📄 কিসাস আদায়ের কারণে মৃত্যু ঘটলে
কিসাস আদায়ের কারণে সংঘটিত ক্ষত থেকে যদি কিসাসদাতার মৃত্যু ঘটে তবে তা নিয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে এতে কিসাস গ্রহণকারীর উপর কোনো দায় বর্তাবেনা। কেননা সে কোনো সীমালঙ্ঘন করেনি। তাছাড়া যেহেতু চোরের হাত কাটার কারণে তার মৃত্যু ঘটলে সর্বসম্মতভাবে তার দায় কারো ওপর পড়েনা, তাই এ ঘটনাও তদ্রূপ। কিন্তু আবু হানিফা, সাওরি ও ইবনে আবি লায়লার মতে, কিসাসদাতা মারা গেলে কিসাস গ্রহিতার পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা এটা একটা অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড।
কিসাস আদায়ের কারণে সংঘটিত ক্ষত থেকে যদি কিসাসদাতার মৃত্যু ঘটে তবে তা নিয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে এতে কিসাস গ্রহণকারীর উপর কোনো দায় বর্তাবেনা। কেননা সে কোনো সীমালঙ্ঘন করেনি। তাছাড়া যেহেতু চোরের হাত কাটার কারণে তার মৃত্যু ঘটলে সর্বসম্মতভাবে তার দায় কারো ওপর পড়েনা, তাই এ ঘটনাও তদ্রূপ। কিন্তু আবু হানিফা, সাওরি ও ইবনে আবি লায়লার মতে, কিসাসদাতা মারা গেলে কিসাস গ্রহিতার পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা এটা একটা অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড।
📄 খাদ্য় সামগ্রী গ্রহণে অনুমতি
খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে অনুমতি
অধিকাংশ আলেমের মত হলো, অন্য কারো পশুর দুধ মালিকের অনুমতি ব্যতীত দোহন করা অবৈধ। তবে প্রবল ক্ষুধায়, যদি উপায়ান্তর না থাকে এবং মালিক অনুপস্থিত থাকে, তবে দোহন করার অধিকার তার থাকবে। দোহন করে সে দুধ পান করতে পারবে। কিন্তু মালিককে তার মূল্য দিতে বাধ্য থাকবে। অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী ও গাছে ঝুলন্ত ফলও অদ্রূপ। কেননা অনন্যোপায় অবস্থা অন্যের অধিকারকে রহিত করেনা।
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন কখনো অন্যের পশুর দুধ তার অনুমতি ছাড়া দোহন না করে। তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে তার বাড়ি কেউ প্রবেশ করুক এবং তার দ্রব্য ভাণ্ডার ভেঙ্গে তা থেকে তার খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাক? তাদের গবাদি পশুর ওলান তো তাদের খাদ্যভাণ্ডার। কাজেই কেউ যেন
📄 কাসামা বা গণশপথ
৪৬৫ কোনোক্রমেই অন্যের পশুর দুধ তার অনুমতি ছাড়া দোহন না করে।"-মুয়াত্তা ইমাম মালেক।
ইমাম শাফেয়ি বলেন: মূল্য দিতে বাধ্য থাকবেনা। কেননা অনন্যোপায় অবস্থা দায়মুক্ত করে। কেননা এ ব্যাপারে শরিয়তের অনুমতি রয়েছে। একটা জিনিসের অনুমতিও থাকবে আর সে জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে তা হতে পারেনা।
কাসামা বা গণশপথ যখন কোনো জনপদে একটি নিহত লাশ পাওয়া যায় এবং তার হত্যাকারী সনাক্ত করা সম্ভব হয়না, তখন ঐ জনপদবাসীর মধ্য থেকে যে গোষ্ঠীটির মধ্যে হত্যাকারীর থাকার কথা এবং তাদের বাইরে থাকা সম্ভব বলে প্রতীয়মান হয়না, এবং তাদের মধ্যে তার হত্যার সাথে জড়িত থাকার কিছু আলামতও পাওয়া যায়, যেমন নিহত ব্যক্তিকে তার শত্রুগোষ্ঠী বেষ্টিত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তাদের সাথে অন্য কেউ মিশ্রিত থাকেনা, অথবা কোনো ঘরে বা প্রান্তরে একদল লোক বিদ্যমান, কিন্তু তারা নিহত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকে, অথবা লাশটি একপ্রান্তে পাওয়া যায় এবং পাশেই এক ব্যক্তিকে তার রক্তে রঞ্জিত দেখা যায়, সেই সন্দেহভাজন জনগোষ্ঠীটির কাসামা বা গণশপথ অনুষ্ঠিত হবে। নিহত ব্যক্তি যদি কোনো শহরে কিংবা তার কোনো সড়কে বা শহরের উপকণ্ঠে থাকে, তবে ঐ শহরের অধিবাসীদের কাসামা অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি তার লাশ দুটি শহরের বা জনপদের মাঝখানে পাওয়া যায়, তবে যে জনপদটি লাশের নিকটতর তার অধিবাসীদের কাসামা অনুষ্ঠিত হবে।
কাসামার নিয়ম হলো, নিহতের উত্তরাধিকারী উক্ত শহর বা জনপদ থেকে পঞ্চাশজন লোক বাছাই করে তাদেরকে এই মর্মে শপথ করাবে যে, "আল্লাহর শপথ, আমরা তাকে হত্যা করিনি এবং কে হত্যা করেছে তাও জানিনা।" যদি তারা শপথ করে, তবে দিয়াতের দায়িত্ব তাদের উপর থেকে রহিত হবে। আর যদি শপথ করতে অস্বীকার করে, তবে গোটা শহরবাসীর উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। আর যদি বিষয়টা রহস্যপূর্ণ ও অমীমাংসিতই থেকে যায়, তবে তার দিয়াত সরকারি কোষাগার থেকে দেয়া হবে।
📄 কাসামা আরবীয়া প্রথা যা ইসলাম বহাল রেখেছে
কাসামা আরবীয় প্রথা, যা ইসলাম বহাল রেখেছে কাসামা আরবে জাহেলি যুগে প্রচলিত একটি প্রথা। ইসলাম এটি যথাযথভাবে বহাল রেখেছে। ইসলাম যে এটি বহাল রেখেছে, তার যৌক্তিকতা এই যে, এটা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানে সচেতনতার একটি নিদর্শন। যাতে একটি মানুষের হত্যাও বিনা বিচারে বা বিনা শাস্তিতে না যায়।
বুখারি ও নাসায়ী ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: জাহেলি যুগে প্রথম কাসামার ঘটনাটি ছিলো এ রকম: বনু হাশেমের এক ব্যক্তিকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র অপর একটি কুরাইশি গোত্রের এক ব্যক্তি মজুর নিয়োগ করে। অতঃপর সে ঐ ব্যক্তির উট পালের সাথে তার সঙ্গে রওনা হলো। এ সময়ে বনু হাশেমের অপর এক ব্যক্তি তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। লোকটির পশমের গাইটের হাতল খুলে গিয়েছিল। সে বললো আমাকে এক গাছা রশি দিয়ে সাহায্য করো, আমি আমার পশমের গাইটের হাতল বাঁধবো। একটা রশির কমতি
টিকাঃ
ফিন্তুস সুন্নাহ ২য় খণ্ড ফর্মা নং-৫৯