📄 দুর্বল লোকদের সাহায্য গ্রহণ
দুর্বল, অসুস্থ, বৃদ্ধ, শিশু এবং নারীদের উপর জিহাদ ফরয নয়। তারা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য নয়। তবে যদি তারা স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করতে চায় এবং তাদের দ্বারা মুসলিমদের কোনো উপকার হয়, তাহলে তা জায়েয। রসূলুল্লাহ সা. নারীদেরকে যুদ্ধের ময়দানে আহতদের সেবায় এবং খাবার সরবরাহে অংশগ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
তবে দুর্বলদেরকে সামরিক বাহিনীর সম্মুখভাগে রাখা যাবে না এবং তাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। মুসলিমদের প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
📄 জিহাদ ও শাহাদাতের মর্যাদা
ইসলামে জিহাদ ও শাহাদাতের অনেক মর্যাদা রয়েছে। আল্লাহর পথে যারা জিহাদ করে এবং শহীদ হয়, তাদের জন্য জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা রয়েছে। আল্লাহ বলেন: "যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে মৃত ভেবো না। বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে জীবিকা প্রাপ্ত হয়।" (সূরা আলে-ইমরান: ১৬৯)
জিহাদ আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি উপায়। এটি মুসলিম উম্মাহর শক্তি ও মর্যাদার প্রতীক। শাহাদাত হলো আল্লাহর পথে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ করে।
📄 সেনাপতির প্রয়োজনীয় গুণাবলী
যুদ্ধে সেনাপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একজন সফল সেনাপতির কিছু অপরিহার্য গুণাবলী থাকা উচিত:
১. ইমান ও তাকওয়া: সেনাপতিকে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে এবং সকল কাজে আল্লাহকে ভয় করতে হবে।
২. সাহস ও দৃঢ়তা: যুদ্ধের ময়দানে সেনাপতিকে সাহসী ও অবিচল থাকতে হবে, যাতে সৈন্যরা মনোবল হারা না হয়।
৩. জ্ঞান ও প্রজ্ঞা: সেনাপতিকে সামরিক কৌশল ও পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞানী হতে হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
৪. ন্যায়পরায়ণতা: সৈন্যদের প্রতি ন্যায়পরায়ণ হতে হবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৫. সহানুভূতি: সৈন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং তাদের দুঃখ-কষ্টে অংশীদার হতে হবে।
৬. ধৈর্য ও সহনশীলতা: কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং সৈন্যদেরকে ধৈর্য ধারণে উৎসাহিত করতে হবে।
৭. নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা: সৈন্যদেরকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষমতা থাকতে হবে এবং যুদ্ধের সকল বিষয় সুচারুরূপে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
📄 সৈনিকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
সৈনিকদেরও যুদ্ধে কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে:
১. আল্লাহর পথে ইখলাস: প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করতে হবে, কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যে নয়।
২. সেনাপতির আনুগত্য: সেনাপতির সকল ন্যায়সঙ্গত আদেশ মেনে চলতে হবে।
৩. সাহস ও দৃঢ়তা: যুদ্ধের ময়দানে সাহসী ও অবিচল থাকতে হবে, ভয় পেলে চলবে না।
৪. ধৈর্য ও সহনশীলতা: কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং একে অপরকে উৎসাহিত করতে হবে।
৫. ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা: মুসলিম সৈন্যদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে।
৬. আল্লাহর স্মরণ: যুদ্ধের ময়দানেও আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
৭. শত্রুদের প্রতি কঠোরতা: শত্রুদের প্রতি কঠোর হতে হবে এবং তাদের দমনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
৮. নারী, শিশু ও দুর্বলদের প্রতি দয়া: নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং দুর্বলদের উপর আক্রমণ করা যাবে না।