📄 দশটার বেশি বেত্রাঘাত করা
৫. দশটার বেশি বেত্রাঘাত করা
ইতিপূর্বে এই মর্মে হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে যে, দশটার বেশি বেত্রাঘাত করা যাবেনা। আহমদ লায়েস, ইসহাক ও একদল শাফেয়ি ফকিহ এই হাদিস অনুসরণ করেন। কিন্তু মালেক, শাফেয়ি, যায়দ বিন আলী প্রমুখ দশটার বেশি বেত্রাঘাত জায়েয বলেছেন, তবে তা যেন কোনোক্রমেই হদের সর্বনিম্ন পরিমাপের পর্যায়ে না পৌঁছে। অন্য একদলের মত হলো, পাপ কাজে তাযীর করতে গিয়ে তার জন্য নির্ধারিত হদের সমান, অরক্ষিত স্থান থেকে চুরির ক্ষেত্রে হাতকাটার সমান, ব্যভিচারের অপবাদের সমার্থক নয় এমন গালির জন্য অপবাদের হদের সমান শাস্তি দেয়া যাবেনা। কেউ কেউ বলেন: তাযীরের পরিমাণ নির্ধারণে শাসক ইজতিহাদ করবেন এবং বৃহত্তর কল্যাণ ও অপবাদের পরিমাণ অনুপাতে শাস্তি নির্ধারণ করবেন।
📄 হত্যার মাধ্যমে তাযীর
৬. হত্যার মাধ্যমে তাযীর
কোনো কোনো আলেমের মতে, হত্যার মাধ্যমে তাযীর করা বৈধ, কারো মতে অবৈধ। ইবনে তাইমিয়ার বরাত দিয়ে ইবনে আবেদীন বলেন: "হানাফিদের মূলনীতি অনুযায়ী যেসব অপরাধের শাস্তি হত্যা নয়, যেমন ভোতা ও ভারী অস্ত্র দ্বারা হত্যা ও পুরুষে পুরুষে সমকাম ইত্যাদি যখন বারবার করা হয়, তখন শাসক অপরাধীকে হত্যা করতে অথবা কল্যাণকর মনে করলে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি শাস্তি দিতে পারবে।
📄 সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর
৭. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর
আবু ইউসুফ ও মালেকের মতে, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর করা জায়েয। মুয়ীনুল হুক্কাম গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যারা বলেন, আর্থিক দণ্ড রহিত, তারা ইমামদের মাযহাব অনুযায়ী ভুল বলেন। যুক্তি ও বর্ণনা উভয়ের আলোকেই ভুল। রহিত হওয়ার দাবিদারদের পক্ষে এমন কোনো সুন্নতও নেই, ইজমাও নেই, যা তাদের দাবিকে সঠিক প্রমাণিত করে। তারা শুধু বলতে পারে: আমাদের ইমামদের মতে জায়েয নেই। ইবনুল কাইয়েম বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. ছিনতাইকারীকে তার প্রাপ্য হিসসা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে তাযীর করেছেন এবং যাকাত দিতে অস্বীকারকারীর সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর করেছেন। আহমদ, আবু দাউদ ও নাসায়ীর বর্ণনা মোতাবেক রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যাকাত দেবে, সে সওয়াব পাবে, আর যে যাকাত দিতে অস্বীকার করবে, আমরা তার যাকাত তো আদায় করবোই, উপরন্তু তার সম্পত্তির অর্ধেক নিয়ে দেবো। এটা আল্লাহর কঠোর ও অনমনীয় সিদ্ধান্ত।
📄 তাযীর শাসকের অধিকার
৮. তাযীর শাসকের অধিকার
তাযীর শাসকের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। কেননা, জনগণের উপর তার সর্বময় কর্তৃত্ব বিদ্যমান। 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "শাসক ব্যতীত আর কারো তাযীরের ক্ষমতা নেই কেবল তিন ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম:
১. পিতা: সে তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তাযীর তথা শাস্তি প্রদান করতে পারে, খারাপ কাজ থেকে ফেরাতে কঠোরভাবে ধমক দিতে পারে। শিশুকাল ও বাল্যকালের লালন পালনকালে মায়েরও এ অধিকার রয়েছে। তিনি নামাযের আদেশ দিতে