📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শাসকের নিকট থেকে কিসাস আদায়

📄 শাসকের নিকট থেকে কিসাস আদায়


কিনা? এ ব্যাপারে আলেমদের বিবিধ মত রয়েছে। কুরতুবির মতে এটা বৈধ হওয়াই অগ্রগণ্য। তিনি বলেন: সঠিক মত এটাই যে, এটা বৈধ। যেভাবেই নিজের হক আদায় করা সম্ভব, আদায় করে নিতে পারবে। শুধু এতটুকু সাবধান হতে হবে যে কাজটা চুরি বলে গণ্য না হয়। এটা শাফেয়ি, মালেক, ইবনুল মুনযির ও ইবনুল আরাবির মত। এটা খেয়ানত নয়, বরং নিজের হক আদায় করা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমার ভাই যালেম অথবা মজলুম, যা-ই হোক, তাকে সাহায্য কর।" বস্তুত: যালেমের নিকট থেকে হক আদায় করা তাকে সাহায্য করার শামিল।
একবার আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবা রসূলুল্লাহ সা. কে বললো: আবু সুফিয়ান ভীষণ কৃপণ। আমার ও আমার সন্তানদের ভরণপোষণে যতোটা অর্থ সম্পদ দরকার, ততোটা দেয়না। তবে তার সম্পদ থেকে আমি তার অজ্ঞাতসারে যা প্রয়োজন নিয়ে নেই। এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? রসূলুল্লাহ সা. বললেন: প্রচলিত রীতি অনুসারে তোমার ও তোমার সন্তানের যতোটা যথেষ্ট হয়, ততোটা নিতে পারো।"
অর্থাৎ কিনা রসূলুল্লাহ সা. তাকে তার যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকু নেয়ার অনুমতি দিলেন।
তবে যখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আক্রমণকারী কর্তৃক লুণ্ঠিত সামগ্রীটি হুবহু না পেয়ে তার অন্য রকম সামগ্রী নাগালে পায়, তখন কী করবে, সে ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেন: শাসকের ফায়সালা ব্যতীত নিতে পারবেনা। শাফেয়ির একটি মতে, একই সামগ্রী পেলে যেমন নিতে পারবে, তেমনি অন্য রকম সামগ্রী পেলেও নিতে পারবে। তাঁর অন্য মত হলো, ভিন্ন ধরনের সামগ্রী হলে তা নিতে পারবেনা।
কেউ কেউ বলেন: লুণ্ঠিত সামগ্রীর মূল্য কত জেনে নিতে হবে এবং সেই মূল্যের সমপরিমাণ সামগ্রী নিতে পারবে।
শাসকের নিকট থেকে কিসাস আদায়
কোনো জাতির শাসক সে জাতিরই একজন সদস্য। সমগ্র জাতির উপর যেসব আইন কানুন প্রযোজ্য, তার উপরও সেসব আইন কানুন প্রযোজ্য। জাতির অন্যান্য সদস্যের মাঝে তার বৈশিষ্ট্য শুধু ততটুকু যতটুকু একজন প্রতিনিধি বা দায়িত্বশীলের থাকে। কাজেই শাসক যখন জাতির কোনো সদস্যের প্রতি কোনো অন্যায় করে, তখন তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করা হবে। কেননা আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে তার মধ্যে ও অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহর আইন সর্বব্যাপী এবং সকল মুসলমান তার আওতাভুক্ত।
আবু নাদরা থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব রা. একদিন আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন: "হে জনতা, আমি তোমাদের নিকট যেসব শাসক পাঠাই, তোমাদেরকে প্রহার করা বা তোমাদের সম্পদ ছিনিয়ে আনার জন্য তাদেরকে পাঠাইনা। তাদেরকে পাঠাই কেবল তোমাদেরকে তোমাদের দীন শেখাতে ও তোমাদের নবীর সুন্নত শেখাতে। কারো সাথে যদি এ ছাড়া অন্য কিছু করা হয়, তবে সে যেন আমার নিকট অভিযোগ দায়ের করে। আল্লাহর কসম, যার হাতে উমরের জীবন, আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করবো। এ পর্যায়ে আমর ইবনুল আস বললেন: কেউ যদি কোনো প্রজাকে আদব শেখায়, তাহলেও কি আপনি তার কাছ থেকে কিসাস নিবেন? উমর রা. বললেন : হা, আল্লাহর কসম, তাহলেও আমি কিসাস নেবো। আমি কিসাস না নিয়ে কিভাবে পারি? আমি তো রসূলুল্লাহ সা. কেও কিসাস নিতে দেখেছি।" -আবু দাউদ, নাসায়ী।

কিনা? এ ব্যাপারে আলেমদের বিবিধ মত রয়েছে। কুরতুবির মতে এটা বৈধ হওয়াই অগ্রগণ্য। তিনি বলেন: সঠিক মত এটাই যে, এটা বৈধ। যেভাবেই নিজের হক আদায় করা সম্ভব, আদায় করে নিতে পারবে। শুধু এতটুকু সাবধান হতে হবে যে কাজটা চুরি বলে গণ্য না হয়। এটা শাফেয়ি, মালেক, ইবনুল মুনযির ও ইবনুল আরাবির মত। এটা খেয়ানত নয়, বরং নিজের হক আদায় করা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমার ভাই যালেম অথবা মজলুম, যা-ই হোক, তাকে সাহায্য কর।" বস্তুত: যালেমের নিকট থেকে হক আদায় করা তাকে সাহায্য করার শামিল।
একবার আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবা রসূলুল্লাহ সা. কে বললো: আবু সুফিয়ান ভীষণ কৃপণ। আমার ও আমার সন্তানদের ভরণপোষণে যতোটা অর্থ সম্পদ দরকার, ততোটা দেয়না। তবে তার সম্পদ থেকে আমি তার অজ্ঞাতসারে যা প্রয়োজন নিয়ে নেই। এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? রসূলুল্লাহ সা. বললেন: প্রচলিত রীতি অনুসারে তোমার ও তোমার সন্তানের যতোটা যথেষ্ট হয়, ততোটা নিতে পারো।"
অর্থাৎ কিনা রসূলুল্লাহ সা. তাকে তার যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকু নেয়ার অনুমতি দিলেন।
তবে যখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আক্রমণকারী কর্তৃক লুণ্ঠিত সামগ্রীটি হুবহু না পেয়ে তার অন্য রকম সামগ্রী নাগালে পায়, তখন কী করবে, সে ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেন: শাসকের ফায়সালা ব্যতীত নিতে পারবেনা। শাফেয়ির একটি মতে, একই সামগ্রী পেলে যেমন নিতে পারবে, তেমনি অন্য রকম সামগ্রী পেলেও নিতে পারবে। তাঁর অন্য মত হলো, ভিন্ন ধরনের সামগ্রী হলে তা নিতে পারবেনা।
কেউ কেউ বলেন: লুণ্ঠিত সামগ্রীর মূল্য কত জেনে নিতে হবে এবং সেই মূল্যের সমপরিমাণ সামগ্রী নিতে পারবে।
শাসকের নিকট থেকে কিসাস আদায়
কোনো জাতির শাসক সে জাতিরই একজন সদস্য। সমগ্র জাতির উপর যেসব আইন কানুন প্রযোজ্য, তার উপরও সেসব আইন কানুন প্রযোজ্য। জাতির অন্যান্য সদস্যের মাঝে তার বৈশিষ্ট্য শুধু ততটুকু যতটুকু একজন প্রতিনিধি বা দায়িত্বশীলের থাকে। কাজেই শাসক যখন জাতির কোনো সদস্যের প্রতি কোনো অন্যায় করে, তখন তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করা হবে। কেননা আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে তার মধ্যে ও অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহর আইন সর্বব্যাপী এবং সকল মুসলমান তার আওতাভুক্ত।
আবু নাদরা থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব রা. একদিন আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন: "হে জনতা, আমি তোমাদের নিকট যেসব শাসক পাঠাই, তোমাদেরকে প্রহার করা বা তোমাদের সম্পদ ছিনিয়ে আনার জন্য তাদেরকে পাঠাইনা। তাদেরকে পাঠাই কেবল তোমাদেরকে তোমাদের দীন শেখাতে ও তোমাদের নবীর সুন্নত শেখাতে। কারো সাথে যদি এ ছাড়া অন্য কিছু করা হয়, তবে সে যেন আমার নিকট অভিযোগ দায়ের করে। আল্লাহর কসম, যার হাতে উমরের জীবন, আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করবো। এ পর্যায়ে আমর ইবনুল আস বললেন: কেউ যদি কোনো প্রজাকে আদব শেখায়, তাহলেও কি আপনি তার কাছ থেকে কিসাস নিবেন? উমর রা. বললেন : হা, আল্লাহর কসম, তাহলেও আমি কিসাস নেবো। আমি কিসাস না নিয়ে কিভাবে পারি? আমি তো রসূলুল্লাহ সা. কেও কিসাস নিতে দেখেছি।" -আবু দাউদ, নাসায়ী।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রীকে আঘাত করলে স্বামীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে কি?

📄 স্ত্রীকে আঘাত করলে স্বামীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে কি?


নাসায়ী ও আবু দাউদ আরো বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ বিন জুবাইর বলেন: একদিন রসূলুল্লাহ সা. আমাদের মধ্যে একটা জিনিস বণ্টন করছিলেন। এই সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো। তখন রসূলুল্লাহ সা. তার হাতে থাকা একটা খেজুরের কাঁদির ডগা দিয়ে আঘাত করলেন। সংগে সংগে লোকটি চিৎকার করে উঠলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: “এসো, আমার কাছ থেকে কিসাস নাও।” লোকটি সংগে সংগে বললো: "হে রসূলুল্লাহ, আমি বরং মাফ করে দিয়েছি।" আর এক ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিক রা. এর নিকট অভিযোগ করলো যে, জনৈক সরকারি কর্মচারী তার হাত কেটে দিয়েছে। আবু বকর বললেন: তুমি যদি সত্য বলে থাক, তবে আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করবো।
অপর এক বর্ণনায় উমর রা. বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. কে নিজের কাছ থেকে কিসাস দিতে দেখেছি, আবু বকরকে নিজের কাছ থেকে কিসাস দিতে দেখেছি এবং আমি নিজেও নিজের কাছ থেকে কিসাস দিয়ে থাকি।"
স্ত্রীকে আঘাত করলে স্বামীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে কি?
ইবনে শিহাব যুহুরি বলেন: প্রচলিত সুন্নত (রীতি) এই যে, স্বামী যদি স্ত্রীকে জখম করে দেয়, তবে তার জন্য তাকে অর্থদণ্ড জরিমানা দিতে হবে, কিসাস নয়।
ইমাম মালেক এর ব্যাখ্যা প্রসংগে বলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামী যদি স্ত্রীকে আঘাত করে তার চোখ ফুটো করে দেয়, হাত ভেঙ্গে দেয়, আংগুল কেটে দেয় বা অনুরূপ আঁর কিছু করে, তাহলে এ জন্য তার কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবে। আর যদি স্বামী স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বা বেত দিয়ে প্রহার করে এবং অনিচ্ছা সত্যেও তাতে কোনো জখম হয়ে যায়, তাহলে স্বামী এর ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা দেবে, কিসাস নয়।
আল মুসাওয়াতে বলা হয়েছে: আলেমগণ ইমাম মালেকের এই ব্যাখ্যায় একমত।
জখম না সারা পর্যন্ত কোনো কিসাস নয়
আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থান নিরাময় না হওয়া ও অন্যান্য অংগে ক্ষত ছড়িয়ে পড়বেনা- এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণকারীর কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবেনা। দেহের অন্যান্য অংশে ক্ষত ছড়িয়ে পড়লে আক্রমণকারীকে তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রচন্ড গরমে ও তীব্র শীতে কিসাস নেয়া হবেনা, বরং কিসাস বিলম্বিত করা হবে, যাতে কিসাসদাতার তাতে মৃত্যু না ঘটে। প্রচণ্ড গরমে বা শীতে কিসাস নেয়া অথবা ভোতা বা বিষ মাখানো অস্ত্র দিয়ে কিসাস নেয়ার কারণে কোনো বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটলে তার উপর অবশিষ্ট দিয়াত ওয়াজিব হবে। আহমদ ও দারকুতনিতে আমর বিন শুয়াইব থেকে বর্ণিত:
এক ব্যক্তির ঘাড়ে একটা শিং দিয়ে আঘাত করা হলো। তৎক্ষণাত সে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এলো এবং বললো আমাকে কিসাস আদায় করে দিন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমার ক্ষত নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। তখন সে চলে গেলো। কয়েকদিন পর আবার এলো এবং বললো: কিসাস আদায় করে দিন। তখন রসূলুল্লাহ সা. কিসাস আদায় করে দিলেন। কয়েকদিন পর লোকটি পুনরায় এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ, আমি খোঁড়া হয়ে গিয়েছি। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমাকে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তুমি আমার

নাসায়ী ও আবু দাউদ আরো বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ বিন জুবাইর বলেন: একদিন রসূলুল্লাহ সা. আমাদের মধ্যে একটা জিনিস বণ্টন করছিলেন। এই সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো। তখন রসূলুল্লাহ সা. তার হাতে থাকা একটা খেজুরের কাঁদির ডগা দিয়ে আঘাত করলেন। সংগে সংগে লোকটি চিৎকার করে উঠলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: “এসো, আমার কাছ থেকে কিসাস নাও।” লোকটি সংগে সংগে বললো: "হে রসূলুল্লাহ, আমি বরং মাফ করে দিয়েছি।" আর এক ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিক রা. এর নিকট অভিযোগ করলো যে, জনৈক সরকারি কর্মচারী তার হাত কেটে দিয়েছে। আবু বকর বললেন: তুমি যদি সত্য বলে থাক, তবে আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করবো।
অপর এক বর্ণনায় উমর রা. বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. কে নিজের কাছ থেকে কিসাস দিতে দেখেছি, আবু বকরকে নিজের কাছ থেকে কিসাস দিতে দেখেছি এবং আমি নিজেও নিজের কাছ থেকে কিসাস দিয়ে থাকি।"
স্ত্রীকে আঘাত করলে স্বামীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে কি?
ইবনে শিহাব যুহুরি বলেন: প্রচলিত সুন্নত (রীতি) এই যে, স্বামী যদি স্ত্রীকে জখম করে দেয়, তবে তার জন্য তাকে অর্থদণ্ড জরিমানা দিতে হবে, কিসাস নয়।
ইমাম মালেক এর ব্যাখ্যা প্রসংগে বলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামী যদি স্ত্রীকে আঘাত করে তার চোখ ফুটো করে দেয়, হাত ভেঙ্গে দেয়, আংগুল কেটে দেয় বা অনুরূপ আঁর কিছু করে, তাহলে এ জন্য তার কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবে। আর যদি স্বামী স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বা বেত দিয়ে প্রহার করে এবং অনিচ্ছা সত্যেও তাতে কোনো জখম হয়ে যায়, তাহলে স্বামী এর ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা দেবে, কিসাস নয়।
আল মুসাওয়াতে বলা হয়েছে: আলেমগণ ইমাম মালেকের এই ব্যাখ্যায় একমত।
জখম না সারা পর্যন্ত কোনো কিসাস নয়
আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থান নিরাময় না হওয়া ও অন্যান্য অংগে ক্ষত ছড়িয়ে পড়বেনা- এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণকারীর কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবেনা। দেহের অন্যান্য অংশে ক্ষত ছড়িয়ে পড়লে আক্রমণকারীকে তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রচন্ড গরমে ও তীব্র শীতে কিসাস নেয়া হবেনা, বরং কিসাস বিলম্বিত করা হবে, যাতে কিসাসদাতার তাতে মৃত্যু না ঘটে। প্রচণ্ড গরমে বা শীতে কিসাস নেয়া অথবা ভোতা বা বিষ মাখানো অস্ত্র দিয়ে কিসাস নেয়ার কারণে কোনো বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটলে তার উপর অবশিষ্ট দিয়াত ওয়াজিব হবে। আহমদ ও দারকুতনিতে আমর বিন শুয়াইব থেকে বর্ণিত:
এক ব্যক্তির ঘাড়ে একটা শিং দিয়ে আঘাত করা হলো। তৎক্ষণাত সে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এলো এবং বললো আমাকে কিসাস আদায় করে দিন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমার ক্ষত নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। তখন সে চলে গেলো। কয়েকদিন পর আবার এলো এবং বললো: কিসাস আদায় করে দিন। তখন রসূলুল্লাহ সা. কিসাস আদায় করে দিলেন। কয়েকদিন পর লোকটি পুনরায় এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ, আমি খোঁড়া হয়ে গিয়েছি। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমাকে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তুমি আমার

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 হত্যা না সারা পর্যন্ত কোনো কিসাস নয়

📄 হত্যা না সারা পর্যন্ত কোনো কিসাস নয়


নিষেধ মানোনি। আল্লাহ তোমাকে দূর করে দিন। তোমার খোঁড়া হওয়ার কোনো প্রতিকার আমার কাছে নেই।"
অত:পর রসূলুল্লাহ সা. আহত ব্যক্তির ক্ষত নিরাময় হওয়ার আগে কোনো কিসাস আদায় করতে নিষেধ করে দিলেন। এ হাদিস থেকে ইমাম শাফেয়ি এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছেন যে, ক্ষত নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা মুস্তাহাব। কেননা রসূলুল্লাহ সা. নিরাময়ের পূর্বেও কিসাস নিতে প্রস্তুত ছিলেন এবং নিয়েছেনও। অন্যান্যদের মতে অপেক্ষা করা ওয়াজিব। নিরাময়ের পূর্বে তিনি যে কিসাস নিয়েছেন, সেটা এর সম্ভাব্য ক্ষতির কথা জানার আগে নিয়েছেন। আক্রমণকারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কারো আংগুল কেটে দেয়, অত:পর আহত ব্যক্তি মাফ করে দেয়, কিন্তু মাফ করার পর সেই ক্ষত গোটা হাতের তালুতে ছড়িয়ে পড়ে বা প্রাণঘাতী হয়ে পড়ে, যদি এই ক্ষমা কোনো বিনিময় ছাড়াই হয়ে থাকে তাহলে এর কোনো ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকার আদায় করা হবেনা। আর যদি কোনো অর্থের বিনিময়ে ক্ষমা করা হয়ে থাকে, তাহলে আহত ব্যক্তি ক্ষত ছড়িয়ে পড়ার বিনিময়ে দিয়াত পাবে। মাফ করে দেয়া অংশের ক্ষতিপূরণ ছড়িয়ে পড়া ক্ষতের ক্ষতিপূরণ থেকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট দিয়াত দেয়া হবে।

নিষেধ মানোনি। আল্লাহ তোমাকে দূর করে দিন। তোমার খোঁড়া হওয়ার কোনো প্রতিকার আমার কাছে নেই।"
অত:পর রসূলুল্লাহ সা. আহত ব্যক্তির ক্ষত নিরাময় হওয়ার আগে কোনো কিসাস আদায় করতে নিষেধ করে দিলেন। এ হাদিস থেকে ইমাম শাফেয়ি এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছেন যে, ক্ষত নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা মুস্তাহাব। কেননা রসূলুল্লাহ সা. নিরাময়ের পূর্বেও কিসাস নিতে প্রস্তুত ছিলেন এবং নিয়েছেনও। অন্যান্যদের মতে অপেক্ষা করা ওয়াজিব। নিরাময়ের পূর্বে তিনি যে কিসাস নিয়েছেন, সেটা এর সম্ভাব্য ক্ষতির কথা জানার আগে নিয়েছেন। আক্রমণকারী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কারো আংগুল কেটে দেয়, অত:পর আহত ব্যক্তি মাফ করে দেয়, কিন্তু মাফ করার পর সেই ক্ষত গোটা হাতের তালুতে ছড়িয়ে পড়ে বা প্রাণঘাতী হয়ে পড়ে, যদি এই ক্ষমা কোনো বিনিময় ছাড়াই হয়ে থাকে তাহলে এর কোনো ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকার আদায় করা হবেনা। আর যদি কোনো অর্থের বিনিময়ে ক্ষমা করা হয়ে থাকে, তাহলে আহত ব্যক্তি ক্ষত ছড়িয়ে পড়ার বিনিময়ে দিয়াত পাবে। মাফ করে দেয়া অংশের ক্ষতিপূরণ ছড়িয়ে পড়া ক্ষতের ক্ষতিপূরণ থেকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট দিয়াত দেয়া হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 কিসাস আদায়ের কারণে মৃত্যু ঘটলে

📄 কিসাস আদায়ের কারণে মৃত্যু ঘটলে


কিসাস আদায়ের কারণে সংঘটিত ক্ষত থেকে যদি কিসাসদাতার মৃত্যু ঘটে তবে তা নিয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে এতে কিসাস গ্রহণকারীর উপর কোনো দায় বর্তাবেনা। কেননা সে কোনো সীমালঙ্ঘন করেনি। তাছাড়া যেহেতু চোরের হাত কাটার কারণে তার মৃত্যু ঘটলে সর্বসম্মতভাবে তার দায় কারো ওপর পড়েনা, তাই এ ঘটনাও তদ্রূপ। কিন্তু আবু হানিফা, সাওরি ও ইবনে আবি লায়লার মতে, কিসাসদাতা মারা গেলে কিসাস গ্রহিতার পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা এটা একটা অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড।

কিসাস আদায়ের কারণে সংঘটিত ক্ষত থেকে যদি কিসাসদাতার মৃত্যু ঘটে তবে তা নিয়ে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশের মতে এতে কিসাস গ্রহণকারীর উপর কোনো দায় বর্তাবেনা। কেননা সে কোনো সীমালঙ্ঘন করেনি। তাছাড়া যেহেতু চোরের হাত কাটার কারণে তার মৃত্যু ঘটলে সর্বসম্মতভাবে তার দায় কারো ওপর পড়েনা, তাই এ ঘটনাও তদ্রূপ। কিন্তু আবু হানিফা, সাওরি ও ইবনে আবি লায়লার মতে, কিসাসদাতা মারা গেলে কিসাস গ্রহিতার পিতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়দের উপর দিয়াত ওয়াজিব হবে। কেননা এটা একটা অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00