📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 পরিপূর্ণ জিমনিস দিয়ে ক্ষতি পূরণ

📄 পরিপূর্ণ জিমনিস দিয়ে ক্ষতি পূরণ


পশু বা দাসদাসী, তাহলে প্রতিপক্ষের এই সম্পদ নষ্ট করে কিসাস নেয়া যাবেনা। আর যদি নিষিদ্ধ সম্পদ না হয়, যেমন কাপড়, যা ছেঁড়া বা কাটা যায়। কিংবা বাসন-কোসন, যা ভাঙ্গা যায়, তাহলে তা ধ্বংস করা যাবেনা, বরং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে তার ধ্বংকৃত সম্পদের সমমূল্যের সম্পদ বা মূল্য আদায় করা হবে। তবে কিসাস বা যুক্তির দাবি এই যে, প্রতিপক্ষ যে ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করে তার ক্ষতিসাধন করেছে, অদ্রূপ ক্ষতি সাধনের অধিকার তারও রয়েছে। সে যেমন তার কাপড় চোপড় ছিঁড়েছে। তেমনি আক্রান্তব্যক্তিও তার কাপড় ছিঁড়তে পারে। সে যেমন তার লাঠি ভেঙ্গেছে, আক্রান্তব্যক্তিও তেমনি তার লাঠি ভাংতে পারবে। অবশ্য সমতা সর্বক্ষেত্রেই বজায় রাখতে হবে। এটাই ন্যায় বিচার। এ থেকে বিরত থাকতে হবে বলে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সুস্পষ্ট বাণী নেই, কিয়াসও নেই, ইজমাও নেই। এটা আল্লাহর হকের জন্যও নিষিদ্ধ নয়। আর প্রাণ ও অংগ প্রতংগের চেয়ে ধন সম্পদ অধিক মর্যাদাসম্পন্ন নয়। তাই শরিয়ত যখন প্রাণ ও অংগ প্রত্যংগের বদলে প্রাণ ও অংগ প্রত্যংগ নষ্ট করার অধিকার দিয়েছে, তখন সম্পদ বিনাশের বিনিময়ে সম্পদ বিনাশের অধিকার আরো বেশি অগ্রগণ্য। আর সমভাবে প্রতিশোধ গ্রহণে যে ক্রোধ প্রশমন ঘটে ও আক্রান্তের মনে যে প্রশান্তি ফিরে আসে, তাতেই কিসাসের যৌক্তিকতা নিহিত। কোনো বিকল্প পন্থায় এ উদ্দেশ্য সফল হয়না। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়া ও তার সম্পদ নষ্ট করা আক্রমণকারীর বিশেষ উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। সে যদি তার মূল্য পরিশোধ করে ক্ষতিপূরণ দেয়, তবে তাতে তার হয়তো কোনো কষ্টই হবেনা। কারণ তার অগাধ ধনসম্পদ রয়েছে। তাই এ দ্বারা সে নিজের মনকে প্রবোধ দিতে পারবে। অথচ আক্রান্ত ব্যক্তি মনের ক্ষোভ ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির গ্লানী নিয়েই বেঁচে থাকবে। সুতরাং মূল্য পেয়ে তার গ্লানী ও ক্ষোভের উপশম কিভাবে হবে? যে কষ্ট সে আক্রমণকারীর কাছ থেকে পেয়েছে তার প্রতিশোধ নিয়ে তার মনের প্রশান্তি কিভাবে ফিরিয়ে আনবে?
কাজেই ইসলামী শরিয়তের প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা এই ক্ষতিপূরণের বিপক্ষে। সূরা বাকারার "আক্রমণকারী যেভাবে আক্রমণ করেছে, সেভাবেই তার উপর আক্রমণ কর।" সূরা শূরার "মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ।" এবং সূরা নাহলের: وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ 6 "তোমরা যদি শাস্তি দাও, তবে যে রকম অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে, ঠিক তদ্রূপ শাস্তি দাও।" এ সকল উক্তি স্পষ্টত কিসাসের বৈধতাই প্রতিষ্ঠিত করে।
ফকিহগণ আক্রমণধারী কাফেরদের ক্ষেতের ফসল জ্বালিয়ে দেয়া ও তাদের বৃক্ষরাজি কেটে ফেলাকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে রায় দিয়েছেন, যখন তারা মুসলমানদের সাথে অনুরূপ আচরণ করে। এটাই যথার্থ বিধি।
সাহাবিগণ কর্তৃক ইহুদীদের খেজুর গাছ ধ্বংসকে আল্লাহ সমর্থন ও অনুমোদন করেছিলেন। কেননা এর মাধ্যমে তাদেরকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হয়েছিল। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ অত্যাচারী আক্রমণকারীর অবমাননা ও লাঞ্ছনাকে পছন্দ করেন। একজন বিশ্বাসঘাতক মুসলমানদের উপর আগ্রাসন চালিয়ে তাদের গনিমতের মাল চুরি করে নিয়েছিল- এই অপরাধে তার সম্পদ জ্বালিয়ে দেয়া যখন বৈধ ছিলো, তখন কেউ যদি কোনো নিরীহ মুসলমানের ধন সম্পদ পুড়িয়ে দেয়, তবে তার সম্পদও পুড়িয়ে দেয়া বৈধ হবে।

পশু বা দাসদাসী, তাহলে প্রতিপক্ষের এই সম্পদ নষ্ট করে কিসাস নেয়া যাবেনা। আর যদি নিষিদ্ধ সম্পদ না হয়, যেমন কাপড়, যা ছেঁড়া বা কাটা যায়। কিংবা বাসন-কোসন, যা ভাঙ্গা যায়, তাহলে তা ধ্বংস করা যাবেনা, বরং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে তার ধ্বংকৃত সম্পদের সমমূল্যের সম্পদ বা মূল্য আদায় করা হবে। তবে কিসাস বা যুক্তির দাবি এই যে, প্রতিপক্ষ যে ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করে তার ক্ষতিসাধন করেছে, অদ্রূপ ক্ষতি সাধনের অধিকার তারও রয়েছে। সে যেমন তার কাপড় চোপড় ছিঁড়েছে। তেমনি আক্রান্তব্যক্তিও তার কাপড় ছিঁড়তে পারে। সে যেমন তার লাঠি ভেঙ্গেছে, আক্রান্তব্যক্তিও তেমনি তার লাঠি ভাংতে পারবে। অবশ্য সমতা সর্বক্ষেত্রেই বজায় রাখতে হবে। এটাই ন্যায় বিচার। এ থেকে বিরত থাকতে হবে বলে কুরআন ও সুন্নাহর কোনো সুস্পষ্ট বাণী নেই, কিয়াসও নেই, ইজমাও নেই। এটা আল্লাহর হকের জন্যও নিষিদ্ধ নয়। আর প্রাণ ও অংগ প্রতংগের চেয়ে ধন সম্পদ অধিক মর্যাদাসম্পন্ন নয়। তাই শরিয়ত যখন প্রাণ ও অংগ প্রত্যংগের বদলে প্রাণ ও অংগ প্রত্যংগ নষ্ট করার অধিকার দিয়েছে, তখন সম্পদ বিনাশের বিনিময়ে সম্পদ বিনাশের অধিকার আরো বেশি অগ্রগণ্য। আর সমভাবে প্রতিশোধ গ্রহণে যে ক্রোধ প্রশমন ঘটে ও আক্রান্তের মনে যে প্রশান্তি ফিরে আসে, তাতেই কিসাসের যৌক্তিকতা নিহিত। কোনো বিকল্প পন্থায় এ উদ্দেশ্য সফল হয়না। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে কষ্ট দেয়া ও তার সম্পদ নষ্ট করা আক্রমণকারীর বিশেষ উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। সে যদি তার মূল্য পরিশোধ করে ক্ষতিপূরণ দেয়, তবে তাতে তার হয়তো কোনো কষ্টই হবেনা। কারণ তার অগাধ ধনসম্পদ রয়েছে। তাই এ দ্বারা সে নিজের মনকে প্রবোধ দিতে পারবে। অথচ আক্রান্ত ব্যক্তি মনের ক্ষোভ ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির গ্লানী নিয়েই বেঁচে থাকবে। সুতরাং মূল্য পেয়ে তার গ্লানী ও ক্ষোভের উপশম কিভাবে হবে? যে কষ্ট সে আক্রমণকারীর কাছ থেকে পেয়েছে তার প্রতিশোধ নিয়ে তার মনের প্রশান্তি কিভাবে ফিরিয়ে আনবে?
কাজেই ইসলামী শরিয়তের প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা এই ক্ষতিপূরণের বিপক্ষে। সূরা বাকারার "আক্রমণকারী যেভাবে আক্রমণ করেছে, সেভাবেই তার উপর আক্রমণ কর।" সূরা শূরার "মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ।" এবং সূরা নাহলের: وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ 6 "তোমরা যদি শাস্তি দাও, তবে যে রকম অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে, ঠিক তদ্রূপ শাস্তি দাও।" এ সকল উক্তি স্পষ্টত কিসাসের বৈধতাই প্রতিষ্ঠিত করে।
ফকিহগণ আক্রমণধারী কাফেরদের ক্ষেতের ফসল জ্বালিয়ে দেয়া ও তাদের বৃক্ষরাজি কেটে ফেলাকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে রায় দিয়েছেন, যখন তারা মুসলমানদের সাথে অনুরূপ আচরণ করে। এটাই যথার্থ বিধি।
সাহাবিগণ কর্তৃক ইহুদীদের খেজুর গাছ ধ্বংসকে আল্লাহ সমর্থন ও অনুমোদন করেছিলেন। কেননা এর মাধ্যমে তাদেরকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হয়েছিল। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ অত্যাচারী আক্রমণকারীর অবমাননা ও লাঞ্ছনাকে পছন্দ করেন। একজন বিশ্বাসঘাতক মুসলমানদের উপর আগ্রাসন চালিয়ে তাদের গনিমতের মাল চুরি করে নিয়েছিল- এই অপরাধে তার সম্পদ জ্বালিয়ে দেয়া যখন বৈধ ছিলো, তখন কেউ যদি কোনো নিরীহ মুসলমানের ধন সম্পদ পুড়িয়ে দেয়, তবে তার সম্পদও পুড়িয়ে দেয়া বৈধ হবে।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 আহত করা বা সম্পদ লুট করা

📄 আহত করা বা সম্পদ লুট করা


আল্লাহর হক আদায় করার ব্যাপারে তিনি অপেক্ষাকৃত উদার হওয়া সত্ত্বেও তাতে যখন আর্থিক দণ্ড বিহিত করেছেন, তখন বান্দার হকের ব্যাপারে আর্থিক দণ্ড বিহিত করবেনই এটা আরো বেশি প্রত্যাশা করা যায়। আল্লাহ মানুষকে অন্যের জান ও মালের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো থেকে বিরত রাখা ও সতর্ক করার জন্য কিসাস প্রবর্তন করেছেন। অথচ আক্রান্ত ব্যক্তি যুলুমের ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে যে কোনো আক্রমণ ও আগ্রাসনে দিয়াত চালু করা যেতো। কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃত আক্রমণে যে কিসাস চালু করেছেন, সেটাই বান্দাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, তাদের সংশোধনে অধিকতর সহায়ক, আক্রান্তের মনের ক্ষোভ ও গ্লানী-নিরসনে অধিকতর কার্যকর এবং প্রাণ ও অংগ প্রত্যংগের নিরাপত্তার অধিকতর নিশ্চয়তা দানকারী। নচেত কারো বিরুদ্ধে কারো মনে কোনো আক্রোশ থাকলেই সে তাকে হত্যা বা জখম করতো এবং দিয়াত দিয়ে পার পেয়ে যেতো। কিন্তু এটা মানুষের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক মমত্ববোধ, মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণবোধ এবং বিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার পরিপন্থী। ধন সম্পদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ব্যাপারেও অবিকল এই যুক্তি প্রযোজ্য।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, বিনষ্ট সম্পদের ক্ষতিপূরণ দিলেও এই উদ্দেশ্য পূরণ হবে কিনা? তবে এর জবাব এই যে, আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি এতে সন্তুষ্ট হয়, তাহলে সেটা হবে তার দৈহিক ক্ষতিসাধনের পর ক্ষতিপূরণে সম্মত হওয়ার মতোই। তবে এটা শুধুই কেয়াস বা অনুমান। এই মত আহমদ ইবনে হাম্বল ও আহমদ ইবনে তাইমিয়ার। তারা বলেন: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি স্বাধীন। ইচ্ছা করলে পাল্টা প্রতিপক্ষের একই সম্পদের সমপরিমাণ ক্ষতিসাধন করবে। নচেত তার সমমূল্যের সম্পদ বা মূল্য গ্রহণ করবে।
সমপরিমাণ জিনিস দিয়ে ক্ষতিপূরণ
আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, কেউ কোনো খাদ্য, পানীয় বা ওজন দ্বারা পরিমাপযোগ্য জিনিস নষ্ট করলে একটি জিনিস সমপরিমাণ দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আয়েশা রা. বলেন:
আমি সফিয়ার মতো খাদ্য প্রস্তুতকারী আর দেখিনি। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর জন্য একটা খাবার তৈরি করে পাঠালেন। এতে আমার আত্মসম্মান বোধে এত আঘাত লাগলো যে, আমি কাঁপতে লাগলাম এবং আমার হাত থেকে পাত্রটি পড়ে ভেংগে গেলো। তখন আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ, আমি যে কাজ করেছি এর কাফফারা কী? তিনি বললেন: পাত্রের সমান পাত্র এবং খাবারের সমান খাবার। -আবু দাউদ।
তবে ওজনে বা মাপে পরিমাণ নির্ণয় করা যায়না এমন জিনিস নষ্ট করলে বা ব্যবহার করে শেষ করে ফেললে কী করা যাবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। হানাফি ও শাফেয়ি মাযহাব অনুসারে একই জিনিস সমপরিমাণ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উক্ত জিনিস সমপরিমাণ পাওয়া না গেলেই কেবল মূল্য দেয়া যাবে। এটা সকল জিনিসে ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মালেকি মাযহাব অনুসারে মূল্য দিতে হবে, একই জিনিস সমপরিমাণ নয়।
আহত করা বা সম্পদ লুট করা
যখন কোনো মানুষ অন্য কারো উপর আক্রমণ চালিয়ে আহত করে বা তার সম্পদ লুণ্ঠন করে। তখন আক্রান্ত ব্যক্তির সাধ্যে কুলালে, তার প্রাপ্য নিজেই আদায় করে নিতে পারবে

আল্লাহর হক আদায় করার ব্যাপারে তিনি অপেক্ষাকৃত উদার হওয়া সত্ত্বেও তাতে যখন আর্থিক দণ্ড বিহিত করেছেন, তখন বান্দার হকের ব্যাপারে আর্থিক দণ্ড বিহিত করবেনই এটা আরো বেশি প্রত্যাশা করা যায়। আল্লাহ মানুষকে অন্যের জান ও মালের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো থেকে বিরত রাখা ও সতর্ক করার জন্য কিসাস প্রবর্তন করেছেন। অথচ আক্রান্ত ব্যক্তি যুলুমের ক্ষতিপূরণের উদ্দেশ্যে যে কোনো আক্রমণ ও আগ্রাসনে দিয়াত চালু করা যেতো। কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃত আক্রমণে যে কিসাস চালু করেছেন, সেটাই বান্দাদের জন্য অধিকতর কল্যাণকর, তাদের সংশোধনে অধিকতর সহায়ক, আক্রান্তের মনের ক্ষোভ ও গ্লানী-নিরসনে অধিকতর কার্যকর এবং প্রাণ ও অংগ প্রত্যংগের নিরাপত্তার অধিকতর নিশ্চয়তা দানকারী। নচেত কারো বিরুদ্ধে কারো মনে কোনো আক্রোশ থাকলেই সে তাকে হত্যা বা জখম করতো এবং দিয়াত দিয়ে পার পেয়ে যেতো। কিন্তু এটা মানুষের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক মমত্ববোধ, মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণবোধ এবং বিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার পরিপন্থী। ধন সম্পদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ব্যাপারেও অবিকল এই যুক্তি প্রযোজ্য।
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, বিনষ্ট সম্পদের ক্ষতিপূরণ দিলেও এই উদ্দেশ্য পূরণ হবে কিনা? তবে এর জবাব এই যে, আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি এতে সন্তুষ্ট হয়, তাহলে সেটা হবে তার দৈহিক ক্ষতিসাধনের পর ক্ষতিপূরণে সম্মত হওয়ার মতোই। তবে এটা শুধুই কেয়াস বা অনুমান। এই মত আহমদ ইবনে হাম্বল ও আহমদ ইবনে তাইমিয়ার। তারা বলেন: ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি স্বাধীন। ইচ্ছা করলে পাল্টা প্রতিপক্ষের একই সম্পদের সমপরিমাণ ক্ষতিসাধন করবে। নচেত তার সমমূল্যের সম্পদ বা মূল্য গ্রহণ করবে।
সমপরিমাণ জিনিস দিয়ে ক্ষতিপূরণ
আলেমগণ এ ব্যাপারে একমত যে, কেউ কোনো খাদ্য, পানীয় বা ওজন দ্বারা পরিমাপযোগ্য জিনিস নষ্ট করলে একটি জিনিস সমপরিমাণ দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আয়েশা রা. বলেন:
আমি সফিয়ার মতো খাদ্য প্রস্তুতকারী আর দেখিনি। তিনি রসূলুল্লাহ সা.-এর জন্য একটা খাবার তৈরি করে পাঠালেন। এতে আমার আত্মসম্মান বোধে এত আঘাত লাগলো যে, আমি কাঁপতে লাগলাম এবং আমার হাত থেকে পাত্রটি পড়ে ভেংগে গেলো। তখন আমি বললাম: হে রসূলুল্লাহ, আমি যে কাজ করেছি এর কাফফারা কী? তিনি বললেন: পাত্রের সমান পাত্র এবং খাবারের সমান খাবার। -আবু দাউদ।
তবে ওজনে বা মাপে পরিমাণ নির্ণয় করা যায়না এমন জিনিস নষ্ট করলে বা ব্যবহার করে শেষ করে ফেললে কী করা যাবে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। হানাফি ও শাফেয়ি মাযহাব অনুসারে একই জিনিস সমপরিমাণ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উক্ত জিনিস সমপরিমাণ পাওয়া না গেলেই কেবল মূল্য দেয়া যাবে। এটা সকল জিনিসে ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মালেকি মাযহাব অনুসারে মূল্য দিতে হবে, একই জিনিস সমপরিমাণ নয়।
আহত করা বা সম্পদ লুট করা
যখন কোনো মানুষ অন্য কারো উপর আক্রমণ চালিয়ে আহত করে বা তার সম্পদ লুণ্ঠন করে। তখন আক্রান্ত ব্যক্তির সাধ্যে কুলালে, তার প্রাপ্য নিজেই আদায় করে নিতে পারবে

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 শাসকের নিকট থেকে কিসাস আদায়

📄 শাসকের নিকট থেকে কিসাস আদায়


কিনা? এ ব্যাপারে আলেমদের বিবিধ মত রয়েছে। কুরতুবির মতে এটা বৈধ হওয়াই অগ্রগণ্য। তিনি বলেন: সঠিক মত এটাই যে, এটা বৈধ। যেভাবেই নিজের হক আদায় করা সম্ভব, আদায় করে নিতে পারবে। শুধু এতটুকু সাবধান হতে হবে যে কাজটা চুরি বলে গণ্য না হয়। এটা শাফেয়ি, মালেক, ইবনুল মুনযির ও ইবনুল আরাবির মত। এটা খেয়ানত নয়, বরং নিজের হক আদায় করা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমার ভাই যালেম অথবা মজলুম, যা-ই হোক, তাকে সাহায্য কর।" বস্তুত: যালেমের নিকট থেকে হক আদায় করা তাকে সাহায্য করার শামিল।
একবার আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবা রসূলুল্লাহ সা. কে বললো: আবু সুফিয়ান ভীষণ কৃপণ। আমার ও আমার সন্তানদের ভরণপোষণে যতোটা অর্থ সম্পদ দরকার, ততোটা দেয়না। তবে তার সম্পদ থেকে আমি তার অজ্ঞাতসারে যা প্রয়োজন নিয়ে নেই। এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? রসূলুল্লাহ সা. বললেন: প্রচলিত রীতি অনুসারে তোমার ও তোমার সন্তানের যতোটা যথেষ্ট হয়, ততোটা নিতে পারো।"
অর্থাৎ কিনা রসূলুল্লাহ সা. তাকে তার যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকু নেয়ার অনুমতি দিলেন।
তবে যখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আক্রমণকারী কর্তৃক লুণ্ঠিত সামগ্রীটি হুবহু না পেয়ে তার অন্য রকম সামগ্রী নাগালে পায়, তখন কী করবে, সে ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেন: শাসকের ফায়সালা ব্যতীত নিতে পারবেনা। শাফেয়ির একটি মতে, একই সামগ্রী পেলে যেমন নিতে পারবে, তেমনি অন্য রকম সামগ্রী পেলেও নিতে পারবে। তাঁর অন্য মত হলো, ভিন্ন ধরনের সামগ্রী হলে তা নিতে পারবেনা।
কেউ কেউ বলেন: লুণ্ঠিত সামগ্রীর মূল্য কত জেনে নিতে হবে এবং সেই মূল্যের সমপরিমাণ সামগ্রী নিতে পারবে।
শাসকের নিকট থেকে কিসাস আদায়
কোনো জাতির শাসক সে জাতিরই একজন সদস্য। সমগ্র জাতির উপর যেসব আইন কানুন প্রযোজ্য, তার উপরও সেসব আইন কানুন প্রযোজ্য। জাতির অন্যান্য সদস্যের মাঝে তার বৈশিষ্ট্য শুধু ততটুকু যতটুকু একজন প্রতিনিধি বা দায়িত্বশীলের থাকে। কাজেই শাসক যখন জাতির কোনো সদস্যের প্রতি কোনো অন্যায় করে, তখন তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করা হবে। কেননা আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে তার মধ্যে ও অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহর আইন সর্বব্যাপী এবং সকল মুসলমান তার আওতাভুক্ত।
আবু নাদরা থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব রা. একদিন আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন: "হে জনতা, আমি তোমাদের নিকট যেসব শাসক পাঠাই, তোমাদেরকে প্রহার করা বা তোমাদের সম্পদ ছিনিয়ে আনার জন্য তাদেরকে পাঠাইনা। তাদেরকে পাঠাই কেবল তোমাদেরকে তোমাদের দীন শেখাতে ও তোমাদের নবীর সুন্নত শেখাতে। কারো সাথে যদি এ ছাড়া অন্য কিছু করা হয়, তবে সে যেন আমার নিকট অভিযোগ দায়ের করে। আল্লাহর কসম, যার হাতে উমরের জীবন, আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করবো। এ পর্যায়ে আমর ইবনুল আস বললেন: কেউ যদি কোনো প্রজাকে আদব শেখায়, তাহলেও কি আপনি তার কাছ থেকে কিসাস নিবেন? উমর রা. বললেন : হা, আল্লাহর কসম, তাহলেও আমি কিসাস নেবো। আমি কিসাস না নিয়ে কিভাবে পারি? আমি তো রসূলুল্লাহ সা. কেও কিসাস নিতে দেখেছি।" -আবু দাউদ, নাসায়ী।

কিনা? এ ব্যাপারে আলেমদের বিবিধ মত রয়েছে। কুরতুবির মতে এটা বৈধ হওয়াই অগ্রগণ্য। তিনি বলেন: সঠিক মত এটাই যে, এটা বৈধ। যেভাবেই নিজের হক আদায় করা সম্ভব, আদায় করে নিতে পারবে। শুধু এতটুকু সাবধান হতে হবে যে কাজটা চুরি বলে গণ্য না হয়। এটা শাফেয়ি, মালেক, ইবনুল মুনযির ও ইবনুল আরাবির মত। এটা খেয়ানত নয়, বরং নিজের হক আদায় করা। রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: "তোমার ভাই যালেম অথবা মজলুম, যা-ই হোক, তাকে সাহায্য কর।" বস্তুত: যালেমের নিকট থেকে হক আদায় করা তাকে সাহায্য করার শামিল।
একবার আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবা রসূলুল্লাহ সা. কে বললো: আবু সুফিয়ান ভীষণ কৃপণ। আমার ও আমার সন্তানদের ভরণপোষণে যতোটা অর্থ সম্পদ দরকার, ততোটা দেয়না। তবে তার সম্পদ থেকে আমি তার অজ্ঞাতসারে যা প্রয়োজন নিয়ে নেই। এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? রসূলুল্লাহ সা. বললেন: প্রচলিত রীতি অনুসারে তোমার ও তোমার সন্তানের যতোটা যথেষ্ট হয়, ততোটা নিতে পারো।"
অর্থাৎ কিনা রসূলুল্লাহ সা. তাকে তার যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকু নেয়ার অনুমতি দিলেন।
তবে যখন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আক্রমণকারী কর্তৃক লুণ্ঠিত সামগ্রীটি হুবহু না পেয়ে তার অন্য রকম সামগ্রী নাগালে পায়, তখন কী করবে, সে ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেন: শাসকের ফায়সালা ব্যতীত নিতে পারবেনা। শাফেয়ির একটি মতে, একই সামগ্রী পেলে যেমন নিতে পারবে, তেমনি অন্য রকম সামগ্রী পেলেও নিতে পারবে। তাঁর অন্য মত হলো, ভিন্ন ধরনের সামগ্রী হলে তা নিতে পারবেনা।
কেউ কেউ বলেন: লুণ্ঠিত সামগ্রীর মূল্য কত জেনে নিতে হবে এবং সেই মূল্যের সমপরিমাণ সামগ্রী নিতে পারবে।
শাসকের নিকট থেকে কিসাস আদায়
কোনো জাতির শাসক সে জাতিরই একজন সদস্য। সমগ্র জাতির উপর যেসব আইন কানুন প্রযোজ্য, তার উপরও সেসব আইন কানুন প্রযোজ্য। জাতির অন্যান্য সদস্যের মাঝে তার বৈশিষ্ট্য শুধু ততটুকু যতটুকু একজন প্রতিনিধি বা দায়িত্বশীলের থাকে। কাজেই শাসক যখন জাতির কোনো সদস্যের প্রতি কোনো অন্যায় করে, তখন তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করা হবে। কেননা আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে তার মধ্যে ও অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহর আইন সর্বব্যাপী এবং সকল মুসলমান তার আওতাভুক্ত।
আবু নাদরা থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব রা. একদিন আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন: "হে জনতা, আমি তোমাদের নিকট যেসব শাসক পাঠাই, তোমাদেরকে প্রহার করা বা তোমাদের সম্পদ ছিনিয়ে আনার জন্য তাদেরকে পাঠাইনা। তাদেরকে পাঠাই কেবল তোমাদেরকে তোমাদের দীন শেখাতে ও তোমাদের নবীর সুন্নত শেখাতে। কারো সাথে যদি এ ছাড়া অন্য কিছু করা হয়, তবে সে যেন আমার নিকট অভিযোগ দায়ের করে। আল্লাহর কসম, যার হাতে উমরের জীবন, আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করবো। এ পর্যায়ে আমর ইবনুল আস বললেন: কেউ যদি কোনো প্রজাকে আদব শেখায়, তাহলেও কি আপনি তার কাছ থেকে কিসাস নিবেন? উমর রা. বললেন : হা, আল্লাহর কসম, তাহলেও আমি কিসাস নেবো। আমি কিসাস না নিয়ে কিভাবে পারি? আমি তো রসূলুল্লাহ সা. কেও কিসাস নিতে দেখেছি।" -আবু দাউদ, নাসায়ী।

📘 ফিকাহুস সুন্নাহ > 📄 স্ত্রীকে আঘাত করলে স্বামীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে কি?

📄 স্ত্রীকে আঘাত করলে স্বামীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে কি?


নাসায়ী ও আবু দাউদ আরো বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ বিন জুবাইর বলেন: একদিন রসূলুল্লাহ সা. আমাদের মধ্যে একটা জিনিস বণ্টন করছিলেন। এই সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো। তখন রসূলুল্লাহ সা. তার হাতে থাকা একটা খেজুরের কাঁদির ডগা দিয়ে আঘাত করলেন। সংগে সংগে লোকটি চিৎকার করে উঠলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: “এসো, আমার কাছ থেকে কিসাস নাও।” লোকটি সংগে সংগে বললো: "হে রসূলুল্লাহ, আমি বরং মাফ করে দিয়েছি।" আর এক ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিক রা. এর নিকট অভিযোগ করলো যে, জনৈক সরকারি কর্মচারী তার হাত কেটে দিয়েছে। আবু বকর বললেন: তুমি যদি সত্য বলে থাক, তবে আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করবো।
অপর এক বর্ণনায় উমর রা. বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. কে নিজের কাছ থেকে কিসাস দিতে দেখেছি, আবু বকরকে নিজের কাছ থেকে কিসাস দিতে দেখেছি এবং আমি নিজেও নিজের কাছ থেকে কিসাস দিয়ে থাকি।"
স্ত্রীকে আঘাত করলে স্বামীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে কি?
ইবনে শিহাব যুহুরি বলেন: প্রচলিত সুন্নত (রীতি) এই যে, স্বামী যদি স্ত্রীকে জখম করে দেয়, তবে তার জন্য তাকে অর্থদণ্ড জরিমানা দিতে হবে, কিসাস নয়।
ইমাম মালেক এর ব্যাখ্যা প্রসংগে বলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামী যদি স্ত্রীকে আঘাত করে তার চোখ ফুটো করে দেয়, হাত ভেঙ্গে দেয়, আংগুল কেটে দেয় বা অনুরূপ আঁর কিছু করে, তাহলে এ জন্য তার কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবে। আর যদি স্বামী স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বা বেত দিয়ে প্রহার করে এবং অনিচ্ছা সত্যেও তাতে কোনো জখম হয়ে যায়, তাহলে স্বামী এর ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা দেবে, কিসাস নয়।
আল মুসাওয়াতে বলা হয়েছে: আলেমগণ ইমাম মালেকের এই ব্যাখ্যায় একমত।
জখম না সারা পর্যন্ত কোনো কিসাস নয়
আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থান নিরাময় না হওয়া ও অন্যান্য অংগে ক্ষত ছড়িয়ে পড়বেনা- এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণকারীর কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবেনা। দেহের অন্যান্য অংশে ক্ষত ছড়িয়ে পড়লে আক্রমণকারীকে তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রচন্ড গরমে ও তীব্র শীতে কিসাস নেয়া হবেনা, বরং কিসাস বিলম্বিত করা হবে, যাতে কিসাসদাতার তাতে মৃত্যু না ঘটে। প্রচণ্ড গরমে বা শীতে কিসাস নেয়া অথবা ভোতা বা বিষ মাখানো অস্ত্র দিয়ে কিসাস নেয়ার কারণে কোনো বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটলে তার উপর অবশিষ্ট দিয়াত ওয়াজিব হবে। আহমদ ও দারকুতনিতে আমর বিন শুয়াইব থেকে বর্ণিত:
এক ব্যক্তির ঘাড়ে একটা শিং দিয়ে আঘাত করা হলো। তৎক্ষণাত সে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এলো এবং বললো আমাকে কিসাস আদায় করে দিন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমার ক্ষত নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। তখন সে চলে গেলো। কয়েকদিন পর আবার এলো এবং বললো: কিসাস আদায় করে দিন। তখন রসূলুল্লাহ সা. কিসাস আদায় করে দিলেন। কয়েকদিন পর লোকটি পুনরায় এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ, আমি খোঁড়া হয়ে গিয়েছি। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমাকে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তুমি আমার

নাসায়ী ও আবু দাউদ আরো বর্ণনা করেছেন, আবু সাঈদ বিন জুবাইর বলেন: একদিন রসূলুল্লাহ সা. আমাদের মধ্যে একটা জিনিস বণ্টন করছিলেন। এই সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়লো। তখন রসূলুল্লাহ সা. তার হাতে থাকা একটা খেজুরের কাঁদির ডগা দিয়ে আঘাত করলেন। সংগে সংগে লোকটি চিৎকার করে উঠলো। তখন রসূলুল্লাহ সা. বললেন: “এসো, আমার কাছ থেকে কিসাস নাও।” লোকটি সংগে সংগে বললো: "হে রসূলুল্লাহ, আমি বরং মাফ করে দিয়েছি।" আর এক ব্যক্তি আবু বকর সিদ্দিক রা. এর নিকট অভিযোগ করলো যে, জনৈক সরকারি কর্মচারী তার হাত কেটে দিয়েছে। আবু বকর বললেন: তুমি যদি সত্য বলে থাক, তবে আমি অবশ্যই তার কাছ থেকে কিসাস আদায় করবো।
অপর এক বর্ণনায় উমর রা. বলেন: আমি রসূলুল্লাহ সা. কে নিজের কাছ থেকে কিসাস দিতে দেখেছি, আবু বকরকে নিজের কাছ থেকে কিসাস দিতে দেখেছি এবং আমি নিজেও নিজের কাছ থেকে কিসাস দিয়ে থাকি।"
স্ত্রীকে আঘাত করলে স্বামীর নিকট থেকে কিসাস নেয়া হবে কি?
ইবনে শিহাব যুহুরি বলেন: প্রচলিত সুন্নত (রীতি) এই যে, স্বামী যদি স্ত্রীকে জখম করে দেয়, তবে তার জন্য তাকে অর্থদণ্ড জরিমানা দিতে হবে, কিসাস নয়।
ইমাম মালেক এর ব্যাখ্যা প্রসংগে বলেন: ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামী যদি স্ত্রীকে আঘাত করে তার চোখ ফুটো করে দেয়, হাত ভেঙ্গে দেয়, আংগুল কেটে দেয় বা অনুরূপ আঁর কিছু করে, তাহলে এ জন্য তার কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবে। আর যদি স্বামী স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বা বেত দিয়ে প্রহার করে এবং অনিচ্ছা সত্যেও তাতে কোনো জখম হয়ে যায়, তাহলে স্বামী এর ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা দেবে, কিসাস নয়।
আল মুসাওয়াতে বলা হয়েছে: আলেমগণ ইমাম মালেকের এই ব্যাখ্যায় একমত।
জখম না সারা পর্যন্ত কোনো কিসাস নয়
আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থান নিরাময় না হওয়া ও অন্যান্য অংগে ক্ষত ছড়িয়ে পড়বেনা- এ ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণকারীর কাছ থেকে কিসাস নেয়া হবেনা। দেহের অন্যান্য অংশে ক্ষত ছড়িয়ে পড়লে আক্রমণকারীকে তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। প্রচন্ড গরমে ও তীব্র শীতে কিসাস নেয়া হবেনা, বরং কিসাস বিলম্বিত করা হবে, যাতে কিসাসদাতার তাতে মৃত্যু না ঘটে। প্রচণ্ড গরমে বা শীতে কিসাস নেয়া অথবা ভোতা বা বিষ মাখানো অস্ত্র দিয়ে কিসাস নেয়ার কারণে কোনো বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটলে তার উপর অবশিষ্ট দিয়াত ওয়াজিব হবে। আহমদ ও দারকুতনিতে আমর বিন শুয়াইব থেকে বর্ণিত:
এক ব্যক্তির ঘাড়ে একটা শিং দিয়ে আঘাত করা হলো। তৎক্ষণাত সে রসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এলো এবং বললো আমাকে কিসাস আদায় করে দিন। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমার ক্ষত নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো। তখন সে চলে গেলো। কয়েকদিন পর আবার এলো এবং বললো: কিসাস আদায় করে দিন। তখন রসূলুল্লাহ সা. কিসাস আদায় করে দিলেন। কয়েকদিন পর লোকটি পুনরায় এসে বললো: হে রসূলুল্লাহ, আমি খোঁড়া হয়ে গিয়েছি। রসূলুল্লাহ সা. বললেন: তোমাকে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তুমি আমার

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00