📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 শরীয়তের কোন বিধান অমান্য করার জন্য যে কোন ধরনের কুটকৌশল অবলম্বন করা

📄 শরীয়তের কোন বিধান অমান্য করার জন্য যে কোন ধরনের কুটকৌশল অবলম্বন করা


শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ কোন বিধান অমান্য করার জন্য যে কোন ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَجَمَّلُوْهَا فَبَاعُوْهَا (বুখারী, হাদীস ৩৪৬০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে অভিসম্পাত করুক। কারণ, তাদের উপর যখন (আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে) চর্বি হারাম করে দেয়া হয়েছে তখন তারা তা গলিয়ে তেল বানিয়ে বিক্রি করেছে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা যখন কারো উপর কোন জিনিস হারাম করেন তখন তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাসূল কে বাইতুল্লাহ্’র রুনে ইয়ামানীর পার্শ্বে বসা অবস্থায় দেখেছিলাম। তিনি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ثَلاثًا ، إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَ أَكَلُوْا أَثْمَانَهَا ، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكُلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৮৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে লা'নত করুক। রাসূল এ কথাটি তিনবার বলেছেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন; অথচ তারা তা বিক্রি করে সে পয়সা ভক্ষণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।
বর্তমান যুগে হারামকে হালাল করার জন্য হরেক রকমের কৌশলই গ্রহণ করা হয়। সুদ খাওয়ার জন্য বর্তমান সমাজে কতো ধরনের পলিসি যে গ্রহণ করা হচ্ছে বা হয়েছে তা আজ কারোরই অজানা নয়। আবার কখনো কখনো হারাম বস্তুর নাম পাল্টিয়ে উহাকে হালাল বানিয়ে নেয়া হয়। আরো কত্তো কী? রাসূল এর বহু পূর্বেই এ ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।
হযরত আবু উমামাহ্ বাহিলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَذْهَبُ اللَّيَالِي وَ الْأَيَّامُ حَتَّى تَشْرَبَ فِيْهَا طَائِفَةُ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ ؛ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ৩৪৪৭)
অর্থাৎ দিনরাত শেষ হবে না তথা কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক মদ পান করবে। তারা মদকে অন্য নামে আখ্যায়িত করবে।
অথচ রাসূল এর বহু পূর্বেই এ জাতীয় সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ ، وَ كُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ (মুসলিম, হাদীস ২০০৩)
অর্থাৎ প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই মদ। আর সকল প্রকারের মদই হারাম। কোন হারাম বস্তুকে হালাল করার জন্য এ জাতীয় কূটকৌশল সত্যিই ভয়ঙ্কর। কারণ, মানুষ তখন কোন লজ্জা বা ভয় ছাড়াই নির্দ্বিধায় এ সকল কাজ করে থাকে এ কথা ভেবে যে, তা তো হালালই এবং তা অতি দ্রুত গতিতেই সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 আল্লাহ্ তা'আলার অবলুপ্তির মাধ্যমে কোন মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করা

📄 আল্লাহ্ তা'আলার অবলুপ্তির মাধ্যমে কোন মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করা


আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তুষ্টির মাধ্যমে কোন মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করা কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
হযরত ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি:
مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَ مَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطَ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ (তিরমিযী, হাদীস ২৪১৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টিই কামনা করে মানুষের ব্যাপারে তার জন্য একমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করে একমাত্র মানুষের সন্তুষ্টিই কামনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে মানুষের হাতে ছেড়ে দেন। তিনি আর তার কোন ধরনের সহযোগিতা করেন না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কারোর নিজের জন্য রাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করা

📄 কারোর নিজের জন্য রাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করা


কারোর নিজের জন্য রাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করাও হারাম এবং কবীরা গুনাহ্।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَ أَخْبَثُهُ وَ أَغْيَظُهُ عَلَيْهِ رَجُلٌ كَانَ يُسَمَّى مَلِكَ الْأَمْلاكِ ، لاَ مَلِكَ إِلَّا اللَّهُ (মুসলিম, হাদীস ২১৪৩ বাগাওয়ী, হাদীস ৩৩৭০)
অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলা সর্ব বেশি রাগান্বিত হবেন সে ব্যক্তির উপর এবং সে তাঁর নিকট সর্বনিকৃষ্টও বটে যাকে একদা রাজাধিরাজ বলে ডাকা হতো। অথচ সত্যিকার রাজা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই।
রাসূল আরো বলেন:
اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى مَنْ زَعَمَ أَنَّهُ مَلِكُ الْأَمْلَاكَ ، لَا مَلِكَ إِلَّا اللَّهُ (আহমাদ্দ ২/৪৯২ ‘হা'কিম ৪/২৭৫ স'হীহল্ জা'মি', হাদীস ৯৮৮)
অর্থাৎ এমন ব্যক্তির উপর আল্লাহ্ তা'আলা অনেক বেশি রাগান্বিত হবেন যে নিজেকে রাজাধিরাজ মনে করে। অথচ সত্যিকার রাজা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলাই।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 যে কথায় আল্লাহ্ তা'আলা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা

📄 যে কথায় আল্লাহ্ তা'আলা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা


যে কথায় আল্লাহ্ তা'আলা অসন্তুষ্ট হবেন এমন কথা বলা হারাম ও কবীরা গুনাহ্।
হযরত বিলাল বিন্ ‘হারিস্ মুযানী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنْ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَة مِنْ رِضْوَانِ الله ، مَا يَظُنَّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ ، فَيَكْتُبُ اللَّهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمٍ يَلْقَاهُ، وَ إِنْ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَة مِنْ سَخَطَ اللَّهِ، مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ، فَيَكْتُبُ اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ (তিরমিযী, হাদীস ২৩১৯ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ৪০৪০ আহমাদ ৩/৪৬৯ হা'কিম ১/৪৪-৪৬ ইন্নু হিব্বান, হাদীস ২৮০ মা'লিক ২/৯৮৫)
অর্থাৎ তোমাদের কেউ কখনো এমন কথা বলে ফেলে যাতে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর খুবই সন্তুষ্ট হন। সে কখনো ভাবতেই পারেনি কথাটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছুবে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত কথার দরুনই কিয়ামত পর্যন্ত তার উপর তাঁর সন্তুষ্টি অবধারিত করে ফেলেন। আবার তোমাদের কেউ কখনো এমন কথাও বলে ফেলে যাতে আল্লাহ্ তা'আলা তার উপর খুবই অসন্তুষ্ট হন। সে কখনো ভাবতেই পারেনি কথাটি এমন এক মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছুবে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা উক্ত কথার দরুনই কিয়ামত পর্যন্ত তার উপর তাঁর অসন্তুষ্টি অবধারিত করে ফেলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00