📄 পালিত পশুর ক্ষতির প্রতিভাষ্য
পালিত পশুর ক্ষতির প্রতিকার কোনো পশু যদি তার হাত, পা বা মুখ দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি সাধন করে, তাহলে ইমাম শাফেয়ি, ইবনে আবি লায়লা ও ইবনে শাবরামার মতে পশুর মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু ইমাম মালেক, লায়েস ও আওযায়ির মতে পশুর আরোহী বা চালকের পক্ষ থেকে যদি প্রহার বা প্ররোচনামূলক কোনো কারণ না ঘটানো হয়, তবে সে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেনা। কিন্তু যদি তার দিক থেকে কোনো কারণ ঘটানো হয়ে থাকে, যেমন তাদের কেউ পশুটিকে কোনো ধরনের উস্কানি দিয়েছে এবং তার ফলে সে কোনো জিনিস নষ্ট করেছে। তাহলে নষ্টকৃত জিনিসের ক্ষতিপূরণ দিতে সে বাধ্য থাকবে। আর এটা যদি এমন কোনো অপরাধ হয়, যার জন্য কিসাস ওয়াজিব হয় এবং
📄 চালক ও আরোহী কর্তৃক জন্তুর ক্ষতির প্রতিকার
উস্কানিটাও ইচ্ছাকৃত হয়, তাহলে এতে কিসাস দিতে হবে। কেননা এ ক্ষেত্রে পশুটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর যদি উস্কানিটা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে থাকে, তাহলে এতে পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। আর নষ্ট হওয়া জিনিস যদি কোনো সম্পদ হয় তাহলে অপরাধীর সম্পত্তি থেকেই জরিমানা দেয়া হবে। ইমাম আবু হানিফা বলেন : কোনো মানুষ তার পশুর পিঠে আরোহী থাকা অবস্থায় যদি পশুটি অন্য কোনো মানুষকে পেছনের পা দিয়ে লাথি মারে, তাহলে কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া লাগবেনা। আর যদি সামনের পা দিয়ে আঘাত করে, তাহলে আরোহী তার জন্য দায়ী হবে। কেননা সে সামনের দিক থেকে তাকে ফেরাতে পারে। পেছনের দিক থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। আর যখন কোনো পশুকে চালাতে গিয়ে তার পিঠের উপর থেকে জিন বা লাগাম বা যার উপর মালপত্র বহন করা হয় তা পড়ে যাওয়ায় কোনো মানুষের ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে চালক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি কোনো পশুর উপর আরোহণ করে, অতঃপর অন্য কেউ পশুটাকে প্রহার করে বা গুতো দিয়ে উত্তেজিত করে, ফলে সে কোনো মানুষকে লাথি মারে অথবা ছুটে যাওয়ার সময় কাউকে আঘাত করে ও আঘাত করে হত্যা করে, তাহলে যে ব্যক্তি পশুটাকে গুতো দিয়ে উত্তেজিত করেছিল সে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে, আরোহী নয়। আর যদি পশুটি উস্কানিদাতাকে লাথি মেরে হত্যা করে, তবে এই হত্যার জন্য কেউ দায়ী হবেনা। কেননা এর কারণ সে নিজেই। আর যদি আরোহীকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে, তাহলে যে ব্যক্তি পশুকে উত্তেজিত করেছিল সে দিয়াত দিতে বাধ্য থাকবে। আর পশু যখন রাস্তার উপর চলার সময় পেশাব বা পায়খানা করে এবং তার উপর কোনো মানুষ পা পিছলে আছাড় খেয়ে মারা যায়, তবে এই ক্ষতির দায় কারো উপর বর্তাবেনা। অনুরূপ, পেশাব বা পায়খানার জন্য পশুকে বেঁধে রাখার পর এরূপ ঘটনা ঘটলেও একই বিধি কার্যকর হবে।
চালক ও আরোহী কর্তৃক জন্তুর ক্ষতির প্রতিকার যখন জন্তুর আরোহী বা চালক থাকে এবং সেই অবস্থায় পশু কারো ক্ষতি সাধন করে, তখন উক্ত আরোহী বা চালককে উক্ত ক্ষতিপূরণের দায় বহন করতে হবে। জনৈক ব্যক্তি নিজের ঘোড়া দাবড়ানোর কারণে এক ব্যক্তি পদদলিত হয়ে মারা গেলে উমর রা. তার উপর দিয়াত আরোপ করেন। যাহেরি মাযহাবের ফকিহগণের মতে, এ ক্ষেত্রে চালক বা আরোহীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবেনা। কারণ রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: অবলা প্রাণীর আঘাত দায়মুক্ত, কুয়া দায়মুক্ত ও খনি দায়মুক্ত।" তবে যাহেরি মাযহাবের ফকিহদের এই হাদিস থেকে প্রমাণ দর্শানোর সুযোগ থাকে তখন, যখন জন্তুর কোনো চালক বা আরোহী থাকেনা। সে ক্ষেত্রে জন্তু যত ক্ষতিই করুক, সর্বসম্মতভাবে তার জন্য কেউ দায়ী নয়।
📄 বেঁধে রাখা জন্তুর ক্ষয়ক্ষতি
বেঁধে রাখা বা আটক রাখা জন্তু যখন কোনো ক্ষতি সাধন করে তখন আবু হানিফার মতে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বৈধ স্থানে বেঁধে রাখা হয়েছে বলে ক্ষতিপূরণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ নেই। নু'মান বিন বশীর রা. থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন: যে ব্যক্তি জনসাধারণের চলাচলের পথে কোনো জন্তু বেঁধে রাখে অথবা কোনো সাধারণ
📄 গবাদি পশু কর্তৃক নষ্ট করা ফলাদির ক্ষতি পূরণ
বাজারে বেঁধে রাখে এবং সে পা বা হাত দিয়ে দলিত মথিত করে, তবে সে ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। -দার কুতনি।
ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: জন্তুকে যেভাবে রাখা উচিত, সেভাবে রাখলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবেনা। কিন্তু যেভাবে রাখা উচিত, সেভাবে না রাখলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
গবাদি পশু কর্তৃক নষ্ট করা ফসলাদির ক্ষতিপূরণ
মালেকি, শাফেয়ি ও অধিকাংশ হেজাযী ফকিহসহ অধিকাংশ আলেমের মতে গবাদি পশু দিনের বেলায় মালিক ব্যতীত অন্য কারো জান ও মালের ক্ষতি করলে মালিককে তার কোনো ক্ষতিপূরণের দায় বহন করতে হবেনা। কেননা জনগণের সুবিদিত প্রথা হলো, দিনের বেলায় প্রাচীর ও বাগানের মালিকরা বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ করে আর গবাদি পশুর মালিকগণ তাদের পশুদেরকে দিনের বেলা অবাধে বিচরণ করার সুযোগ দেয় এবং রাতের বেলায় গোয়ালে নিয়ে যায়। যে ব্যক্তি এই প্রথা লঙ্ঘন করে, সে রক্ষণাবেক্ষণের নিয়মবহির্ভূত কাজ করে এবং ক্ষতিকর তৎপরতায় লিপ্ত হয়।
উপরোক্ত বিধি শুধু সেই গবাদি পশুর উপর প্রযোজ্য, যার মালিক তাদের সাথে থাকেনা। পক্ষান্তরে যেসব পশুর সাথে তাদের মালিক, চালক বা আরোহী থাকে, তাদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের দায় মালিক, চালক বা আরোহীকে বা যার কাছে পশুগুলো অবস্থান করে তাকে বহন করতে হবে, চাই জন্তু তার পা দিয়ে, হাত দিয়ে বা মুখ দিয়ে ক্ষতি সাধন করুক। এই মতের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে মালেক বর্ণিত এই হাদীস পেশ করা হয় যে বারা ইবনে আযেবের রা. উটনি এক ব্যক্তির বাগানে ঢুকে ক্ষতি সাধন করলে রসূলুল্লাহ সা. ফায়সালা করলেন যে, বাগানের মালিকদের দায়িত্ব দিনের বেলা বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ করা, আর রাতের বেলা পশুদের দ্বারা ফসলের যে ক্ষতি সাধিত হয়, পশুর মালিকরা তার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। মালেকি ফকিহ সাহনুনের মতে, এ হাদিস মদিনার ন্যায় প্রাচীর বেষ্টিত বাগানের এলাকায় প্রযোজ্য। আর যেসব দেশে উন্মুক্ত বাগান ও ফসলের ক্ষেত বিদ্যমান, সেখানে পশুর মালিকরা পশুর সাধিত ক্ষতিপূরণ করতে বাধ্য থাকবে, চাই তা রাতেই হোক বা দিনেই হোক। আর হানাফি ফকিহদের মত হলো, পশুর সাথে তার মালিক না থাকলে পশুর সাধিত ক্ষয়ক্ষতির দায় কারো উপর থাকবেনা, চাই তা দিনে হোক বা রাতে হোক। কেননা রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "অবলা পশুর আঘাত দায়মুক্ত।" হানাফিগণ পশুর আঘাতের উপর তার যাবতীয় কর্মকান্ডকে কেয়াস করেন এবং সকল কর্মকাণ্ডকেই দায়মুক্ত গণ্য করেন।
পক্ষান্তরে পশুর মালিক যদি পশুর সাথে থাকে, তাহলে দেখতে হবে, সে পশুকে পেছন থেকে হাঁকায়, না সামনে থেকে টেনে নেয় বা আরোহী হয়ে চালায়। যদি পেছন থেকে হাঁকিয়ে নিয়ে যায়, তবে সে সর্বাবস্থায় ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। আর যদি টেনে নেয় বা আরোহী হয়ে চালায়, তবে মুখ ও সামনের পা দিয়ে সাধিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেনা।
অধিকাংশ ফকিহ তাদের মতের স্বপক্ষে বলেন: হানাফি ফকিহগণ যে হাদীস দ্বারা প্রমাণ দেন, তা একটা সাধারণ হাদীস, যার প্রয়োগক্ষেত্র অনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, এ বিধিটি কৃষিক্ষেত্রের ফসল ও শস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যান্য জিনিস সম্পর্কে ইবনে কুদামা বলেন: