📄 কবীরা গুনাহ্'র কারণে কোন ক্ষমতাসীনকে কাফির সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা
কবীরা গুনাহ্'র কারণে কোন ক্ষমতাসীনকে কাফির সাব্যস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা আরকটি কবীরা গুনাহ্। এ জাতীয় ব্যক্তিকে আরবীতে খারিজী এবং একের অধিককে খাওয়ারিজ বলা হয়।
রাসূল এ জাতীয় খারিজীদেরকে জাহান্নামের কুকুর এবং আকাশের নিচের সর্বনিকৃষ্ট নিহত বলে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত ইবনু আবী আওফা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْخَوَارِجُ كِلابُ النَّارِ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৭২)
অর্থাৎ খারিজীরা হচ্ছে জাহান্নামের কুকুর।
রাসূল আরো বলেন:
شَرُّ قَتْلَى قُتِلُوا تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ ، وَ خَيْرُ قَتِيْلٍ مَنْ قَتَلُوْا ، كِلَابُ أَهْلِ النَّارِ ، قَدْ كَانُوْا هَؤُلَاءِ مُسْلِمِيْنَ فَصَارُوا كُفَّارًا (তিরমিযী, হাদীস ৩০০০ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ১৭৫)
অর্থাৎ (খারিজীরাই হচ্ছে) আকাশের নিচের সর্বনিকৃষ্ট নিহত ব্যক্তি এবং তারা যাদেরকে হত্যা করবে তারাই হবে সর্বোৎকৃষ্ট নিহত ব্যক্তি। তারা হচ্ছে জাহান্নামীদের কুকুর। তারা ছিলো একদা মুসলমান অতঃপর হলো কাফির। এমনকি রাসূল এ জাতীয় খারিজীদেরকে হত্যা করার ব্যাপারে সাওয়াবও ঘোষণা দিয়েছেন।
হযরত ‘আলী ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
يَأْتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ حُدَثَاءُ الأَسْنَانِ ، سُفَهَاءُ الْأَحْلَامِ ، يَقُوْلُوْنَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ ، يَمْرُقُوْنَ مِنَ الإِسْلَامِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ ، يَقْرَؤُوْنَ الْقُرْآنَ، لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ ، فَأَيْنَمَا لَقِيْتُمُوْهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ ، فَإِنَّ قَتْلَهُمْ أَجْرٌ لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৩৬১১, ৫০৫৭, ৬৯৩০ মুসলিম, হাদীস ১০৬৬ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ১৬৭)
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন এক জাতি আসবে যাদের বয়স হবে কম এবং তারা হবে বোকা। কথা বলবে সর্বশ্রেষ্ঠ কথা। তবে তারা ইসলাম থেকে তেমনিভাবে বের হয়ে যাবে যেমনিভাবে বের হয়ে যায় তীর শিকারের শরীর থেকে। তারা কুর'আন পড়বে ঠিকই। তবে তাদের কুর'আন গলা অতিক্রম করবে না তথা কবুল করা হবে না। তোমরা যেখানেই তাদেরকে পাবে হত্যা করবে। কারণ, তাদেরকে হত্যা করলে কিয়ামতের দিন সাওয়াব পাওয়া যাবে।
ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোন অসদাচরণ দেখলে তা ধৈর্যের সাথে মেনে নিবে। এ জন্য তার আনুগত্য প্রত্যাখ্যান এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيْرِهِ شَيْئًا فَلْيَصْبِرْ ، فَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا مَاتَ مِيْتَةً جاهلية (বুখারী, হাদীস ৭০৫৩ মুসলিম, হাদীস ১৮৪৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজ ক্ষমতাসীনের পক্ষ থেকে কোন অসদাচরণ দেখে সে যেন তা ধৈর্যের সাথে মেনে নেয়। কারণ, যে ব্যক্তি চলমান প্রশাসন থেকে এক বিঘত সমপরিমাণ তথা সামান্যটুকুও বের হয়ে যায় সে জাহিলী যুগের মৃত্যু বরণ করবে। হযরত ‘আউফ বিন্ মালিক থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَلَا مَنْ وَلِيَ عَلَيْهِ وَالِ ، فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهُ مَا يَأْتِي مِنْ معصية الله ، وَ لَا يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَة (মুসলিম, হাদীস ১৮৫৫)
অর্থাৎ জেনে রাখো, কারোর উপর কোন ব্যক্তি ক্ষমতাসীন হলে এবং সে ব্যক্তি কোন গুনাহ্'র কাজ করলে তার সে গুনাহকেই তুমি অপছন্দ করবে তবে তার আনুগত্য একেবারেই প্রত্যাখ্যান করবে না। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাবিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةِ لَقِيَ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، لَا حُجَّةَ لَهُ ، وَ مَنْ مَاتَ وَ لَيْسَ فِي عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيِّتَةً جَاهِلِيَّةً (মুসলিম, হাদীস ১৮৫০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি চলমান কোন প্রশাসনের আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিলো সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তখন এ ব্যাপারে তার কোন কৈফিয়ত শুনা হবে না এবং যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলো যে, তখন সে কোন প্রশাসনের আনুগত্যের দায়বদ্ধতার তোয়াক্কা করেনি তা হলে সে জাহিলী যুগের মৃত্যু বরণ করবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً وَ أُمُوْرًا تُنْكِرُونَهَا ، قَالُوْا: فَمَا تَأْمُرُنَا يَا رَسُولَ اللَّهُ؟ قَالَ: أَدُّوا إِلَيْهِمْ حَقَّهُمْ ، وَ سَلُوْا اللَّهَ حَقَّكُمْ (বুখারী, হাদীস ৭০৫২)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমরা আমার মৃত্যুর পর (ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে) নিজ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং আরো অনেক অসৎ কাজ দেখতে পাবে। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তখন আপনি আমাদেরকে কি করার আদেশ করছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তখন তোমরা তাদের অধিকার তথা আনুগত্য আদায় করবে এবং নিজ অধিকার আল্লাহ্ তা'আলার নিকট চাবে। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোন শরীয়ত বিরোধী কার্য পরিলক্ষিত হলে তা কখনো সমর্থন করা যাবে না। বরং তখন এ ব্যাপারে নিজের অসম্মতি অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে কখনো অস্ত্র ধরা যাবে না যতক্ষণ না তারা নামায পরিত্যাগ করে অথবা তাদের পক্ষ থেকে শরীয়তের নিরেট প্রমাণ ভিত্তিক সুস্পষ্ট কুফরি পাওয়া যায়। হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أَمَرَاءُ ، فَتَعْرِفُوْنَ وَ تُنْكِرُوْنَ ، فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ ، وَ مَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ ، وَ لَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَ تَابَعَ ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَلَا تُقَاتِلُهُمْ؟ قَالَ: لَا ، مَا صَلُّوْا (মুসলিম, হাদীস ১৮৫৪)
অর্থাৎ তোমাদের উপর এমন কতেক ক্ষমতাসীন আসবে যারা কিছু কাজ করবে শরীয়ত সম্মত আর কিছু শরীয়ত বিরোধী। যে ব্যক্তি তা অপছন্দ করবে সে কোনমতে নিষ্কৃতি পাবে আর যে তা মেনে নিতে অস্বীকার করবে সে সুন্দরভাবে নিরাপদ থাকবে আর যে তা সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয় সেই দোষী। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল ! আমরা কি এমন ক্ষমতাসীনদের সথে যুদ্ধ করবো না? রাসূল বললেন: না, যতক্ষণ তারা নামায আদায় করে।
হযরত ‘উবাদাহ্ বিন্ স্বামিত থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
بَايَعَنَا رَسُوْلُ اللَّهِ عَلَى السَّمْعِ وَ الطَّاعَةِ ، فِي مَنْشَطِنَا وَ مَكْرَهِنَا ، وَ عُسْرِنَا وَ يُسْرِنَا وَ أَثَرَةِ عَلَيْنَا ، وَ أَنْ لَا تُنَازِعَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ وَ أَنْ تَقُوْلَ بِالْحَقِّ حَيْثُمَا كُنَّا ، لا تَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لائِمٍ إِلَّا أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِنَ اللَّهِ فِيْهِ بُرْهَانٌ (বুখারী, হাদীস ৭০৫৫, ৭০৫৬, ৭১৯৯, ৭২০০ মুসলিম, হাদীস ১৭০৯)
অর্থাৎ রাসূল আমাদেরকে বাই'আত করেছেন ক্ষমতাসীনদের কথা শুনতে এবং তাদের আনুগত্য করতে। চাই তা আমাদের ভালোই লাগুক বা নাই লাগুক, চাই তা সচ্ছল অবস্থায় হোক বা অসচ্ছল অবস্থায় অথবা আমাদের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করে নিজ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার অবস্থায়ই হোক না কেন এবং আমারা যেন ক্ষমতাসীনদের সাথে ক্ষমতার লড়াই না করি। আমরা যেন সত্য কথা বলি যেখানেই আমরা থাকি না কেন। আমরা যেন আল্লাহ্ তা'আলার ব্যাপারে কোন নিন্দাকারীর নিন্দাকে পরোয়া না করি যতক্ষণ না আমরা তাদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কুফরি দেখতে পাই যে কুফরির ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে সঠিক প্রমাণ রয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السَّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا (বুখারী, হাদীস ৭০৭০ মুসলিম, হাদীস ৯৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে সে আমার উম্মত নয়।
📄 শরীয়তের সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ ছাড়াই কোন মুসলমানকে কাফির বলা
শরীয়তের সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ ছাড়াই কোন মুসলমানকে কাফির বলা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالْفُسُوقِ ، وَ لَا يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ (বুখারী, হাদীস ৬০৪৫)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি কাউকে ফাসিক বা কাফির বললে তা তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে যদি উক্ত ব্যক্তি এমন শব্দের উপযুক্তই না হয়। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَيُّمَا امْرِئٍ قَالَ لِأَخِيهِ : يَا كَافِرُ ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا ، إِنْ كَانَ كَمَا قَالَ ، وَإِلَّا رَجَعَتْ عَلَيْهِ (মুসলিম, হাদীস ৬০)
অর্থাৎ কেউ নিজ কোন মুসলিম ভাইকে কাফির বললে তা উভয়ের কোন এক জনের উপরই বর্তায়। যদি উক্ত ব্যক্তি সত্যিকারার্থে কাফির হয়ে থাকে তা তো হলোই আর যদি সে সত্যিকারার্থে কাফির নাই হয়ে থাকে তা হলে তা তার উপরই বর্তাবে।
وَ صَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَ عَلَى آلِهِ وَ صَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ
সমাপ্ত
📄 শরীয়তের যে কোন দণ্ডবিধি প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা
শরীয়তের যে কোন দণ্ডবিধি প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করা হারাম ও কবীরা গুনাহ্। কোন ব্যক্তি কারোর ক্বিসাস্ অথবা দিয়াত বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করলে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলা, ফিরিস্তা ও সকল মানুষের অভিশাপ নিপতিত হয়।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ قُتِلَ عَمِّيًّا أَوْ رُمِيًا بِحَجَرٍ أَوْ سَوْطٍ أَوْ عَصًا فَعَقْلُهُ عَقْلُ الْخَطَإِ ، وَ مَنْ قُتِلَ عَمْدًا فَهُوَ قَوَدٌ ، وَ مَنْ حَالَ دُونَهُ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَ الْمَلَائِكَةِ وَ النَّاسِ أَجْمَعِينَ ، لا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَ لَا عَدْلٌ (আবু দাউদ, হাদীস ৪৫৪০, ৪৫৯১ নাসায়ী: ৮/৩৯ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ২৬৮৫)
অর্থাৎ যার হত্যাকারীর পরিচয় মিলেনি অথবা যাকে পাথর মেরে কিংবা লাঠি ও বেত্রাঘাতে হত্যা করা হয়েছে তার দিয়াত হচ্ছে ভুলবশত হত্যার দিয়্যাত। তবে যাকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করা হয়েছে তার শাস্তি হবে ক্বিসাস্। যে ব্যক্তি উক্ত ক্বিসাস্ বা দিয়াত বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে তার উপর আল্লাহ্ তা'আলা, ফিরিশতা ও সকল মানুষের লা'নত। তার পক্ষ থেকে কোন প্রকার তাওবা অথবা ফিদয়া (ক্ষতিপূরণ) গ্রহণ করা হবে না। অন্য অর্থে, তার পক্ষ থেকে কোন ফরয ও নফল ইবাদাত গ্রহণ করা হবে না।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ حَالَتْ شَفَاعَتُهُ دُوْنَ حَدٌ مِنْ حُدُودِ اللَّهُ فَقَدْ ضَادَّ اللَّهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৯৭ আহমাদ, হাদীস ৫৩৮৫ ত্বাবারানী, হাদীস ১৩০৮৪ বায়হাক্বী ৮/৩৩২ ‘হা'কিম ৪/৩৮৩)
অর্থাৎ যার সুপারিশ আল্লাহ্ তা'আলার কোন দণ্ডবিধি প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করলো সে সত্যিই আল্লাহ্ তা'আলার বিরুদ্ধাচরণ করলো।
📄 শরীয়তের কোন বিধান অমান্য করার জন্য যে কোন ধরনের কুটকৌশল অবলম্বন করা
শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ কোন বিধান অমান্য করার জন্য যে কোন ধরনের কূটকৌশল অবলম্বন করা আরেকটি কবীরা গুনাহ্ ও হারাম। হযরত ‘উমর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ، حُرِّمَتْ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَجَمَّلُوْهَا فَبَاعُوْهَا (বুখারী, হাদীস ৩৪৬০)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে অভিসম্পাত করুক। কারণ, তাদের উপর যখন (আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে) চর্বি হারাম করে দেয়া হয়েছে তখন তারা তা গলিয়ে তেল বানিয়ে বিক্রি করেছে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা যখন কারো উপর কোন জিনিস হারাম করেন তখন তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাসূল কে বাইতুল্লাহ্’র রুনে ইয়ামানীর পার্শ্বে বসা অবস্থায় দেখেছিলাম। তিনি তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললেন:
لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ ثَلاثًا ، إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُوْمَ فَبَاعُوْهَا وَ أَكَلُوْا أَثْمَانَهَا ، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا حَرَّمَ عَلَى قَوْمٍ أَكُلَ شَيْءٍ حَرَّمَ عَلَيْهِمْ ثَمَنَهُ (আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৮৮)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা ইহুদিদেরকে লা'নত করুক। রাসূল এ কথাটি তিনবার বলেছেন। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা তাদের উপর চর্বি হারাম করে দিয়েছেন; অথচ তারা তা বিক্রি করে সে পয়সা ভক্ষণ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা কোন জাতির উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করলে তার বিক্রিলব্ধ পয়সাও হারাম করে দেন।
বর্তমান যুগে হারামকে হালাল করার জন্য হরেক রকমের কৌশলই গ্রহণ করা হয়। সুদ খাওয়ার জন্য বর্তমান সমাজে কতো ধরনের পলিসি যে গ্রহণ করা হচ্ছে বা হয়েছে তা আজ কারোরই অজানা নয়। আবার কখনো কখনো হারাম বস্তুর নাম পাল্টিয়ে উহাকে হালাল বানিয়ে নেয়া হয়। আরো কত্তো কী? রাসূল এর বহু পূর্বেই এ ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।
হযরত আবু উমামাহ্ বাহিলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تَذْهَبُ اللَّيَالِي وَ الْأَيَّامُ حَتَّى تَشْرَبَ فِيْهَا طَائِفَةُ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ ؛ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ৩৪৪৭)
অর্থাৎ দিনরাত শেষ হবে না তথা কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক মদ পান করবে। তারা মদকে অন্য নামে আখ্যায়িত করবে।
অথচ রাসূল এর বহু পূর্বেই এ জাতীয় সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ ، وَ كُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ (মুসলিম, হাদীস ২০০৩)
অর্থাৎ প্রত্যেক নেশাকর বস্তুই মদ। আর সকল প্রকারের মদই হারাম। কোন হারাম বস্তুকে হালাল করার জন্য এ জাতীয় কূটকৌশল সত্যিই ভয়ঙ্কর। কারণ, মানুষ তখন কোন লজ্জা বা ভয় ছাড়াই নির্দ্বিধায় এ সকল কাজ করে থাকে এ কথা ভেবে যে, তা তো হালালই এবং তা অতি দ্রুত গতিতেই সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।