📄 আল্লাহ তা‘আলার পাশাপাশি অন্য ইলাহ্ স্বীকার করার শিরক
উক্ত মুশরিকরা আল্লাহ্ তা'আলার নাম, গুণাবলী ও প্রভুত্ব স্বীকার করে। তবে তারা তাঁরই পাশাপাশি অন্য ইলাহতেও বিশ্বাস করে। যেমন: খ্রিস্টানদের শিরক। তারা আল্লাহ্ তা'আলার পাশাপাশি ‘ঈসা ও তাঁর মাকে ইলাহ্ বলে স্বীকার করে।
অগ্নিপূজকদের শিকও উক্ত শিরকের অন্তর্গত। কারণ, তারা সকল কল্যাণকর কর্মকাণ্ডকে আলো এবং সকল অকল্যাণকর কর্মকাণ্ডকে আঁধারের সৃষ্টি বলে মনে করে।
তাক্বদীর বা ভাগ্যে অবিশ্বাসীদের শিকও উক্ত শিকের অন্তর্গত। কারণ, তারা মনে করে, মানুষ বা যে কোন প্রাণী আল্লাহ্ তা'আলার ইচ্ছা-অনুমতি ছাড়াও নিরেট নিজ ইচ্ছায় যে কোন কাজ করতে পারে। এরা বাস্তবে অগ্নিপূজকদেরই অনুরূপ।
হযরত ইব্রাহীম এর সঙ্গে তর্ককারী "নাম্নরূদ্ বিন্ কিন্'আন" এর শিক্ও উক্ত শিকের অন্তর্গত। কারণ, তার অন্যতম দাবি এটিও ছিলো যে, সে ইচ্ছে করলেই কাউকে মারতে বা জীবিত করতে পারে।
কবরপূজারীদের শিকও উক্ত শিরকের অন্তর্গত। কারণ, তারা আল্লাহ্ তা'আলার পাশাপাশি নিজ পীর-বুযুর্গদেরকেও রব ও ইলাহ্ বানিয়ে নিয়েছে। রাশি-নক্ষত্রে বিশ্বাসী এবং সূর্যপূজারীদের শিকও উক্ত শিকের অধীন।
উক্ত মুর্শিকদের কেউ কেউ আল্লাহ্ তা'আলাকে বাস্তব মা'বুদ বলেও বিশ্বাস করে। আবার কেউ কেউ আল্লাহ্ তা'আলাকে বড় মা'বুদ বা মা'বুদদের অন্যতম বলেও মনে করে। আবার কেউ কেউ এমনো মনে করে যে, তাদের ছোট মা'বুদগুলো অতি তাড়াতাড়ি তাদেরকে তাদের বড় মা'বুদের নিকটবর্তী করে দিবে।
📄 ইবাদাতের শিরক
ইবাদাতের শির্ক কিন্তু উপরোক্ত শির্ক অপেক্ষা সামান্যটুকু গৌণ। তম্মধ্যে কিছু রয়েছে ক্ষমার অযোগ্য। আবার কিছু কিছু রয়েছে ক্ষমাযোগ্য। কারণ, তা প্রকাশ পায় এমন ব্যক্তি থেকে যিনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া সত্যিকারের কোন মাবুদ নেই। তিনি ছাড়া কেউ কারোর কোন ক্ষতি বা লাভ করতে পারে না। কিছু দিতে বা বঞ্চিত করতে পারে না। তিনিই একমাত্র প্রভু। তিনি ভিন্ন অন্য কোন প্রতিপালক নেই। তবে তার সমস্যা এই যে, সে ব্যক্তি ইবাদাত করতে গেলে একনিষ্ঠার সাথে তা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্য করে না। বরং তা কখনো কখনো নিজের সুবিধার জন্যে, আবার কখনো কখনো দুনিয়া কামানোর জন্যে, আবার কখনো কখনো সমাজের নিকট নিজ পজিশন, সম্মান ও প্রতিপত্তি বাড়ানোর জন্য করে থাকে। সুতরাং তার ইবাদাতের কিয়দংশ আল্লাহ্ তা'আলার জন্য, আবার কিছু নিজ নফস ও প্রবৃত্তির জন্য, আবার কিছু অংশ শয়তানের জন্য, আবার কিছু মানুষের জন্যও হয়ে থাকে।
মুসলমানদের মধ্যকার অধিকাংশ মানুষই উক্ত শিকে নিমগ্ন এবং এ শির্ক সম্পর্কেই রাসূল বললেন:
إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظِّهُ مِنَ الزِّنَا ، أَدْرَكَ ذَلِكَ لَا مَحَالَةَ ، فَزِنَا الْعَيْنَيْنِ
الشَّرْكُ في هذه الأُمَّةِ أَخْفَى مِنْ دَبَيْبِ النَّمْلَةِ ، قَالُوْا : كَيْفَ تَنْجُوْ مِنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ: قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَ أَنَا أَعْلَمُ، وَ أَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ (আহমাদ: ৪/৪০৩ সা'হী'হল্ জা'মি', হাদীস ৩৭৩১)
অর্থাৎ শির্ক এ উম্মতের মধ্যে লুক্কায়িত বা অস্পষ্ট যেমন লুক্কায়িত বা অস্পষ্ট পিপীলিকার চলন। সাহাবারা বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! তবে আমরা কিভাবে তা থেকে বাঁচতে পারি? তিনি বললেন: তুমি বলবে: হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জেনেবুঝে শির্ক করা থেকে। তেমনিভাবে আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি আমার অজানা শির্ক থেকে। যেমন: কোন আমল কাউকে দেখানোর উদ্দেশ্যে করা শির্ক।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوْحَى إِلَيَّ ، أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ ، فَمَنْ كَانَ يَرْجُوْ لقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً ، وَ لَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً ) (কাহফ : ১১০)
অর্থাৎ হে নবী! তুমি বলে দাও: আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ মাত্র। আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, নিশ্চয়ই তোমাদের মা'বুদই একমাত্র মা'বুদ। সুতরাং যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদাতে কাউকেও শরীক না করে।
যখন আল্লাহ্ তা'আলা একক। তাঁর কোন শরীক নেই। তখন সকল ইবাদাতও একমাত্র তাঁরই জন্য হতে হবে। আর নেক আমল বলতে এমন আমলকেই বুঝানো হয় যা সম্পাদন করা হবে একমাত্র সুন্নাত ভিত্তিক এবং যা কাউকে দেখানোর জন্য সংঘটিত হবে না।
হযরত ‘উমর আল্লাহ্ তা'আলার নিকট নিম্নোক্ত দো'আ করতেন:
اللَّهُمَّ اجْعَلْ عَمَلِي كُلَّهُ صَالِحاً ، وَ اجْعَلْهُ لِوَجْهِكَ خَالِصاً ، وَ لَا تَجْعَلْ لَأَحَدٍ فِيهِ شَيْئًا
অর্থাৎ হে আল্লাহ্! আমার সকল আমল যেন নেক আমল হয় এবং তা যেন একমাত্র আপনারই জন্য হয়। উহার কিয়দংশও যেন আপনি ভিন্ন অন্য কারোর জন্য না হয়।
উক্ত শির্ক যে কোন আমলের সাওয়াব বিনষ্টকারী। বরং কখনো কখনো এ জাতীয় আমলকারীকে এ জন্য শাস্তির সম্মুখীনও হতে হবে। বিশেষ করে সে আমল যখন তার উপর ওয়াজিব হয়ে থাকে এবং শিকযুক্ত হওয়ার দরুন তা আদায় বলে গণ্য না হয়। কারণ, আল্লাহ্ তা'আলা মানব জাতিকে একমাত্র খাঁটি আমল করারই আদেশ করেছেন। শিক মিশ্রিত আমলের নয়।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَ مَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ . (বাইয়িনাহ: ৫)
অর্থাৎ তাদেরকে তো আদেশই করা হয়েছে যে, তারা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলারই ইবাদাত করবে নিষ্ঠা ও ঈমানের সাথে এবং শিকমুক্তভাবে।
হযরত আবু হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন: আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
أَنَا أَغْنَى الشَّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ ، مَنْ عَمِلَ عَمَلاً أَشْرَكَ فِيْهِ مَعِي غَيْرِي ، تَرَكْتُهُ وَ شِرْكَهُ (মুসলিম, হাদীস ২৯৮৫)
অর্থাৎ আমি শরীকদের শির্ক তথা অংশীদারিত্ব থেকে মুক্ত। যে ব্যক্তি কোন আমলের মধ্যে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করলো তখন আমি তাকেও প্রত্যাখ্যান করি এবং তার শিককেও।
📄 ক্ষমার অযোগ্য শিরক
প্রথম প্রকার আবার বৃহৎ এবং সর্ববৃহৎও হয়ে থাকে। যা বিনা তাওবায় কখনো ক্ষমা করা হয় না। যেমন: ভালোবাসার শিক্ক, ভয়ের শির্ক, একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া অন্য কাউকে সিজদাহ্ করার শির্ক, কা'বা শরীফ ছাড়া অন্য কোন গৃহ তাওয়াফের শির্ক, হাজরে আস্তয়াদ ছাড়া অন্য কোন পাথর চুম্বন করার শিক ইত্যাদি ইত্যাদি।
📄 ক্ষমাযোগ্য শিরক
দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে ছোট শির্ক। যা ক্ষমাযোগ্য। যেমন: শব্দ ও নিয়্যাতের শির্ক।