📄 জিযিয়া কাদের কাছ থেকে নেয়া হবে
জিযিয়া কাদের কাছ থেকে নেয়া হবে:
জিযিয়া কেবল আহলে কিতাব (ইহুদি ও খৃষ্টান) এবং তাদের মতো যারা আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করে তাদের কাছ থেকে নেয়া হবে। অন্যান্য কাফের ও মুশরিকদের কাছ থেকে জিযিয়া গ্রহণ করা হবে না। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা, আহমদ, মালেক ও তাদের শিষ্যরা বলেন, জিযিয়া কেবল আহলে কিতাব থেকে নেয়া হবে। ইমাম শাফেয়ী বলেন, আহলে কিতাব ও তাদের মতো যারা আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করে তাদের থেকে জিযিয়া নেয়া হবে।
📄 ইবনুল কাইয়্যিমের অভিমত
ইবনুল কাইয়্যিমের অভিমত:
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) জিযিয়া সম্পর্কে বলেছেন, “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জিযিয়া নিতে হবে। জিযিয়া হচ্ছে সেই বিনিময়, যা অমুসলিমরা মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাস করে নিরাপত্তা ও সুবিচার ভোগ করার বিনিময়ে দেয়। এটা তাদের উপর কোনো যুলুম নয়, বরং ন্যায়সঙ্গত বিনিময়।”
📄 জিযিয়া গ্রহণের শর্তাবলী
জিযিয়া গ্রহণের শর্তাবলী:
জিযিয়া গ্রহণের জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ জরুরি:
১. অমুসলিম নাগরিক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক ও পুরুষ হতে হবে। নারী, শিশু, পাগল ও দাসদের উপর জিযিয়া ফরয নয়।
২. অমুসলিম নাগরিক মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাস করবে এবং মুসলিম রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সুবিচার ভোগ করবে।
৩. অমুসলিম নাগরিক যুদ্ধের সক্ষমতা রাখবে না বা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। যদি যুদ্ধের সক্ষমতা রাখে বা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাদের কাছ থেকে জিযিয়া নেয়া হবে না, বরং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে।
৪. অমুসলিম নাগরিক মুসলিম রাষ্ট্রের আইন ও বিধিবিধান মেনে চলবে এবং মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার বিদ্রোহ বা ষড়যন্ত্র করবে না।
📄 জিযিয়ার পরিমাণ
জিযিয়ার পরিমাণ:
জিযিয়ার কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ শরিয়তে নির্ধারণ করা হয়নি। এটা শাসকের বিবেচনার উপর নির্ভরশীল। শাসক নিজ নিজ সময়ের অর্থনৈতিক অবস্থা ও অমুসলিম নাগরিকের সক্ষমতা অনুযায়ী জিযিয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করবে। তবে তা যেন তাদের জন্য কষ্টকর না হয়। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে জিযিয়ার পরিমাণ ছিলো এক দিনার প্রতি বছর প্রতি ব্যক্তি।