📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আততয়ের ক্ষতির দায়

📄 আততয়ের ক্ষতির দায়


নিজের স্ত্রীর সাথে জনৈক বেগানা পুরুষকে পেয়ে উভয়কে হত্যা করেছিল এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আলী রা. কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: সে যদি চারজন সাক্ষী হাজির করতে না পারে (মতান্তরে দু'জন সাক্ষী) তাহলে তাকে নিহতের উত্তরাধিকারীদের নিকট হস্তান্তর করা হবে, যাতে তারা তাকে হত্যা করতে পারে। হত্যাকারী যদি সাক্ষী হাজির

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 অপরের ক্ষেত্রে শস্য নষ্ট করা

📄 অপরের ক্ষেত্রে শস্য নষ্ট করা


না করে এবং উত্তরাধিকারী স্বীকার করে যে, সে আত্মরক্ষার্থে হত্যা করেছে, তাহলে সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে এবং কিসাস ও দিয়াত কোনোটাই তাকে দিতে হবেনা।
সাঈদ বিন মানসূর বর্ণনা করেন: একদিন উমর রা. দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। সহসা এক ব্যক্তি দৌড়ে তার কাছে এলো। তার হাতে তখনো একখানা রক্তাক্ত তরবারী। আর একদল লোক তার পিছু পিছু ছুটে আসছিল। লোকটি এসে উমর রা. এর নিকট বসলো। সেই সাথে অন্যেরাও এলো। তারা বললো: হে আমীরুল মুমিনীন, এই লোকটা আমাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। উমর রা. তাকে বললেন এরা কী বলছে? সে বললো: হে আমীরুল মুমিনীন, আমি তো আমার স্ত্রীর দুই উরুর উপর তরবারী মেরেছি। দুই উরুর মাঝে যদি কেউ থেকে থাকে, তবে আমি তাকে হত্যা করেছি। উমর রা. তাদেরকে বললেন: সে কী বলছে? তারা বললো: হে আমীরুল মুমিনীন, সে তরবারী দিয়ে আঘাত করেছে। সে আঘাত লোকটির দেহের মাঝখানে ও মহিলার উরুদ্বয়ের উপর পড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে উমর রা. লোকটির কাছ থেকে তরবারী নিজ হাতে নিলেন, তরবারীটি দোলালেন এবং তার কাছে দিয়ে বললেন ওরা যদি পুনরায় এরূপ কাজ করে, তবে তুমিও পুনরায় হত্যা করবে।"
বর্ণিত আছে, একদিন ইবনুয যুবাইর রা. সেনাবাহিনী থেকে পেছনে পড়ে রইলেন এবং তার কাছে তার একটা বাদী ছিলো। তখন দুই ব্যক্তি তার কাছে এসে বললো: আমাদেরকে কিছু দাও। তিনি তাদেরকে কিছু খাবার জিনিস দিলেন। তারা উভয়ে বললো : বাঁদীটা আমাদেরকে দিয়ে দাও। তিনি তৎক্ষণাৎ উভয়কে তরবারীর এক কোপে হত্যা করে ফেললেন।
ইবনে তাইমিয়া বলেন: হত্যাকারী যদি দাবি করে যে, নিহত ব্যক্তি তার উপর আক্রমণ চালিয়েছিল এবং নিহতের উত্তরাধিকারীরা তা অস্বীকার করে, তাহলে নিহত ব্যক্তি যদি সৎ লোক হিসেবে পরিচিত থেকে থাকে এবং তাকে সে সন্দেহাতীতভাবে হত্যা করে থাকে, তাহলে হত্যাকারীর কথা গৃহীত হবেনা। আর যদি নিহত ব্যক্তি পাপী হিসেবে এবং হত্যাকারী সৎ লোক হিসেবে খ্যাত থেকে থাকে, তাহলে হত্যাকারী কসম খেয়ে যা বলবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে। বিশেষতঃ সে যদি এই ঘটনার আগেই পরিচিত থেকে থাকে।
৫. আগুনের ক্ষতির দায়: যদি কেউ অভ্যাস মোতাবেক বাড়িতে আগুন জ্বালায়। কিন্তু বাতাসে আগুন স্থান থেকে স্থানান্তরে চলে যাওয়ায় জান ও মালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে সে জন্য সে দায়ী হবেনা।
বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে আগুন জ্বালালো। অতঃপর আগুনের একটা অংশ উড়ে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে তার কিছু সম্পদের ক্ষতি সাধন করলো। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আব্দুল আযীয বিন হুসাইনকে ঘটনাটা জানিয়ে চিঠি লিখলো। আব্দুল আযীয জবাবে লিখলেন রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: বাকশক্তিহীন প্রাণী দায়মুক্ত। আমি মনে করি আগুনও দায়মুক্ত।
৬. অপরের ক্ষেতের শস্য নষ্ট করা কেউ যদি নিজের যমীতে সেচ দিতে গিয়ে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করে এবং তাতে পার্শ্ববর্তী যমীর ফসল নষ্ট

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 নৌকাডুবির দায়

📄 নৌকাডুবির দায়


হয়, তাহলে সে দায়ী হবে। তবে যদি অজানা কোনো জায়গা থেকে পানির ঢল আসে, তাহলে তার জন্য সে দায়ী হবেনা। কেননা তার পক্ষ থেকে কোনো বাড়াবাড়ি হয়নি।
৭. নৌকা ডুবির দায় কোনো নৌকা মানুষ ও জীবজন্তু নিয়ে পার হওয়ার সময় ডুবে গেলে নৌকার মালিকের যদি তাতে প্রত্যক্ষ কোনো হাত না থেকে থাকে, তবে ক্ষয়ক্ষতির জন্য সে দায়ী হবেনা। আর যদি নৌকা ডুবির কারণ তার সৃষ্টি করা হয় তবে সে দায়ী হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 চিকিৎসকের দায় দায়িত্ব

📄 চিকিৎসকের দায় দায়িত্ব


৮. চিকিৎসকের দায় দায়িত্ব আলেমদের এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যে, যার চিকিৎসা বিদ্যা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, সে যদি কোনো রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটায়, তাহলে সে ঐ রোগীর যে ক্ষতি সাধন করবে তার জন্য দায়ী হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। কেননা এই কাজ দ্বারা সে একজন সীমালঙ্ঘনকারী বিবেচিত হবে এবং তার সম্পদ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি চিকিৎসক সাজে অথচ ইতিপূর্বে সে চিকিৎসক বলে পরিচিত ছিলোনা, সে দায়ী হবে।” -আবু দাউদ, নাসায়ী।
উমর বিন আব্দুল আযীযের ছেলে আব্দুল আযীয বলেন, আমার পিতার নিকট আগত প্রতিনিধি দলের এক ব্যক্তি আমাকে বলেছে, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে চিকিৎসা করেছে বলে জানা যায়না, অথচ কোনো জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা করতে শুরু করলো এবং রোগীর ক্ষতি সাধন করলো, সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।” (আবু দাউদ) তবে চিকিৎসক চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী হওয়া সত্ত্বেও যদি ভুল করে, তবে ফকিহগণ মনে করেন, তার দিয়াত দিতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ফকিহর মতে, দিয়াত দেবে চিকিৎসকের পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়গণ। (রোগী মারা গেলে কিসাস নয়, দিয়াত দিতে হবে। কেননা চিকিৎসা রোগীর অনুমতি নিয়ে করা হয়েছে)। আবার কেউ কেউ বলেন: চিকিৎসকের নিজের সম্মতি থেকেই দিয়াত আদায় করা হবে। ক্ষতিপূরণ দেয়ার এই বাধ্যবাধকতা মানুষের প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চিকিৎসকদেরকে দায়িত্ব সচেতন করা এবং তাদের জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তৎপরতার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বনের অপরিহার্যতার দিক নির্দেশক। পক্ষান্তরে ইমাম মালেক বলেন: তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবেনা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00