📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ছোট শিরক

📄 ছোট শিরক


ছোট শির্ক বলতে এমন কাজ ও কথাকে বুঝানো হয় যা তাতে লিপ্ত ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডী থেকে সম্পূর্ণরূপে বের করে দিবে না বটে। তবে তা কবীরা গুনাহ্ তথা মহা পাপ অপেক্ষা আরো জঘন্যতম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَلَا تَجْعَلُوْا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَّ أَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ ) (বাক্বারাহ: ২২)
অর্থাৎ সুতরাং তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার সাথে কাউকে শরীক করো না। অথচ তোমরা এ সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছো।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আব্বাস্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন:
الْأَنْدَادُ هُوَ الشَّرْكُ أَخْفَى مِنْ دَبَيْبِ النَّمْلِ عَلَى صَفَاةِ سَوْدَاءَ فِي ظُلْمَةِ اللَّيْلِ ، ا فُلانَةَ وَ حَيَاتِي ، وَ تَقُوْلُ: لَوْلَا كَلْبَةً هَذِهِ و الله وَ حَيَاتِكَ يَا فَلانَة وَ وَهُوَ أَنْ تَقُوْلَ: وَ الله وَ - لأَتَانَا اللَّصُوصُ ، وَ لَوْلاَ الْبَطُ فِي الدَّارِ لأَتَى اللَّصُوصُ ، وَ قَوْلُ الرَّجُل لصاحبه: مَا شَاءَ اللهُ وَ شِئْتَ ، وَ قَوْلُ الرَّجُلِ : لَوْلاَ اللهُ وَ فُلَانٌ ، لَا تَجْعَلْ فِيْهَا فُلاناً ، هَذَا كُلُّهُ بِهِ شَرْكٌ
অর্থাৎ "আন্ন্দাদ্‌” বলতে এমন শিককে বুঝানো হচ্ছে যা অন্ধকার রাতে কালো পাথরে পিঁপড়ার চলন চাইতেও সূক্ষ্ম। যা টের পাওয়া খুবই দুরূহ। যেমন: তোমার এ কথা বলা যে, হে অমুক! আল্লাহ্ তা'আলা এবং তোমার ও আমার জীবনের কসম! অথবা এ কথা বলা যে, যদি এ কুকুরটা না হতো তা হলে (আজ রাত) চোর অবশ্যই আসতো। যদি ঘরে হাঁসগুলো না থাকতো তা হলে (আজ রাত) চোর অবশ্যই ঢুকতো অথবা কারোর নিজ সাথীকে এ কথা বলা যে, আল্লাহ্ তা'আলা এবং তুমি না চাইলে কাজটা হতো না অথবা কারোর এ কথা বলা যে, আল্লাহ্ তা'আলা এবং অমুক না থাকলে কাজটা হতো না। অমুক শব্দটি সাথে লাগাবে না। (বরং বলবে: আল্লাহ্ তা'আলা যদি না চাইতেন কাজটা হতো না)। কারণ, এ সব কথা শিকের অন্তর্গত। ছোট শিকগুলো সংক্ষিপ্তাকারে নিম্নরূপ:
১. কোন বিপদাপদ থেকে বাঁচার জন্য সুতা বা রিং পরার শির্ক।
২. শিক মিশ্রিত মন্ত্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের শিক।
৩. তাবিজ-কবচের শিক।
৪. শরীয়ত অসম্মত বস্তু বা ব্যক্তি কর্তৃক বরকত গ্রহণের শির্ক।
৫. যাদুর শিক্।
৬. ভাগ্য গণনার শিক্।
৭. জ্যোতিষীর শিক্।
৮. চন্দ্র বা অন্য কোন গ্রহের অবস্থানক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি হয় এমন মনে করার শিক।
৯. আল্লাহ্ তা'আলার যে কোন নিয়ামত অস্বীকার করার শির্ক।
১০. কোন প্রাণীর বিশেষ কোন আচরণে অমঙ্গলের আশংকা রয়েছে এমন মনে করার শিক।
১১. শরীয়ত অসম্মত কোন বস্তু বা ব্যক্তির ওয়াসীলা ধরার শিক্।
১২. নামায ত্যাগের শিক।
১৩. আল্লাহ্ তা'আলা এবং তুমি না চাইলে কাজটা হতো না এমন বলার শির্ক।
১৪. আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর নামে কসম খাওয়ার শির্ক।
১৫. যুগ বা বাতাসকে গালি দেয়ার শির্ক।
১৬. কোন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর "যদি এমন করতাম তা হলে এমন হতো না" বলার শিক।
১৭. কোন নেক আমল দুনিয়া কামানোর নিয়‍্যাতে করার শিক।
১৮. কোন নেক আমল আল্লাহ্ ভিন্ন অন্য কারোর সন্তুষ্টির জন্য করার শিক।
১৯. কোন নেক আমল কাউকে দেখানো বা শুনানোর জন্য করার শিক।

📘 হারাম ও কবীরা গুনাহ > 📄 ছোট শিরক ও বড় শিরকের মধ্যে পার্থক্য

📄 ছোট শিরক ও বড় শিরকের মধ্যে পার্থক্য


ছোট শির্ক ও বড় শিরকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পার্থক্য রয়েছে যা নিম্নরূপ:
১. বড় শির্ক তাতে লিপ্ত ব্যক্তিকে ইসলামের গণ্ডী থেকেই সম্পূর্ণরূপে বের করে দেয়। ঠিক এরই বিপরীতে ছোট শিক এমন নয় বটে। তবে তা কবীরা গুনাহ্ তথা মহা পাপ অপেক্ষা আরো জঘন্যতম।
২. বড় শির্ক তাতে লিপ্ত ব্যক্তির সকল নেক আমলকে বিনষ্ট করে দেয়। ঠিক এরই বিপরীতে ছোট শির্ক শুধু সে আমলকেই বিনষ্ট করে যে আমলে এ জাতীয় শিকের সংমিশ্রণ রয়েছে। অন্য আমলকে নয়।
৩. বড় শিক তাতে লিপ্ত ব্যক্তির জান ও মাল তথা সার্বিক নিরাপত্তা বিনষ্ট করে দেয়। ঠিক এরই বিপরীতে ছোট শির্ক এমন নয়।
৪. বড় শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি চিরকালের জন্য জাহান্নামী হয়ে যায়। জান্নাত তার জন্য হারাম। তবে ছোট শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি এমন নয়। বরং সে কিছু দিনের জন্য জাহান্নামে গেলেও পরবর্তীতে তাকে জাহান্নাম থেকে চিরতরে মুক্তি দেয়া হবে।
৫. বড় শিকে লিপ্ত ব্যক্তির সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক রাখা যাবে না। বরং তার সাথে সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। যদিও সে নিকট আত্মীয় হোক না কেন। তবে ছোট শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি এমন নয়। বরং তার সাথে সম্পর্ক ততটুকুই রাখা যাবে যতটুকু তার ঈমান রয়েছে। তেমনিভাবে তার সাথে ততটুকুই সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে যতটুকু তার মধ্যে শির্ক রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00