📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 বিদ‘আতী কিংবা ভ্রান্তিপূজ্যার্থীদের সাথে উঠা-বসা

📄 বিদ‘আতী কিংবা ভ্রান্তিপূজ্যার্থীদের সাথে উঠা-বসা


বিদ'আতী কিংবা প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে উঠ-বসা করা হারাম। কারণ, তারা ইসলামের ব্যাপারে একজন খাঁটি মুসলমানের সামনে হরেক রকমের সংশয়-সন্দেহ উপস্থাপন করে তাঁর মূল পুঁজি তথা বিশুদ্ধ আক্বীদা-বিশ্বাসকেই নষ্ট করে দেয়।
হযরত আবু সা'ঈদ খুদ্রী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تُصَاحِبْ إِلَّا مُؤْمِنًا ، وَ لَا يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلَّا تَقِيٌّ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৩২)
অর্থাৎ খাঁটি মু'মিনই যেন তোমার একমাত্র সঙ্গী হয় এবং একমাত্র পরহেযগার ব্যক্তিই যেন তোমার খাবার খায়।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
لَا تُجَالِسٌ أَهْلَ الْأَهْوَاءِ ، فَإِنْ مُجَالَسَتَهُمْ مُمْرِضَةٌ لِلْقَلْبِ (ইবানাহ: ২/৪৮০)
অর্থাৎ তোমরা প্রবৃত্তিপূজারীদের পার্শ্বে বসো না। কারণ, তাদের সাথে উঠা- বসা করলে অন্তর রোগাক্রান্ত হয়ে যায়।
হযরত ফুযাইল্ বিন্ ‘ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
صَاحِبُ بِدْعَةٍ لَا تَأْمَنْهُ عَلَى دِيْنِكَ ، وَ لَا تُشَاوِرْهُ فِي أَمْرِكَ ، وَ لَا تَجْلِسَ إِلَيْهِ، وَ مَنْ جَلَسَ إِلَى صَاحِبِ بِدْعَةِ أَوْرَثَهُ اللَّهُ الْعَمَى (ইবানাহ: ২/৪৪২)
অর্থাৎ তোমার ধর্মকর্ম একজন বিদ'আতীর হাতে কখনোই নিরাপদ নয়। সুতরাং তোমার কোন ব্যাপারে তার সামান্যটুকু পরামর্শও নিবে না। এমনকি তার নিকটেও কখনো বসবে না। কারণ, যে ব্যক্তি কোন বিদ'আতীর নিকট বসলো সে অচিরেই তার অন্তর্দৃষ্টি হারিয়ে ফেললো।
হযরত মুসলিম বিন্ ইয়াসা'র (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
لَا تُمَكِّنْ صَاحِبَ بِدْعَةِ مِنْ سَمْعِكَ فَيَصُبُّ فِيهِ مَا لَا تَقْدِرُ أَنْ تُخْرِجَهُ مِنْ قَلْبِكَ (ইবানাহ: ২/৪৫৯)
অর্থাৎ কোন বিদ'আতীকে কখনো তোমার কানের কাছে ঘেঁষতে দিবে না। কারণ, সে তখন তোমার কানে এমন কিছু ঢুকিয়ে দিবে যা আর কখনো তোমার অন্তর থেকে বের করতে পারবে না।
হযরত মুফায্যাল্ বিন্ মুহাল্ল্‌ল্হাল্ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
لَوْ كَانَ صَاحِبُ الْبِدْعَةِ إِذَا جَلَسْتَ إِلَيْهِ يُحَدِّثُكَ بِبِدْعَته حَذَرْتَهُ وَ فَرَرْتَ مِنْهُ ، وَ لَكِنَّهُ يُحَدِّثُكَ بِأَحَادِيثِ السُّنَّةِ فِي بُدُو مَجْلِسِهِ ثُمَّ يُدْخِلُ عَلَيْكَ بِدْعَتَهُ فَلَعَلَّهَا تَلْزَمُ قَلْبَكَ ، فَمَتَى تُخْرِجُ مِنْ قَلْبِكَ ؟! (ইবানাহ: ২/৪৪৪)
অর্থাৎ যদি কোন বিদ'আতীর নিকট বসলেই সে তোমার সাথে বিদ'আতের কথা আলোচনা করে তা হলে তুমি তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং তার থেকে দূরে সরে যেতে পারতে। কিন্তু সে তো তা করছে না বরং সে সর্বপ্রথম তোমাকে সুন্নাতের কিছু হাদীস শুনাবে অতঃপর তার বিদ'আত তোমার নিকট সাপ্লাই দিবে। তখন তা তোমার অন্তরের সাথে গেঁথে যাবে যা অন্তর থেকে বের করার সুযোগ আর কখনো তোমার হবে না।
বর্তমান বিশ্বের অনেকেই অন্যের সাথে তার পারস্পরিক সম্পর্ক রাখার ব্যাপারটিকে সংখ্যাধিক্যের সাথে জুড়ে দেয়। তখন সে নিজ সুবিধার জন্য যাদের সংখ্যা বেশি তাদের সাথেই উঠাবসা করে এবং তাদের সাথেই বন্ধুত্ব পাতায়। কে সত্যের উপর আর কে মিথ্যার উপর তা সে কখনোই ভেবে দেখে না। অথচ ধর্মের খাতিরে তাকে একমাত্র সত্যের সাথীই হতে হবে। মিথ্যার নয়।
হযরত ফুযাইল্ বিন্ ‘ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
اتَّبِعْ طُرُقَ الْهُدَى، وَ لَا يَضُرُّكَ قِلَّةُ السَّالِكِينَ ، وَ إِيَّاكَ وَ طُرُقَ الضَّلَالَةِ ، وَ لَا تَغْتَرْ بِكَثْرَةِ الْهَالِكَيْنَ (আল্ ই'তিস্বাম: ১/১১২)
অর্থাৎ একমাত্র হিদায়াতের পথই অনুসরণ করো; এ পথের লোক সংখ্যা কম হলে তাতে তোমার কোন অসুবিধে নেই এবং ভ্রষ্টতার পথ থেকে বহু দূরে অবস্থান করো; সে পথের লোক সংখ্যা বেশি বলে তুমি তাতে ধোঁকা খেয়ো না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর কবরের উপর মসজিদ বানানো

📄 কারোর কবরের উপর মসজিদ বানানো


কারোর কবরের উপর মসজিদ বানানো হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُمُ السَّاعَةُ وَ هُمْ أَحْيَاءُ ، وَ الَّذِيْنَ يَتَّخِذُوْنَ الْقُبُوْرَ مساجد (ইবনু খুযাইমাহ, হাদীস ৭৮৯ ইবনু হিব্বান/ইহসান, হাদীস ৬৮০৮ ত্বাবারানী/কাবীর, হাদীস ১০৪১৩ বায্যার/কাফুল আস্তার, হাদীস ৩৪২০)
অর্থাৎ সর্ব নিকৃষ্ট মানুষ ওরা যারা জীবিত থাকতেই কিয়ামত এসে গেলো এবং ওরা যারা কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করলো।
হযরত ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: হযরত উম্মে হাবীবাহ্ ও হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ইথিওপিয়ায় একটি গির্জা দেখেছিলেন যাতে অনেকগুলো ছবি টাঙ্গানো রয়েছে। তাঁরা তা রাসূল কে জানালে তিনি বলেন:
إِنْ أُوْلَائِكَ إِذَا كَانَ فِيهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَمَاتَ ، بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِداً ، وَصَوَّرُوا فِيه تِلْكَ الصُّوَرَ ، فَأُوْلَاتَكَ شَرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৪২৭, ৪৩৪, ১৩৪১, ৩৮৭৩ মুসলিম, হাদীস ৫২৮ ইবনু খুযাইমাহ, হাদীস ৭৯০)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই ওরা তাদের মধ্যে কোন ওলী-বুযুর্গ ইন্তিকাল করলে তারা ওর কবরের উপর মসজিদ বানিয়ে নেয় এবং এ জাতীয় ছবি সমূহ টাঙ্গিয়ে রাখে। ওরা কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সর্ব নিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে সাব্যস্ত হবে।
নবী কবরের উপর মসজিদ নির্মাণকারী ইহুদী ও খ্রিষ্টানদেরকে লা'নত (অভিশাপ) দিয়েছেন।
হযরত ‘আয়েশা ও ইবনে ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন:
لَمَّا نُزِلَ بِرَسُوْلِ اللهِ ، طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيْصَةً عَلَى وَجْهِهِ ، فَإِذَا اغْتَمَّ كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ ، فَقَالَ وَ هُوَ كَذَلِكَ : لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَ النَّصَارَى ، اتَّخَذُوا قُبُوْرَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ ، يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوا (বুখারী, হাদীস ৪৩৫, ৪৩৬, ৩৪৫৩, ৩৪৫৪, ৪৪৪৩, ৪৪৪৪ মুসলিম, হাদীস ৫৩১)
অর্থাৎ যখন রাসূল মৃত্যু শয্যায় তখন তিনি চাদর দিয়ে নিজ মুখমণ্ডল ঢেকে ফেললেন। অতঃপর যখন তাঁর শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো তখন তিনি চেহারা খুলে বললেন: ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের উপর আল্লাহ্ তা'আলার লা'নত; তারা নবীদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিলো। এ কথা বলে নবী নিজ উম্মতকে সে কাজ না করতে সতর্ক করে দিলেন।
নবী কবরের উপর মসজিদ বানানোর ব্যাপারে শুধু লা'নত ও নিন্দা করেই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি তা করতে সুস্পষ্টভাবে নিষেধও করেছেন।
হযরত জুন্দা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি নবী কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন:
أَلَا وَ إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُوْنَ قُبُوْرَ أَنْبِيَائِهِمْ وَ صَالِحِيْهِمْ مَسَاجِدَ ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُوْرَ مَسَاجِدَ ، إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ (মুসলিম, হাদীস ৫৩২)
অর্থাৎ তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা নিজ নবী ও ওলী-বুযুর্গদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিতো। সাবধান! তোমরা কবরকে মসজিদ বানিওনা। আমি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করছি।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ইহুদি ও খ্রিষ্টানকে সর্বপ্রথম নিজ থেকেই সালাম দেয়া

📄 ইহুদি ও খ্রিষ্টানকে সর্বপ্রথম নিজ থেকেই সালাম দেয়া


ইহুদি ও খ্রিস্টানকে সর্ব প্রথম নিজ থেকেই সালাম দেয়া আরেকটি হারাম কাজ।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরshদ করেন:
لَا تَبْدَؤُوْا الْيَهُودَ وَ لَا النَّصَارَى بِالسَّلَامِ ، فَإِذَا لَقِيْتُمْ أَحَدَهُمْ فِي طَرِيقِ فَاضْطَرُّوهُ إِلَى أَضْيَقِهِ (মুসলিম, হাদীস ২১৬৭)
অর্থাৎ তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানকে সর্ব প্রথম নিজ থেকেই সালাম দিও না। বরং যখনই তাদের কাউকে রাস্তায় পাবে তখনই তাকে একেবারে সংকীর্ণ পথেই চলতে বাধ্য করবে।
এ ছাড়াও সালাম তো ভালোবাসারই একান্ত প্রতীক। তাই ওদেরকে সালাম দেয়া যাবে না। কারণ, তাদের সাথে ভালোবাসা ঈমান বিধ্বংসীই বটে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ ، بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ، وَ مَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِّنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ، إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴾ (মা'য়িদাহ : ৫১)
অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। তারা তো একে অপরের বন্ধু। তোমাদের কেউ তাদেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা যালিমদেরকে সুপথ দেখান না।
ওদের আল্লাহ্ তা'আলাকে নিশ্চয়ই ভয় করা উচিৎ যারা খেলার পাগল হয়ে কাফির খেলোয়াড়কেও ভালোবাসে এবং গানের পাগল হয়ে কাফির গায়ক-গায়িকাকেও ভালোবাসে; অথচ তাদের করণীয় হচ্ছে শুধু ঈমানদারদেরকেই ভালোবাসা যদিও তারা তার উপর যুলুম ও অত্যাচার করুক না কেন এবং কাফিরদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা যদিও তারা তার উপর দয়া বা অনুগ্রহ করুক না কেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা এ দুনিয়াতে কিতাব ও রাসূল পাঠিয়েছেন এ জন্যই যে, যেন সকল আনুগত্য হয় একমাত্র তাঁরই জন্য।
সুতরাং ভালোবাসা হবে একমাত্র তাঁরই আনুগত্যকারীদের জন্য এবং শত্রুতা হবে একমাত্র তাঁরই বিরুদ্ধাচারীদের জন্য। সম্মান পাবে একমাত্র তাঁরই বন্ধুরা এবং লাঞ্ছনা পোহাবে একমাত্র তাঁরই শত্রুরা। ভালো প্রতিদান পাবে একমাত্র তাঁরই বন্ধুরা এবং শাস্তি পাবে একমাত্র তাঁরই শত্রুরা।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কাফিরদের সাথে যে কোনভাবে মিল ও সাদৃশ্য বজায় রাখা

📄 কাফিরদের সাথে যে কোনভাবে মিল ও সাদৃশ্য বজায় রাখা


কাফিরদের সাথে যে কোনভাবে মিল ও সাদৃশ্য বজায় রাখা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَ مَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ ، وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ ، وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُوْنَ ) (‘হাদীদ : ১৬)
অর্থাৎ মু'মিনদের কি এখনো আল্লাহ্ তা'আলার স্মরণ ও অবতীর্ণ অহীর সত্য বাণী শুনে অন্তর বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি?! উপরন্তু তারা যেন পূর্বেকার আহলে কিতাবদের মতো না হয় বহুকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর যাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে পড়েছিলো। মূলতঃ তাদের অধিকাংশই তো ফাসিক।
উক্ত আয়াতে যদিও তাদের ন্যায় অন্তরকে কঠিন বানাতে নিষেধ করা হয়েছে যা একমাত্র গুনাহ্'রই কুফল তবুও যে কোনভাবে তাদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখাও শরীয়তে নিষিদ্ধ। যা বিপুল সংখ্যক হাদীস ভাঙার কর্তৃক প্রমাণিত। যার কিয়দংশ বিষয় ভিত্তিক নিম্নে প্রদত্ত হলো:
নামায সংক্রান্ত:
হযরত শাদ্দাদ বিন্ আউস্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
خَالِفُوا الْيَهُوْدَ فَإِنَّهُمْ لَا يُصَلُّوْنَ فِي نِعَالِهِمْ وَ لَا خِفَافِهِمْ (আবু দাউদ, হাদীস ৬৫২)
অর্থাৎ ইহুদিদের বিপরীত করো। (অতএব জুতো পরে নামায পড়ো।) কারণ, ইহুদিরা জুতো ও মোজা পরে নামায পড়ে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا كَانَ لِأَحَدِكُمْ ثَوْبَانِ فَلَيُصَلِّ فِيْهِمَا ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِلَّا ثَوْبٌ وَاحِدٌ فَلْيَتَزِرْ به ، وَ لَا يَشْتَمِلُ اشْتِمَالَ الْيَهُودِ (আবু দাউদ, হাদীস ৬৩৫)
অর্থাৎ কারোর দু'টি কাপড় থাকলে সে যেন উভয়টি পরেই নামায পড়ে। আর যদি কারোর একটি মাত্র কাপড় থাকে তা হলে সে যেন কাপড়টিকে নিম্ন বসন হিসেবেই পরিধান করে। ইহুদিদের মতো সে যেন কাপড়টিকে পুরো শরীর পেঁচিয়ে না পরে।
রোযা সংক্রান্ত:
হযরত বশীর খাস্বাম্বিয়াহ্ এর স্ত্রী হযরত লাইলা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি দু' দিন লাগাতার রোযা রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার স্বামী বশীর তা আমাকে করতে দেয়নি। বরং তিনি বলেন: রাসূল এমন করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন:
إِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ النَّصَارَى، صُوْمُوْا كَمَا أَمَرَكُمُ اللهُ، وَ أَتِمُّوا الصَّوْمَ كَمَا أَمَرَكُمُ الله، ﴿ وَأَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ) فَإِذَا كَانَ اللَّيْلُ فَأَفْطِرُوا (আহমাদ ৫/২২৫)
অর্থাৎ এমন কাজ তো খ্রিস্টানরাই করে। তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার নির্দেশ মোতাবিক রোযা রাখবে এবং তাঁর নির্দেশ মোতাবিকই তা সম্পূর্ণ করবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: তোমরা রাত পর্যন্ত রোযা সম্পূর্ণ করো। সুতরাং রাত আসলেই তোমরা ইফতার করে ফেলবে।
হজ্জ সংক্রান্ত:
হযরত ‘আমর বিন্ মাইমূন (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা হযরত ‘উমর মুযদালিফায় ফজরের নামায শেষে দাঁড়িয়ে বললেন:
إِنَّ الْمُشْرِكِينَ كَانُوا لَا يُفِيضُوْنَ مِنْ جَمْعِ حَتَّى تُشْرِقَ الشَّمْسُ عَلَى غَيْرَ ، وَيَقُولُوْنَ: أَشْرِقْ تَبِيْرُ كَيْمَا نُغِيْرُ) ، فَخَالَفَهُمُ النَّبِيُّ فَأَفَاضَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ (বুখারী, হাদীস ১৬৮৪, ৩৮৩৮)
অর্থাৎ মুদ্রিকরা মুযদালিফাহ্ থেকে রওয়ানা করতো না যতক্ষণ না সাবীর পাহাড়ের উপর সূর্য উদিত হতো। তারা বলতো: হে সাবীর পাহাড়! তুমি সকালে উপনীত হও যাতে আমরা রওয়ানা করতে পারি। তখন রাসূল তাদের বিরোধিতা করেই সূর্যোদয়ের পূর্বে রওয়ানা করেন।
কবর সংক্রান্ত:
হযরত জারীর বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
اللَّحْدُ لَنَا وَ الشَّقُّ لِأَهْلِ الْكِتَابِ (আহমাদ ৪/৩৬৩)
অর্থাৎ লাহ্দ্‌ তথা এক সাইড ঢালু করা কবর আমাদের জন্য আর মধ্যভাগ গর্ত করা কবর আহলে কিতাবদের জন্য।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
اللَّحْدُ لَنَا وَ الشَّقُّ لِغَيْرِنَا (আবু দাউদ, হাদীস ৩২০৮ তিরমিযী, হাদীস ১০৪৫)
অর্থাৎ লাহ্দ্‌ তথা এক সাইড ঢালু করা কবর আমাদের জন্য আর মধ্যভাগ গর্ত করা কবর অন্যদের জন্য।
হযরত জুন্দা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি নবী কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন:
أَلَا وَ إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُوْنَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَ صَالِحِيْهِمْ مَسَاجِدَ ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُوْرَ مَسَاجِدَ ، إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ (মুসলিম, হাদীস ৫৩২)
অর্থাৎ তোমাদের পূর্বেকার লোকেরা নিজ নবী ও ওলী-বুযুর্গদের কবরকে মসজিদ বানিয়ে নিতো। সাবধান! তোমরা কবরকে মসজিদ বানিও না। আমি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করছি।
পোশাক ও সাজ-সজ্জা সংক্রান্ত:
হযরত ‘হুযাইফাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَشْرَبُوا فِي إِنَاءِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ، وَ لَا تَلْبَسُوا الدِّيْبَاجَ وَ الْحَرِيْرَ، فَإِنَّهُ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَ هُوَ لَكُمْ فِي الْآخِرَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (মুসলিম, হাদীস ২০৬৭)
অর্থাৎ তোমরা সোনা ও রূপার পেয়ালায় কোন কিছু পান করো না এবং মোটা ও পাতলা সিল্কের কাপড় পরিধান করো না। কারণ, তা তো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং তোমাদের জন্য আখিরাতে কিয়ামতের দিনে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
رَأَى رَسُوْلُ اللَّهِ عَلَيَّ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ: إِنَّ هَذِهِ مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ، فَلَا تَلْبَسْهَا ، قُلْتُ: أَغْسِلُهُمَا؟ قَالَ: بَلْ أَحْرِقْهُمَا (মুসলিম, হাদীস ২০৭৭)
অর্থাৎ রাসূল আমার গায়ে দু'টি ‘উস্কফুর নামী উদ্ভিদ থেকে সংগৃহীত লাল-হলুদ রঙে রঙানো কাপড় দেখে বললেন: এগুলো কাফিরদের পোশাক। সুতরাং তুমি তা পরো না। আমি বললাম: আমি কি কাপড় দু'টি ধুয়ে ফেলবো? তিনি বললেন: না, বরং কাপড় দু'টি পুড়ে ফেলবে। হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ الْيَهُوْدَ وَ النَّصَارَى لَا يَصْبُغُوْنَ ؛ فَخَالِفُوْهُمْ (আবু দাউদ, হাদীস ৪২০৩)
অর্থাৎ ইহুদী ও খ্রিস্টানরা (মাথার চুল বা দাঁড়ি) কালার করে না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করবে তথা কালার করবে।
অভ্যাস ও আচরণ সংক্রান্ত:
হ হযরত ‘আমর বিন্ শু'আইব তাঁর পিতা থেকে তাঁর পিতা তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا ، لَا تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَ لَا بِالنَّصَارَى؛ فَإِنْ تَسْلِيمَ الْيَهُودِ الإِشَارَةُ بِالْأَصَابِعِ، وَ تَسْلِيمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بِالْأَكُفِّ (তিরমিযী, হাদীস ২৬৯৫)
অর্থাৎ সে আমার উম্মত নয় যে অমুসলিমদের সাথে কোনভাবে সাদৃশ্য বজায় রাখলো। তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাথে কোনভাবে সাদৃশ্য বজায় রাখো না। কারণ, ইহুদিরা সালাম দেয় আঙ্গুলের ইশারায়। আর খ্রিস্টানরা সালাম দেয় হাতের ইশারায়।
এ ছাড়াও যে কোনভাবে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য বজায় রাখা শরীয়তে নিষিদ্ধ।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ (আবু দাউদ, হাদীস ৪০৩১)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কোন জাতির সাথে যে কোনভাবে সাদৃশ্য বজায় রাখলো সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00