📄 চিকিৎসকের দায় দায়িত্ব
৮. চিকিৎসকের দায় দায়িত্ব আলেমদের এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, যার চিকিৎসা বিদ্যা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, সে যদি কোনো রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটায়, তাহলে সে ঐ রোগীর যে ক্ষতি সাধন করবে তার জন্য দায়ী হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। কেননা এই কাজ দ্বারা সে একজন সীমালঙ্ঘনকারী বিবেচিত হবে এবং তার সম্পদ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি চিকিৎসক সাজে অথচ ইতিপূর্বে সে চিকিৎসক বলে পরিচিত ছিলোনা, সে দায়ী হবে।” -আবু দাউদ, নাসায়ী।
উমর বিন আব্দুল আযীযের ছেলে আব্দুল আযীয বলেন, আমার পিতার নিকট আগত প্রতিনিধি দলের এক ব্যক্তি আমাকে বলেছে, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে চিকিৎসা করেছে বলে জানা যায়না, অথচ কোনো জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা করতে শুরু করলো এবং রোগীর ক্ষতি সাধন করলো, সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।” (আবু দাউদ) তবে চিকিৎসক চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী হওয়া সত্ত্বেও যদি ভুল করে, তবে ফকিহগণ মনে করেন, তার দিয়াত দিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ফকিহর মতে, দিয়াত দেবে চিকিৎসকের পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ। (রোগী মারা গেলে কিসাস নয়, দিয়াত দিতে হবে। কেননা চিকিৎসা রোগীর অনুমতি নিয়ে করা হয়েছে)। আবার কেউ কেউ বলেন: চিকিৎসকের নিজের সম্মতি থেকেই দিয়াত আদায় করা হবে। ক্ষতিপূরণ দেয়ার এই বাধ্যবাধকতা মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদেরকে দায়িত্ব সচেতন করা এবং তাদের জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তৎপরতার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের অপরিহার্যতার দিক নির্দেশক। পক্ষান্তরে ইমাম মালেক বলেন: তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবেনা।
📄 স্বামীর সহবাসে যদি স্ত্রীর যোনি ফেটে প্রশস্ত হয়ে যায়
৯. স্বামীর সহবাসে যদি স্ত্রীর যোনি ফেটে প্রশস্ত হয়ে যায়: কোনো ব্যক্তি যখন স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে গিয়ে তার যোনি বিদীর্ণ করে প্রশস্ত করে দেয়, তবে স্ত্রী যদি এরূপ প্রাপ্তবয়স্কা হয় যে, তার সমান মহিলার সাথে সাধারণ সহবাস করা হয়ে থাকে, তাহলে তার কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবেনা। এটা ইমাম আবু হানিফা ও আহমদের মত, শাফেয়ি ও মালেকের মতে দিয়াত দিতে হবে। তবে মালেকের যে মতটি অধিক প্রসিদ্ধ, তদানুসারে সালিশী দ্বারা ফায়সালা করা হবে। আর যদি এমন অপ্রাপ্তবয়স্কা হয়, যার সমান মেয়ের সাথে সচরাচর সহবাস করা হয়না, তাহলে তার উপর দিয়াত ওয়াজিব। উল্লেখ্য যে, এই বিধিটি তখনই প্রযোজ্য, যখন যোনি বিদীর্ণ হয়ে মলদ্বারের সাথে একাকার হয়ে যায় এবং এই দুই অঙ্গের মধ্যে কোনো আড়াল থাকেনা।
📄 কোন ব্যক্তির উপর প্রাচীর ভেঙ্গে পড়ে মৃত্যু ঘটলে
১০. কোনো ব্যক্তির উপর প্রাচীর ভেংগে পড়ে মৃত্যু ঘটলে যখন কারো প্রাচীর রাস্তার দিকে ধ্বসে পড়ে ও তার নিচে চাপা পড়ে কেউ মারা যায়, তাহলে দেখতে হবে, ঐ প্রাচীর
📄 ভূয়া খননকারীর দায় এবং অন্যান্য বিষয়
আগেই ঝুঁকে পড়েছিল কিনা এবং প্রাচীরের মালিককে তা ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়েছিল কিনা। যদি বলা হয়ে থাকে এবং তার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও না ভেঙ্গে থাকে, তাহলে প্রাচীর ধ্বসের ঘটনায় যে ক্ষতি সাধিত হবে তার জন্য সে দায়ী হবে। নচেত দায়ী হবেনা। এটা হানাফি মাযহাবের অভিমত। ইমাম মালেকের মতে, প্রাচীরটি যদি এত নুয়ে পড়ে থাকে যে, তা ভাঙ্গা নিরাপদ মনে হয়না, তাহলে সে ইতিপূর্বে ভাঙ্গার উদ্যোগ নিয়ে থাকুক বা না নিয়ে থাকুক এবং তার উপর কোনো সাক্ষী রেখে থাকুক বা না থাকুক, ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী হবে। আহমদ ও শাফেয়ির মতে দায়ী হবেনা।
১১. কুয়া খননকারীর দায় এবং অন্যান্য বিষয়: যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কুয়া খনন করে এবং তাতে কোনো মানুষ পড়ে মারা যায়, তখন সে যদি নিজের মালিকানাভুক্ত যমীতে কুয়া খনন করে থাকে অথবা অন্যের মালিকানাধীন যমীতে খনন করে থাকে এবং মালিকের অনুমতি নিয়ে করে থাকে, তবে সে ক্ষতির জন্য দায়ী হবেনা। আর যদি অন্যের যমীতে মালিকের অনুমতি ছাড়া খনন করে থাকে, তবে দায়ী হবে। পতিত যমীতে খনন করলে দায়ী হবেনা। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “কৃয়া দায়মুক্ত।” অর্থাৎ এ অবস্থায় কেউ কূয়ায় পড়ে মারা গেলে সে মৃত্যু দায়মুক্ত ও দিয়াতমুক্ত। ইমাম মালেক বলেছেন: এমন জায়গায় যদি কুয়া খনন করে যে, সে ধরনের জায়গায় কুয়া খনন করার রীতি প্রচলিত আছে, তাহলে দায়ী হবে না। তবে কুয়া খননে যদি প্রচলিত রীতিনীতি লঙ্ঘন করে থাকে, তবে দায়ী হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক লোককে যদি কেউ কোনো কুয়ায় নামতে বা গাছে আরোহণ করতে আদেশ দেয় এবং লোকটি আদেশ মান্য করার পর কৃয়ায় ডুবে বা গাছ থেকে পড়ে মারা যায়, তবে আদেশকারী যেহেতু তার উপর বলপ্রয়োগ করেনি তাই সে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী হবেনা। অনুরূপ কোনো সরকারি কর্মকর্তা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি কাউকে মজুরির ভিত্তিতে কাজে নিয়োগ করে এবং সেই কাজ করার সময় সে মারা যায়, তবে সে দায়ী হবেনা। কেননা সে কোনো অপরাধ বা আইন লঙ্ঘন করেনি। আর কেউ যদি নিজেকে বা তার সন্তানকে সাঁতার শেখার জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণের নিকট সোপর্দ করে অতঃপর সে ডুবে মারা যায়, তবে সাঁতার প্রশিক্ষক দায়ী হবেনা।