📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কাসামা আরবীয়া প্রথা যা ইসলাম বহাল রেখেছে

📄 কাসামা আরবীয়া প্রথা যা ইসলাম বহাল রেখেছে


কাসামা আরবীয় প্রথা, যা ইসলাম বহাল রেখেছে কাসামা আরবে জাহেলি যুগে প্রচলিত একটি প্রথা। ইসলাম এটি যথাযথভাবে বহাল রেখেছে। ইসলাম যে এটি বহাল রেখেছে, তার যৌক্তিকতা এই যে, এটা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানে সচেতনতার একটি নিদর্শন। যাতে একটি মানুষের হত্যাও বিনা বিচারে বা বিনা শাস্তিতে না যায়।
বুখারি ও নাসায়ী ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: জাহেলি যুগে প্রথম কাসামার ঘটনাটি ছিলো এ রকম: বনু হাশেমের এক ব্যক্তিকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র অপর একটি কুরাইশি গোত্রের এক ব্যক্তি মজুর নিয়োগ করে। অতঃপর সে ঐ ব্যক্তির উট পালের সাথে তার সঙ্গে রওনা হলো। এ সময়ে বনু হাশেমের অপর এক ব্যক্তি তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। লোকটির পশমের গাইটের হাতল খুলে গিয়েছিল। সে বললো আমাকে এক গাছা রশি দিয়ে সাহায্য করো, আমি আমার পশমের গাইটের হাতল বাঁধবো। একটা রশির কমতি
টিকাঃ
ফিন্তুস সুন্নাহ ২য় খণ্ড ফর্মা নং-৫৯

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কাসামার ভিত্তিতে বিচার ফায়সালার শরয়ী মর্যাদা

📄 কাসামার ভিত্তিতে বিচার ফায়সালার শরয়ী মর্যাদা


থাকলে তোমার উটের পাল পালাতে পারবেনা। পরে যখন যাত্রা বিরতি করা হলো, তখন দেখা গেলো, সকল উট রশি দিয়ে বাঁধা আছে। কিন্তু একটা উট বাঁধা নেই। তার নিয়োগকারী তাকে বললো: এই উটটার কী হয়েছে যে, অন্যান্য উটের মতো তাকে বাঁধা হয়নি? সে বললো: ওর রশি নেই। মনিব বললো: তার রশি কোথায়? ... অতঃপর সে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলো। ঐ আঘাতেই তার মৃত্যু আসন্ন হয়ে উঠলো। এ সময় ইয়ামানের এক ব্যক্তি তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাকে বললো: তুমি কি আসন্ন হজ্জের মৌসুমে শরিক হবে? সে বললো: এবার শরিক হবোনা। আবার হতেও পারি। সে বললো: তুমি কি আমার পক্ষ থেকে একটা বার্তা যে কোনো সময়ে পৌঁছাতে পারবে? সে বললো: হ্যাঁ, পারবো। সে বললো: যখন হজ্জে শরিক হবে, তখন প্রথমে হে কুরাইশ বলে সম্বোধন করবে। যখন কুরাইশ সাড়া দেবে, তখন হে বনু হাশেম বলে সম্বোধন করবে। বনু হাশেম যখন সাড়া দেবে, তখন আবু তালেবকে সন্ধান করো এবং তাকে বলো: একটা রশির জন্য অমুকে আমাকে হত্যা করেছে। এরপর হাশেমী শ্রমিকটি মারা গেলো।
শ্রমিকটির নিয়োগ কর্তা যখন পৌঁছলো, তখন আবু তালেব তাকে জিজ্ঞাসা করলো: আমাদের গোত্রের অমুক লোকটির খবর কী? সে বললো: তার অসুখ হয়েছিল। আমি তার যথোচিত যত্ন নিয়েছি এবং মারা গেলে তার দাফনের ব্যবস্থা করেছি। আবু তালেব বললেন: তুমি যা করেছ, সে তার উপযুক্ত ছিলো বটে। অতঃপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন। তারপর যে ইয়ামানী লোকটিকে শ্রমিকটি তার বার্তা পৌঁছানোর ওসিয়ত করেছিল, সে হজ্জের মৌসুমে হাজির হলো। সে বললো: ওহে কুরাইশ! তারা বললো: এই তো আমরা কুরাইশ উপস্থিত। তখন সে বললো: ওহে বনু হাশেম। বনু হাশেম বললো: এই তো আমরা বনু হাশেম উপস্থিত। সে বললো: আবু তালেব কোথায়? তারা আবু তালেবকে দেখিয়ে বললো: ইনি আবু তালেব। সে বললো: অমুক আমাকে অনুরোধ করেছে আপনার নিকট এই ফরিয়াদ জানাতে যে, অমুক উট মালিক একটি মাত্র রশির কারণে তাকে হত্যা করেছে। তৎক্ষণাৎ আবু তালেব তার কাছে পৌঁছে গেলেন এবং তাকে বললেন: আমাদের পক্ষ হতে তিনটে ব্যবস্থার যে কোনো একটা গ্রহণ করো। ইচ্ছা করলে তুমি একশোটা উট দিতে পারো। কারণ তুমি আমাদের লোককে হত্যা করেছো। আর যদি চাও তবে তোমার গোত্র থেকে পঞ্চাশ জনকে শপথ করানো হবে যে, তুমি তাকে হত্যা করোনি। এর কোনোটাই যদি গ্রহণ না করো, তাহলে তৃতীয় ব্যবস্থা হলো, তোমাকে আমরা হত্যা করবো। তখন আবু তালেব সেই গোত্রের নিকট গেলেন। গোত্রটি বললো: আমরা শপথ করবো। এরপর বনু হাশেমের জনৈকা মহিলা আবু তালেবের নিকট এলো। সে উক্ত গোত্রের এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলো এবং সে তার ঔরস থেকে একটি ছেলেও প্রসব করেছিল। সে বললো: হে আবু তালেব, আমি চাই আমার এই ছেলে গোত্রের পঞ্চাশজনের একজনের অভাব পূরণ করুক অর্থাৎ একজনের অংশে দিয়াতের যতটুকু আসে তা প্রদান করুক এবং শপথের জন্য অপেক্ষা করা না হোক। অতঃপর ছেলেটি তাই করলো। এরপর আবু তালেবের নিকট তাদের একজন এলো। সে বললো: হে আবু তালেব, আমি এমন পঞ্চাশ জন লোক চাই, যারা একশো উটের বিনিময়ে শপথ করবে। এতে করে প্রত্যেক ব্যক্তির ভাগে দু'টি করে উট পড়বে। এই যে দুটো উট। আমার পক্ষ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00