📄 শরীয়তের সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ ছাড়াই কোন মুসলমানকে কাফির বলা
শরীয়তের সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ ছাড়াই কোন মুসলমানকে কাফির বলা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالْفُسُوقِ ، وَ لَا يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ (বুখারী, হাদীস ৬০৪৫)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি কাউকে ফাসিক বা কাফির বললে তা তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে যদি উক্ত ব্যক্তি এমন শব্দের উপযুক্তই না হয়। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَيُّمَا امْرِئٍ قَالَ لِأَخِيهِ : يَا كَافِرُ ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا ، إِنْ كَانَ كَمَا قَالَ ، وَإِلَّا رَجَعَتْ عَلَيْهِ (মুসলিম, হাদীস ৬০)
অর্থাৎ কেউ নিজ কোন মুসলিম ভাইকে কাফির বললে তা উভয়ের কোন এক জনের উপরই বর্তায়। যদি উক্ত ব্যক্তি সত্যিকারার্থে কাফির হয়ে থাকে তা তো হলোই আর যদি সে সত্যিকারার্থে কাফির নাই হয়ে থাকে তা হলে তা তার উপরই বর্তাবে।
وَ صَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَ عَلَى آلِهِ وَ صَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ
সমাপ্ত
📄 শরীয়তের যে কোন দণ্ডবিধি প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা
শরীয়তের যে কোন দণ্ডবিধি প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। কোন ব্যক্তি কারোর ক্বিসাস্ অথবা দিয়াত বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলা, ফিরিস্তা ও সকল মানুষের অভিশাপ নিপতিত হয়।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ قُتِلَ عَمِّيًّا أَوْ رُمِيًا بِحَجَرٍ أَوْ سَوْطٍ أَوْ عَصًا فَعَقْلُهُ عَقْلُ الْخَطَإِ ، وَ مَنْ قُتِلَ عَمْدًا فَهُوَ قَوَدٌ ، وَ مَنْ حَالَ دُونَهُ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَ الْمَلَائِكَةِ وَ النَّاسِ أَجْمَعِينَ ، لا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَ لَا عَدْلٌ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৫৪০, ৪৫৯১ নাসায়ী: ৮/৩৯ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৬৮৫)
অর্থাৎ যার হত্যাকারীর পরিচয় মিলেনি অথবা যাকে পাথর মেরে কিংবা লাঠি ও বেত্রাঘাতে হত্যা করা হয়েছে তার দিয়াত হচ্ছে ভুলবশত হত্যার দিয়্যাত। তবে যাকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করা হয়েছে তার শাস্তি হবে ক্বিসাস্। যে ব্যক্তি উক্ত ক্বিসাস্ বা দিয়াত বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলা, ফিরিশতা ও সকল মানুষের লা'নত। তার পক্ষ থেকে কোন প্রকার তাওবা অথবা ফিদয়া (ক্ষতিপূরণ) গ্রহণ করা হবে না। অন্য অর্থে, তার পক্ষ থেকে কোন ফরয ও নফল ইবাদাত গ্রহণ করা হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُوْنَ حَدٌ مِنْ حُدُودِ اللَّهُ فَقَدْ ضَادَّ اللَّهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৯৭ আহমাদ, হাদীস ৫৩৮৫ ত্বাবারানী, হাদীস ১৩০৮৪ বায়হাক্বী ৮/৩৩২ ‘হা'কিম ৪/৩৮৩)
অর্থাৎ যার সুপারিশ আল্লাহ্ তা'আলার কোন দণ্ডবিধি প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করলো সে সত্যিই আল্লাহ্ তা'আলার বিরুদ্ধাচরণ করলো।
📄 শরীয়তের কোন বিধান অমান্য করার জন্য যে কোন ধরনের কুটকৌশল অবলম্বন করা
শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ কোন বিধান অমান্য করার জন্য যে কোন ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَجَمَّلُوْهَا فَبَاعُوْهَا (বুখারী, হাদীস ৩৪৬০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে অভিসম্পাত করুক। কারণ, তাদের উপর যখন (আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে) চর্বি হারাম করে দেয়া হয়েছে তখন তারা তা গলিয়ে তেল বানিয়ে বিক্রি করেছে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা যখন কারো উপর কোন জিনিস হারাম করেন তখন তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাসূল কে বাইতুল্লাহ্’র রুনে ইয়ামানীর পার্শ্বে বসা অবস্থায় দেখেছিলাম। তিনি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ثَلاثًا ، إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَ أَكَلُوْا أَثْمَانَهَا ، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكُلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৮৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে লা'নত করুক। রাসূল এ কথাটি তিনবার বলেছেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন; অথচ তারা তা বিক্রি করে সে পয়সা ভক্ষণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।
বর্তমান যুগে হারামকে হালাল করার জন্য হরেক রকমের কৌশলই গ্রহণ করা হয়। সুদ খাওয়ার জন্য বর্তমান সমাজে কতো ধরনের পলিসি যে গ্রহণ করা হচ্ছে বা হয়েছে তা আজ কারোরই অজানা নয়। আবার কখনো কখনো হারাম বস্তুর নাম পাল্টিয়ে উহাকে হালাল বানিয়ে নেয়া হয়। আরো কত্তো কী? রাসূল এর বহু পূর্বেই এ ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।
হযরত আবু উমামাহ্ বাহিলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَذْهَبُ اللَّيَالِي وَ الْأَيَّامُ حَتَّى تَشْرَبَ فِيْهَا طَائِفَةُ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ ؛ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ৩৪৪৭)
অর্থাৎ দিনরাত শেষ হবে না তথা কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক মদ পান করবে। তারা মদকে অন্য নামে আখ্যায়িত করবে।
অথচ রাসূল এর বহু পূর্বেই এ জাতীয় সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ ، وَ كُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ (মুসলিম, হাদীস ২০০৩)
অর্থাৎ প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই মদ। আর সকল প্রকারের মদই হারাম। কোন হারাম বস্তুকে হালাল করার জন্য এ জাতীয় কূটকৌশল সত্যিই ভয়ঙ্কর। কারণ, মানুষ তখন কোন লজ্জা বা ভয় ছাড়াই নির্দ্বিধায় এ সকল কাজ করে থাকে এ কথা ভেবে যে, তা তো হালালই এবং তা অতি দ্রুত গতিতেই সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
📄 আল্লাহ্ তা'আলার অবলুপ্তির মাধ্যমে কোন মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করা
আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তুষ্টির মাধ্যমে কোন মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করা কবীরা গুনাহ্ ও হারাম।
হযরত ‘আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি:
مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ وَ مَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطَ اللَّهِ وَكَلَهُ اللَّهُ إِلَى النَّاسِ (তিরমিযী, হাদীস ২৪১৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টিই কামনা করে মানুষের ব্যাপারে তার জন্য একমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলাকে অসন্তুষ্ট করে একমাত্র মানুষের সন্তুষ্টিই কামনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে মানুষের হাতে ছেড়ে দেন। তিনি আর তার কোন ধরনের সহযোগিতা করেন না।