📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 যার উপর জিহাদ ফরয

📄 যার উপর জিহাদ ফরয


জিহাদ সাধারণত প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বাধীন এবং সামরিক সামর্থ্যবান মুসলমান পুরুষের উপর ফরয। তবে কিছু পরিস্থিতিতে নারী, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং দুর্বলদের উপর জিহাদ ফরয হয় না।

কিছু শর্তপূরণ হলে জিহাদ ফরয হয়:
১. মুসলিম হতে হবে।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।
৩. সুস্থ মস্তিষ্ক হতে হবে।
৪. পুরুষ হতে হবে (সাধারণত)।
৫. সামরিক সামর্থ্য থাকতে হবে (শারীরিক ও অর্থনৈতিক)।
৬. মুক্ত বা স্বাধীন হতে হবে।
৭. পিতা-মাতার অনুমতি (যদি ফরযে আইন না হয়)।
৮. ঋণদাতার অনুমতি (যদি ফরযে আইন না হয়)।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 পিতা-মাতার অনুমতি

📄 পিতা-মাতার অনুমতি


সাধারণ জিহাদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনুমতি নেওয়া জরুরি, কারণ পিতা-মাতার সেবাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে যদি জিহাদ ফরযে আইন হয়ে যায়, যেমন শত্রুরা মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণ করে, তাহলে পিতা-মাতার অনুমতির প্রয়োজন নেই।

রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমার পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদে যেও না। যদি তারা অনুমতি দেয়, তাহলে যাও। আর যদি না দেয়, তাহলে তাদের সেবা করো, সেটাই তোমার জিহাদ।" (বুখারি, মুসলিম)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 ঋণদাতার অনুমতি

📄 ঋণদাতার অনুমতি


যদি কোনো ব্যক্তির ঋণ থাকে এবং সে জিহাদে যেতে চায়, তাহলে তার ঋণদাতার অনুমতি নেওয়া জরুরি, যদি জিহাদ ফরযে আইন না হয়। কারণ ঋণ পরিশোধ একটি অপরিহার্য দায়িত্ব। তবে যদি জিহাদ ফরযে আইন হয়, তাহলে ঋণদাতার অনুমতির প্রয়োজন নেই।

রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার উপর ঋণ আছে, সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদে না যায়, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ হয়ে যায় বা তার ঋণদাতা অনুমতি দেয়।" (আবু দাউদ)

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ 📄 যুদ্ধে কাফির ও পাপাচারীদের সাহায্য গ্রহণ

📄 যুদ্ধে কাফির ও পাপাচারীদের সাহায্য গ্রহণ


মুসলিমরা যখন শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তখন কাফির বা পাপাচারী (ফাসিক) ব্যক্তিদের সাহায্য গ্রহণ করা জায়েয কিনা, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

কিছু আলেম মনে করেন, কাফির বা পাপাচারীদের সাহায্য গ্রহণ করা জায়েয নয়, কারণ তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে বা মুসলিমদেরকে বিপথে পরিচালিত করতে পারে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "আমরা মুশরিকদের সাহায্য গ্রহণ করি না।" (মুসলিম)

অন্যান্য আলেম মনে করেন, প্রয়োজন হলে কাফির বা পাপাচারীদের সাহায্য গ্রহণ করা জায়েয, যদি তারা মুসলিমদের পক্ষে আন্তরিক থাকে এবং তাদের দ্বারা কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে। কারণ রসূলুল্লাহ সা. নিজেও কিছু ইহুদী ও মুশরিক গোত্রের সাথে চুক্তি করে তাদের সাহায্য গ্রহণ করেছিলেন।

তবে এই সাহায্য গ্রহণের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং তাদের উপর পূর্ণ ভরসা করা যাবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px