📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 যাদু

📄 যাদু


যাদু শিক্ষা দেয়া বা শিক্ষা নেয়া শুধু কবীরা গুনাহ্ই নয়। বরং তা শির্ক এবং কুফ্র ও বটে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَ لَكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُوْنَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أَنْزَلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوْتَ وَمَارُوْتَ وَ مَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُوْلَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ) (সূরা বাকারাহ: ১০২)
অর্থাৎ সুলাইমান কুফরি করেননি, তবে শয়তানরাই কুফরি করেছে, তারা লোকদেরকে যাদু শেখাতো বাবেল শহরে বিশেষ করে হারূত-মারূত ব্যক্তিদ্বয়কে। (জিব্রীল ও মীকাঈল) ফিরিস্তাদ্বয়ের উপর কোন যাদু অবতীর্ণ করা হয়নি (যা ইহুদিরা ধারণা করতো)। তবে উক্ত ব্যক্তিদ্বয় কাউকে যাদু শিক্ষা দিতো না যতক্ষণ না তারা বলতো, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ মাত্র, অতএব তোমরা (যাদু শিখে) কুফরী করো না।
যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে, কারো ব্যাপারে তা সত্যিকারভাবে প্রমাণিত হয়ে গেলে তাকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করা। এ ব্যাপারে সাহাবাদের ঐকমত্য রয়েছে।
হযরত জুনদুব থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
حَدُّ السَّاحِرِ ضَرْبَةٌ بِالسَّيْفِ (তিরমিযী, হাদীস ১৪৬০)
অর্থাৎ যাদুকরের শাস্তি হচ্ছে তলোয়ারের কোপ তথা শিরশ্ছেদ।
হযরত জুনদুব শুধু এ কথা বলেই ক্ষান্ত হননি। বরং তিনি তা বাস্তবে কার্যকরী করেও দেখিয়েছেন।
হযরত আবু ‘উসমান নাহদী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
كَانَ عِنْدَ الْوَلِيدِ رَجُلٌ يَلْعَبُ ، فَذَبَحَ إِنْسَاناً وَ أَبَانَ رَأْسَهُ ، فَعَجِبْنَا فَأَعَادَ رَأْسَهُ، فَجَاءَ جُنْدُبُ الْأَزْدِي فَقَتَلَهُ (বুখারী/ আন্তা'রীখুল্ কাবীর: ২/২২২ বায়হাক্বী: ৮/১৩৬)
অর্থাৎ ইরাকে ওয়ালীদ্ বিন্ ‘উক্ববার সম্মুখে জনৈক ব্যক্তি খেলা দেখাচ্ছিলো। সে জনৈক ব্যক্তির মাথা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললো। এতে আমরা খুব বিস্মিত হলে লোকটি কর্তিত মাথা খানি যথাস্থানে ফিরিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে হযরত জুনদুব এসে তাকে হত্যা করেন।
তেমনিভাবে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ‘হাস্সা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ও নিজ ক্রীতদাসীকে জাদুকরী প্রমাণিত হওয়ার পর হত্যা করেন।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
- سَحَرَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - جَارِيَةٌ لَهَا ، فَأَقَرَّتْ بِالسِّحْرِ وَأَخْرَجَتْهُ، فَقَتَلَتْهَا، فَبَلَغَ ذَلِكَ عُثْمَانُ الله فَغَضِبَ ، فَأَتَاهُ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - فَقَالَ: جَارِيَتُهَا سَحَرَتْهَا ، أَقَرَّتْ بِالسِّحْرِ وَ أَخْرَجَتْهُ ، قَالَ: فَكَفَّ عُثْمَانُ له قَالَ الرَّاوِيُّ: وَ كَأَنَّهُ إِنَّمَا كَانَ غَضَبُهُ لِقَتْلِهَا إِيَّاهَا بِغَيْرِ أَمْرِهِ (‘আব্দুর রায্যাক, হাদীস ১৮৭৪৭ বায়হাক্বী: ৮/১৩৬)
অর্থাৎ হযরত ‘হাফসা বিন্ত ‘উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে তাঁর এক ক্রীতদাসী যাদু করে। এমনকি সে ব্যাপারটির স্বীকারোক্তিও করে এবং যাদুর বস্তুটি উঠিয়ে ফেলে দেয়। এতদ্ কারণে হযরত ‘হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ক্রীতদাসীটিকে হত্যা করেন। সংবাদটি হযরত ‘উসমান এর নিকট পৌঁছলে তিনি খুব রাগান্বিত হন। অতঃপর হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘উমর তাঁকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বললে তিনি এ ব্যাপারে চুপ হয়ে যান তথা তাঁর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বর্ণনাকারী বলেন: হযরত ‘উসমান এর অনুমতি না নিয়ে ক্রীতদাসীটিকে হত্যা করার কারণেই তিনি এতো রাগান্বিত হন।
অনুরূপভাবে হযরত ‘উমর ও তাঁর খিলাফতকালে সকল যাদুকর পুরুষ ও মহিলাকে হত্যা করার আদেশ জারি করেন।
হযরত বাজালা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ اللهِ أَنِ اقْتُلُوْا كُلَّ سَاحِرٍ وَ سَاحِرَةٍ ، قَالَ الرَّاوِي: فَقَتَلْنَا ثَلَاثَ سَوَاحِرَ (আবু দাউদ, হাদীস ৩০৪৩ বায়হাকী : ৮/১৩৬ ইব্বু আবী শাইবাহ, হাদীস ২৮৯৮২, ৩২৬৫২ আব্দুর রায্যাক, হাদীস ৯৯৭২ আহমাদ, হাদীস ১৬৫৭ আবু ইয়া'লা, হাদীস ৮৬০, ৮৬১)
অর্থাৎ হযরত ‘উমর নিজ খিলাফতকালে এ আদেশ জারি করে চিঠি পাঠান যে, তোমরা সকল যাদুকর পুরুষ ও মহিলাকে হত্যা করো। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা তিনজন মহিলা যাদুকরকে হত্যা করি।
হযরত ‘উমর এর খিলাফতকালে উক্ত আদেশের ব্যাপারে কেউ কোন বিরোধিতা দেখাননি বিধায় উক্ত ব্যাপারে সবার ঐকমত্য রয়েছে বলে প্রমাণিত হলো।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 আল্লাহ্‌ তা‘আলা ও তদীয় রাসূল ﷺ এর উপর মিথ্যারোপ করা

📄 আল্লাহ্‌ তা‘আলা ও তদীয় রাসূল ﷺ এর উপর মিথ্যারোপ করা


আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর উপর মিথ্যারোপ করা একটি মারাত্মক অপরাধ। তম্মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ করা সর্বোচ্চ অপরাধ। চাই তা জেনে হোক অথবা না জেনে। চাই তা তাঁর নাম, কাম বা গুণাবলীতে হোক অথবা তাঁর শরীয়তে। আল্লাহ্ তা'আলাকে এমন গুণে গুণান্বিত করা যে গুণ না তিনি নিজে তাঁর জন্য চয়ন করেছেন না তাঁর রাসূল সে সম্পর্কে কাউকে সংবাদ দিয়েছেন। বরং তা আল্লাহ্ তা'আলা ও তদীয় রাসূল এর বর্ণনার বিপরীত। এর অবস্থান শিকের পরপরই। আবার কখনো কখনো তা শির্ক চাইতেও মারাত্মক রূপ ধারণ করে যখন তা জেনে শুনে হয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ ، إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ) (আন'আম : ১৪৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি না জেনেশুনে আল্লাহ্ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ করে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা যালিমদেরকে কখনো সুপথ দেখান না।
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
وَ مَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللهِ كَذِبًا ، أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ ، إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُوْنَ ) (আন'আম : ২১)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ করে এবং তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা মনে করে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? বস্তুত যালিমরা কখনো সফলকাম হতে পারে না।
তিনি আরো বলেন:
وَ مَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوْحِيَ إِلَيَّ وَ لَمْ يُوْحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ ، وَ مَنْ قَالَ سَأُنْزِلُ مِثْلَ مَا أَنْزَلَ اللهُ ، وَ لَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُوْنَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَ الْمَلَائِكَةُ بَاسِطُوا أَيْدِيهِمْ ، أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمْ ، الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُوْنِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُوْلُوْنَ عَلَى اللهِ غَيْرَ الْحَقِّ ، وَ كُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُوْنَ ) (আন'আম : ৯৩)
অর্থাৎ ওব্যক্তি অপেক্ষা অধিক অত্যাচারী আর কে হতে পারে? যে আল্লাহ্ তা'আলার প্রতি মিথ্যারোপ করে অথবা বলে: আমার নিকট ওহী পাঠানো হয় অথচ তার নিকট কোন ওহী পাঠানো হয়নি। আরো বলে: আল্লাহ্ তা'আলা যেরূপ (তাঁর আয়াতসমূহ) অবতীর্ণ করেন আমিও সেরূপ অবতীর্ণ করি। আর যদি তুমি দেখতে পেতে সে মৃত্যু সময়কার কঠিন অবস্থা যার সম্মুখীন হচ্ছে যালিমরা তখন সত্যিই ভয়ানক অবস্থাই দেখতে পেতে। তখন ফিরিস্তারা তাদের প্রতি হাত বাড়িয়ে বলবে: তোমাদের জীবনপ্রাণ বের করে দাও। আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেয়া হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার উপর অবৈধভাবে মিথ্যারোপ করতে এবং অহঙ্কার করে তাঁর আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করতে।
তিনি আরো বলেন:
وَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَرَى الَّذِيْنَ كَذَبُوا عَلَى اللهِ وُجُوهُهُمْ مُسْوَدَّةٌ ، أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْمُتَكَبِّرِينَ ) (যুমার: ৬০)
অর্থাৎ যারা আল্লাহ্ তা'আলার উপর মিথ্যারোপ করে আপনি কিয়ামতের দিন তাদের চেহারা কালো দেখবেন। উদ্ধতদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়? যে মুর্শিক আল্লাহ্ তা'আলার সাথে অন্যকে শরীক করে অথচ সে আল্লাহ্ তা'আলার সকল গুণাবলী বাস্তবে যথার্থভাবে বিশ্বাস করে সে ব্যক্তি তুলনামূলকভাবে ওব্যক্তি অপেক্ষা অনেক ভালো যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করে না অথচ সে আল্লাহ্ তা'আলার সমূহ গুণাবলীতে যথার্থ বিশ্বাসী নয়।
যেমন: কোন ব্যক্তি কারো রাষ্ট্রক্ষমতা ও তসংক্রান্ত সকল গুণাবলীতে বিশ্বাসী অথচ সে কোন কোন কাজে তার অংশীদারকেও বিশ্বাস করে এমন ব্যক্তি ওব্যক্তি অপেক্ষা অনেক ভালো যে উক্ত ব্যক্তির অংশীদার সাব্যস্ত করে না এবং তার রাষ্ট্রক্ষমতা ও তত্সংক্রান্ত গুণাবলীতেও বিশ্বাসী নয়।
হযরত আবু হুরাইরাহ্, মুগীরাহ্ ও হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আমর বিন্ ‘আস্ এবং হযরত আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাসউদ থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّداً فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ (বুখারী, হাদীস ১১০, ১২৯১, ৩৪৬১, ৬১৯৭ মুসলিম, হাদীস ৩, ৪ তিরমিযী, হাদীস ২৬৫৯)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি জেনেশুনে আমার উপর মিথ্যারোপ করলো সে যেন নিজের বাসস্থান জাহান্নামে বানিয়ে নিলো।
হযরত ‘আলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ ، فَإِنَّهُ مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَلِجِ النَّارَ (বুখারী, হাদীস ১০৬ মুসলিম, হাদীস ১)
অর্থাৎ তোমরা কখনো আমার উপর মিথ্যারোপ করো না। কারণ, যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যারোপ করলো সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। জেনেশুনে ভুল হাদীস বর্ণনাকারীও মিথ্যুকদের অন্তর্গত।
হযরত মুগীরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
مَنْ حَدَّثَ عَنِّي حَدِيثًا ؛ وَ هُوَ يَرَى أَنَّهُ كَذِبٌ ، فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبَيْنَ (তিরমিযী, হাদীস ২৬৬২)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কোন হাদীস বর্ণনা করলো অথচ সে জানে যে, তা আমার কথা নয় বরং তা ডাহা মিথ্যা তা হলে সে মিথ্যুকদেরই একজন।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 তাকদীরে অবিশ্বাস

📄 তাকদীরে অবিশ্বাস


তাক্বদীরে অবিশ্বাস করাও একটি কবীরা গুনাহ্ তথা কুফরিও বটে। তাই তো তাক্বদীরে অবিশ্বাসকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জাহান্নামই হবে তার ঠিকানা।
হযরত আবুদ্দারদা' থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَاقٌ وَ لَا مُدْمِنُ خَمْرٍ وَ لَا مُكَذِّبٌ بِقَدَرٍ (আহমাদ: ৬/৪৪১ সা'হীহাহ, হাদীস ৬৭৫)
অর্থাৎ মাতা-পিতার অবাধ্য, মদ্যপানে অভ্যস্ত এবং তাক্বদীরে অবিশ্বাসী ব্যক্তিরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
হযরত উবাই বিন কা'ব, ‘হুযাইফাহ্, আব্দুল্লাহ্ বিন মাস্'উদ ও যায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَوْ أَنَّ اللَّهَ عَذَّبَ أَهْلَ سَمَاوَاتِهِ وَ أَهْلَ أَرْضِهِ لَعَذَّبَهُمْ وَ هُوَ غَيْرُ ظَالِمٍ لَهُمْ ، وَ لَوْ رَحِمَهُمْ لَكَانَتْ رَحْمَتُهُ خَيْرًا لَهُمْ مِنْ أَعْمَالِهِمْ ، وَ لَوْ كَانَ لَكَ جَبَلُ أَحُدٍ ذَهَبًا . أَوْ مِثْلُ جَبَلِ أَحُدٍ ذَهَبًا - تُنْفِقُهُ فِي سَبِيْلِ الله مَا قَبْلَهُ مِنْكَ حَتَّى تُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ كُلِّهِ، فَتَعْلَمَ أَنْ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطَتَكَ ، وَ مَا أَحْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ ، وَأَنَّكَ إِنْ مُنَّ عَلَى غَيْرِ هَذَا دَخَلْتَ النَّارَ (ইন্নু মাজাহ, হাদীস ৭৬ আবু ‘আন্বিম/আস্-সুন্নাহ: ২৪৫)
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা যদি ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের সকলকেই শাস্তি দেন তা হলে তিনি তা দিবেন অথচ তিনি তাতে যালিম বলে বিবেচিত হবেন না। আর যদি তিনি সকলকে দয়া করেন তা হলে তাঁর দয়াই হবে তাদের জন্য সর্বোত্তম তাদের আমল চাইতেও। যদি তোমার উ'হুদ পাহাড় বা উ'হুদ পাহাড় সমতুল্য স্বর্ণ থাকে এবং তা তুমি সবই আল্লাহ্ তা'আলার রাস্তায় খরচ করে দিলে তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমার পক্ষ থেকে তা কখনোই কবুল করবেন না যতক্ষণ না তুমি তাক্বদীরের (ভালো-মন্দ) পুরোটার উপরই দৃঢ় বিশ্বাস আনবে এবং এও বিশ্বাস করবে যে, তোমার ভাগ্যে যা ঘটেছে তা না ঘটে পারতো না এবং যা ঘটেনি তা কখনোই ঘটতো না। তুমি যদি এ বিশ্বাস ছাড়াই ইন্তেকাল করলে তা হলে তুমি জাহান্নামে যাবে।
যারা তাক্বদীরে অবিশ্বাসী তারা রাসূল এর ভাষায় এ উম্মতের অগ্নিপূজক বলে আখ্যায়িত। তারা অসুস্থ হলে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের কুশলাদি জানা যাবে না। মরে গেলে তাদের নামাযে জানাযায় উপস্থিত হওয়া যাবে না এবং কোথাও তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে তাদেরকে সালাম করা যাবে না। হযরত জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ مَجُوسَ هَذِهِ الأُمَّةِ الْمُكَذِّبُوْنَ بِأَقْدَارِ اللهِ ، إِنْ مَرِضُوْا فَلَا تَعُودُوْهُمْ ، وَ إِنْ مَاتُوْا فَلَا تَشْهَدُوْهُمْ ، وَ إِنْ لَقِيْتُمُوْهُمْ فَلَا تُسَلِّمُوا عَلَيْهِمْ (ইব্বু মাজাহ, হাদীস ৯১ ত্বাবারানী/সর্গীর, হাদীস ১২৭ আবু ‘আন্বিম/আস্-সুন্নাহ : ৩২৮)
অর্থাৎ নিশ্চয়ই তাক্বদীরে অবিশ্বাসীরা এ উম্মতের অগ্নিপূজক। তারা অসুস্থ হলে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের কুশলাদি জানা যাবে না। মরে গেলে তাদের নামাযে জানাযায় উপস্থিত হওয়া যাবে না এবং কোথাও তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে তাদেরকে সালাম করা যাবে না।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 সমাজে কোন বিদ'আত বা কুসংস্কার চালু করা

📄 সমাজে কোন বিদ'আত বা কুসংস্কার চালু করা


সমাজে কোন বিদ'আত কিংবা কুসংস্কার চালু করা অথবা এগুলোর দিকে কাউকে আহ্বান করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্।
হযরত জারীর বিন্ ‘আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةٌ كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَ وِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ (মুসলিম, হাদীস ১০১৭)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন বিদ'আত কিংবা কুসংস্কার চালু করলো সে কুসংস্কারের গুনাহ্ তো তাকে অবশ্যই বহন করতে হবে উপরন্তু যারা তার পরবর্তীতে উক্ত গুনাহ্ করবে তাদের সকলের গুনাহ্ও তাকে বহন করতে হবে অথচ তাদের গুনাহ্ এ কারণে এতটুকুও কম করা হবে না।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثامِهِمْ شَيْئًا (মুসলিম, হাদীস ২৬৭৪)
অর্থাৎ যে ব্যক্তি কাউকে কোন গুনাহ্ তথা ভ্রষ্টতার দিকে ডাকলো তার ডাকে সাড়া দিয়ে যারা উক্ত গুনাহ্'র কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ গুনাহ্ তার আমলনামায় লেখা হবে অথচ এ কারণে তাদের গুনাহ্ এতটুকুও কম করা হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00