📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 তাকদীরে অবিশ্বাস

📄 তাকদীরে অবিশ্বাস


তাক্বদীরে অবিশ্বাস করাও একটি কবীরা গুনাহ্ তথা কুফরিও বটে। তাই তো তাক্বদীরে অবিশ্বাসকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জাহান্নামই হবে তার ঠিকানা।
হযরত আবুদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَاقٌ وَ لَا مُدْمِنُ خَمْرٍ وَ لَا مُكَذِّبٌ بِقَدَرٍ (আহমাদ: ৬/৪৪১ সা'হীহাহ, হাদীস ৬৭৫)
অর্থাৎ মাতা-পিতার অবাধ্য, মদ্যপানে অভ্যস্ত এবং তাক্বদীরে অবিশ্বাসী ব্যক্তিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
হযরত উবাই বিন কা'ব, ‘হুযাইফাহ্, আব্দুল্লাহ্ বিন মাস্'উদ ও যায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَوْ أَنَّ اللَّهَ عَذَّبَ أَهْلَ سَمَاوَاتِهِ وَ أَهْلَ أَرْضِهِ لَعَذَّبَهُمْ وَ هُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ ، وَ لَوْ رَحِمَهُمْ لَكَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ ، وَ لَوْ كَانَ لَكَ جَبَلُ أَحُدٍ ذَهَبًا . أَوْ مِثْلُ جَبَلِ أَحُدٍ ذَهَبًا - تُنْفِقُهُ فِي سَبِيْلِ الله مَا قَبْلَهُ مِنْكَ حَتَّى تُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ كُلِّهِ، فَتَعْلَمَ أَنْ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطَتَكَ ، وَ مَا أَحْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ ، وَأَنَّكَ إِنْ مُنَّ عَلَى غَيْرِ هَذَا دَخَلْتَ النَّارَ (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ৭৬ আবু ‘আন্বিম/আস্-সুন্নাহ: ২৪৫)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা যদি ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের সকলকেই শাস্তি দেন তা হলে তিনি তা দিবেন অথচ তিনি তাতে যালিম বলে বিবেচিত হবেন না। আর যদি তিনি সকলকে দয়া করেন তা হলে তাঁর দয়াই হবে তাদের জন্য সর্বোত্তম তাদের আমল চাইতেও। যদি তোমার উ'হুদ পাহাড় বা উ'হুদ পাহাড় সমতুল্য স্বর্ণ থাকে এবং তা তুমি সবই আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় খরচ করে দিলে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমার পক্ষ থেকে তা কখনোই কবুল করবেন না যতক্ষণ না তুমি তাক্বদীরের (ভালো-মন্দ) পুরোটার উপরই দৃঢ় বিশ্বাস আনবে এবং এও বিশ্বাস করবে যে, তোমার ভাগ্যে যা ঘটেছে তা না ঘটে পারতো না এবং যা ঘটেনি তা কখনোই ঘটতো না। তুমি যদি এ বিশ্বাস ছাড়াই ইন্তেকাল করলে তা হলে তুমি জাহান্নামে যাবে।
যারা তাক্বদীরে অবিশ্বাসী তারা রাসূল এর ভাষায় এ উম্মতের অগ্নিপূজক বলে আখ্যায়িত। তারা অসুস্থ হলে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের কুশলাদি জানা যাবে না। মরে গেলে তাদের নামাযে জানাযায় উপস্থিত হওয়া যাবে না এবং কোথাও তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে তাদেরকে সালাম করা যাবে না। হযরত জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ مَجُوسَ هَذِهِ الأُمَّةِ الْمُكَذِّبُوْنَ بِأَقْدَارِ اللهِ ، إِنْ مَرِضُوْا فَلَا تَعُودُوْهُمْ ، وَ إِنْ مَاتُوْا فَلَا تَشْهَدُوْهُمْ ، وَ إِنْ لَقِيْتُمُوْهُمْ فَلَا تُسَلِّمُوا عَلَيْهِمْ (ইব্বু মাজাহ, হাদীস ৯১ ত্বাবারানী/সর্গীর, হাদীস ১২৭ আবু ‘আন্বিম/আস্-সুন্নাহ : ৩২৮)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই তাক্বদীরে অবিশ্বাসীরা এ উম্মতের অগ্নিপূজক। তারা অসুস্থ হলে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের কুশলাদি জানা যাবে না। মরে গেলে তাদের নামাযে জানাযায় উপস্থিত হওয়া যাবে না এবং কোথাও তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে তাদেরকে সালাম করা যাবে না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 সমাজে কোন বিদ'আত বা কুসংস্কার চালু করা

📄 সমাজে কোন বিদ'আত বা কুসংস্কার চালু করা


সমাজে কোন বিদ'আত কিংবা কুসংস্কার চালু করা অথবা এগুলোর দিকে কাউকে আহ্বান করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্।
হযরত জারীর বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةٌ كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَ وِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ (মুসলিম, হাদীস ১০১৭)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন বিদ'আত কিংবা কুসংস্কার চালু করলো সে কুসংস্কারের গুনাহ্ তো তাকে অবশ্যই বহন করতে হবে উপরন্তু যারা তার পরবর্তীতে উক্ত গুনাহ্ করবে তাদের সকলের গুনাহ্ও তাকে বহন করতে হবে অথচ তাদের গুনাহ্ এ কারণে এতটুকুও কম করা হবে না।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثامِهِمْ شَيْئًا (মুসলিম, হাদীস ২৬৭৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কাউকে কোন গুনাহ্ তথা ভ্রষ্টতার দিকে ডাকলো তার ডাকে সাড়া দিয়ে যারা উক্ত গুনাহ্'র কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ গুনাহ্ তার আমলনামায় লেখা হবে অথচ এ কারণে তাদের গুনাহ্ এতটুকুও কম করা হবে না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 কবীরা গুনাহ্'র কারণে কোন ক্ষমতাসীনকে কাফির সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা

📄 কবীরা গুনাহ্'র কারণে কোন ক্ষমতাসীনকে কাফির সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা


কবীরা গুনাহ্'র কারণে কোন ক্ষমতাসীনকে কাফির সাব্যস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা আরকটি কবীরা গুনাহ্। এ জাতীয় ব্যক্তিকে আরবীতে খারিজী এবং একের অধিককে খাওয়ারিজ বলা হয়।
রাসূল এ জাতীয় খারিজীদেরকে জাহান্নামের কুকুর এবং আকাশের নিচের সর্বনিকৃষ্ট নিহত বলে আখ্যায়িত করেছেন। হযরত ইবনু আবী আওফা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْخَوَارِجُ كِلابُ النَّارِ (ইবনু মাজাহ, হাদীস ১৭২)
অর্থাৎ খারিজীরা হচ্ছে জাহান্নামের কুকুর।
রাসূল আরো বলেন:
شَرُّ قَتْلَى قُتِلُوا تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ ، وَ خَيْرُ قَتِيْلٍ مَنْ قَتَلُوْا ، كِلَابُ أَهْلِ النَّارِ ، قَدْ كَانُوْا هَؤُلَاءِ مُسْلِمِيْنَ فَصَارُوا كُفَّارًا (তিরমিযী, হাদীস ৩০০০ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ১৭৫)
অর্থাৎ (খারিজীরাই হচ্ছে) আকাশের নিচের সর্বনিকৃষ্ট নিহত ব্যক্তি এবং তারা যাদেরকে হত্যা করবে তারাই হবে সর্বোৎকৃষ্ট নিহত ব্যক্তি। তারা হচ্ছে জাহান্নামীদের কুকুর। তারা ছিলো একদা মুসলমান অতঃপর হলো কাফির। এমনকি রাসূল এ জাতীয় খারিজীদেরকে হত্যা করার ব্যাপারে সাওয়াবও ঘোষণা দিয়েছেন।
হযরত ‘আলী ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
يَأْتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ حُدَثَاءُ الأَسْنَانِ ، سُفَهَاءُ الْأَحْلَامِ ، يَقُوْلُوْنَ مِنْ خَيْرِ قَوْلِ الْبَرِيَّةِ ، يَمْرُقُوْنَ مِنَ الإِسْلَامِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ ، يَقْرَؤُوْنَ الْقُرْآنَ، لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ ، فَأَيْنَمَا لَقِيْتُمُوْهُمْ فَاقْتُلُوهُمْ ، فَإِنَّ قَتْلَهُمْ أَجْرٌ لِمَنْ قَتَلَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (বুখারী, হাদীস ৩৬১১, ৫০৫৭, ৬৯৩০ মুসলিম, হাদীস ১০৬৬ ইব্বু মাজাহ, হাদীস ১৬৭)
অর্থাৎ শেষ যুগে এমন এক জাতি আসবে যাদের বয়স হবে কম এবং তারা হবে বোকা। কথা বলবে সর্বশ্রেষ্ঠ কথা। তবে তারা ইসলাম থেকে তেমনিভাবে বের হয়ে যাবে যেমনিভাবে বের হয়ে যায় তীর শিকারের শরীর থেকে। তারা কুর'আন পড়বে ঠিকই। তবে তাদের কুর'আন গলা অতিক্রম করবে না তথা কবুল করা হবে না। তোমরা যেখানেই তাদেরকে পাবে হত্যা করবে। কারণ, তাদেরকে হত্যা করলে কিয়ামতের দিন সাওয়াব পাওয়া যাবে।
ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোন অসদাচরণ দেখলে তা ধৈর্যের সাথে মেনে নিবে। এ জন্য তার আনুগত্য প্রত্যাখ্যান এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা যাবে না। হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيْرِهِ شَيْئًا فَلْيَصْبِرْ ، فَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا مَاتَ مِيْتَةً جاهلية (বুখারী, হাদীস ৭০৫৩ মুসলিম, হাদীস ১৮৪৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিজ ক্ষমতাসীনের পক্ষ থেকে কোন অসদাচরণ দেখে সে যেন তা ধৈর্যের সাথে মেনে নেয়। কারণ, যে ব্যক্তি চলমান প্রশাসন থেকে এক বিঘত সমপরিমাণ তথা সামান্যটুকুও বের হয়ে যায় সে জাহিলী যুগের মৃত্যু বরণ করবে। হযরত ‘আউফ বিন্ মালিক থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَلَا مَنْ وَلِيَ عَلَيْهِ وَالِ ، فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهُ مَا يَأْتِي مِنْ معصية الله ، وَ لَا يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَة (মুসলিম, হাদীস ১৮৫৫)
অর্থাৎ জেনে রাখো, কারোর উপর কোন ব্যক্তি ক্ষমতাসীন হলে এবং সে ব্যক্তি কোন গুনাহ্'র কাজ করলে তার সে গুনাহকেই তুমি অপছন্দ করবে তবে তার আনুগত্য একেবারেই প্রত্যাখ্যান করবে না। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাবিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةِ لَقِيَ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، لَا حُجَّةَ لَهُ ، وَ مَنْ مَاتَ وَ لَيْسَ فِي عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيِّتَةً جَاهِلِيَّةً (মুসলিম, হাদীস ১৮৫০)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি চলমান কোন প্রশাসনের আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিলো সে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা'আলার সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, তখন এ ব্যাপারে তার কোন কৈফিয়ত শুনা হবে না এবং যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলো যে, তখন সে কোন প্রশাসনের আনুগত্যের দায়বদ্ধতার তোয়াক্কা করেনি তা হলে সে জাহিলী যুগের মৃত্যু বরণ করবে। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً وَ أُمُوْرًا تُنْكِرُونَهَا ، قَالُوْا: فَمَا تَأْمُرُنَا يَا رَسُولَ اللَّهُ؟ قَالَ: أَدُّوا إِلَيْهِمْ حَقَّهُمْ ، وَ سَلُوْا اللَّهَ حَقَّكُمْ (বুখারী, হাদীস ৭০৫২)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমরা আমার মৃত্যুর পর (ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে) নিজ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং আরো অনেক অসৎ কাজ দেখতে পাবে। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তখন আপনি আমাদেরকে কি করার আদেশ করছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তখন তোমরা তাদের অধিকার তথা আনুগত্য আদায় করবে এবং নিজ অধিকার আল্লাহ্ তা'আলার নিকট চাবে। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোন শরীয়ত বিরোধী কার্য পরিলক্ষিত হলে তা কখনো সমর্থন করা যাবে না। বরং তখন এ ব্যাপারে নিজের অসম্মতি অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে কখনো অস্ত্র ধরা যাবে না যতক্ষণ না তারা নামায পরিত্যাগ করে অথবা তাদের পক্ষ থেকে শরীয়তের নিরেট প্রমাণ ভিত্তিক সুস্পষ্ট কুফরি পাওয়া যায়। হযরত উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِنَّهُ يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أَمَرَاءُ ، فَتَعْرِفُوْنَ وَ تُنْكِرُوْنَ ، فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ ، وَ مَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ ، وَ لَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَ تَابَعَ ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَلَا تُقَاتِلُهُمْ؟ قَالَ: لَا ، مَا صَلُّوْا (মুসলিম, হাদীস ১৮৫৪)
অর্থাৎ তোমাদের উপর এমন কতেক ক্ষমতাসীন আসবে যারা কিছু কাজ করবে শরীয়ত সম্মত আর কিছু শরীয়ত বিরোধী। যে ব্যক্তি তা অপছন্দ করবে সে কোনমতে নিষ্কৃতি পাবে আর যে তা মেনে নিতে অস্বীকার করবে সে সুন্দরভাবে নিরাপদ থাকবে আর যে তা সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয় সেই দোষী। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল ! আমরা কি এমন ক্ষমতাসীনদের সথে যুদ্ধ করবো না? রাসূল বললেন: না, যতক্ষণ তারা নামায আদায় করে।
হযরত ‘উবাদাহ্ বিন্ স্বামিত থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
بَايَعَنَا رَسُوْلُ اللَّهِ عَلَى السَّمْعِ وَ الطَّاعَةِ ، فِي مَنْشَطِنَا وَ مَكْرَهِنَا ، وَ عُسْرِنَا وَ يُسْرِنَا وَ أَثَرَةِ عَلَيْنَا ، وَ أَنْ لَا تُنَازِعَ الْأَمْرَ أَهْلَهُ وَ أَنْ تَقُوْلَ بِالْحَقِّ حَيْثُمَا كُنَّا ، لا تَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لائِمٍ إِلَّا أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِنَ اللَّهِ فِيْهِ بُرْهَانٌ (বুখারী, হাদীস ৭০৫৫, ৭০৫৬, ৭১৯৯, ৭২০০ মুসলিম, হাদীস ১৭০৯)
অর্থাৎ রাসূল আমাদেরকে বাই'আত করেছেন ক্ষমতাসীনদের কথা শুনতে এবং তাদের আনুগত্য করতে। চাই তা আমাদের ভালোই লাগুক বা নাই লাগুক, চাই তা সচ্ছল অবস্থায় হোক বা অসচ্ছল অবস্থায় অথবা আমাদের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করে নিজ স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার অবস্থায়ই হোক না কেন এবং আমারা যেন ক্ষমতাসীনদের সাথে ক্ষমতার লড়াই না করি। আমরা যেন সত্য কথা বলি যেখানেই আমরা থাকি না কেন। আমরা যেন আল্লাহ্ তা'আলার ব্যাপারে কোন নিন্দাকারীর নিন্দাকে পরোয়া না করি যতক্ষণ না আমরা তাদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কুফরি দেখতে পাই যে কুফরির ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে সঠিক প্রমাণ রয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السَّلَاحَ فَلَيْسَ مِنَّا (বুখারী, হাদীস ৭০৭০ মুসলিম, হাদীস ৯৮)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে সে আমার উম্মত নয়।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 শরীয়তের সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ ছাড়াই কোন মুসলমানকে কাফির বলা

📄 শরীয়তের সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ ছাড়াই কোন মুসলমানকে কাফির বলা


শরীয়তের সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ ছাড়াই কোন মুসলমানকে কাফির বলা আরেকটি কবীরা গুনাহ্। হযরত আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالْفُسُوقِ ، وَ لَا يَرْمِيهِ بِالْكُفْرِ إِلَّا ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ (বুখারী, হাদীস ৬০৪৫)
অর্থাৎ কোন ব্যক্তি কাউকে ফাসিক বা কাফির বললে তা তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে যদি উক্ত ব্যক্তি এমন শব্দের উপযুক্তই না হয়। হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَيُّمَا امْرِئٍ قَالَ لِأَخِيهِ : يَا كَافِرُ ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا ، إِنْ كَانَ كَمَا قَالَ ، وَإِلَّا رَجَعَتْ عَلَيْهِ (মুসলিম, হাদীস ৬০)
অর্থাৎ কেউ নিজ কোন মুসলিম ভাইকে কাফির বললে তা উভয়ের কোন এক জনের উপরই বর্তায়। যদি উক্ত ব্যক্তি সত্যিকারার্থে কাফির হয়ে থাকে তা তো হলোই আর যদি সে সত্যিকারার্থে কাফির নাই হয়ে থাকে তা হলে তা তার উপরই বর্তাবে।
وَ صَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَ عَلَى آلِهِ وَ صَحْبِهِ أَجْمَعِيْنَ
সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00