📄 ছিন্ন পক্ষ বাহিনী থেকে পলায়ন
যদি মুসলিম বাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বা সংখ্যায় অনেক কম হয়, তাহলে তাদের জন্য পলায়ন জায়েয, যদি তা যুদ্ধের কৌশল হিসেবে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো পুনর্গঠিত হয়ে শত্রুদের মোকাবেলা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি তোমাদের মধ্য থেকে একশতজন ধৈর্যশীল থাকে, তাহলে তারা দু'শতজনকে পরাজিত করবে।" (সূরা আনফাল: ৬৬)
তবে এটি শুধুমাত্র কৌশলগত পলায়ন, শত্রুদের ভয়ে পলায়ন নয়।
📄 যুদ্ধে দয়া-দাক্ষিণ্য
ইসলাম যুদ্ধক্ষেত্রেও দয়া ও মানবিকতা বজায় রাখতে আদেশ দেয়। নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থদের উপর আক্রমণ করা নিষেধ। গাছপালা কাটা বা ভবন ধ্বংস করাও নিষেধ, যদি না তা যুদ্ধের জন্য অপরিহার্য হয়। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যুদ্ধ করো, কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করো না, বিশ্বাসঘাতকতা করো না, কাউকে বিকৃত করো না এবং শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের হত্যা করো না।" (মুসলিম)
এই দয়া-দাক্ষিণ্য ইসলামের মহান নৈতিক আদর্শের প্রতীক।
📄 শত্রুর উপর নৈশ হামলা
শত্রুর উপর রাতের আঁধারে অতর্কিত হামলা চালানো জায়েয, যদি তা যুদ্ধের কৌশল হিসেবে হয়। রসূলুল্লাহ সা. নিজেও রাতের আঁধারে শত্রুদের উপর হামলা চালিয়েছেন।
তবে এই হামলায় অমুসলিম নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা করা যাবে না।
📄 যুদ্ধের পরি সমাপ্তি
যুদ্ধ কয়েকটি পরিস্থিতিতে পরিসমাপ্ত হতে পারে:
১. শত্রুদের আত্মসমর্পণ: যদি শত্রুরা আত্মসমর্পণ করে এবং ইসলাম গ্রহণ করে বা জিজিয়া প্রদান করে।
২. সন্ধি চুক্তি: যদি উভয় পক্ষ সন্ধি চুক্তিতে সম্মত হয় এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।
৩. মুসলিমদের বিজয়: যদি মুসলিমরা বিজয় লাভ করে এবং শত্রুরা পরাজিত হয়।
৪. শত্রুদের পলায়ন: যদি শত্রুরা পালিয়ে যায় এবং মুসলিমদের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিজয়ী মুসলিমদের জন্য পরাজিতদের প্রতি দয়া ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা উচিত।