📄 আল্লাহ্ তা'আলার অবলুপ্তির মাধ্যমে কোন মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করা
আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তুষ্টির মাধ্যমে কোন মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করা কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
হযরত ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি:
مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَ مَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطَ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ (তিরমিযী, হাদীস ২৪১৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টিই কামনা করে মানুষের ব্যাপারে তার জন্য একমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করে একমাত্র মানুষের সন্তুষ্টিই কামনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে মানুষের হাতে ছেড়ে দেন। তিনি আর তার কোন ধরনের সহযোগিতা করেন না।
📄 কারোর নিজের জন্য রাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করা
কারোর নিজের জন্য রাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করাও হারাম এবং কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ أَخْبَثُهُ وَ أَغْيَظُهُ عَلَيْهِ رَجُلٌ كَانَ يُسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلاكِ ، لاَ مَلِكَ إِلَّا اللَّهُ (মুসলিম, হাদীস ২১৪৩ বাগাওয়ী, হাদীস ৩৩৭০)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব বেশি রাগান্বিত হবেন সে ব্যক্তির উপর এবং সে তাঁর নিকট সর্বনিকৃষ্টও বটে যাকে একদা রাজাধিরাজ বলে ডাকা হতো। অথচ সত্যিকার রাজা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই।
রাসূল আরো বলেন:
اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ مَلِكُ الْأَمْلَاكَ ، لَا مَلِكَ إِلَّا اللَّهُ (আহমাদ্দ ২/৪৯২ ‘হা'কিম ৪/২৭৫ স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৯৮৮)
অর্থাৎ এমন ব্যক্তির উপর আল্লাহ্ তা'আলা অনেক বেশি রাগান্বিত হবেন যে নিজেকে রাজাধিরাজ মনে করে। অথচ সত্যিকার রাজা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই।
📄 যে কথায় আল্লাহ্ তা'আলা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা
যে কথায় আল্লাহ্ তা'আলা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত বিলাল বিন্ ‘হারিস্ মুযানী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنْ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَة مِنْ رِضْوَانِ الله ، مَا يَظُنَّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ ، فَيَكْتُبُ اللَّهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمٍ يَلْقَاهُ، وَ إِنْ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَة مِنْ سَخَطَ اللَّهِ، مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ، فَيَكْتُبُ اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ (তিরমিযী, হাদীস ২৩১৯ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ৪০৪০ আহমাদ ৩/৪৬৯ হা'কিম ১/৪৪-৪৬ ইন্নু হিব্বান, হাদীস ২৮০ মা'লিক ২/৯৮৫)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ কখনো এমন কথা বলে ফেলে যাতে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর খুবই সন্তুষ্ট হন। সে কখনো ভাবতেই পারেনি কথাটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছুবে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত কথার দরুনই কিয়ামত পর্যন্ত তার উপর তাঁর সন্তুষ্টি অবধারিত করে ফেলেন। আবার তোমাদের কেউ কখনো এমন কথাও বলে ফেলে যাতে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর খুবই অসন্তুষ্ট হন। সে কখনো ভাবতেই পারেনি কথাটি এমন এক মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছুবে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত কথার দরুনই কিয়ামত পর্যন্ত তার উপর তাঁর অসন্তুষ্টি অবধারিত করে ফেলেন।
📄 আল্লাহ্ তা'আলার দয়া কিংবা অনুগ্রহ অস্বীকার তথা নিজ সম্পদ থেকে গরীবদের অধিকার আদায়ে অনীহা প্রকাশ করা
আল্লাহ্ তা'আলার দয়া কিংবা অনুগ্রহ অস্বীকার তথা নিজ সম্পদ থেকে গরীবের অধিকার আদায়ে অনীহা প্রকাশ করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
আল্লাহ্ তা'আলা বনী ইস্রাঈলের কয়েকজন ব্যক্তিকে অঢেল সম্পদ দিয়ে পুনরায় তাদেরকে ফিরিস্তার মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। তাদের অধিকাংশই তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার একান্ত অনুগ্রহ নয় বলে তাঁর নিয়ামত অস্বীকার করতঃ তা তাদের বাপ-দাদার সম্পদ বলে দাবি করলে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে তাদের সম্পদ ছিনিয়ে নেন। আর যারা তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার অনুগ্রহ বলে স্বীকার করলো তাদের উপর তিনি সন্তুষ্ট হন এবং তাদের সম্পদ আরো বাড়িয়ে দেন।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন:
إِنَّ ثَلَاثَةٌ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ : أَبْرَصَ وَ أَقْرَعَ وَ أَعْمَى ، أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ ، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكاً ، فَأَتَى الأَبْرَصَ فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: لَوْنٌ حَسَنٌ وَ جِلْدٌ حَسَنٌ وَ يَذْهَبَ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَدَرَنِي النَّاسُ ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَذَرُهُ وَ أُعْطِيَ لَوْناً حَسَناً وَ جِلْداً حَسَناً ، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: الإِبلُ ، أَوْ قَالَ: الْبَقَرُ - شَكٍّ إِسْحَاقَ - إِلَّا أَنَّ الْأَبْرَصَ أَوِ الْأَقْرَعَ قَالَ أَحَدُهُمَا: الإِبلُ وَ قَالَ الآخَرُ : الْبَقَرُ ، قَالَ : فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ ، فَقَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيْهَا، قَالَ: فَأَتَى الْأَقْرَعَ فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: شَعْرٌ حَسَنٌ وَ يَذْهَبَ عَنِّي هَذَا الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ وَ أُعْطِيَ شَعْراً
حَسَناً، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: الْبَقَرُ ، فَأُعْطِيَ بَقَرَةً حَامِلاً ، فَقَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيْهَا ، قَالَ : فَأَتَى الأَعْمَى فَقَالَ : أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: أَنْ يَرُدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي فَأَبْصِرَ بِهِ النَّاسَ ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ ، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ : الْغَنَمُ ، فَأُعْطِيَ شَاةً وَالداً ، فَأَنْتَجَ هَذَانِ وَ وَلَدَ هَذَا ، قَالَ: فَكَانَ لِهَذَا وَادٍ مِنَ الإِبْلِ وَ لِهَذَا وَادٍ مِنَ الْبَقَرِ وَ لِهَذَا وَادٍ مِنَ الْغَنَمِ. قَالَ: ثُمَّ إِنَّهُ أَتَى الأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَ هَيْئَتِهِ ، فَقَالَ: رَجُلٌ مِسْكِينَ ، قَدِ القَطَعَتْ بِيْ الْجِبَالُ فِي سَفَرِي ، فَلَا بَلاغَ لِي الْيَوْمَ إِلَّا بِاللهِ ثُمَّ بِكَ ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الْحَسَنَ وَ الْجِلْدَ الْحَسَنَ وَ الْمَالَ بَعِيْراً أَتَبَلِّغُ عَلَيْهِ فِي سَفَرِي ، فَقَالَ: الْحُقُوقُ كَثِيرَةٌ ، فَقَالَ لَهُ: كَأَنِّي أَعْرِفُكَ ، أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ؟ فَقِيْراً فَأَعْطَاكَ اللَّهُ؟ فَقَالَ: إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا الْمَالَ كَابِراً عَنْ كَابِرٍ ، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتُ، قَالَ: وَ أَتَى الْأَقْرَعَ فِي صُوْرَتِهِ ، فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذَا، وَ رَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَى هَذَا ، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ. قَالَ: وَ أَتَى الأَعْمَى فِي صُورَتِهِ وَ هَيْئَتِهِ ، فَقَالَ: رَجُلٌ مِسْكِينٌ وَابْنُ سَبِيْلِ القَطَعَتْ بِي الْجِبَالُ فِي سَفَرِي ، فَلَا بَلاغَ لِي الْيَوْمَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ ، شَاةً أَتَبَلِّغُ بِهَا فِي سَفَرِي ، فَقَالَ: قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي ، فَخُذْ مَا شِئْتَ وَ دَعْ مَا شِئْتَ ، فَوَاللَّهِ لَا أَجْهَدُكَ الْيَوْمَ شَيْئًا أَخَذْتُهُ لِلَّهِ ، فَقَالَ: أَمْسِكْ مَالَكَ ، فَإِنَّمَا ابْتُلِيْتُمْ ، فَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ وَ سَخِطَ عَلَى صَاحِبَيْكَ (বুখারী, হাদীস ৩৪৬৪, ৬৬৫৩ মুসলিম, হাদীস ২৯৬৪)
অর্থাৎ বনী ইস্রাঈলের তিন ব্যক্তি শ্বেতী রোগী, টাক মাথা ও অন্ধের নিকট আল্লাহ্ তা'আলা জনৈক ফিরিস্তা পাঠিয়েছেন তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্যে। ফিরিস্তাটি শ্বেতী রোগীর নিকট এসে বললেন: তোমার নিকট কোন্ বস্তুটি অধিক পছন্দনীয়? সে বললো: আমার নিকট পছন্দনীয় বস্তু হচ্ছে সুন্দর রং ও মনোরম চামড়া এবং আমার এ রোগটি যেন ভালো হয়ে যায়, যার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। তৎক্ষণাৎ ফিরিস্তাটি তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিলে তার কদর্যতা দূর হয়ে যায় এবং তাকে সুন্দর রং ও মনোরম চামড়া দেয়া হয়। আবারো ফিরিস্তাটি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন্ ধরনের সম্পদ তোমার নিকট অধিক পছন্দনীয়? উত্তরে সে বললো: উট অথবা গরু। শ্বেতি রোগী অথবা টাক মাথার যে কোন এক জন উট চেয়েছে আর অন্য জন গাভী। বর্ণনাকারী ইস্হাক এ ব্যাপারে সন্দেহ করেছেন। যা হোক তাকে দশ মাসের গর্ভবতী একটি উষ্ট্রী দেয়া হলো এবং ফিরিস্তাটি তার জন্য দো'আ করলেন: আল্লাহ্ তা'আলা তোমার এ উষ্ট্রীর মধ্যে বরকত দিক!
এরপর ফিরিস্তাটি টাক মাথা লোকটির নিকট এসে বললেন: তোমার নিকট কোন্ বস্তুটি অধিক পছন্দনীয়? সে বললো: আমার নিকট পছন্দনীয় বস্তু হচ্ছে সুন্দর চুল এবং আমার এ রোগটি যেন ভালো হয়ে যায়, যার কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। তৎক্ষণাৎ ফিরিস্তাটি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে তার কদর্যতা দূর হয়ে যায় এবং তাকে সুন্দর চুল দেয়া হয়। আবারো ফিরিস্তাটি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন্ ধরনের সম্পদ তোমার নিকট অধিক পছন্দনীয়? উত্তরে সে বললো: গাভী। অতএব তাকে গর্ভবতী একটি গাভী দেয়া হলো এবং ফিরিস্তাটি তার জন্য দো'আ করলেন: আল্লাহ্ তা'আলা তোমার এ গাভীর মধ্যে বরকত দিক!
এরপর ফিরিস্তাটি অন্ধ লোকটির নিকট এসে বললেন: তোমার নিকট কোন্ বস্তুটি অধিক পছন্দনীয়? সে বললো: আমার নিকট পছন্দনীয় বস্তু হচ্ছে আল্লাহ্ তা'আলা যেন আমার চক্ষুটি ফিরিয়ে দেয়। যাতে আমি মানুষ জন দেখতে পাই। তৎক্ষণাৎ ফিরিস্তাটি তার চোখে হাত বুলিয়ে দিলে আল্লাহ্ তা'আলা তার চক্ষুটি ফিরিয়ে দেন। আবারো ফিরিস্তাটি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন্ ধরনের সম্পদ তোমার নিকট অধিক পছন্দনীয়? উত্তরে সে বললো: ছাগল। অতএব তাকে গর্ভবতী একটি ছাগী দেয়া হলো। অতঃপর প্রত্যেকের উষ্ট্রী, গাভী ও ছাগী বাচ্চা দিতে থাকে। এতে করে কিছু দিনের মধ্যেই প্রত্যেকের উট, গরু ও ছাগলে এক এক উপত্যকা ভরে যায়।
আরো কিছু দিন পর ফিরিস্তাটি শ্বেতী রোগীর নিকট পূর্ব বেশে উপস্থিত হয়ে বললেন: আমি এক জন গরিব মানুষ। আমার পথ খরচা একেবারেই শেষ। এখন এক আল্লাহ্ অতঃপর তুমি ছাড়া আমার কোন উপায় নেই। তাই আমি আল্লাহ্ তা'আলার দোহাই দিয়ে তোমার নিকট একটি উট চাচ্ছি যিনি তোমাকে সুন্দর রং, মনোরম চামড়া ও সম্পদ দিয়েছেন যাতে আমার পথ চলা সহজ হয়ে যায়। উত্তরে সে বললো: দায়িত্ব অনেক বেশি। তোমাকে কিছু দেয়া এখন আমার পক্ষে সম্ভবপর নয়। ফিরিস্তাটি তাকে বললেন: তোমাকে চেনা চেনা মনে হয়। তুমি কি শ্বেতী রোগী ছিলে না? মানুষ তোমাকে ঘৃণা করতো। তুমি কি দরিদ্র ছিলে না? অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে সম্পদ দিয়েছেন। সে বললো: না, আমি কখনো গরিব ছিলাম না। এ সম্পদগুলো আমি বংশ পরম্পরায় উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। অতঃপর ফিরিস্তাটি বললেন: তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকো তবে আল্লাহ্ তা'আলা যেন তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেন।
অনুরূপভাবে ফিরিস্তাটি টাক মাথার নিকট পূর্ব বেশে উপস্থিত হয়ে তার সঙ্গে সে জাতীয় কথাই বললেন যা বলেছেন শ্বেতী রোগীর সঙ্গে এবং সেও সে উত্তর দিলো যা দিয়েছে শ্বেতী রোগী। অতঃপর ফিরিস্তাটি বললেন: তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকো তবে আল্লাহ্ তা'আলা যেন তোমাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেন।
তেমনিভাবে ফিরিস্তাটি অন্ধের নিকট পূর্ব বেশে উপস্থিত হয়ে বললেন: আমি দরিদ্র মুসাফির মানুষ। আমার পথ খরচা একেবারেই শেষ। এখন এক আল্লাহ্ অতঃপর তুমি ছাড়া আমার কোন উপায় নেই। তাই আমি আল্লাহ্ তা'আলার দোহাই দিয়ে তোমার নিকট একটি ছাগল চাচ্ছি যিনি তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন যাতে আমার পথ চলা সহজ হয়ে যায়। উত্তরে সে বললো: আমি নিশ্চয়ই অন্ধ ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা আমার চক্ষু ফিরিয়ে দিয়েছেন। অতএব তোমার যা ইচ্ছা নিয়ে যাও এবং যা ইচ্ছা রেখে যাও। আল্লাহ্'র কসম খেয়ে বলছি: আজ আমি তোমাকে বারণ করবো না যাই তুমি আল্লাহ্'র জন্য নিবে। ফিরিস্তাটি বললেন: তোমার সম্পদ তুমিই রেখে দাও। তোমাদেরকে শুধু পরীক্ষাই করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তোমার সাথীদ্বয়ের উপর হয়েছেন অসন্তুষ্ট।
উক্ত হাদীসে প্রথমোক্ত ব্যক্তিদ্বয় আল্লাহ্ তা'আলার অনুগ্রহ অস্বীকার ও তাঁর প্রতি অকৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের কারণে তিনি তাদের উপর অসন্তুষ্ট হন এবং তাঁর দেয়া নিয়ামত তিনি তাদের থেকে ছিনিয়ে নেন। অন্য দিকে অপর জন তাঁর নিয়ামত স্বীকার করেন এবং তাতে তাঁর অধিকার আদায় করেন বিধায় আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর সন্তুষ্ট হন এবং তার সম্পদ আরো বাড়িয়ে দেন। অতএব নিয়ামতের শুকর আদায় করা অপরিহার্য। নিয়ামতের শুকর বলতে বিনয় ও ভালোবাসার সঙ্গে অনুগ্রহকারীর অনুগ্রহ স্বীকার করাকেই বুঝানো হয়।