📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 ভূয়া খননকারীর দায় এবং অন্যান্য বিষয়

📄 ভূয়া খননকারীর দায় এবং অন্যান্য বিষয়


আগেই ঝুঁকে পড়েছিল কিনা এবং প্রাচীরের মালিককে তা ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়েছিল কিনা। যদি বলা হয়ে থাকে এবং তার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও না ভেঙ্গে থাকে, তাহলে প্রাচীর ধ্বসের ঘটনায় যে ক্ষতি সাধিত হবে তার জন্য সে দায়ী হবে। নচেত দায়ী হবেনা। এটা হানাফি মাযহাবের অভিমত। ইমাম মালেকের মতে, প্রাচীরটি যদি এত নুয়ে পড়ে থাকে যে, তা ভাঙ্গা নিরাপদ মনে হয়না, তাহলে সে ইতিপূর্বে ভাঙ্গার উদ্যোগ নিয়ে থাকুক বা না নিয়ে থাকুক এবং তার উপর কোনো সাক্ষী রেখে থাকুক বা না থাকুক, ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী হবে। আহমদ ও শাফেয়ির মতে দায়ী হবেনা।
১১. কুয়া খননকারীর দায় এবং অন্যান্য বিষয়: যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কুয়া খনন করে এবং তাতে কোনো মানুষ পড়ে মারা যায়, তখন সে যদি নিজের মালিকানাভুক্ত যমীতে কুয়া খনন করে থাকে অথবা অন্যের মালিকানাধীন যমীতে খনন করে থাকে এবং মালিকের অনুমতি নিয়ে করে থাকে, তবে সে ক্ষতির জন্য দায়ী হবেনা। আর যদি অন্যের যমীতে মালিকের অনুমতি ছাড়া খনন করে থাকে, তবে দায়ী হবে। পতিত যমীতে খনন করলে দায়ী হবেনা। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “কৃয়া দায়মুক্ত।” অর্থাৎ এ অবস্থায় কেউ কূয়ায় পড়ে মারা গেলে সে মৃত্যু দায়মুক্ত ও দিয়াতমুক্ত। ইমাম মালেক বলেছেন: এমন জায়গায় যদি কুয়া খনন করে যে, সে ধরনের জায়গায় কুয়া খনন করার রীতি প্রচলিত আছে, তাহলে দায়ী হবে না। তবে কুয়া খননে যদি প্রচলিত রীতিনীতি লঙ্ঘন করে থাকে, তবে দায়ী হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক লোককে যদি কেউ কোনো কুয়ায় নামতে বা গাছে আরোহণ করতে আদেশ দেয় এবং লোকটি আদেশ মান্য করার পর কৃয়ায় ডুবে বা গাছ থেকে পড়ে মারা যায়, তবে আদেশকারী যেহেতু তার উপর বলপ্রয়োগ করেনি তাই সে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী হবেনা। অনুরূপ কোনো সরকারি কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি কাউকে মজুরির ভিত্তিতে কাজে নিয়োগ করে এবং সেই কাজ করার সময় সে মারা যায়, তবে সে দায়ী হবেনা। কেননা সে কোনো অপরাধ বা আইন লঙ্ঘন করেনি। আর কেউ যদি নিজেকে বা তার সন্তানকে সাঁতার শেখার জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণের নিকট সোপর্দ করে অতঃপর সে ডুবে মারা যায়, তবে সাঁতার প্রশিক্ষক দায়ী হবেনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00