📄 আহলে কিতাবের দিয়াত
মাথা ও মুখমন্ডলে যখমের দিয়াত
মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত দশ প্রকারের। তন্মধ্যে নয়টিই কিসাসবিহীন। একমাত্র 'মুযিহা' অর্থাৎ হাড় বেরিয়ে যাওয়া জখম যদি ইচ্ছাকৃত হয়, তবে, তাতে কিসাস কার্যকর হবে। এই যখমগুলা নিম্নরূপ: ১. খারেসা: সামান্য চামড়া ছিন্ন হওয়া। ২. বাযেয়া: চামড়া ছিন্ন হয়ে কিঞ্চিৎ গোশতও ছিন্ন হওয়া। ৩. দামিয়া বা দামেগা: যে যখমে রক্ত প্রবাহিত হয়। ৪. মুতালাহিমা: গোশতের ভেতরে গভীর ক্ষত। ৫. সামহাক: যে ক্ষতে হাড়ের উপর পাতলা আবরণ বহাল থাকে। ৬. মুযিহা: যে ক্ষতে হাড়ে আবরণ থাকেনা। হাড় বের হয়ে যায়। ৭. হাশেমা: যে ক্ষত হাড় ভেংগে চূর্ণ হয়ে যায়। ৮. মুনকিলা: যে ক্ষতে হাড় এতটা চূর্ণ ও দৃষ্টিগোচর হয় যে তা স্থানান্তরিত হয়ে যায়। ৯. মামুমা বা আম্মাহ: মাথার চামড়ায় যে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ১০. জায়েফা: পেটে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
মুযেহা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষতে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ বিচারকের ফায়সালা অনুসরণ করা হবে। কারো কারো মতে, চিকিৎসকের ফি দিতে হবে। মুযেহা ইচ্ছাকৃত হলে তাতে কিসাস দিতে হবে। আর অনিচ্ছাকৃত হলে দিয়াতের এক-দশমাংশের অর্ধেক দিতে হবে, চাই ক্ষত ছোট হোক বা বড় হোক। দিয়াতের এক-দশমাংশের অর্ধেক বলতে পাঁচটা উট বুঝায়। আমর ইবনে হাযমের নিকট রসূলুল্লাহ সা. যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তা থেকে এটা প্রমাণিত হয়। মুযেহা যদি একাধিক হয়, তবে তার প্রত্যেকটি বাবদ পাঁচটা করে উট দিতে হবে। মাথা ও মুখ ব্যতীত অন্য কোথাও মুযেহা হলে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির শালিশীর মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি করা হবে। আর হাশেমাতে একটা দিয়াতের এক-দশমাংশ অর্থাৎ দশটা উট দিতে হবে। যায়দ বিন ছাবেত থেকে এর বর্ণনা পাওয়া যায়, যার বিরোধিতা কোনো সাহাবী করেননি। মুনকিলাতে এক-দশমাংশ ও এক-দশমাংশের অর্ধেক অর্থাৎ পনেরোটা উট। আম্মা বা মামুমাতে সর্বসম্মতভাবে দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। আর জায়েফাতেও সর্বসম্মতভাবে দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। জখম যদি পেটের গভীরে পৌঁছে যায় তবে তাকে দু'টো জায়েফা ধরা হবে এবং দিয়াতের দুই-তৃতীয়াংশ দিতে হবে।
নারীর দিয়াত
ভুলক্রমে যখন কোনো নারীকে হত্যা করা হয় তখন পুরুষের দিয়াতের অর্ধেক ওয়াজিব হবে। নারীর অংগ প্রত্যংগ আহত হলে ও অন্যান্য স্থানে যখম হলেও পুরুষের যখমের দিয়াতের অর্ধেক দিতে হবে। এটাই অধিকাংশ আলেমের অভিমত। উমর রা, আলী রা, ইবনে মাসউদ রা. ও যায়দ বিন ছাবেত রা. বলেছেন: নারীর দিয়াত পুরুষের দিয়াতের অর্ধেক। এ বিষয়ে উক্ত চার সাহাবীর মতের বিরোধিতা আর কেউ করেননি। সুতরাং এটা একটা ইজমা। তাছাড়া যেহেতু নারী সাক্ষ্যদানে ও উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে পুরুষের অর্ধেক গণ্য হয়ে থাকে, তাই এখানেও তদ্রূপ হবে। আবার অন্যেরা বলেন: দিয়াতে নারী ও পুরুষ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সমান, অত:পর অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী পুরুষের অর্ধেক। নাসায়ী
টিকাঃ
ফিন্তুস সুন্নাহ ২য় খণ্ড ফর্মা নং-৫৭
📄 গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত
ও দার কুতনি বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশে পৌছা পর্যন্ত নারী ও পুরুষের দিয়াত সমান। মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেক ও বায়হাকিতে বর্ণিত, রবীয়া ইবনে আব্দুর রহমান বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াবকে জিজ্ঞাসা করলাম, "নারীর আঙ্গুলে কত দিয়াত?" তিনি বললেন: দশটা উট। আমি বললাম: দুইটা আঙ্গুলে? তিনি বললেন: বিশটা উট। আমি বললাম: তিনটাতে? তিনি বললেন ত্রিশটা উট। আমি বললাম: চারটাটে? তিনি বললেন: বিশটা উট। আমি বললাম: যখন তার যখম আরো বড় হলো ও তার বিপদ আরো কঠিন হলো, তখন কি তার বুদ্ধি কমে গেলো? সাঈদ বললেন: তুমি কি ইরাকের অধিবাসী? (ইরাকিরা তার্কিক বলে খ্যাতি ছিলো।) আমি বললাম: বরং একজন আলেম অথবা একজন জ্ঞানপিপাসু অজ্ঞ ব্যক্তি। সাঈদ বললেন: হে আমার ভাতিজা, এটাই সুন্নত।"
ইমাম শাফেয়ি এই মতটির পর্যালোচনা করে বলেছেন: এখানে সুন্নত দ্বারা সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব যায়দ বিন ছাবেতের প্রচলিত সুন্নত বা রীতি বুঝিয়েছেন। রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নত নয়। ইমাম শাফেয়ি বলেন: “সাধারণভাবে সুন্নত দ্বারা তো রসূলুল্লাহর সা.-এর সুন্নতই বুঝানো হয়। কিন্তু জানা যায়, শীর্ষ স্থানীয় সাহাবীগণ এই মতের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন। এটা যদি রসূলুল্লাহ সা. এর সুন্নত হতো, তাহলে তারা এর বিরোধিতা করতেন না। তাছাড়া এ মতটি যেহেতু একটি অবাস্তব বিষয়কে প্রতিষ্ঠিত করে, অর্থাৎ যখম যখন অধিকতর কষ্টদায়ক ও মারাত্মক হয়, তখন তার দিয়াত কমে যাওয়া, তাই এটা রসূলুল্লাহর সা. সুন্নত হতে পারেনা। কেননা রসূলুল্লাহ সা.-এর সুন্নত থেকে শরিয়তের যৌক্তিকতা প্রতিভাত হয়। এ মতটিকে রসূলুল্লাহ সা. এর সুন্নত বলে পরিচয় দেয়া চলেনা। কেননা শরিয়ত একটা অপরাধীকে শাস্তিবিহীন ঘোষণা করবে- এটা অসম্ভব।
আহলে কিতাবের দিয়াত ভুলবশত আহলে কিতাবের কেউ নিহত হলে তার দিয়াত মুসলমান নিহত হলে যে দিয়াত ওয়াজিব হয় তার অর্ধেক ওয়াজিব হবে। পুরুষ হলে মুসলমান পুরুষের দিয়াতের অর্ধেক, আর নারী হলে মুসলিম নারীর দিয়াতের অর্ধেক। ইমাম আহমদ বর্ণনা করেন: রসূলুল্লাহ সা. ফায়সালা করেছেন, আহলে কিতাবের দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের অর্ধেক, যখমের দিয়াতেও তেমনি। এটা ইমাম মালেক ও উমর ইবনে আব্দুল আযীযের অভিমত। আর আবু হানিফা, সাওরি, উমর রা. উসমান রা. ও ইবনে মাসউদ রা. এর মতে, আহলে কিতাবের দিয়াত মুসলমানদের দিয়াতের সমান। কারণ আল্লাহ বলেন: وَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ م بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقَ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُّؤْمِنَةٍ
"আর যদি সে (নিহত ব্যক্তি) এমন সম্প্রদায়ভুক্ত হয়, যার সাথে তোমরা অংগীকারাবদ্ধ, তবে তার পরিজনবর্গকে রক্তপণ অর্পণ ও মুমিন দাস মুক্ত করা বিধেয়।” ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী বলেছেন: ইহুদি, খৃস্টান ও যে কোনো অনুগত অমুসলিম নাগরিকের দিয়াত মুসলমানের দিয়াতেরই মতো। রসূলুল্লাহ সা. আবু বকর, উমর,
📄 নিয়ময়ের আগে দিয়াত দিতে হয় না
উসমান ও আলী রা.-এর আমলেও এ রকমই ছিলো। যখন মুয়াবিয়ার যুগ এলো, তখন তিনি অমুসলিমদের দিয়াতের অর্ধেক বাইতুলমালে জমা করতে লাগলেন এবং বাকি অর্ধেক নিহতের পরিজনকে দিতে লাগলেন। পরে উমর ইবনে আব্দুল আযীয অর্ধেক দিয়াত আদায়েরই সিদ্ধান্ত নিলেন এবং মুয়াবিয়া যে অর্ধেক বাইতুলমালের জন্য নিতেন, তা বাতিল করলেন। কিন্তু অনুগত অমুসলিম নাগরিক (যিম্মী) দের দিয়াত যে পূর্ণ দিয়াত ছিলো, সে কথা উমর ইবনে আব্দুল আযীযকে স্মরণ করিয়ে দেয়া আমার নসিবে হয়নি।”
ইমাম শাফেয়ির মতে, আহলে কিতাব ও যিম্মীদের দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ, আর চুক্তিবদ্ধ ও আশ্রয় প্রার্থী মুশরেক ও অগ্নি উপাসকের দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের এক-দশমাংশের দুই-তৃতীয়াংশ। অর্থাৎ কিনা মূল দিয়াত যেখানে বারো হাজার দিরহাম, সেখানে দিতে হবে আটশো দিরহাম। উমর রা., উসমান রা. ও ইবনে মাসউদ রা. বলেন : যিম্মী ও আহলে কিতাবের মহিলাদের দিয়াত এর অর্ধেক। ইবনে আব্বাস, শা'বি, নাখয়ি, শাফেয়ি ও তাবারির মতে, যিম্মী ও চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম হত্যায় দিয়াতের সাথে কাফফারাও দিতে হবে।
গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত গর্ভবতী মহিলার উপর ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত আঘাতের ফলে গর্ভস্থ সন্তান মারা গেলে ও গর্ভধারিণী মারা না গেলে "গাররা” তথা মধ্যম মানের দিয়াত দেয়া ওয়াজিব হবে, চাই গর্ভস্থ সন্তান মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হোক, অথবা গর্ভেই মারা যাক এবং চাই ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়ে মারা গেলে পূর্ণ দিয়াত দিতে হবে। ছেলে হলে একশো উট ও মেয়ে হলে পঞ্চাশ উট দিতে হবে। হাঁচি, শ্বাসপ্রশ্বাস, কাঁদা, চিৎকার করা, নড়াচড়া ইত্যাদি ধারা জীবিত বুঝা যাবে।
মায়ের পেটে সন্তান মারা গেলে ইমাম শাফেয়ির মতে, এটা জানা শর্ত যে, সন্তানের দেহ তৈরি হয়েছে ও তাতে প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছে। তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, মানুষের আকৃতি তথা হাত ও আঙ্গুল ইত্যাদি প্রকাশ পাওয়া দরকার। ইমাম মালেকের মতে, এ শর্ত জরুরি নয়। তিনি বলেন: গর্ভধারিণী যাই প্রসব করুক, চাই তা এক টুকরো গোশত বা জমাট রক্ত হোক, যা দ্বারা বুঝা যায় যে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাতেই "গাররা” দিতে হবে। তবে শাফেয়ির মতটি অগ্রগণ্য। তাই যখন পূর্ণ দেহ সৃষ্টির কথা জানা যাবেনা, তখন কিছুই দিতে হবেনা।*
'গাররা'র পরিমাণ: গাররা হচ্ছে পাঁচশো দিরহাম। এটা শা'বি ও হানাফিদের বক্তব্য। আর আবু দাউদ ও নাসায়ীর বর্ণনা অনুসারে একশো ছাগল। কারো কারো মতে পাঁচটা উট। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. ফায়সালা করেছেন: গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত এক গাররা। চাই সে দাস হোক বা স্বাধীন হোক।
টিকাঃ
* আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, সন্তান পেটে থাকতেই যখন মা মারা যায়, তখন কোনো দিয়াত নেই। তবে পেটের উপর আঘাত করার কারণে মা মারা গেলে এবং তারপর সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হলে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে। অধিকাংশ ফকিহর মতে, কোনো দিয়াত নেই। লায়েস ও দাউদের মতে, গাররা দিতে হবে। কেননা প্রহারের সময় মা জীবিত ছিলো এটাই বিবেচ্য বিষয়।
📄 অমরাত্মীর জনগোষ্টীর মধ্যে যখন লাল পাওয়া যায়
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে বর্ণিত, মায়ের পেটে নিহত শিশুর ব্যাপারে রসূলুল্লাহ সা. এর সিদ্ধান্ত হলো, গাররা দিতে হবে। এ ফায়সালা তিনি যার উপর আরোপ করেন সে বললো: যে সন্তান কিছু খেলনা, পান করলোনা, কথা বললোনা, কলেমা পড়লোনা, তার জন্য কিভাবে আমি জরিমানা দেবো? এ ধরনের আঘাতের তো কোনো শাস্তি হয়না। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: এ-তো দেখছি গণকদের ভাই। এ হলো মুসলিম মায়ের গর্ভস্থ সন্তানের বিধান। যিম্মী মায়ের সন্তান সম্পর্কে বিদায়াতুল মুজতাহিদ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইমাম মালেক, শাফেয়ি ও আবু হানিফা বলেছেন: এতে মায়ের দিয়াতের এক-দশমাংশ দিয়াত বিধেয়। তবে আবু হানিফা তার মূলনীতিতে অবিচল যে, যিম্মী ও মুসলমানের দিয়াত সমান। ইমাম শাফেয়িও তার মূলনীতিতে অটল যে, যিম্মীর দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। আর ইমাম মালেক তার মূলনীতিতে অবিচল যে, যিম্মীর দিয়াত মুসলমানের দিয়াতের অর্ধেক।
কার উপর গাররা ওয়াজিব: ইমাম মালেক তাঁর শিষ্যবৃন্দ, হাসান বসরী ও বসরার ফকিহগণ বলেছেন: এটা অপরাধীর সম্পত্তি থেকে ওয়াজিব হবে। কিন্তু হানাফি, শাফেয়ি ও কুফার ফকিহগণের মতে, এটা 'আকেলা' অর্থাৎ পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর আরোপিত হবে। কেননা এটা একটা ভুলবশত কৃত অপরাধ, তাই এটা পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর আরোপিত হবে। জাবের রা. থেকে বর্ণিত: রসূলুল্লাহ সা. গর্ভস্থ সন্তান হত্যায় আঘাতকারীর আকেলার উপর গাররা আরোপ করেছেন এবং তা গর্ভধারিণীর স্বামী ও পুত্র দিয়ে শুরু করেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম মালেক ও হাসান বলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে প্রহার করে থাকলে এই দিয়াত ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াতের মতোই। তবে প্রথম মতটাই সঠিক।
গাররা কার প্রাপ্য: মালেকি শাফেয়ি ও অন্যান্যরা বলেন: গর্ভস্থ সন্তানের দিয়াত তার উত্তরাধিকারীরা পাবে এবং তা তাদের আইনানুগ উত্তরাধিকার থেকে আদায়যোগ্য। সাধারণ দিয়াত যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তর যোগ্য, তেমনি এই দিয়াতও উত্তরাধিকার সূত্রে হস্তান্তরযোগ্য। কারো কারো মতে, এটা পাবে সন্তানের মা। কেননা গর্ভস্থ সন্তান তার অংগ প্রত্যংগের মতো। কাজেই তার দিয়াত একান্তভাবে তারই প্রাপ্য।
কাফফারাও ওয়াজিব কিনা: আলেমগণ একমত যে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মারা গেলে তার জন্য দিয়াত ও কাফফারা দুটোই দিতে হবে। তবে সন্তান মৃত ভূমিষ্ঠ হলে গাররার সাথে কাফফারাও ওয়াজিব হবে কিনা এই প্রশ্নে ইমাম শাফেয়ি প্রমুখ বলেন: ওয়াজিব হবে। কেননা ইচ্ছাকৃত ও ভুল উভয় প্রকারের হত্যা বা যখমে তার মতে কাফফারা ওয়াজিব। আবু হানিফার মতে, কাফফারা ওয়াজিব নয়। কেননা এ ঘটনা ইচ্ছাকৃত অপরাধের সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তার মতে ইচ্ছাকৃত অপরাধে কাফফারা হয়না। ইমাম মালেকের মতে, কাফফারা মুস্তাহাব।
নিরাময়ের আগে দিয়াত দিতে হয়না
ইমাম মালেক বলেন: আমাদের নিকট সর্বসম্মত মত হলো, ভুল বা অনিচ্ছাকৃত অপরাধে আহত ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া ও তার ক্ষত সেরে যাওয়ার আগে কোনো দিয়াত ওয়াজিব হয়না। আর অপরাধী যদি কোনো মানুষের হাতের পায়ের বা শরীরের অন্য কোনো