📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদার স্বীকৃতি

📄 ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদার স্বীকৃতি


ইসলাম ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। প্রত্যেক ব্যক্তির জীবন, সম্পদ, সম্মান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করা ইসলামে ফরয। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ۗ
“আল্লাহ যে জীবনকে হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না, তবে সত্যের সাথে।” (সূরা বনী ইসরাইল : আয়াত ৩৩)
নবী করীম সা. বলেছেন: “একজন মুসলমানের জন্য আরেকজন মুসলমানের জান, মাল ও ইজ্জত হারাম।” – মুসলিম।
এর অর্থ হলো, কোনো মুসলমানের উপর অন্য মুসলমানের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা অবৈধ। ইসলামে কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি করা, তার উপর মিথ্যা অভিযোগ আনা, তার উপর অপবাদ ছড়ানো, এবং তার উপর কোনো প্রকার জুলুম করা হারাম।
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, হিংসা করো না, পিঠ ফিরিয়ে নিও না, এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে একে অপরের ভাই হও।” – বুখারি ও মুসলিম।
সুতরাং, ইসলামে প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, এবং তাদের সাথে সুবিচার করা অপরিহার্য।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অধিকার নষ্ট করার শাস্তি

📄 অধিকার নষ্ট করার শাস্তি


ইসলামে অন্যের অধিকার নষ্ট করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
وَمَن يَظْلِم مِّنكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا
“তোমাদের মধ্যে যে যুলুম করবে, আমি তাকে বড় শাস্তি দেবো।” (সূরা ফুরকান : আয়াত ১৯)
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের উপর যুলুম করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন।” – বুখারি।
এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের উপর যুলুম করে, তার অধিকার নষ্ট করে, বা তাকে কষ্ট দেয়, তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন। ইসলামে কোনো ব্যক্তির জান, মাল, বা ইজ্জতের উপর হস্তক্ষেপ করা হারাম। যে ব্যক্তি অন্যের অধিকার নষ্ট করে, সে মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে গণ্য হয় না।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
“তোমরা তোমাদের সম্পদকে নিজেদের মধ্যে বাতিল পন্থায় ভোগ করো না এবং শাসকদের কাছে তাদের দ্বারা মানুষের সম্পদকে গুনাহের সাথে ভোগ করার জন্য তাদের কাছে হাত বাড়িয়ো না, অথচ তোমরা জানো।” (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৮)
সুতরাং, ইসলামে অন্যের অধিকার নষ্ট করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা মুসলিম সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কখন যুদ্ধ বৈধ হয়

📄 কখন যুদ্ধ বৈধ হয়


ইসলামে যুদ্ধ শুধু তখনই বৈধ যখন তা আত্মরক্ষা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, বা নির্যাতিতদের সাহায্যের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তবে যুদ্ধকে শেষ উপায় হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং যুদ্ধের নীতিগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا ۚ وَإِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ
“যুদ্ধের অনুমতি দেয়া হলো তাদেরকে, যাদের উপর যুলুম করা হয়েছে। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।” (সূরা হজ্জ : আয়াত ৩৯)
এর অর্থ হলো, যুদ্ধ শুধু তখনই বৈধ যখন তা আত্মরক্ষা বা নির্যাতিতদের সাহায্যের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ইসলামে যুদ্ধকে আগ্রাসনের জন্য বা অন্যের ভূখণ্ড দখল করার জন্য ব্যবহার করা হয় না।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
“তোমরা আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু সীমালংঘন করোনা। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারীকে পছন্দ করেন না।” (সূরা বাকারা : আয়াত ১৯০)
সুতরাং, ইসলামে যুদ্ধ শুধু আত্মরক্ষা, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, বা নির্যাতিতদের সাহায্যের জন্য বৈধ, এবং যুদ্ধের নীতিগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00