📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 তাযীরের পদ্ধতি

📄 তাযীরের পদ্ধতি


৪. তাযীরের পদ্ধতি তাযীর শুধু কথা দিয়েও কার্যকর করা যায়। যেমন, ধমক, তিরস্কার ও উপদেশ। আবার কাজ দ্বারাও করা যায় পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী। যেমন প্রহার, বন্দী করা, আটক করা, দেশান্তর করা, পদচ্যুত করা।
আবু দাউদ বর্ণনা করেন, জনৈক হিজড়াকে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট আনা হলো। তার দুই হাত ও দুই পা মেহেদী রঞ্জিত। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: এর ব্যাপার কী? লোকেরা বললো : সে মহিলাদের মতো বেশ ধারণ করেছে। রসূলুল্লাহ সা. তৎক্ষণাৎ তাকে বাকি এলাকায় নির্বাসিত করলেন। লোকেরা বললো: হে রসূলুল্লাহ! ওকে হত্যা করে ফেলি? রসূলুল্লাহ সা. বললেন: যারা নামায পড়ে তাদের হত্যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। তবে দাড়ি কামিয়ে দিয়ে, ঘরবাড়ি ভেঙে, বাগানের গাছপালা, ক্ষেতের ফসল ইত্যাদি নষ্ট করে তাযীর করা জায়য নেই। অনুরূপ নাক, কান, ঠোঁট, আঙ্গুল ইত্যাদি কেটেও নয়। কেননা কোনো সাহাবি থেকে এরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়নি।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 দশটার বেশি বেত্রাঘাত করা

📄 দশটার বেশি বেত্রাঘাত করা


৫. দশটার বেশি বেত্রাঘাত করা
ইতিপূর্বে এই মর্মে হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে যে, দশটার বেশি বেত্রাঘাত করা যাবেনা। আহমদ লায়েস, ইসহাক ও একদল শাফেয়ি ফকিহ এই হাদিস অনুসরণ করেন। কিন্তু মালেক, শাফেয়ি, যায়দ বিন আলী প্রমুখ দশটার বেশি বেত্রাঘাত জায়েয বলেছেন, তবে তা যেন কোনোক্রমেই হদের সর্বনিম্ন পরিমাপের পর্যায়ে না পৌঁছে। অন্য একদলের মত হলো, পাপ কাজে তাযীর করতে গিয়ে তার জন্য নির্ধারিত হদের সমান, অরক্ষিত স্থান থেকে চুরির ক্ষেত্রে হাতকাটার সমান, ব্যভিচারের অপবাদের সমার্থক নয় এমন গালির জন্য অপবাদের হদের সমান শাস্তি দেয়া যাবেনা। কেউ কেউ বলেন: তাযীরের পরিমাণ নির্ধারণে শাসক ইজতিহাদ করবেন এবং বৃহত্তর কল্যাণ ও অপবাদের পরিমাণ অনুপাতে শাস্তি নির্ধারণ করবেন।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হত্যার মাধ্যমে তাযীর

📄 হত্যার মাধ্যমে তাযীর


৬. হত্যার মাধ্যমে তাযীর
কোনো কোনো আলেমের মতে, হত্যার মাধ্যমে তাযীর করা বৈধ, কারো মতে অবৈধ। ইবনে তাইমিয়ার বরাত দিয়ে ইবনে আবেদীন বলেন: "হানাফিদের মূলনীতি অনুযায়ী যেসব অপরাধের শাস্তি হত্যা নয়, যেমন ভোতা ও ভারী অস্ত্র দ্বারা হত্যা ও পুরুষে পুরুষে সমকাম ইত্যাদি যখন বারবার করা হয়, তখন শাসক অপরাধীকে হত্যা করতে অথবা কল্যাণকর মনে করলে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি শাস্তি দিতে পারবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর

📄 সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর


৭. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর
আবু ইউসুফ ও মালেকের মতে, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর করা জায়েয। মুয়ীনুল হুক্কাম গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যারা বলেন, আর্থিক দণ্ড রহিত, তারা ইমামদের মাযহাব অনুযায়ী ভুল বলেন। যুক্তি ও বর্ণনা উভয়ের আলোকেই ভুল। রহিত হওয়ার দাবিদারদের পক্ষে এমন কোনো সুন্নতও নেই, ইজমাও নেই, যা তাদের দাবিকে সঠিক প্রমাণিত করে। তারা শুধু বলতে পারে: আমাদের ইমামদের মতে জায়েয নেই। ইবনুল কাইয়েম বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. ছিনতাইকারীকে তার প্রাপ্য হিসসা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে তাযীর করেছেন এবং যাকাত দিতে অস্বীকারকারীর সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাযীর করেছেন। আহমদ, আবু দাউদ ও নাসায়ীর বর্ণনা মোতাবেক রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যাকাত দেবে, সে সওয়াব পাবে, আর যে যাকাত দিতে অস্বীকার করবে, আমরা তার যাকাত তো আদায় করবোই, উপরন্তু তার সম্পত্তির অর্ধেক নিয়ে দেবো। এটা আল্লাহর কঠোর ও অনমনীয় সিদ্ধান্ত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00