা, সকল ফিরিস্তা ও সকল মানুষের লা'নত পতিত হবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত গ্রহণ করবেন না।
হযরত ‘আস্কিম আল-আ'হ্ওয়াল (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা হযরত আনাস্ কে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূল কি মদীনা শরীফকে হারাম করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তা হারাম।
لَا يُخْتَلَى خَلَاهَا ، فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَ الْمَلَائِكَةِ وَ النَّاسِ أَجْمَعِيْنَ (মুসলিম, হাদীস ১৩৬৭)
অর্থাৎ সেখানকার (কারোর কোন পরিশ্রম ছাড়া নিজে জন্মানো) কোন উদ্ভিদ কাটা যাবে না। কেউ কাটলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলা, সকল ফিরিস্তা ও সকল মানুষের লা'নত পতিত হবে।
কেউ কাউকে তাতে গাছ কাটা অথবা শিকার করা অবস্থায় ধরতে পারলে তার জন্য উক্ত ব্যক্তির সাথে থাকা সকল বস্তু ছিনিয়ে নেয়া হালাল হবে। হযরত সুলাইমান বিন্ আবু আব্দুল্লাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি হযরত সা'দ বিন্ আবী ওয়াক্বাস্ কে মদীনার হারাম এলাকায় শিকাররত জনৈক গোলামকে ধরে তার সকল পোশাক-পরিচ্ছদ ছিনিয়ে নিতে দেখেছি। অতঃপর তার মালিক পক্ষ হযরত সা'দ্ এর সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি বলেন: রাসূল এ হারাম এলাকাকে হারাম করে দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন:
مَنْ أَخَذَ أَحَدًا يَصِيْدُ فِيْهِ فَلْيَسْلُبْهُ ثِيَابَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ২০৩৭)
অর্থাৎ কেউ কাউকে এ হারাম এলাকায় শিকাররত অবস্থায় ধরতে পারলে সে যেন তার সকল পোশাক-পরিচ্ছদ ছিনিয়ে নেয়। হযরত সা'দ্ বলেন: সুতরাং রাসূল যা আমার জন্য হালাল করেছেন তা আমি ফেরত দেবো না। তবে তোমরা চাইলে আমি এর মূল্য পরিশোধ করতে পারি।
হযরত সা'দ্ এর গোলাম থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: একদা হযরত সা'দ্ মদীনার কিছু গোলামকে হারাম এলাকার গাছ কাটতে দেখেন। অতঃপর তিনি তাদের আসবাবপত্র ছিনিয়ে নেন। এ ব্যাপারে তাদের মালিক পক্ষ তাঁর সাথে কথা বললে তিনি বলেন: আমি রাসূল কে মদীনার যে কোন গাছ কাটতে নিষেধ করতে শুনেছি এবং তিনি বলেন:
مَنْ قَطَعَ مِنْهُ شَيْئًا فَلِمَنْ أَخَذَهُ سَلَبُهُ (আবু দাউদ, হাদীস ২০৩৮)
অর্থাৎ কেউ কাউকে মদীনার হারাম এলাকার কোন গাছ কাটা অবস্থায় ধরতে পারলে তার সমূহ আসবাবপত্র ছিনিয়ে নেয়ার অধিকার রয়েছে।
📄 সাম্প্রদায়িকতা অথবা জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করে এমন কথা বলা
সাম্প্রদায়িকতা অথবা জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করে এমন কথা বলা হারাম। মূলতঃ মুনাফিকরাই এ জাতীয় কর্মকাণ্ডে উসকানি দিয়ে থাকে। হযরত জাবির বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা একদা নবী এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। তখন জনৈক মুহাজির ছেলে জনৈক আন্সারী ছেলের সাথে দ্বন্দ্ব করে তার পাছায় আঘাত করে। তখন আন্সারী ছেলেটি এ বলে ডাক দিলো: হে আল্সারীরা! তোমরা কোথায়? তোমরা আমার সহযোগিতা করো। এ আমাকে মেরে ফেলছে। মুহাজির ছেলেটি বললো: হে মুহাজিররা! তোমরা কোথায়? তোমরা আমার সহযোগিতা করো। এ আমাকে মেরে ফেলছে। তখন রাসূল বললেন: এ কি? জাহিলী যুগের ডাক শুনা যাচ্ছে কেন? সাহাবাগণ রাসূল কে উক্ত ব্যাপারটি জানালে তিনি বলেন:
دَعُوْهَا ، فَإِنَّهَا مُنْتِنَةٌ ، وَ فِي رِوَايَةٍ : فَلَا بَأْسَ ، وَلْيَنْصُرِ الرَّجُلُ أَخَاهُ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا ، إِنْ كَانَ ظَالِمًا فَلَيَنْهَهُ ، فَإِنَّهُ لَهُ نَصْرٌ ، وَ إِنْ كَانَ مَظْلُومًا فَلَيَنْصُرْهُ (বুখারী, হাদীস ৪৯০৫, ৪৯০৭ মুসলিম, হাদীস ২৫৮৪)
অর্থাৎ আরে এমন কথা ছাড়ো, এটি একটি বিশ্রী কথা! অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আরে ব্যাপারটি তো সাধারণ, তা হলে এতে কোন অসুবিধে নেই। তবে মনে রাখবে, প্রত্যেক ব্যক্তি যেন তার অন্য মুসলিম ভাইকে সহযোগিতা করে। চাই সে যালিম হোক অথবা মাযলুম। যালিম হলে তাকে যুলুম করতে বাধা দিবে। এটিই হবে তার সহযোগিতা। আর মাযলুম হলে তো তার সহযোগিতা করতেই হবে।
ইতিমধ্যে আব্দুল্লাহ্ বিন্ উবাই কথাটি শুনে বললো: আরে তাদেরকে ছাড়া হবে না। তারা এমন করবে কেন? আমরা মদীনায় পৌঁছুলে এ অধমদেরকে মদীনা থেকে বের করে দেবো। নবী এর নিকট কথাটি পৌঁছুলে হযরত ‘উমর রাসূল কে বললেন: আপনি আমাকে একটু সুযোগ দিন। মুনাফিকটির গর্দান উড়িয়ে দেবো। নবী বললেন: ক্ষান্ত হও, মানুষ বলবে: মুহাম্মাদ তার সাথীদেরকে হত্যা করে দিচ্ছে। হযরত জাবির বলেন: হিজরতের পর মুহাজিররা কম থাকলেও পরবর্তীতে মুহাজিরদের সংখ্যা বেড়ে যায়।