📄 সৈনিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
সৈনিকদেরও যুদ্ধে কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে:
১. আল্লাহর পথে ইখলাস: প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে, কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যে নয়।
২. সেনাপতির আনুগত্য: সেনাপতির সকল ন্যায়সঙ্গত আদেশ মেনে চলতে হবে।
৩. সাহস ও দৃঢ়তা: যুদ্ধের ময়দানে সাহসী ও অবিচল থাকতে হবে, ভয় পেলে চলবে না।
৪. ধৈর্য ও সহনশীলতা: কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং একে অপরকে উৎসাহিত করতে হবে।
৫. ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা: মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে।
৬. আল্লাহর স্মরণ: যুদ্ধের ময়দানেও আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
৭. শত্রুদের প্রতি কঠোরতা: শত্রুদের প্রতি কঠোর হতে হবে এবং তাদের দমনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
৮. নারী, শিশু ও দুর্বলদের প্রতি দয়া: নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং দুর্বলদের উপর আক্রমণ করা যাবে না।
📄 যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দেয়া ওয়াজিব
ইসলামে যুদ্ধ করার পূর্বে শত্রুদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া ওয়াজিব। এর উদ্দেশ্য হলো, তাদেরকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা এবং ইসলামের পথে আসার সুযোগ দেওয়া। রসূলুল্লাহ সা. যখন কোনো বাহিনী পাঠাতেন, তখন তাদেরকে যুদ্ধের পূর্বে দাওয়াত দেওয়ার আদেশ দিতেন।
এই দাওয়াত তিন ভাগে বিভক্ত:
১. ইসলামের দাওয়াত: শত্রুদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার আহ্বান জানানো। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে তারা মুসলিমদের ভাই হয়ে যাবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না।
২. জিজিয়া প্রদানের আহ্বান: যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে, কিন্তু মুসলিম শাসনের অধীনে থাকতে চায়, তাহলে তাদেরকে জিজিয়া (এক প্রকার কর) প্রদানের আহ্বান জানানো। যদি তারা জিজিয়া প্রদান করে, তাহলে তাদের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ থাকবে।
৩. যুদ্ধের আহ্বান: যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে এবং জিজিয়াও প্রদান না করে, তাহলে তাদেরকে যুদ্ধের আহ্বান জানানো।
📄 যুদ্ধের প্রাক্কালে আল্লাহর নিকট দোয়া করা
যুদ্ধের প্রাক্কালে মুসলিমদের আল্লাহর নিকট দোয়া করা মুস্তাহাব। কারণ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া বিজয় সম্ভব নয়। রসূলুল্লাহ সা. যখন যুদ্ধে যেতেন, তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং মুসলিমদেরকেও দোয়া করতে উৎসাহিত করতেন।
এই দোয়ায় আল্লাহর সাহায্য, শত্রুদের পরাজয় এবং মুসলিমদের বিজয় কামনা করা হয়। এটি সৈন্যদের মনোবল বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর উপর তাদের আস্থা স্থাপন করতে সাহায্য করে।