📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপকারিতা বা বাবদ দিয়াত
ভুলবশত: সংঘটিত হত্যার দিয়াতের মতো তিন বছরে পরিশোধযোগ্য। আধা-ইচ্ছাকৃত ও ভুলবশত: হত্যার দিয়াত পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর ওয়াজিব করাটা ইসলামের সাধারণ মূলনীতির ব্যতিক্রম। মূলনীতিটি হলো: মানুষ শুধু তার নিজের কাজের জন্য দায়ী এবং নিজের কার্যকলাপের জন্যই তাকে হিসেব দিতে ও জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ বলেন:
. وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى “কেউ অন্য কারো ভার বহন করবেনা।" আর রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন : "কাউকে তার পিতার বা ভাই এর পাপের জন্য দায়ী করা হবেনা।" -নাসায়ী।
পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দেরকে এ ক্ষেত্রে দিয়াতে অংশ গ্রহণের বিধান ইসলাম শুধু অপরাধীর প্রতি সহানুভূতি ও তার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই জারি করেছে। কেননা সে এমন একটি অপরাধে জড়িত, যা সে ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি। এটা ঐতিহ্যবাহী আরবীয় সমাজব্যবস্থা বহাল রাখার জন্যই করা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি গোত্রের অভ্যন্তরে যে পারস্পরিক সাহায্য, সহযোগিতা ও অংশিদারিত্ব বিরাজ করতো, তার পরিপ্রেক্ষিতে এটা ছিলো উক্ত সমাজব্যবস্থার বাস্তব দাবি। এর যৌক্তিকতা সুস্পষ্ট। গোত্র যখন উপলব্ধি করবে যে, গোত্রের কোনো সদস্য দ্বারা এ অপরাধ সংঘটিত হলে সমগ্র গোত্রকে তার দিয়াতের ভার বহনে শরিক হতে হবে, তখন গোত্র সর্বদা সচেষ্ট থাকবে তার আওতাধীন প্রতিটি লোককে অপরাধ থেকে নিবৃত্ত রাখতে এবং তাদেরকে এমন নির্মল জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করবে যা তাদেরকে ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখবে।
ফকিহদের অধিকাংশের মত হলো, পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়রা ভুলবশত: সংঘটিত অপরাধের দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত দায়িত্ব নেবে, আর এক-তৃতীয়াংশের কম হলে তা অপরাধীর সম্পত্তি থেকে দেয়া হবে। (ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: অপরাধ ছোট হোক বা বড় হোক, ভুলবশত:কৃত অপরাধের দিয়াত পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দেরকেই পুরো বহন করতে হবে। অনুরূপ ইচ্ছাকৃত অপরাধের দিয়াত পুরোপুরি অপরাধীর সম্পত্তি থেকেই দেয়া হবে, তা কম হোক বা বেশি হোক।)
মালেক ও আহমদ রা. এর মতে, পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের কারো উপর দিয়াতের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ ওয়াজিব হয়না। শাসক চেষ্টা করবেন তাদের প্রত্যেকের উপর ততখানি আরোপ করতে, যতখানি তার পক্ষে দেয়া সহজ হয়। আর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় দিয়ে শুরু করবেন এবং তারপর অবশিষ্টদের মধ্যে যেজন ঘনিষ্ঠতর, তারপর যেজন ঘনিষ্ঠতর, এভাবে পর্যায়ক্রমে বণ্টন করবেন।
ইমাম শাফেয়ি বলেন: পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে ধনীর উপর এক দিনার, দরিদ্রের উপর আধা দিনার। তার মতে, দিয়াত আত্মীয়দের উপর তাদের ঘনিষ্ঠতা অনুযায়ী ধার্য হবে। সর্বাপেক্ষা ঘনিষ্ঠ হলো বাবার সন্তানেরা, তারপর দাদার সন্তানেরা, তারপর বাবার সন্তানদের সন্তানেরা। আর হত্যাকারীর যদি কোনো পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয় বংশের ভেতর বা মিত্রদের ভেতর না থেকে থাকে তাহলে দিয়াতের ভার পড়বে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের উপর। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "যার কোনো অভিভাবক নেই, তার অভিভাবক আমি।" অনুরূপ অপরাধী যদি দরিদ্র হয় এবং তার পরিবারও যদি দরিদ্র হয় এবং দিয়াত বহনে অক্ষম হয়, তাহলে বাইতুলমাল বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারই দিয়াতের দায়িত্ব বহন করবে।
যুদ্ধের সময় যদি মুসলমানরা কাউকে কাফের ভেবে হত্যা করে, অত:পর জানা যায় যে,
📄 মাথা ও মুখমণ্ডলের জখমের দিয়াত
সে মুসলমান, তাহলে তার দিয়াত বাইতুলমাল থেকে দেয়া হবে। কেননা ইমাম শাফেয়ি প্রমুখ বর্ণনা করেছেন, হুযাইফার পিতা ইয়ামানের দিয়াত রসূলুল্লাহ সা. পরিশোধ করেছিল। মুসলমানরা ওহুদ যুদ্ধে তাকে চিনতে না পেরে হত্যা করেছিল। ভিড়ের চাপে কেউ মারা গেলে তার দিয়াতও বাইতুলমাল থেকে দেয়া হবে। মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি জুমার দিনে ভিড়ের চাপে মারা গেলো। আলী রা. বাইতুলমাল থেকে তার দিয়াত পরিশোধ করলেন। তবে হানাফিদের মতে, বর্তমান যুগে দিয়াত অপরাধীর সম্পত্তি থেকেই দেয়া হবে। দুররুল মুখতার গ্রন্থে বলা হয়েছে: “পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাহায্যই এর ভিত্তি। এটা যেখানে বিদ্যমান, সেখানে পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের দিয়াত প্রদান চলবে। যেখানে তা নেই, সেখানে চলবেনা।” আর যেখানে কোনো গোত্রও নেই, পারস্পরিক সাহায্যও নেই, সেখানে দিয়াত পরিশোধ করবে বাইতুলমাল। আর বাইতুলমাল না থাকলে দিয়াত দেয়া হবে অপরাধীর সম্পত্তি থেকে। ইবনে তাইমিয়ার মতে, পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের দিয়াত প্রদান অসম্ভব হলে যার দ্বারা ভুলক্রমে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার সম্পত্তি থেকেই দেয়া হবে।
অংগ প্রত্যংগের দিয়াত
মানুষের অংগ প্রত্যংগ তিন রকমের একক অংগ, জোড়া অংগ, দুই এর অধিক অংগ। একক অংগের উদাহরণ হলো: নাক, জিহ্বা ও পুরুষাংগ। আর জোড়া অংগের উদাহরণ চোখ, কান, ঠোঁট, গাল, হাত পা, অণ্ডকোষ, স্তন, নিতম্ব ও ভ্রু ইত্যাদি।
কেউ যখন অন্য কারো একক বা জোড়া অংগ পুরো আহত করতঃ নষ্ট করে দেয়, তখন পুরো দিয়াত ওয়াজিব হবে। আর যখন জোড়া অংগের একটা নষ্ট করে তখন অর্ধেক দিয়াত ওয়াজিব হবে। সুতরাং নাক আহত করে নষ্ট করলে পুরো দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা নাকের কাজ হলো নাসারন্ধ্রে ঘ্রাণ সঞ্চয় করা, অত:পর তা মস্তিষ্কে তুলে নেয়া। এ কাজটা সম্পূর্ণই বন্ধ হয়ে যায় নাকের উপরের নরম অংশটি কেটে দিলে। অনুরূপ কেউ জিহ্বা কেটে নিলে পুরো দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা যে বাকশক্তি দ্বারা মানুষ বাকশক্তিহীন পশু থেকে পৃথক হয়, সেটাই তাতে লোপ পায়। বাকশক্তি হচ্ছে এমন একটা পরম কাঙ্ক্ষিত সুবিধা, যার অভাবে মানুষ সকল স্বার্থ ও কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। এ দ্বারাই সে অন্যদেরকে নিজের উদ্দেশ্য জানাতে পারে ও নিজের মনোভাব ব্যক্ত করতে পারে। অনুরূপ, জিহ্বার অংশ বিশেষ কেটে নিলে যদি মোটেই কথা বলতে না পারে, তবে সে ক্ষেত্রেও পুরো দিয়াত ওয়াজিব হবে। কারণ পুরো জিহ্বা কেটে নিলে যেমন তার উপকারিতা লোপ পায়, অংশ বিশেষ কেটে নেয়াতেও তদ্রূপ ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যার জিহ্বা কাটা হয়েছে, সে যদি কিছু অক্ষর উচ্চারণ করতে পারে, আর কিছু অক্ষর উচ্চারণ করতে না পারে, তাহলে অক্ষরের সংখ্যা অনুপাতে দিয়াত নির্ধারিত হবে। আলী রা. থেকে বর্ণিত: তিনি অক্ষর অনুপাতে দিয়াত নির্ধারণ করেছিলেন। যে কটা অক্ষর সে উচ্চারণ করতে সক্ষম, সে ক'টা অনুপাতে দিয়াতের পরিমাণ হ্রাস করেন। আর যে ক'টা অক্ষর উচ্চারণে অক্ষম, সে ক'টার বাবদ দিয়াত আরোপ করেন।
পুরুষাংগের শুধু অগ্রভাগ কেটে ফেললেও পুরো দিয়াত দিতে হবে। কেননা সহবাস ও প্রস্রাব ধরে রাখার কাজ এই অংশ দিয়েই সম্পন্ন হয়। যদি কারো পিঠে আঘাত করা হয় এবং তার ফলে সে চলতে অক্ষম হয়, তাহলেও পুরো দিয়াত ওয়াজিব হবে। দুই চোখ নষ্ট
📄 নারীর দিয়াত
করলে পুরো দিয়াত এবং এক চোখ নষ্ট করলে অর্ধেক দিয়াত। দুই পলককে আহত করলে পুরো দিয়াত, এক চোখের দুই পলক আহত করলে অর্ধেক দিয়াত, এক চোখের এক পলক আহত করলে এক-চতুর্থাংশ দিয়াত। দুই কানে পুরো দিয়াত, এক কানে অর্ধেক দিয়াত। দুই ঠোঁটে পুরো দিয়াত ও এক ঠোঁটে অর্ধেক দিয়াত ওয়াজিব, চাই নিচের ঠোঁট হোক বা উপরের ঠোঁট হোক। দুই হাতের জন্য পুরো দিয়াত, এক হাতের জন্য অর্ধেক দিয়াত। দুই পায়ের জন্য পুরো দিয়াত। এক পায়ের জন্য অর্ধেক দিয়াত, দুই পায়ের আঙ্গুলগুলোর জন্য পুরো দিয়াত, দুই হাতের আঙ্গুলগুলোর জন্য পুরো দিয়াত এবং প্রত্যেক আঙ্গুলের জন্য দশটা উট (অর্থাৎ দিয়াতের এক-দশমাংশ) ওয়াজিব। আঙ্গুলে কোনো পার্থক্য নেই। বুড়ো আঙ্গুল ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল ও অন্যান্য আঙ্গুল সব সমান। হাত পায়ের আঙ্গুলগুলোর প্রত্যেক আঙ্গুলের অগ্রভাগের জন্য দিয়াতের এক দশমাংশের এক-তৃতীয়াংশ ওয়াজিব। প্রত্যেক আঙ্গুলে তিনটে জোড়া থাকে। কিন্তু বুড়ো আঙ্গুলে দুটো জোড়া। প্রত্যেক জোড়ায় দিয়াতের এক-দশমাংশের অর্ধেক ওয়াজিব। অণ্ডকোষদ্বয়ের জন্য পূর্ণ দিয়াত এবং এর একটিতে অর্ধেক দিয়াত ওয়াজিব। নিতম্বদ্বয়ের জন্য এবং পুরুষ বা স্ত্রীর উভয় স্তনের জন্য পূর্ণ দিয়াত, আর এর একটির জন্য অর্ধেক দিয়াত ওয়াজিব। সবক'টি দাঁতের জন্য পূর্ণ দিয়াত এবং প্রত্যেক দাঁতের জন্য পাঁচটি উট ওয়াজিব। সকল দাঁত সমান।
অংগ প্রত্যংগের উপকারিতা বাবদ দিয়াত
প্রহারের দরুন কারো মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটলে পূর্ণ দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা মস্তিষ্কই মানুষকে পশু থেকে পৃথক করে। অনুরূপ কোনো ইন্দ্রিয়, যেমন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, ঘ্রাণশক্তি, আস্বাদনশক্তি বা বাকশক্তি পুরোপুরি বিলুপ্ত হলেও পুরো দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা এই ইন্দ্রিয়গুলোর প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক কাঙ্ক্ষিত উপকারিতা রয়েছে এবং এগুলো সংশ্লিষ্ট মানুষটির সৌন্দর্য ও জীবনের পূর্ণতা সাধনের উপকরণ। জনৈক ব্যক্তি অপর একজনকে প্রহার করার কারণে তার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, বোধশক্তি ও ঘ্রাণশক্তি লোপ পাওয়ায় উমর রা. প্রহারকারীর উপরে চারটা পূর্ণ দিয়াত আরোপ করেন। অথচ আহত লোকটি জীবিত ছিলো।
যখন দুই চোখের একটির দৃষ্টিশক্তি অথবা দুই কানের একটির শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়, তখন অর্ধেক দিয়াত ওয়াজিব হয়, চাই অপরটি সুস্থ থাক বা না থাক।
মহিলার উভয় স্তন আহত করলে পূর্ণ দিয়াত ও একটি আহত করলে অর্ধেক দিয়াত ওয়াজিব হবে। আর এক চোখ কানার ভালো চোখটি নষ্ট করে দিলে পূর্ণ দিয়াত দিতে হবে। উমর, উসমান, আলী ও ইবনে উমর এরূপ ফায়সালা করেছেন এবং কোনো সাহাবী তাদের বিরোধিতা করেননি। কেননা যার এক চোখ অন্ধ, তার সুস্থ চোখ দিয়ে দুই চোখের কাজ হয়ে থাকে। তাই সেই সুস্থ চোখটি নষ্ট হওয়া উভয় চোখ নষ্ট হওয়ার সমান। মাথার সমস্ত চুল, সমস্ত দাড়ি, উভয় ভ্রু ও উভয় চোখের পাতার সমস্ত চুল কেটে দিলে পূর্ণ দিয়াত দিতে হবে। আর একটি ভ্রুর চুল কাটলে অর্ধেক দিয়াত ওয়াজিব হবে। এক চোখের পাতার চুলে সিকি দিয়াত দিতে হবে। আর গোঁফের ব্যাপারটি বিচারকের মতামতের উপর ন্যস্ত করতে হবে।
📄 আহলে কিতাবের দিয়াত
মাথা ও মুখমন্ডলে যখমের দিয়াত
মাথা ও মুখমণ্ডলে আঘাত দশ প্রকারের। তন্মধ্যে নয়টিই কিসাসবিহীন। একমাত্র 'মুযিহা' অর্থাৎ হাড় বেরিয়ে যাওয়া জখম যদি ইচ্ছাকৃত হয়, তবে, তাতে কিসাস কার্যকর হবে। এই যখমগুলা নিম্নরূপ: ১. খারেসা: সামান্য চামড়া ছিন্ন হওয়া। ২. বাযেয়া: চামড়া ছিন্ন হয়ে কিঞ্চিৎ গোশতও ছিন্ন হওয়া। ৩. দামিয়া বা দামেগা: যে যখমে রক্ত প্রবাহিত হয়। ৪. মুতালাহিমা: গোশতের ভেতরে গভীর ক্ষত। ৫. সামহাক: যে ক্ষতে হাড়ের উপর পাতলা আবরণ বহাল থাকে। ৬. মুযিহা: যে ক্ষতে হাড়ে আবরণ থাকেনা। হাড় বের হয়ে যায়। ৭. হাশেমা: যে ক্ষত হাড় ভেংগে চূর্ণ হয়ে যায়। ৮. মুনকিলা: যে ক্ষতে হাড় এতটা চূর্ণ ও দৃষ্টিগোচর হয় যে তা স্থানান্তরিত হয়ে যায়। ৯. মামুমা বা আম্মাহ: মাথার চামড়ায় যে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ১০. জায়েফা: পেটে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়।
মুযেহা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষতে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ বিচারকের ফায়সালা অনুসরণ করা হবে। কারো কারো মতে, চিকিৎসকের ফি দিতে হবে। মুযেহা ইচ্ছাকৃত হলে তাতে কিসাস দিতে হবে। আর অনিচ্ছাকৃত হলে দিয়াতের এক-দশমাংশের অর্ধেক দিতে হবে, চাই ক্ষত ছোট হোক বা বড় হোক। দিয়াতের এক-দশমাংশের অর্ধেক বলতে পাঁচটা উট বুঝায়। আমর ইবনে হাযমের নিকট রসূলুল্লাহ সা. যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তা থেকে এটা প্রমাণিত হয়। মুযেহা যদি একাধিক হয়, তবে তার প্রত্যেকটি বাবদ পাঁচটা করে উট দিতে হবে। মাথা ও মুখ ব্যতীত অন্য কোথাও মুযেহা হলে একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির শালিশীর মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি করা হবে। আর হাশেমাতে একটা দিয়াতের এক-দশমাংশ অর্থাৎ দশটা উট দিতে হবে। যায়দ বিন ছাবেত থেকে এর বর্ণনা পাওয়া যায়, যার বিরোধিতা কোনো সাহাবী করেননি। মুনকিলাতে এক-দশমাংশ ও এক-দশমাংশের অর্ধেক অর্থাৎ পনেরোটা উট। আম্মা বা মামুমাতে সর্বসম্মতভাবে দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। আর জায়েফাতেও সর্বসম্মতভাবে দিয়াতের এক-তৃতীয়াংশ। জখম যদি পেটের গভীরে পৌঁছে যায় তবে তাকে দু'টো জায়েফা ধরা হবে এবং দিয়াতের দুই-তৃতীয়াংশ দিতে হবে।
নারীর দিয়াত
ভুলক্রমে যখন কোনো নারীকে হত্যা করা হয় তখন পুরুষের দিয়াতের অর্ধেক ওয়াজিব হবে। নারীর অংগ প্রত্যংগ আহত হলে ও অন্যান্য স্থানে যখম হলেও পুরুষের যখমের দিয়াতের অর্ধেক দিতে হবে। এটাই অধিকাংশ আলেমের অভিমত। উমর রা, আলী রা, ইবনে মাসউদ রা. ও যায়দ বিন ছাবেত রা. বলেছেন: নারীর দিয়াত পুরুষের দিয়াতের অর্ধেক। এ বিষয়ে উক্ত চার সাহাবীর মতের বিরোধিতা আর কেউ করেননি। সুতরাং এটা একটা ইজমা। তাছাড়া যেহেতু নারী সাক্ষ্যদানে ও উত্তরাধিকার প্রাপ্তিতে পুরুষের অর্ধেক গণ্য হয়ে থাকে, তাই এখানেও তদ্রূপ হবে। আবার অন্যেরা বলেন: দিয়াতে নারী ও পুরুষ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সমান, অত:পর অন্যান্য ক্ষেত্রে নারী পুরুষের অর্ধেক। নাসায়ী
টিকাঃ
ফিন্তুস সুন্নাহ ২য় খণ্ড ফর্মা নং-৫৭