📄 গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত
ও দার কুতনি বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশে পৌছা পর্যন্ত নারী ও পুরুষের দিয়াত সমান। মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক ও বায়হাকিতে বর্ণিত, রবীয়া ইবনে আব্দুর রহমান বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াবকে জিজ্ঞাসা করলাম, "নারীর আঙ্গুলে কত দিয়াত?" তিনি বললেন: দশটা উট। আমি বললাম: দুইটা আঙ্গুলে? তিনি বললেন: বিশটা উট। আমি বললাম: তিনটাতে? তিনি বললেন ত্রিশটা উট। আমি বললাম: চারটাটে? তিনি বললেন: বিশটা উট। আমি বললাম: যখন তার যখম আরো বড় হলো ও তার বিপদ আরো কঠিন হলো, তখন কি তার বুদ্ধি কমে গেলো? সাঈদ বললেন: তুমি কি ইরাকের অধিবাসী? (ইরাকিরা তার্কিক বলে খ্যাতি ছিলো।) আমি বললাম: বরং একজন আলেম অথবা একজন জ্ঞানপিপাসু অজ্ঞ ব্যক্তি। সাঈদ বললেন: হে আমার ভাতিজা, এটাই সুন্নত।"
ইমাম শাফেয়ি এই মতটির পর্যালোচনা করে বলেছেন: এখানে সুন্নত দ্বারা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব যায়দ বিন ছাবেতের প্রচলিত সুন্নত বা রীতি বুঝিয়েছেন। রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নত নয়। ইমাম শাফেয়ি বলেন: “সাধারণভাবে সুন্নত দ্বারা তো রসূলুল্লাহর সা.-এর সুন্নতই বুঝানো হয়। কিন্তু জানা যায়, শীর্ষ স্থানীয় সাহাবীগণ এই মতের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন। এটা যদি রসূলুল্লাহ সা. এর সুন্নত হতো, তাহলে তারা এর বিরোধিতা করতেন না। তাছাড়া এ মতটি যেহেতু একটি অবাস্তব বিষয়কে প্রতিষ্ঠিত করে, অর্থাৎ যখম যখন অধিকতর কষ্টদায়ক ও মারাত্মক হয়, তখন তার দিয়াত কমে যাওয়া, তাই এটা রসূলুল্লাহর সা. সুন্নত হতে পারেনা। কেননা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নত থেকে শরিয়তের যৌক্তিকতা প্রতিভাত হয়। এ মতটিকে রসূলুল্লাহ সা. এর সুন্নত বলে পরিচয় দেয়া চলেনা। কেননা শরিয়ত একটা অপরাধীকে শাস্তিবিহীন ঘোষণা করবে- এটা অসম্ভব।
আহলে কিতাবের দিয়াত ভুলবশত আহলে কিতাবের কেউ নিহত হলে তার দিয়াত মুসলমান নিহত হলে যে দিয়াত ওয়াজিব হয় তার অর্ধেক ওয়াজিব হবে। পুরুষ হলে মুসলমান পুরুষের দিয়াতের অর্ধেক, আর নারী হলে মুসলিম নারীর দিয়াতের অর্ধেক। ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. ফায়সালা করেছেন, আহলে কিতাবের দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের অর্ধেক, যখমের দিয়াতেও তেমনি। এটা ইমাম মালেক ও উমর ইবনে আব্দুল আযীযের অভিমত। আর আবু হানিফা, সাওরি, উমর রা. উসমান রা. ও ইবনে মাসউদ রা. এর মতে, আহলে কিতাবের দিয়াত মুসলমানদের দিয়াতের সমান। কারণ আল্লাহ বলেন: وَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ م بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقَ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ
"আর যদি সে (নিহত ব্যক্তি) এমন সম্প্রদায়ভুক্ত হয়, যার সাথে তোমরা অংগীকারাবদ্ধ, তবে তার পরিজনবর্গকে রক্তপণ অর্পণ ও মুমিন দাস মুক্ত করা বিধেয়।” ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী বলেছেন: ইহুদি, খৃস্টান ও যে কোনো অনুগত অমুসলিম নাগরিকের দিয়াত মুসলমানের দিয়াতেরই মতো। রসূলুল্লাহ সা. আবু বকর, উমর,
📄 নিয়ময়ের আগে দিয়াত দিতে হয় না
উসমান ও আলী রা.-এর আমলেও এ রকমই ছিলো। যখন মুয়াবিয়ার যুগ এলো, তখন তিনি অমুসলিমদের দিয়াতের অর্ধেক বাইতুলমালে জমা করতে লাগলেন এবং বাকি অর্ধেক নিহতের পরিজনকে দিতে লাগলেন। পরে উমর ইবনে আব্দুল আযীয অর্ধেক দিয়াত আদায়েরই সিদ্ধান্ত নিলেন এবং মুয়াবিয়া যে অর্ধেক বাইতুলমালের জন্য নিতেন, তা বাতিল করলেন। কিন্তু অনুগত অমুসলিম নাগরিক (যিম্মী) দের দিয়াত যে পূর্ণ দিয়াত ছিলো, সে কথা উমর ইবনে আব্দুল আযীযকে স্মরণ করিয়ে দেয়া আমার নসিবে হয়নি।”
ইমাম শাফেয়ির মতে, আহলে কিতাব ও যিম্মীদের দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ, আর চুক্তিবদ্ধ ও আশ্রয় প্রার্থী মুশরেক ও অগ্নি উপাসকের দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের এক-দশমাংশের দুই-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ কিনা মূল দিয়াত যেখানে বারো হাজার দিরহাম, সেখানে দিতে হবে আটশো দিরহাম। উমর রা., উসমান রা. ও ইবনে মাসউদ রা. বলেন : যিম্মী ও আহলে কিতাবের মহিলাদের দিয়াত এর অর্ধেক। ইবনে আব্বাস, শা'বি, নাখয়ি, শাফেয়ি ও তাবারির মতে, যিম্মী ও চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম হত্যায় দিয়াতের সাথে কাফফারাও দিতে হবে।
গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত গর্ভবতী মহিলার উপর ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত আঘাতের ফলে গর্ভস্থ সন্তান মারা গেলে ও গর্ভধারিণী মারা না গেলে "গাররা” তথা মধ্যম মানের দিয়াত দেয়া ওয়াজিব হবে, চাই গর্ভস্থ সন্তান মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হোক, অথবা গর্ভেই মারা যাক এবং চাই ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়ে মারা গেলে পূর্ণ দিয়াত দিতে হবে। ছেলে হলে একশো উট ও মেয়ে হলে পঞ্চাশ উট দিতে হবে। হাঁচি, শ্বাসপ্রশ্বাস, কাঁদা, চিৎকার করা, নড়াচড়া ইত্যাদি ধারা জীবিত বুঝা যাবে।
মায়ের পেটে সন্তান মারা গেলে ইমাম শাফেয়ির মতে, এটা জানা শর্ত যে, সন্তানের দেহ তৈরি হয়েছে ও তাতে প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে। তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, মানুষের আকৃতি তথা হাত ও আঙ্গুল ইত্যাদি প্রকাশ পাওয়া দরকার। ইমাম মালেকের মতে, এ শর্ত জরুরি নয়। তিনি বলেন: গর্ভধারিণী যাই প্রসব করুক, চাই তা এক টুকরো গোশত বা জমাট রক্ত হোক, যা দ্বারা বুঝা যায় যে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাতেই "গাররা” দিতে হবে। তবে শাফেয়ির মতটি অগ্রগণ্য। তাই যখন পূর্ণ দেহ সৃষ্টির কথা জানা যাবেনা, তখন কিছুই দিতে হবেনা।*
'গাররা'র পরিমাণ: গাররা হচ্ছে পাঁচশো দিরহাম। এটা শা'বি ও হানাফিদের বক্তব্য। আর আবু দাউদ ও নাসায়ীর বর্ণনা অনুসারে একশো ছাগল। কারো কারো মতে পাঁচটা উট। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. ফায়সালা করেছেন: গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত এক গাররা। চাই সে দাস হোক বা স্বাধীন হোক।
টিকাঃ
* আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, সন্তান পেটে থাকতেই যখন মা মারা যায়, তখন কোনো দিয়াত নেই। তবে পেটের উপর আঘাত করার কারণে মা মারা গেলে এবং তারপর সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হলে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। অধিকাংশ ফকিহর মতে, কোনো দিয়াত নেই। লায়েস ও দাউদের মতে, গাররা দিতে হবে। কেননা প্রহারের সময় মা জীবিত ছিলো এটাই বিবেচ্য বিষয়।
📄 অমরাত্মীর জনগোষ্টীর মধ্যে যখন লাল পাওয়া যায়
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে বর্ণিত, মায়ের পেটে নিহত শিশুর ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সা. এর সিদ্ধান্ত হলো, গাররা দিতে হবে। এ ফায়সালা তিনি যার উপর আরোপ করেন সে বললো: যে সন্তান কিছু খেলনা, পান করলোনা, কথা বললোনা, কলেমা পড়লোনা, তার জন্য কিভাবে আমি জরিমানা দেবো? এ ধরনের আঘাতের তো কোনো শাস্তি হয়না। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: এ-তো দেখছি গণকদের ভাই। এ হলো মুসলিম মায়ের গর্ভস্থ সন্তানের বিধান। যিম্মী মায়ের সন্তান সম্পর্কে বিদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও আবু হানিফা বলেছেন: এতে মায়ের দিয়াতের এক-দশমাংশ দিয়াত বিধেয়। তবে আবু হানিফা তার মূলনীতিতে অবিচল যে, যিম্মী ও মুসলমানের দিয়াত সমান। ইমাম শাফেয়িও তার মূলনীতিতে অটল যে, যিম্মীর দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। আর ইমাম মালেক তার মূলনীতিতে অবিচল যে, যিম্মীর দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের অর্ধেক।
কার উপর গাররা ওয়াজিব: ইমাম মালেক তাঁর শিষ্যবৃন্দ, হাসান বসরী ও বসরার ফকিহগণ বলেছেন: এটা অপরাধীর সম্পত্তি থেকে ওয়াজিব হবে। কিন্তু হানাফি, শাফেয়ি ও কুফার ফকিহগণের মতে, এটা 'আকেলা' অর্থাৎ পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর আরোপিত হবে। কেননা এটা একটা ভুলবশত কৃত অপরাধ, তাই এটা পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর আরোপিত হবে। জাবের রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. গর্ভস্থ সন্তান হত্যায় আঘাতকারীর আকেলার উপর গাররা আরোপ করেছেন এবং তা গর্ভধারিণীর স্বামী ও পুত্র দিয়ে শুরু করেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম মালেক ও হাসান বলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে প্রহার করে থাকলে এই দিয়াত ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াতের মতোই। তবে প্রথম মতটাই সঠিক।
গাররা কার প্রাপ্য: মালেকি শাফেয়ি ও অন্যান্যরা বলেন: গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত তার উত্তরাধিকারীরা পাবে এবং তা তাদের আইনানুগ উত্তরাধিকার থেকে আদায়যোগ্য। সাধারণ দিয়াত যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তর যোগ্য, তেমনি এই দিয়াতও উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরযোগ্য। কারো কারো মতে, এটা পাবে সন্তানের মা। কেননা গর্ভস্থ সন্তান তার অংগ প্রত্যংগের মতো। কাজেই তার দিয়াত একান্তভাবে তারই প্রাপ্য।
কাফফারাও ওয়াজিব কিনা: আলেমগণ একমত যে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মারা গেলে তার জন্য দিয়াত ও কাফফারা দুটোই দিতে হবে। তবে সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হলে গাররার সাথে কাফফারাও ওয়াজিব হবে কিনা এই প্রশ্নে ইমাম শাফেয়ি প্রমুখ বলেন: ওয়াজিব হবে। কেননা ইচ্ছাকৃত ও ভুল উভয় প্রকারের হত্যা বা যখমে তার মতে কাফফারা ওয়াজিব। আবু হানিফার মতে, কাফফারা ওয়াজিব নয়। কেননা এ ঘটনা ইচ্ছাকৃত অপরাধের সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তার মতে ইচ্ছাকৃত অপরাধে কাফফারা হয়না। ইমাম মালেকের মতে, কাফফারা মুস্তাহাব।
নিরাময়ের আগে দিয়াত দিতে হয়না
ইমাম মালেক বলেন: আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত হলো, ভুল বা অনিচ্ছাকৃত অপরাধে আহত ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া ও তার ক্ষত সেরে যাওয়ার আগে কোনো দিয়াত ওয়াজিব হয়না। আর অপরাধী যদি কোনো মানুষের হাতের পায়ের বা শরীরের অন্য কোনো
📄 দিয়াত পরিশোধের পর হত্যা
জায়গার হাড় ভুলক্রমে ভেঙ্গে দেয়, অত:পর আহত ব্যক্তি সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে দিয়াত দিতে হবেনা। আর যদি সুস্থ হতে কিছু বাকি থাকে, অথবা এমন দিয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়, যাতে দিয়াত হ্রাস পায়, তাহলে যে পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে, সেই অনুপাতে তার দিয়াত ওয়াজিব হবে। ঐ হাড়টি যদি এমন হয়, যার সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সা. নির্দিষ্ট দিয়াত ধার্য করেছেন, তাহলে রসূলুল্লাহ সা. যে পরিমাণ দিয়াত ধার্য করেছেন, সেই হিসাবে দিয়াত দিতে হবে। আর যদি রসূলুল্লাহ সা. এর ধার্যকৃত দিয়াতের অন্তর্ভুক্ত না হয় এবং সে ব্যাপারে কোনো সুন্নতও প্রচলিত না থাকে এবং কোনো নির্দিষ্ট দিয়াতও প্রচলিত না থাকে, তাহলে তা নিয়ে ইজতিহাদ বা গবেষণা করতে হবে। (আহত ব্যক্তি সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে গেলে দিয়াত দিতে হবেনা এটা আবু হানিফার মাযহাব। কেননা আহত ব্যক্তির ব্যথা পাওয়া ছাড়া কোনো স্থায়ী ক্ষতি হয়নি। শুধু ব্যথা পাওয়ার কোনো মূল্য দেয়া যায়না। এটা কাউকে মনে কষ্ট দেয়ার মতো তিরস্কার করা বা গালি দেয়ার সাথে তুলনীয়। কেননা গালি ও তিরস্কারের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান নেই। অবশ্য গালিদাতা বা তিরস্কারকারী শাস্তি থেকে রেহাই পাবেনা। তাকে তাযীর বা কিসাস নিতে হবে। ইমাম আবু ইউসুফের মতে, অপরাধীর উপর মনে কষ্ট দেয়ার একটা কিছু দিয়াত বা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যা কোনো ন্যায়পরায়ণ শালিস নির্ধারণ করবে। ইমাম মুহাম্মদের মতে, অপরাধীকে চিকিৎসকের ফি ও ওষুধের মূল্য দিতে হবে।)
বিবাদরত জনগোষ্ঠীর মধ্যে যখন লাশ পাওয়া যায় একটি জনগোষ্ঠী যখন পরস্পর বিবাদ বিসম্বাদে লিপ্ত হয়, অতঃপর তাদের মাঝে কোনো লাশ পাওয়া যায় এবং হত্যাকারী সনাক্ত করা না যায়, তখন তাতে দিয়াত দিতে হবে। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যখন পাথর মারামারি, বেত চালাচালি বা লাঠি দিয়ে মারামারি হয় এবং তাতে কেউ মারা যায়, তবে সেটি ভুলক্রমে সংঘটিত হত্যার আওতাভুক্ত। এই হত্যার দিয়াত ভুলবশতঃ হত্যার দিয়াতের মতোই। আর যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়, সে কিসাসযোগ্য। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত হত্যার কিসাসে বাধা দেবে, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ ও গযব। সে যত নফল বা ফরয ইবাদত করুক, কিছুই গৃহীত হবেনা।
এখন কার উপর দিয়াত ধার্য হবে, তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে।
আবু হানিফা বলেন: যে গোত্রে লাশ পাওয়া গেছে, নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা যদি সেই গোত্র ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ না তোলে, তাহলে সেই গোত্রের উপরই দিয়াত ধার্য হবে। ইমাম মালেক বলেন: ঐ গোত্রের সাথে যারা বিরোধে লিপ্ত তাদের উপর দিয়াত ধার্য হবে।
ইমাম শাফেয়ির মতে, উত্তরাধিকারীরা যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, তাহলে তাদের সকলের উপর 'কাসামা' পদ্ধতিতে দিয়াত বণ্টিত হবে। নচেত কোনো কিসাসও হবেনা, দিয়াতও নয়।
ইমাম আহমদ বলেন: নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে, তবে কাসামা হবে। নচেত অন্যদের পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর দিয়াত আরোপিত হবে।