📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কোন্ কোন্ জন্তু হত্যা করা যাবে এবং কোন্ জন্তু হত্যা করা যাবে না

📄 কোন্ কোন্ জন্তু হত্যা করা যাবে এবং কোন্ জন্তু হত্যা করা যাবে না


চাটে কিংবা পেশাব পায়খানা করে। তবে কুকুরের পালক সে জন্য দায়ী হবেনা। কেননা এটা শুধু দংশনকারী কুকুরের একক বৈশিষ্ট নয়। কাযী বলেন: কেউ যদি এমন বিড়াল পোষে, যা মানুষের পালিত মুরগী ইত্যাদির ছানা খেয়ে ফেলে, তাহলে ঐ ব্যক্তি বিড়ালের ক্ষতির জন্য দায়ী হবে ঠিক যেমন দংশনকারী কুকুরের ক্ষতির জন্য তার মালিক দায়ী হয়ে থাকে। এই ক্ষতি দিনে করুক বা রাতে করুক, তাতে কিছু এসে যায়না। তবে এ ধরনের ক্ষতি সাধন যদি বিড়ালটির অভ্যাস না হয়ে থাকে, তবে তার মালিক তার ক্ষতির জন্য দায়ী হবেনা যেমন কুকুর যদি স্বভাবগতভাবে দংশনকারী না হয়েও ঘটনাক্রমে কাউকে দংশন করে বসে তবে মালিক তার জন্য দায়ী হয়না। আর যদি কামড়ানো স্বভাবধারী কুকুর ও ক্ষতিকর স্বভাবধারী বিড়াল কারো কাছে তার ইচ্ছা ও পোষ মানানোর চেষ্টা ছাড়াই অবস্থান করতে থাকে এবং সেই সুবাদে সে কারো ক্ষতি সাধন করে, তবে ঐ ব্যক্তি তার জন্য দায়ী হবেনা। কেননা এখানে কুকুরটি বা বিড়ালটি নিজেই ক্ষতির কারণ হয়েছে, তার মালিক নয়।
কোন্ কোন্ জন্তু হত্যা করা যাবে এবং কোন্ কোন্ জন্তুকে হত্যা করা যাবেনা
রসূলুল্লাহ সা. যে কটি প্রাণীকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন, সে কয়টি ব্যতীত আর কোনো প্রাণীকে হত্যা করা যাবেনা। হত্যার আদেশ দেয়া প্রাণী কয়টি হলো: কাক, চিল, গিরগিটি, ইঁদুর, সাপ, বিচ্ছু, দংশনকারী কুকুর। এছাড়া ক্ষতিকর হওয়ার দিক দিয়ে এই কটা প্রাণীর সাথে যাদের সাহায্য সাদৃশ্য আছে, সেগুলো যদি আক্রমণ নাও করে, তথাপি সেগুলোকেও হত্যা করা যাবে। সেগুলো হচ্ছে: বাঘ, সিংহ, ভিমরুল ও বোলতা। আয়শা রা. বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. পাঁচটি পাপিষ্ঠ প্রাণীকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন, চাই তারা হারাম শরীকের ভেতরে থাকুক বা বাহিরে থাকুক কাক, চিল, বিচ্ছু, ইঁদুর, দংশনকারী কুকুর।” (বুখারি, মুসলিম) বুখারি ও মুসলিমে উম্মে শুরাইক থেকে বর্ণিত হয়েছে, রসূলুল্লাহ সা. গিরগিটি হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন এবং একে 'পাপিষ্ঠ ক্ষুদ্র প্রাণী' বলে আখ্যায়িত করেছেন। এসব প্রাণীকে হত্যা করা হলে সেজন্য কেউ দায়ী হবেনা। অনুরূপ, অন্যান্য হিংস্র প্রাণী এবং ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ হত্যা করাও সর্বসম্মতভাবে দূষণীয় নয়, তা যতোই গৃহপালিত হোক না কেন। কিন্তু বিড়াল যদি আগ্রাসী বা হিংস্র আচরণ না করে, তবে তাকে হত্যা করলে তার মূল্য দিতে হবে। কাঠঠোকরা পাখি, পিপড়ে, মৌমাছি ও ব্যাঙ হত্যা করা যাবেনা। কেননা এদের দ্বারা সচরাচর কোনো ক্ষতি সাধিত হয়না। নাসায়ি ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি চড়ুই পাখি বা তার চেয়ে বড় কোনো পাখিকে সংগত পদ্ধতি ব্যতীত হত্যা করবে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে রসূলুল্লাহ, সংগত পদ্ধতি কি? তিনি বললেন: তাকে যবাই করা ও খাওয়া, মাথা কেটে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া নয়।" আর যদি কেউ অন্যায়ভাবে এগুলোকে হত্যা করে, তবে সে যেন আল্লাহর নিকট তওবা করে। তবে তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবেনা। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: রসূলুল্লাহ সা. চারটা প্রাণী: পিপড়ে, মৌমাছি, কাঠঠোকরা ও সারাদ (পাখি বিশেষ) হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00