📄 অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংরক্ষণ
ইসলাম অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ
“তোমাদের জন্য তোমাদের দীন, আর আমার জন্য আমার দীন।” (সূরা কাফিরুন : আয়াত ৬)
ইসলাম অমুসলিমদের উপাসনালয়, তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি, এবং তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে সম্মান করে। তাদের উপাসনালয়ে হামলা করা বা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিম নাগরিকের উপর যুলুম করবে, তার অধিকার ক্ষুন্ন করবে, তার ক্ষমতা বহির্ভূত কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেবে, অথবা তার অনুমতি ছাড়া তার কাছ থেকে কিছু নিয়ে নেবে, কেয়ামতের দিন আমি তার পক্ষ থেকে তার বিপক্ষে লড়াই করবো।” - আবু দাউদ।
রাসূলুল্লাহ সা. নাজরাণবাসীকে চুক্তিপত্র লিখে দিয়েছিলেন, যাতে বলা হয়েছিল: “তাদের জীবন, মাল, ধর্ম, গির্জা, পাদ্রী, যাজক ও তাদের সবকিছু আল্লাহর নিরাপত্তা ও রসূলুল্লাহর নিরাপত্তা ও রসূলুল্লাহর যিম্মায় থাকবে। তাদের কোনো ধর্মযাজককে তার পদ থেকে বিতাড়িত করা যাবে না, তাদের কোনো ধর্মযাজককে তার স্থান থেকে সরানো যাবে না, তাদের কোনো মূর্তি বা দেবদেবীকে পরিবর্তন করা যাবে না, তাদের কোনো অধিকার ও ক্ষমতা পরিবর্তন করা যাবে না, তাদের কোনো ছবি বা প্রতিকৃতিকে পরিবর্তন করা যাবে না। তারা যে সকল জিনিস নিয়ে আছে তা থাকবে, তারা কোনো প্রকার নির্যাতন ও বাড়াবাড়ির শিকার হবে না।”
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. জেরুজালেমবাসীকে চুক্তিপত্র লিখে দিয়েছিলেন, তাতে বলা হয়েছিল: “এটি সেই নিরাপত্তা, যা আল্লাহর বান্দা উমর ইবনুল খাত্তাব জেরুজালেমবাসীকে দান করেছেন। তিনি তাদেরকে তাদের জীবন, সম্পদ, উপাসনালয়, ক্রুশ এবং তাদের অসুস্থদেরকে, সুস্থদেরকে এবং তাদের সকল জাতি ধর্মাবলম্বীকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। তাদের উপাসনালয়গুলোকে দখল করা হবে না, ধ্বংস করা হবে না, তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়া হবে না। তাদের কোনো ক্রুশ বা তাদের কোনো ছবিকে পরিবর্তন করা হবে না। তাদের ধর্মকে তাদের উপর চাপানো হবে না, তাদের কাউকে অত্যাচার করা হবে না। ইহুদীদেরকে জেরুজালেমে তাদের সাথে বসবাস করতে দেয়া হবে না।”
এ থেকে প্রমাণিত হয়, অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ইসলামে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
📄 নির্দিষ্ট বন্ধুত্ব
ইসলামে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ব্যবসায়িক লেনদেন, বৈবাহিক সম্পর্ক (কিতাবী নারীর সাথে), এবং অন্যান্য সামাজিক সম্পর্ক অনুমোদিত। তবে, মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের প্রতি এমন বন্ধুত্ব স্থাপন করতে নিষেধ করা হয়েছে, যা মুসলিম উম্মাহর ক্ষতি করতে পারে, বা মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَن تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً ۗ
“মুমিনগণ যেনো মুমিনদেরকে বাদ দিয়ে কাফেরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে। যে এরূপ করবে, তার সাথে আল্লাহর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যদি তোমরা তাদের থেকে কোনো ভয় কর, তবে ভিন্ন কথা।” (সূরা আল ইমরান : আয়াত ২৮)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: “আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে কাফেরদের প্রতি তাদের বাহ্যিক আনুগত্যের প্রকাশ ঘটাতে নিষেধ করেছেন। তবে তারা যদি কোনো কাফের শাসকের অধীন থাকে এবং তার থেকে কোনো ক্ষতির আশংকা করে, তাহলে তারা তাদের প্রতি বাহ্যিকভাবে আনুগত্যের প্রকাশ ঘটাতে পারে, কিন্তু মনে মনে তাদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করবে না।”
সুতরাং, ইসলামে মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট ও শর্তযুক্ত বন্ধুত্ব বৈধ, যা মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে সুরক্ষিত রাখে।
📄 ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদার স্বীকৃতি
ইসলাম ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। প্রত্যেক ব্যক্তির জীবন, সম্পদ, সম্মান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত করা ইসলামে ফরয। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ۗ
“আল্লাহ যে জীবনকে হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না, তবে সত্যের সাথে।” (সূরা বনী ইসরাইল : আয়াত ৩৩)
নবী করীম সা. বলেছেন: “একজন মুসলমানের জন্য আরেকজন মুসলমানের জান, মাল ও ইজ্জত হারাম।” – মুসলিম।
এর অর্থ হলো, কোনো মুসলমানের উপর অন্য মুসলমানের কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা অবৈধ। ইসলামে কোনো ব্যক্তির সম্মানহানি করা, তার উপর মিথ্যা অভিযোগ আনা, তার উপর অপবাদ ছড়ানো, এবং তার উপর কোনো প্রকার জুলুম করা হারাম।
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, হিংসা করো না, পিঠ ফিরিয়ে নিও না, এবং আল্লাহর বান্দা হিসেবে একে অপরের ভাই হও।” – বুখারি ও মুসলিম।
সুতরাং, ইসলামে প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকার ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, এবং তাদের সাথে সুবিচার করা অপরিহার্য।
📄 অধিকার নষ্ট করার শাস্তি
ইসলামে অন্যের অধিকার নষ্ট করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
وَمَن يَظْلِم مِّنكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا
“তোমাদের মধ্যে যে যুলুম করবে, আমি তাকে বড় শাস্তি দেবো।” (সূরা ফুরকান : আয়াত ১৯)
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের উপর যুলুম করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন।” – বুখারি।
এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের উপর যুলুম করে, তার অধিকার নষ্ট করে, বা তাকে কষ্ট দেয়, তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন। ইসলামে কোনো ব্যক্তির জান, মাল, বা ইজ্জতের উপর হস্তক্ষেপ করা হারাম। যে ব্যক্তি অন্যের অধিকার নষ্ট করে, সে মুসলিম উম্মাহর সদস্য হিসেবে গণ্য হয় না।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
“তোমরা তোমাদের সম্পদকে নিজেদের মধ্যে বাতিল পন্থায় ভোগ করো না এবং শাসকদের কাছে তাদের দ্বারা মানুষের সম্পদকে গুনাহের সাথে ভোগ করার জন্য তাদের কাছে হাত বাড়িয়ো না, অথচ তোমরা জানো।” (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৮)
সুতরাং, ইসলামে অন্যের অধিকার নষ্ট করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা মুসলিম সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।