📄 জিহাদ কখন ফরযে আইন হয়
জিহাদ সাধারণত ফরযে কিফায়া, অর্থাৎ সমাজের একটি অংশ এ দায়িত্ব পালন করলে অন্যদের উপর থেকে দায় উঠে যায়। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে জিহাদ ফরযে আইন হয়ে যায়, অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলমানের উপর তা পালন করা বাধ্যতামূলক হয়। এ পরিস্থিতিগুলো হলো:
১. যখন শত্রুরা মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণ করে: এক্ষেত্রে মুসলিম দেশের প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তির উপর জিহাদ ফরযে আইন হয়, এমনকি স্ত্রী ও দাসদের উপরও।
২. যখন শত্রুরা মুসলিমদেরকে সারিবদ্ধভাবে যুদ্ধের জন্য আহ্বান করে: এক্ষেত্রে মুসলিমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যেতে পারবে না, বরং শত্রুদের মোকাবেলা করা তাদের উপর ফরযে আইন।
৩. যখন শত্রুরা মুসলিমদের কোনো দল বা ব্যক্তিকে বন্দী করে: এক্ষেত্রে মুসলিমদের উপর ফরযে আইন হয় বন্দীদের মুক্ত করা, যদি তারা সক্ষম হয়।
📄 যার উপর জিহাদ ফরয
জিহাদ সাধারণত প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, স্বাধীন এবং সামরিক সামর্থ্যবান মুসলমান পুরুষের উপর ফরয। তবে কিছু পরিস্থিতিতে নারী, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং দুর্বলদের উপর জিহাদ ফরয হয় না।
কিছু শর্তপূরণ হলে জিহাদ ফরয হয়:
১. মুসলিম হতে হবে।
২. প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।
৩. সুস্থ মস্তিষ্ক হতে হবে।
৪. পুরুষ হতে হবে (সাধারণত)।
৫. সামরিক সামর্থ্য থাকতে হবে (শারীরিক ও অর্থনৈতিক)।
৬. মুক্ত বা স্বাধীন হতে হবে।
৭. পিতা-মাতার অনুমতি (যদি ফরযে আইন না হয়)।
৮. ঋণদাতার অনুমতি (যদি ফরযে আইন না হয়)।
📄 পিতা-মাতার অনুমতি
সাধারণ জিহাদের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনুমতি নেওয়া জরুরি, কারণ পিতা-মাতার সেবাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে যদি জিহাদ ফরযে আইন হয়ে যায়, যেমন শত্রুরা মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণ করে, তাহলে পিতা-মাতার অনুমতির প্রয়োজন নেই।
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমার পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া জিহাদে যেও না। যদি তারা অনুমতি দেয়, তাহলে যাও। আর যদি না দেয়, তাহলে তাদের সেবা করো, সেটাই তোমার জিহাদ।" (বুখারি, মুসলিম)
📄 ঋণদাতার অনুমতি
যদি কোনো ব্যক্তির ঋণ থাকে এবং সে জিহাদে যেতে চায়, তাহলে তার ঋণদাতার অনুমতি নেওয়া জরুরি, যদি জিহাদ ফরযে আইন না হয়। কারণ ঋণ পরিশোধ একটি অপরিহার্য দায়িত্ব। তবে যদি জিহাদ ফরযে আইন হয়, তাহলে ঋণদাতার অনুমতির প্রয়োজন নেই।
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার উপর ঋণ আছে, সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদে না যায়, যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ হয়ে যায় বা তার ঋণদাতা অনুমতি দেয়।" (আবু দাউদ)